ইকমালুস সুন্নাহ । মুফতী মনসূরুল হক দা.বা.

আজ থেকে প্রায় সাড়ে চৌদ্দ’শ বছর আগে। মক্কার হেরা গুহায় জ্বলে উঠলো একটি আলো। হিদায়াতের আলো। সে আলোয় কল্পনার চেয়েও কম সময়ে আলোকিত হলো মক্কার চারিধার। তারপর খুব দ্রুতই আলোকিত হতে লাগলো সারা বিশ্ব। আরব থেকে কত দূরে এই বাংলা! এখানেও ইসলামের আলো পৌঁছে গেলো সাহাবায়ে কেরামের যুগেই।

ইসলামের সার্থক এ জাগরণ এমনিতেই হয়ে যায়নি। এর পেছনে রয়েছে বহু মনীষীর বিনিদ্র রজনী, দা‘ঈদের আত্মত্যাগ আর আকাবিরদের কুরবানী। এঁদের সফল সাধনার কারণেই আজ ইসলাম এতটা সুবিন্যস্ত, কালোত্তীর্ণ। মানব জীবনের প্রতিটি বিষয়ে রয়েছে ইসলামের সুনির্দিষ্ট বিধান ও সমাধান। এ কারণেই ইসলাম সবসময়ই যুগোপযোগী।

কিন্তু ইসলামকে সাড়ে চৌদ্দ’শ বছরের পুরনো বলে এর আদর্শকে মানতে নারাজ কেউ কেউ। তারা বলে, উটের যুগের ইসলাম রকেটের যুগে চলতে পারে না। আশ্চর্য লাগে! ইসলামে কি শুধু উটের যুগের বিধান বর্ণনা করা হয়েছে? অথবা শুধু উটকেই বাহন হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার মতো সংকীর্ণতা রয়েছে? তাতো নয়। বরং ইসলামে যেমন উটের পিঠে নামায পড়ার বিধান রয়েছে, ঠিক তেমনি রকেটে কিভাবে নামায পড়তে হবে তাও বলা হয়েছে। বাহন হিসেবে যেমন উটকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে, ঠিক তেমনি প্লেন আর রকেটকেও বৈধ কাজে ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়নি। তাহলে বলুন, এতটা সার্বজনীন, প্রান্তিকতামুক্ত একটি ধর্মকে শুধু উটের যুগের সাথে সীমাবদ্ধ করে ফেলা কতটা যুক্তিযুক্ত?

পাঠক! সাড়ে চৌদ্দ’শ’ বছরের এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েও ইসলামের এতটা সার্বজনীন থাকার কারণ হচ্ছে, আমাদের আকাবিররা দ্বীনকে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করেছেন, পরবর্তীদের জন্য একে আগলে রেখেছেন আমৃত্যু। আমরা আমাদের নিকট অতীতের দিকেই তাকাই না কেন। এ উপমহাদেশের মানুষের জন্য হাকীমুল উম্মত, মুজাদ্দিদুল মিল্লাত হযরত আশরাফ আলী থানভী রহ. ছিলেন একজন সফল সংস্কারক, আত্মার চিকিৎসক। তাঁর রূহানী ফায়েযে শুধু তাঁর যুগের মানুষই উপকৃত হয়েছে এমনটি নয়। বরং সে ফায়েয ও বরকত সমকালকে ছাপিয়ে ছড়িয়ে গেছে কাল থেকে কালে, যুগ থেকে যুগে। আমার শাইখ মুহিউসসুন্নাহ হযরত মাওলানা সাইয়িদ শাহ আবরারুল হক (হারদুয়ী হুযূর) রহ. ছিলেন হযরত থানভী রহ.-এর ‘ইলমী আলোর সর্বশেষ কাসিদ। ঘরে ঘরে তিনি জ্বেলে দিতে চেষ্টা করেছেন সুন্নাতের মশাল। তাঁরই অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে আজ উপমহাদেশের মসজিদ মাহফিলে সুন্নাত চর্চার হারানো ঐতিহ্য ফিরে এসেছে। চেতনা জেগে উঠেছে সবার মাঝে।

দ্বীনী সংস্কারের কাজে হযরত হারদুয়ী হুযূরের বিশেষ একটি পদ্ধতি ছিলো, সমাজের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন বিষয়ে জরুরী হিদায়াত সম্বলিত পরচা তৈরি করে বিতরণ করা। দ্বীনী খেদমতের ব্যাপারে হযরতের এ স্বতন্ত্র ধারাকে অব্যাহত রাখতে আমরা আমাদের সাধ্যানুযায়ী চেষ্টা করেছি। সে ধারাবাহিকতায় বেশ কিছু পরচার সন্নিবেশে ইতোমধ্যে দু’টি গ্রন্থ প্রকাশও পেয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ। আ’মালুস সুন্নাহ’ ও ইশা‘আতুস সুন্নাহ’ নামের সে দু’টি গ্রন্থের পর বক্ষ্যমাণ গ্রন্থটি সে সারির তৃতীয় গ্রন্থ।

বরাবরের মতো এ গ্রন্থেও স্থান পাচ্ছে আকাইদ, মু‘আমালাত, মু‘আশারাত ও আখলাক সম্পর্কিত চব্বিশটি প্রবন্ধ। সেই সাথে দা’ওয়াত সম্পর্কিত দু’টি প্রবন্ধও একে সমৃদ্ধ করেছে।
এ বইয়ের সংকলনে সর্বক্ষেত্রে হয়তো হযরতের নির্দেশনা সঠিকভাবে অনুসরণ আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি। তবে এতে যা কিছু ভালো ও কল্যাণকর বিষয় রয়েছে, সবি নিশ্চয়ই আমার শায়েখের রূহানী ফায়েযের বরকত। আর থেকে যাওয়া ভুলগুলো সম্পর্কে কল্যাণকামীতার হৃদয় নিয়ে আমাদের অবগত করলে কৃতজ্ঞ হব।

কিতাব সংকলনের বিভিন্ন পর্যায়ে আমার কিছু শাগরিদ আন্তরিকতার সাথে কাজ করেছে। আমি তাদের সর্বাঙ্গীন সফলতা কামনা করি। দু‘আ করি, এ কিতাবের মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা ছড়িয়ে দিন হিদায়াতের আলো। দূর করে দিন গোমরাহীর পুঞ্জীভূত অন্ধকার। আখিরাতে এ কিতাবকে বানান নাজাতের উসিলা। আমীন, ইয়া রব্বাল ‘আলামীন!

বিনীত
মনসূরুল হক
প্রধান মুফতী ও শাইখুল হাদীস
জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া
আলী অ্যান্ড নূর রিয়েল এস্টেট, মুহাম্মাদপুর, ঢাকা

mydearbd pdf book download

দাওয়াত ও তাবলীগের নীতি ও আদর্শ

হযরতওয়ালা মুফতী মনসূরুল হক দামাত বারাকাতুহুম সাহেবের চারটি বয়ানের পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত সারসংক্ষেপ। বয়ানসমূহ হলোঃ

১. উলামাদের জোড়। স্থানঃ মিরপুরের রুপনগরের আবাসিক এলাকা, ঢাকা। তারিখঃ ১৪ ই জানুয়ারী, ২০১৮ ঈসায়ী।

২. নৈশ মাদরাসা। স্থানঃ বছিলা, মুহাম্মাদপুর, ঢাকা। তারিখঃ ২৬ শে ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ঈসায়ী।

৩. চরওয়াশপুর জামি‘আ ইসলামিয়া মাদরাসা। স্থানঃ ওয়াশপুর, মুহাম্মাদপুর, ঢাকা। তারিখঃ ৩রা মার্চ, ২০১৮ ঈসায়ী।

৪. তাবলীগী মারকায। স্থানঃ কবরস্থান মসজিদ, মুহাম্মাদপুর, ঢাকা। তারিখঃ ১৫ই মার্চ, ২০১৮ ঈসায়ী।

৫. জামি‘আর আসাতিযায়ে কেরাম এবং তাবলীগের সাথীদের এক জোড়। স্থানঃ মসজিদে আবরার, জামি‘আতুল আবরার, বছিলা, মুহাম্মাদপুর, ঢাকা। তারিখঃ ২রা এপ্রিল, ২০১৮ ঈসায়ী।

mydearbd pdf book download

ডাউনলোড / Download

খ্রিস্টধর্ম কিছু জিজ্ঞাসা ও পর্যালোচনা

খ্রিস্টধর্মকিছু জিজ্ঞাসা  পর্যালোচনা শীর্ষক বইটি খ্রিস্টধর্মের উপর একটি বস্তুনিষ্ঠ পর্যালোচনা গ্রন্থ। এতে একজন পাঠককে নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে খ্রিস্টধর্মের ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনার আহ্বান জানানো হয়েছে। সঙ্গত কারণেই এতে আক্রমণাত্মক ও বিদ্বেষমূলক আচরণ কিংবা সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির কোনো উচ্চারণ সতর্কতার সাথে পরিহার করার চেষ্টা করা হয়েছে। ধর্মীয় গোঁড়ামী ও সংকীর্ণতা, অতিরঞ্জন ও অসতর্কতা এড়িয়ে সত্য ও ন্যায়ের পথ গ্রহণের নিবেদন করা হয়েছে।

এ ‘পর্যালোচনা গ্রন্থ’ প্রণয়নের পূর্বে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গবেষণাকালে খ্রিস্টধর্মের মৌলিক ছয়টি বিষয়ে বাইবেলের বিপরীতমুখী বক্তব্যে আমরা বিস্মিত হয়েছি। আমাদের এ গ্রন্থে সে বিষয়সমূহের পর্যালোচনার প্রতিই সম্মানিত পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। বিষয়গুলো নিম্নরূপ-

১. খ্রিস্টধর্মে অনুসরণীয় কে? যীশু খ্রিস্ট, নাকি সেন্ট পল?

২. ‘বাইবেল’ আল্লাহর নাযিলকৃত তাওরাত ও ইঞ্জিল, নাকি সেন্ট পলের ধর্মগ্রন্থ?

৩. খ্রিস্টধর্মে স্রষ্টা একজন, নাকি তিনজন?

৪. খ্রিস্টধর্মে ঈসা ‘আলাইহিস সালামের অন্তর্ধান: ক্রুশে হত্যা করা হয়েছে, নাকি সশরীরে আসমানে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে?

৫. হযরত ঈসা ‘আলাইহিস সালামের নবুয়ত সর্বজনীন, নাকি কেবল বনী ইসরাঈলের জন্য?

৬. শেষ নবী কে? হযরত ঈসা ‘আলাইহিস সালাম, নাকি হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম?

খ্রিস্টধর্মের মৌলিক এ ছয়টি বিষয় নিয়েই আমরা আমাদের পর্যালোচনা সংক্ষেপণ করলেও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার নিমিত্তে যথেষ্ট দলীল-প্রমাণের আলোকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। আশা করি, সত্যসন্ধানী পাঠক খ্রিস্টধর্মের উপর আমাদের এ দালীলিক ও নিরপেক্ষ পর্যালোচনা মূল্যায়ন করবেন এবং এ পর্যালোচনার আবেদন ও নিবেদনের সঙ্গে ঐকমত্য পোষণ করবেন।

উদ্ধৃতি প্রসঙ্গ

১. বিষয়বস্তুর প্রমাণে আমরা বাংলা বাইবেলের পাশাপাশি আগ্রহী পাঠকদের জন্য ইংরেজি বাইবেলের উদ্ধৃতিও তুলে দিয়েছি। যেন খ্রিস্টধর্মের আলোচনা খ্রিস্টধর্মীয় সমাজে স্বীকৃত ‘মৌলিক উৎসগ্রন্থে’র উদ্ধৃতি-সমৃদ্ধ হয়।

২. ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম জেমস-এর সময়ে ১৬১১ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজি ভাষায় বাইবেলের বিশুদ্ধ অনুবাদ প্রকাশ করা হয়। এটিই অন্যান্য ভাষার কিতাবুল মোকাদ্দাসের মূল ভিত্তি। ইংরেজি এ অনুবাদটি কিং জেমস ভার্সন (King James Version), সংক্ষেপে (KJV) নামে পরিচিত। ইংরেজি বাইবেলের উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে আমরা সাধারণত (KJV)-এর নতুন সংস্করণ (NKJV)-এর হুবহু অনুসরণ করেছি। কেননা, বাইবেলের বিভিন্ন অনুবাদ ও সংস্করণ থাকা সত্যেও খ্রিস্টসমাজের সর্ববৃহৎ শ্রেণির মাঝে ‘কিং জেমস ভার্সন’ই সর্বাধিক জনপ্রিয় এবং ইংরেজি বাইবেল সংস্করণগুলোর মধ্যে প্রাচীনতম। সূত্রDespite the proliferation of Bible translations, the King James Version is the top choice -and by a wide margin- of Bible readers. (Joe Carter, Report: The Bible in American Life, Accessed 5/7/2018. https://www.thegospelcoalition.org/article/report-the-bible-in-american-life/)

তবে হ্যাঁ, ক্ষেত্রবিশেষে রিভাইজড স্টান্ডার্ড ভার্সন (RSV) থেকেও আমরা উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছি। এ জাতীয় ক্ষেত্রে টীকায় তা লিখে দেওয়া হয়েছে।

৩. বাইবেল ও অন্যান্য ইংরেজি গ্রন্থের উদ্ধৃতিগুলো যত্নের সাথে সম্পাদনা করে দিয়েছেন ইংরেজি ভাষা বিশেষজ্ঞ আমেরিকা নিবাসী Dr. Mufti Rezwanul Hasan, M.B.B.S.। যিনি বর্তমানে Darul Uloom New Jersey, Paterson, NJ, U.S.A.-তে শিক্ষকতা করছেন।

৪. বাইবেলের বাংলা উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে আমরা ‘বাংলাদেশ বাইবেল সোসাইটি’ কর্তৃক ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত জন কেরির ‘পবিত্র বাইবেল’ থেকে হুবহু তুলে দিয়েছি। তবে ক্ষেত্রবিশেষে যেখানে জন কেরির অনুবাদ প্রাচীনতার দরুণ দুর্বোধ্য মনে হয়েছে, সেখানে ‘কিতাবুল মোকাদ্দাস’ থেকেও উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে। এ জাতীয় ক্ষেত্রে টীকায় তা লিখে দেওয়া হয়েছে।

৫. বাইবেলের পরিচিতি বিস্তারিতভাবে মূল গ্রন্থের আলোচনায় সন্নিবেশিত হয়েছে। তবে বাইবেলের বাংলা ও ইংরেজি উদ্ধৃতি অনুধাবনের সুবিধার্থে গ্রন্থের শেষে পুরাতন ও নতুন নিয়মের সকল পুস্তকের একটি ‘নির্ঘণ্ট’ সংযুক্ত করা হয়েছে। গ্রন্থ পাঠের আগে সম্মানিত পাঠক এ নির্ঘণ্ট পড়ে নিলে উদ্ধৃতির ‘অপরিচিত’র ভাব দূর হবে আশা করা যায়।

৬. বাইবেলের উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে আমরা প্রথমত সংশ্লিষ্ট পুস্তকের নাম, অতঃপর অধ্যায় নম্বর, এরপর পদ নম্বর উল্লেখ করেছি। যেমন (মথি ১৫:২৪)-এর অর্থ হলো, মথি নামক পুস্তকের ১৫তম অধ্যায়ের ২৪ নং পদ।

৭. বাইবেলের উদ্ধৃতি পাঠের ক্ষেত্রে এ কথা মনে রাখা আবশ্যক যে, পর্যালোচনায় খ্রিস্টধর্মের আকীদা-বিশ্বাসের বিপরীতে প্রমাণ হিসেবে বাইবেলের উদ্ধৃতি কেবল এ জন্যই দেওয়া হয়েছে যে, খ্রিস্টধর্মে এ গ্রন্থ ধর্মীয় বিষয়ে ‘দলীল-প্রমাণ’ হিসেবে বিবেচিত।

৮. পরিভাষাগত আলোচনায় আমরা সাধারণত বাইবেল ও খ্রিস্টধর্মের পরিভাষাই ব্যবহার করেছি। যেমন, ঈশ্বর = আল্লাহ, ভাববাদী = নবী, ভাববাণী = নবীর বাণী, মোশি = মূসা আ., যীশু = ঈসা আ., ইশ্মায়েল = ইসমাঈল ইত্যাদি। ক্ষেত্রবিশেষে বন্ধনীতে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যাও করে দেওয়া হয়েছে।

৯. পর্যালোচনাকে প্রামাণ্য করতে গিয়ে অনেক খ্রিস্টান পন্ডিত ও গবেষকদের বক্তব্যও উদ্ধৃত করতে হয়েছে। ইংরেজি লেখক ও গবেষকগণের নাম বাংলায় লেখার ক্ষেত্রে কোনো বাংলা ভাষাভাষির রচনার উপর নির্ভর না করে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি সংশ্লিষ্ট ভাষার Pronunciation বা ‘উচ্চারণ নীতি’ অনুসারে বাংলায় তা লিখে দিতে। ব্যক্তি সুনির্দিষ্টকরণের স্বার্থে ক্ষেত্রবিশেষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যু সনও বন্ধনীতে উল্লেখ করা হয়েছে।

১০. বার্নাবাসের বাইবেল প্রসঙ্গ

এ কিতাবে দু-এক জায়গায় বার্নাবাসের বাইবেল থেকেও উদ্ধৃতি দেয়া হয়েছে। খ্রিস্টধর্মের অনুসারীগণ বার্নাবাসের বাইবেলকে হযরত ঈসা ‘আলাইহিস সালামের সাহাবী প্রকৃত বার্নাবাসের লিখিত মনে করেন না। তাদের মতে এ সুসমাচারটি কোনো মুসলমানের রচনা। এ ধারণার মৌলিক কারণ হলো,

(১) নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে এ গ্রন্থ বার্নাবাস হতে আমাদের নিকটে পৌঁছেনি।

(২) এ বাইবেলে সেন্ট পলের বিরুদ্ধে জোরালো আলোচনা করা হয়েছে এবং প্রসিদ্ধ বাইবেলের বিপরীতে ইসলাম ও মুসলমানদের ধর্ম ও নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমর্থনে সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে। (এনসাইক্লোপিডিয়া আমেরিকানা ৩/২৬২) নিবন্ধ: বার্নাবাস)

‘বার্নাবাসের নামে প্রসিদ্ধ বাইবেলটি বার্নাবাসের নয়’- প্রমাণে এ দু’টি আপত্তির কোনটিই গ্রহণযোগ্য মনে হয় না। কেননা, কোনো গ্রন্থ আসমানী গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত হওয়ার জন্য যদি “গ্রন্থটি কোনো নবীর মাধ্যমে লিখিত হওয়া এবং উক্ত নবী গ্রন্থটিকে যেভাবে রেখে গেছেন, হুবহু কোনো ধরণের পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা বিকৃতি ছাড়া গ্রন্থটি ‘অবিচ্ছিন্ন সূত্রে’ পরবর্তীদের নিকট পৌঁছা’র বিষয়টি খ্রিস্টধর্মে স্বীকৃত শর্ত হয়, তবে তো এ সমীক্ষানীতি অনুসারে প্রসিদ্ধ কোনো বাইবেলই ‘ঐশী গ্রন্থ’ হওয়ার যোগ্যতা রাখে না।

দ্বিতীয়ত, প্রসিদ্ধ বাইবেলের বিরোধী বা বিপরীত বক্তব্য থাকা এবং ইসলাম ও মুসলমানদের সমর্থনে বক্তব্য থাকাও আশ্চর্যের মনে হবে না, যদি বার্নাবাস ও সেন্ট পলের ইতিহাস কিছুটা পর্যালোচনা করা হয়।

বার্নাবাস ছিলেন হযরত ঈসা ‘আলাইহিস সালামের হাওয়ারিয়্যিন বা সহচরদের উচ্চতম মর্যাদার অধিকারী এবং অন্যতম সাহাবী। সূত্র মর্মে প্রসিদ্ধ বাইবেলে রয়েছেইউসুফ নামে লেবির বংশের একজন লোক ছিলেন সাইপ্রাস দ্বীপে তার বাড়ি ছিলো তাকে সাহাবিরা বার্নাবাস অর্থাৎ উৎসাহদাতা (বা উপদেশের পুত্রবলে ডাকতেন তার এক খন্ড জমি ছিলোতিনি সেটা বিক্রি করে টাকা এনে সাহাবীদের পায়ের কাছে রাখলেন (প্রেরিত :৩৬৩৭)

বাইবেলের বর্ণনামতে অলৌকিকভাবে দামেশকের পথে যীশুর দর্শন লাভ করে নিজেকে যীশুর অনুসারী দাবী করার আগে সেন্ট পল ছিলেন কট্টর ইয়াহুদী এবং ঈসা ‘আলাইহিস সালামের অনুসারীদের উপর জুলুম নির্যাতনে সিদ্ধহস্ত। সূত্রসেন্ট পল নিজেই বলেনআমি প্রাণনাশ পর্যন্ত এই পথের (যীশুর পথে যারা চলতোপ্রতি উপদ্রব করিতামপুরুষ  স্ত্রীলোকদিগকে বাঁধিয়া কারাগারে সমর্পণ করিতাম (প্রেরিত ২২:)

প্রথম দিকে সেন্ট পলের ভূমিকা বুঝতে না পেরে বার্নাবাস তাকে ঈসা ‘আলাইহিস সালামের অন্যান্য সহচরদের তার (সেন্ট পলের) ব্যাপারে আশ্বস্ত করেন। সূত্রকিন্তু বার্নাবাস তাকে সঙ্গে করে সাহাবীদের কাছে নিয়ে গিয়ে তাদের জানালেনদামেস্কের পথে শৌল কিভাবে হযরত ঈসাকে দেখতে পেয়েছিলেন এবং ঈসা কিভাবে তাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন আর দামেস্কে ঈসার সম্বন্ধে কিভাবে তিনি সাহসের সঙ্গে তাবলীগ করেছিলেন (প্রেরিত ২৬২৭)

প্রাথমিক সময়ে বার্নাবাস এবং সেন্ট পল একইসাথে যীশু খ্রিস্টের ধর্ম প্রচারে ব্রত ছিলেন। সূত্রআর বার্ণবা  শৌল (পলআপনাদের পরিচর্য্যাকার্য্য সম্পন্ন করিবার পর যিরূশালেম হইতে প্রত্যাগমন করিলেনযোহন যাহাকে মার্কও বলেতাঁহাকে সঙ্গে লইলেন (প্রেরিত ১২:২৫)

কিন্তু একপর্যায়ে তাদের উভয়ের মাঝে দ্বন্দ্ব দেখা দিলো। এ মর্মে বাইবেলের বর্ণনা নিম্নরূপ-

“কিন্তু পৌল ও বার্নাবাস এন্টিয়কেই রইলেন। সেখানে তারা আরও অনেকের সঙ্গে মাবুদের কালাম শিক্ষা দিতে ও তাবলীগ করতে থাকলেন। কিছুদিন পরে পৌল বার্নাবাসকে বললেন, ‘যেসব জায়গায় আমরা মাবুদের কালাম তাবলীগ করেছি, চল এখনই সেইসব জায়গায় ফিরে গিয়ে ঈমানদার ভাইদের সঙ্গে দেখা করি এবং তারা কেমনভাবে চলে তা দেখি। তখন বার্নাবাস ইউহোন্নাকে সঙ্গে নিতে চাইলেন। এই ইউহোন্নাকে মার্ক বলেও ডাকা হতো। পৌল কিন্তু তাকে সঙ্গে নেওয়া ভালো মনে করলেন না। কারণ মার্ক পামফুলিয়াতে তাদের ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন এবং তাদের সঙ্গে আর কাজ করেননি। তখন পৌল ও বার্নাবাসের মধ্যে এমন মতের অমিল হল যে, তারা একে অন্যের কাছ থেকে আলাদা হয়ে গেলেন। বার্নাবাস মার্ককে নিয়ে জাহাজে করে সাইপ্রাস দ্বীপে গেলেন। আর পৌল সীলকে বেছে নিলেন।” (প্রেরিত ১৫৩৫৪১)

এ বিচ্ছেদের পর আবার তাদের সম্পর্ক পুনঃস্থাপিত হয়েছিলো মর্মে গোটা বাইবেলে কোনো বর্ণনা নেই। তার মানে এ বিচ্ছেদ ছিলো চিরতরের জন্য। সঙ্গী নির্বাচনের তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একই আদর্শের অনুসারী দুই ব্যক্তির মাঝে এমন মারাত্মক মতবিরোধ হওয়াটা বিস্ময়কর। উপরন্তু তাদের এ মতবিরোধের ব্যাপারে প্রেরিত পুস্তকে লূক যে শব্দ ব্যবহার করেছেন, তা অস্বাভাবিক কঠিন। মিস্টার এ এম ব্লেইকলক [Blaiklock] বলেন,

এবার লূক বিশ্বস্ততার সাথে (পৌল ও বার্নাবাস, এই দুই) সফর সঙ্গীদ্বয়ের মধ্যে দেখা দেওয়া বেদনাদায়ক বিচ্ছেদ-কাহিনী বর্ণনা করেছেন। তিনি যে শব্দ ব্যবহার করেছেন [Paraxusmas] তা বড় কঠিন। …নিউ টেস্টামেন্টে সে শব্দটি এছাড়া আর এক জায়গাতেই (প্রকাশিত কালাম ৬: ১৪) ব্যবহৃত হয়েছে, যেখানে আকাশমন্ডলী ধ্বংস হয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়েছে। [Blaiklock, Commentory on Acts, edited by R.V.G. tosher PP.118, 611]

কাজেই দৃঢ়ভাবে ধারণা করা যেতে পারে যে, তাদের উভয়ের মতবিরোধ ছিলো আদর্শগত। সূত্রউল্লেখ্যলূক ছিলেন সেন্ট পলের শিষ্য কাজেই গুরুর অপরাধ ঢাকতে খুব সম্ভব এখানে ঘটনার কারণ বর্ণনায় কোনো ত্রুটি রয়েছে!)

অর্থাৎ সেন্ট পল যখন হযরত ঈসা ‘আলাইহিস সালামের তাওহীদী ধর্মকে নিজস্ব মতাদর্শের রূপদানের চেষ্টা শুরু করেন, তখন বার্নাবাস তাকে পরিত্যাগ করেন। সেন্ট পল ও বার্নাবাসের এ আদর্শিক মতবিরোধকে সামনে রেখে যদি চিন্তা করা হয়, তবে এটা অসম্ভব মনে হয় না যে, এরপরই বার্নাবাস সেন্ট পলের স্বরূপ উদঘাটনের জন্য একটি সুসমাচার রচনা করবেন এবং তাতে সেন্ট পলের স্বরূপ উদঘাটনসহ হযরত ঈসা ‘আলাইহিস সালামের তাওহীদ ও একত্ববাদের বিরোধী ভ্রান্ত আকীদা-বিশ্বাসের অপনোদন করবেন!

কাজেই বার্নাবাসের বাইবেল রচনা করা এবং তাতের প্রসিদ্ধ সেন্ট পলীয় বাইবেলের বিরোধী কথা থাকা আশ্চর্যের কোনো বিষয় নয়; বরং বার্নাবাস যে সত্যিই পলবিরোধী একটি বাইবেল রচনা করেছিলেন, তা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে হয় এ কারণে যে, পশ্চিমা পন্ডিত ‘একসিহোমো’ [Ecce Homo] তার গ্রন্থে প্রাচীন খ্রিস্টান ধর্মগুরুগণ যীশু খ্রিস্ট বা তাঁর প্রেরিত শিষ্যগণ বা তাদের অনুসারীগণের নামে প্রচারিত যে সকল পুস্তক ও পত্রের নাম উল্লেখ করেছেন, কিন্তু বর্তমানে সেগুলো অবলুপ্ত রয়েছে, তার একটি তালিকা দিয়েছেন। অবলুপ্ত এ কিতাবসমূহের তালিকায় তিনি ‘বার্নাবাসের বাইবেলে’র কথা স্বীকার করেছেন। ‘এনসাইক্লোপিডিয়া আমেরিকানা’ (৩/২৬২)-তেও বার্নাবাসের বাইবেলের অস্তিত্বের কথা স্বীকার করা হয়েছে।

পবিত্র কুরআনের ইংরেজি অনুবাদক George Sale [জর্জ সেল] তার অনুবাদ গ্রন্থের সূত্র(Wherry, Rev. E.M.: A Comprehensive Commentary on the Quran: Comprising Sales Translation and Preliminary Discourse (London, 1896)

ভূমিকায় এ অবলুপ্ত বাইবেলটি প্রাপ্তির যে ঘটনা উল্লেখ করেছেন, তার সারমর্ম হলো, আনুমানিক ষোড়শ শতাব্দির শেষ দিকে বিশপ ইরানিয়াসের লেখা কিছু চিঠি ল্যাটিন রাহিব (খ্রিস্টান সন্ন্যাসী) ফ্রামারিনোর হস্তগত হয়। যার একটিতে সেন্ট পলের কঠোর সমালোচনা এবং বার্নাবাসের বাইবেলের কথা উল্লেখ ছিলো। ইরানিয়াসের এ চিঠি থেকে ফ্রামারিনো বার্নাবাসের বাইবেলের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। পরবর্তীতে বন্ধুবর পোপ পঞ্চম সিক্সটাস [Sixtus]-এর ব্যক্তিগত পাঠাগার থেকে ইতালিয়ান ভাষায় বার্নাবাসের বাইবেলের একটি কপি ফ্রামারিনোর হস্তগত হয়। সূত্রপরবর্তী সময়ে তার বিভিন্ন অনুবাদ প্রকাশিত হয় বাংলা ভাষায়ও কবি আফজাল চৌধুরী ইংরেজি থেকে এর বাংলা অনুবাদ করেছেনযা বাংলাদেশ কোঅপারেটিভ বুক সোসাইটি প্রকাশ করেছে বার্নাবাসের বাইবেলে সেন্ট পলের বিভ্রান্তি প্রকাশের সাথে সাথে আখেরী নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নাম সহকারে যীশুর ভবিষ্যদ্বাণী উল্লিখিত হয়েছে

সারকথা, বার্নাবাস কর্তৃক সেন্ট পলীয় বাইবেলের বিরোধী একটি বাইবেল রচনার যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ যেমন রয়েছে, তেমনি বাস্তবিক-পক্ষেই তা লিখিত হওয়া এবং প্রাপ্ত হওয়ার ঐতিহাসিক প্রমাণও রয়েছে। কাজেই ‘প্রচলিত বাইবেল-বিরোধী বক্তব্য থাকার কারণেই এটি কোনো মুসলমানের লেখা হতে হবে’- এর কোনো যৌক্তিকতা নেই। উপরন্তু কয়েকটি বিষয় চিন্তা করলে এ সুসমাচারটি যে কোনো মুসলমানের লেখা নয়, তা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে হয়। পাঠক লক্ষ্য করুন-

ক. এ সুসমাচারের ভাষাশৈলী, পরিভাষা ইত্যাদি প্রমাণ করে যে, তা প্রথম খ্রিস্টীয় শতকেই লিখিত।

খ. ৭ম/৮ম খ্রিস্টীয় শতক থেকে ঊনবিংশ শতক পর্যন্ত শতশত মুসলিম পন্ডিত খ্রিস্টধর্মের আলোচনা, সমালোচনা ও বাইবেলের আলোকে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইত্যাদি বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। কেউই কখনো বার্নাবাসের উদ্ধৃতি দেননি। যদি কোনো মুসলমান এটি লিখে থাকতেন, তবে খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে সুসমাচারটির কথা অবশ্যই তিনি মুসলমানদেরকে অবহিত করতেন; নিজের কাছে লুকিয়ে রাখতেন না!

কাজেই খ্রিস্টধর্মের অনুসারীগণ যদি নির্ভরযোগ্য সূত্র না থাকার পরও প্রসিদ্ধ বাইবেলসমূহকে গ্রহণযোগ্য বলে মেনে নিতে পারেন, তাহলে বার্নাবাসের বাইবেলকেও গ্রহণযোগ্য মেনে নেওয়াটা তাদের জন্য অত্যাবশ্যক হয়ে যায় (যদিও মুসলমানদের নিকটে কোন বাইবেলই প্রমাণ হিসাবে স্বীকৃত নয়) ।

mydearbd pdf book download

ডাউনলোড / Download

হিদায়া কিতাব কে ঘিরে কথিত আপত্তী ও খন্ডন! মুফতী মাসুম বিল্লাহ

কওমী মাদ্রাসার পাঠ্যপুস্তকের সবচেয়ে দামী কিতাবের একটি হিদায়া কিতাব। বিভিন্ন ব্যক্তিগোষ্ঠী হতে হিদায়া কিতাবের উপর বিভিন্ন অভিযোগ-আপত্তি আরোপিত করে আসছে। সেসব অভিযোগ-আপত্তিতে সাধারণ মুসলমান এমনকি অগভীর ইলম ও জ্ঞানের অধিকারী তালিবুল ইলম ও কিছু উলামায়েকেরামগণও সংশয়গ্রস্থ হয়ে পড়ছেন। আবার কেউ সংশয়গ্রস্থ না হলেও যথপোযুক্ত প্রমান কিংবা দলিল নির্ভর যুক্তিযুক্ত জবাব না দিতে পেরে হিনমন্যতায় ভুগছেন সেদিকে লক্ষ্য করে আজকের এই আয়োজন।
  মুফতী মাসুম বিল্লাহ্ Youtube Link: https://youtu.be/UPUqtBxLx2E

ভিপি নূর এখন মজলুম জনতার কন্ঠস্বর । ইহসানুল হক্

আজ দুপুরে সংবাদ শিরোনাম দেখলাম -ভিপি নূরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা। ভিতরের খবর পড়ে জানলাম, ধর্ষণ নয়, ধর্ষনে সহযোগীতার অভিযোগ। আরো বিস্তারিত পড়ে বুঝলাম, ধর্ষনে সহযোগীতার অভিযোগও নয়, বিয়ে করিয়ে দেয়ার আশ্বাস দেয়ার অভিযোগ। তাই নূরু আসামি। বাহ, কি সুন্দর গল্প!
সন্ধ্যায় ছাত্র অধিকার পরিষদ মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে সমাবেশ করলো। সমাবেশ থেকে ভিপি নূরকে গ্রেফতার করা হলো। পত্রিকায় আবার শিরোনাম দেখলাম-ধর্ষন মামলায় ভিপি নূর গ্রেফতার, ফাইজলামির একটা সীমা থাকা দরকার।
এসবের কারণ একটাই -ভিপি নূর কে দমাতে হবে। সরকারের জন্য মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভিপি নূর। এই সরকারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে সফল আন্দোলনের নেতা ভিপি নূর। যেখানে অন্যায় অবিচার হয়েছে, জুলুম অত্যাচার হয়েছে, তার প্রতিবাদ করেছে ভিপি নূর ও তার ছাত্র অধিকার পরিষদ। আমি মাঝে মাঝে ভাবি বাংলাদেশে এখন বিরোধীদল কি একটাই? বিরোধীদলীয় নেতা কি একজনই?
গত বৃহস্পতিবার হাটহাজারির আন্দোলনরত ছাত্ররা যখন পুলিশী হামলার ভয়ে চরম আতংকিত ছিলো তখন বিপদগ্রস্থ কওমি মাদরাসার ছাত্রদের পাশে দাঁড়াতে ভিপি নূর সমাবেশ করেছিলো। ছাত্র অধিকার পরিষদের হাসান আল মামুন, রাশেদ খানসহ আরও অনেকে বিবৃতি দিয়েছিলো।
সমাবেশ থেকে ভিপি নূর ঘোষণা করেছিলো- হাটহাজারির ছাত্রদের উপর যদি আঘাত করা হয় তাহলে ঢাকা শহর অচল করে দেয়া হবে। ভিপ নূরের ক্ষমতার হাত যতটুকুই হোক, তার এই ঘোষণা লক্ষ তরুনের মনজয় করেছিলো, আর অনেকের গায়ে যেন আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলো। কওমি মাদরাসার ছাত্রজনতা ভিপি নূরের এই ঘোষণা অনেক দিন মনে রাখবে।
একবার খবর পেলাম তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে, একটু পরেই জানলাম তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হলেও এখনো ডিবির হাতেই আছে। মুক্তির বিষয়টা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে এটা নিশ্চিত যতদিন পযর্ন্ত আধিপত্যবাদী আগ্রাসন ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ভিপি নূর লড়াই করে যাবে এসব মামলা হামলা তার উপর চলতেই থাকবে।
নূরের উপর এ পযর্ন্ত অনেক মামলা হামলা হয়েছে, নানা রকম ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু লাভ হয়নি। ইস্পাদ কঠিন দৃঢ়তা নিয়ে ভিপি নূর অতীতে যেভাবে লড়াই চালিয়ে গেছে সামনের দিনগুলোতে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে পারবে বলে বিশ্বাস করি। মামলা হামলা দিয়ে ছাত্রজনতার জাগরন রুখে দেয়া যাবে না।

ফেসবুক টাইমলাইন  Ehsanul Haque

হাটহাজারির ছাত্র আন্দোলন সফলতা, প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি নিয়ে কিছু কথা Ehsanul Haque

কওমি মাদরাসার ইতিহাসে এক অভাবনীয় ছাত্র আন্দোলন হয়ে গেলে হাটহাজারিতে। কওমি অঙ্গনে ছাত্র আন্দোলন অপ্রত্যাশিত হলেও সেটা ছিলো পুঞ্জিভূত ক্ষোভের অনিবার্য বিস্ফোরণ। মাত্র দুইদিনের কর্মসূচিতে জগদ্দল পাথরের মত বসে থাকা দালালদের দম্ভ ও গবের্র ভীত তছনছ হয়ে গেলো। ছাত্র আন্দোলন সফল হয়েছে এতে কোনো সন্দেহ নাই। তবে কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলাপ করা জরুরি মনে করছি।
১. আন্দোলনের এই সফলতাকে চূড়ান্ত বিজয় মনে করে অতি উৎসাহি হওয়ার সুযোগ নাই। কওমি অঙ্গনে যে দালাল শ্রেণি গড়ে উঠেছিলো, সেখান থেকে মাত্র একজনকে অপসারণ করা হয়েছে, বাকি সবাই কিন্তু বহাল তবিয়তে এখানো আছে। তারা তাদের কাজ ঠিকই করে যাচ্ছে। আর যারা এই দালাল শ্রেণী সৃষ্টি করেছে, তারা তো ছায়া হয়ে আছেই। কাজেই তৃপ্তির ঢেকুড় তোলার সুযোগ নাই।
২. আল্লামা আহমদ শফিকে অপসারণ করা হয়নি। তিনি এখনো হাটহাজারির সর্বোচ্চ সম্মানজনক পদ সদরে মুহতামিম হিসেবে আছেন। তবে তার অসুস্থতার কারণে তার যে ক্ষমতাকে অন্যরা ব্যবহার করতো সেই ক্ষমতাটা এখন শুরাকে দেয়া হয়েছে। তিনি ভার মুক্ত হয়ে নিরাপদ সম্মানজনক স্থানে আছেন। এবং এই পদেই সম্মানের সাথে থাকবেন।
৩. হাটহাজারির এই সফল আন্দোলনের ক্রেডিট নিয়ে যে, কথা উঠেছে এটা সম্পূর্ণ অবান্তর। এখানে অন্য কারো কোনো অবদান নেই। এই আন্দোলনের ক্রেডিট সম্পূর্ণ হাটহাজারির ছাত্রদের। এখানে অন্য কেউ ক্রেডিট নেয়ার দাবি করেছে এমন কিছুও নজরে পড়েনি। অযথাই ক্রেডিট নিয়ে টানাটানির কথা বলার অর্থ হলো অন্যকে হেয় করা। যার কোন প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না।
৪. ঢাকার উলামায়ে কেরামের ভিডিও বার্তা নিয়ে বেশ কথা হচ্ছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৮ টায় তাদের মিটিং শুরু হয়েছিলো। আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা সময় লেগেছে। কিন্তু এর আগেই হাটহাজারির ফায়সালা হয়ে গেছে। কালকে রাতে ফায়সালা না হলেও এই লাইভ ঠিকই হতো, এবং তখন বুঝা যেতো এই লাইভের গুরুত্ব কতটুকু। দালালদের বিরুদ্ধে ঢাকার যেসব উলামায়ে কেরাম ভুমিকা রাখছেন তাদেরকেও যদি প্রশ্নবিদ্ধ করা হয় তাহলে বাকি থাকে কি?
৫. হাটহাজারি আন্দোলনের ইন্ধনদাতা হিসেবে অনেকেই মাওলানা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। দালালদের নামে বেনামে যতগুলো আইডি আছে সবগুলো আইডি থেকে এই আন্দোলনের জন্য সবার আগে আল্লামা বাবুনগরী ও মাওলানা মামুনুল হকের বিষাদগার করা হচ্ছে, এরপরও কি মামুন সাহেবের দায়িত্ব ছিলো তাদের অভিযোগগুলোকে সত্য প্রমাণের জন্য ফেসবুকে বারবার স্ট্যাটাস দেয়া?
৬. ডাকসু ভিপি নূরের কর্মসূচি নিয়ে অনেকের আপত্তি দেখলাম। ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখলাম। ঢাকায় সমাবেশ করার দায়িত্ব ছিলো কওমি অঙ্গনের ছাত্র সংগঠনগুলোর, আমি মনে করি ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও নানান কারণে তারা করতে পারেনি। আমরা নিজেরা করবো না, আর কাউকে করতেও দিবো না এটা কেমন কথা? আর বিপ্লব কি একা একা হয়? কোনো বিপ্লবের পক্ষ সবশ্রেণীর সমর্থন থাকলেই সেটা সফলতা লাভ করে।

৭. এই আন্দোলনের সাথে যারা ছিলো, ছাত্র জনতা ও আলেম উলামা। আমি তাদেরকেই কওমি অঙ্গনের মূল শক্তি মনে করি। প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে যারা যেভাবে সহযোগীতা করেছে তারাই ঠিক করবে কওমি অঙ্গনের ভবিষৎ। যারা এই আন্দোলনকে শুরু থেকেও প্রশ্ন বিদ্ধ করার চেষ্টা করেছে, তারাই সুবিধাবাদি। এরা কওমি অঙ্গনের ঐক্য বিরোধী। সব সময়ই এরা স্রোতের বিরুদ্ধে চলে স্রোতকে প্রশ্ন বিদ্ধ করেছে। এদের ভিতরে থেকেও কিছু মানুষ আন্দোলনের সাথে ছিলো, তাদের সাধুবাদ জানাই।

 সরকার বন্ধুত্ব করতে ভারতকে ইলিশ দিলেও, বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করেছে ভারত

সরকার বন্ধুত্ব ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করতে ভারতকে ইলিশ আমদানির সুযোগ দিলেও সংকট দেখিয়ে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ ঘোষণা করেছে ভারত।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বেনাপোল বন্দর দিয়ে ইলিশের চালান ঢোকার পর পরই হঠাৎ করে বিকাল থেকে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয় ভারতের পেট্রাপোল কাস্টমস।

ভারতের পেট্রাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চন্দ্র জানান, সকাল ৯টায় এক ট্রাক পেঁয়াজ বাংলাদেশে ঢোকে। এর পর কাস্টমস পেঁয়াজ রফতানিতে বাঁধা দেয়। তবে প্রাথমিকভাবে যেটা জানা গেছে, ভারতের যেসব অঞ্চল থেকে পেঁয়াজ আসে সেখানে বন্যায় ফসলের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এতে সংকট দেখা দেওয়ায় আপাতত দেশের বাইরে পিয়াজ যাচ্ছে না। তবে সংকট কাটলে যেকোনো সময় এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হতে পারে।

বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার জানান, পিয়াজ আমদানি সহজ করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধি দল সোমবার দুপুরে বেনাপোল বন্দরে বৈঠক করেন। কিন্তু বিকালের পর হঠাৎ করে বিভিন্ন মাধ্যমে জানা যায় ভারত থেকে আর পেঁয়াজ ঢুকছে না। তবে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কোনো চিঠি দেয়নি।

বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেন। আজ তাঁকে বাংলাদেশ সফরে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মুজিববর্ষ উপলক্ষে তাকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তাকে এ আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এর আগে তুরস্কের আঙ্কারা মিশনের বাংলাদেশ চ্যান্সারি কমপ্লেক্স উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ ভবন উদ্বোধন করেন।

চান্সারি ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসগলু।

তুরস্কের আঙ্কারার বাংলাদেশ মিশন জানায়, আঙ্কারার বাংলাদেশ দূতাবাসের নিজস্ব ভবন নির্মাণে বরাদ্দ ছিল ৪৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। তবে ভবনটি নির্মাণে ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা কম ব্যয় হয়েছে। ওই টাকা বাংলাদেশ সরকারের কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

যেভাবে মানুষের ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে প্রতারনা করছে

মুফতী সাহেব হুজুরের বাসায় একবার জনৈক মৌলভী বেশভূষার এক লোক মাদরাসার কালেকশনের জন্য এসেছেন। হুজুর তাকে বসতে দিলেন। তাকে জিজ্ঞাসা করলেন কোথা থেকে এসছেন? কোন মাদরাসার পক্ষ থেকে? লোকটি যে মাদরাসার নাম বললো সেখানকার প্রিন্সিপাল সাহেব হুজুরকে খুব ভালভাবে চেনেন। হুজুর আলাপ করতে চাইলে লোকটি কাচুমাচু শুরু করে দিলেন (!) হুজুর লোকটির কাছে একটি রশিদ চাইলেন। হাতে নিয়ে দেখলেন প্রতিটি রশিদের পাতায় একই তারিখের সীল মারা অর্থাৎ একটা রশিদকে ফটোকপি করে বাকিগুলো বানিয়েছে। খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়- এই লোকটি মাদরাসায় কখনো পড়েনি এবং সেই মাদরাসার সাথেও কোন সম্পর্ক নেই। মাদরাসা কর্তপক্ষও এভাবে কালেকশন করেন না (যদিও অনেক জায়গায় কালেক্টর রেখে টাকা কালেকশন করতে দেখা যায়)। আগত লোকটি চিনতে পারেনি যে, কার কাছে এসেছে এবং তিনি কে?

এটাতো অফলাইনের ঘটনা। আজ এক ভাই অনলাইনে একটি ম্যাসেজ পাঠিয়েছেন যে, জনৈকা হাফেজা নামধারী এক ফেসবুক আইডি ম্যাসেজ দিয়েছে ৩০ জন কুরআনে হাফেজের জন্য ৩০টি কুরআন শরীফ প্রয়োজন। হাদিয়া দিতে চাইলে বিকাশ করুন (স্ক্রীনসট সংযুক্ত)। তার ও মাদরাসার পরিচয় জানতে চাইলে অস্পষ্ট কথাবার্তা বলেন। এ্যাপসের মাধ্যমে তার নম্বর চেক করলে নম্বরটি একজন পুরুষের নামে রেজিষ্ট্রিকৃত দেখা যায়। এটা তাকে প্রকাশের সাথে সাথেই ব্লক করে দেয়। এভাবে মানুষের ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে প্রতারনা করছে বলেই প্রতীয়মান হয়। সুতরাং অনলাইন হউক কিংবা অফলাইন; আপনারা অবশ্যই জেনেশুনে দান-সদকা করুন যেন আপনার আবেগকে কাজে লাগিয়ে কেউ প্রতারণা করতে না পারে। মুফতি সাহেব হুজুরকে দেখা যায় প্রতিটি লেনদেনের বিপরীতে রশিদ প্রদান করেন এবং সেই খাতেই দানকৃত অর্থ ব্যয় করে থাকেন। এমন স্বচ্ছতা বজায় রেখে চলা আমাদের ঈমানী দায়িত্ব। আল্লাহপাক মুফতী সাহেব হুজুরকে সুস্থতার সাথে দীর্ঘ নেক হায়াত দান করুন এবং আমাদেরকেও তাঁর ন্যয় আমানতদারীর সাথে যেকোনো কাজ করার তৌফিক দান করুন।

ইমাম ভুলে তিনটি সিজদা করে ফেললে করণীয় কী?

উত্তর: ইমাম সাহেব অতিরিক্ত সেজদা করার কারণে ইমাম এবং সকল মুকতাদীর উপর সেজদায়ে সাহু ওয়াজিব হয়েছে। কিন্তু সেজদায়ে সাহু না করার কারণে ইমাম মুক্তাদী সকলের জন্য নামাযটি পুনরায় পড়ে নেওয়া জরুরি।

উল্লেখ্য, এ ধরনের ভুলের ক্ষেত্রে ইমামের অনুসরণ না করাই নিয়ম। কিন্তু অনুসরণ না করলেও ইমামের ভুলের কারণে সকলের উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়ে যায়। খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৬১; শরহুল মুনয়া পৃ. ৫২৮, ৪৫৬; রদ্দুল মুহতার ১/৪৫৭। সূত্র: আল কাউসার