আসুন ভালো কিছু করার পরিকল্পনা করি। মিজাানুর রহমান আজহারী

আব্দুল্লাহ ইবনে ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ‬) বলেছেনঃ আল্লাহ তায়ালা ভালো কাজ ও মন্দ কাজগুলোকে লিপিবদ্ধ করে রাখেন। অত:পর, যে ব্যক্তি কোন ভালো কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করে, কিন্তু তা করেনি তখন আল্লাহ তায়ালা তার আমলনামায় একটি পূর্ণ ভালো কাজের সাওয়াব বা প্রতিদান লেখার আদেশ দেন। আর যদি ভালো কাজের ইচ্ছা পোষণ করার পর সে তা বাস্তবায়ন করে, তখন আল্লাহ তায়ালা তাকে এই একটি ভালো কাজের জন্য দশ গুণ হতে সাতশ’ গুণ, বরং বহুগুণ বেশি সাওয়াব দান করেন। পক্ষান্তরে, যদি কোন ব্যক্তি কোন পাপ কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করে, কিন্তু বাস্তবে তা না করে, তখন সঙ্গে সঙ্গে তার আমলনামায় কোন গোনাহ লেখা হয় না বরং আল্লাহ তায়ালা তার জন্য এটাকে একটি পূর্ণ নেক কাজ হিসেবে লিখে নেন (যেহেতু পাপ কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করেও সেটা সে করেনি)। আর কেউ যদি কোন পাপ কাজের ইচ্ছা পোষণ করার পর তা বাস্তবে করে ফেলে, তখন আল্লাহ তায়ালা এর জন্য শুধুমাত্র একটি গুনাহ লিখে রাখেন। [মুসলিম]

মউদূদী মতবাদ

উপমহাদেশের খ্যাতনামা উলামাদের প্রায় সকলেই মওদূদী সাহেবের চিন্তা ধারায় যে সব মারাত্মক ভুল ভ্রান্তি স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে প্রথমে তা মওদূদী সাহেব ও তার প্রতিষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামী নেতৃবর্গকে বিভিন্ন ভাবে অবহিত করে সেগুলো প্রকাশ্যে প্রত্যাহার করতে বলেছেন। কিন্তু যখন দেখা গেল মওদূদী সাহেব বা জামায়াতের নেতৃবর্গ তা প্রত্যাহার করার পরিবর্তে বাড়তি কিছু বিভ্রান্তি যোগ করে ক্রমাগত তা প্রতিষ্ঠিত করতেই চেষ্টা করেছেন। তখন মুসলিম জন সাধারণকে গোমরাহী থেকে বাঁচানোর স্বার্থে উলামায়ে কেরাম মওদূদী সাহেবের মৌলিক ভুলগুলো সুদৃঢ় প্রমাণসহ মুসলিম উম্মাহর সামনে তুলে ধরতে বাধ্য হয়েছেন, এমনকি মওদূদী সাহেবের প্রাথমিক পর্যায়ের তুলনামূলক ভ্রান্তিমুক্ত রচনা-প্রবন্ধ ইত্যাদি দেখে যেসব বিদগ্ধ উলামায়েকেরাম ও ইসলামী বুদ্ধিজীবীগণ জামাআতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠালগ্নে জনাব মওদূদী সাহেবের সঙ্গে এমনকি জামায়াতের অতি গুরুত্বপূর্ণ পদ সমূহে অধিষ্ঠিত হয়ে মওদূদী সাহেবকে খুব কাছে থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন। অতঃপর মওদূদী সাহেবকে ক্রমশঃ ভুলপথে চলতে দেখে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁরাও একে একে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে জামায়াত হতে পৃথক হয়ে গেছেন। উদাহরণতঃ জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা নায়েবে আমীর মাওঃ মনজুর নোমানী, সেক্রেটারী জনাব কমরুদ্দীন (এম,এ) বেনারসী। মজলিসে শুরার অন্যতম সদস্য হাকীম আঃ রহীম আশরাফ ও মাওলানা আমীন আহসান এসলাহী বিশ্ব বরেণ্য দাঈয়ে ইসলাম মাওঃ আবুল হাসান আলী নদভী। জামায়াতের অন্যতম রুকন ও মওদূদী সাহেবের জন্যে নিবেদিত প্রাণ ডক্টর এসরার আহমাদ সাহেব প্রমূখ সহ প্রথম সারীর প্রায় আরো সত্তর জন নেতৃবর্গ।

mydearbd pdf book download

ডাউনলোড / Download

এসো ঈমান শিখি

আমলের চেয়ে ঈমানের গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ, শুধু সহীহ ঈমান দ্বারাও জান্নাত লাভ হবে (যদিও তা প্রথম অবস্থায় না হোক), কিন্তু সহীহ ঈমান ব্যতীত হাজারো আমল একেবারেই মূল্যহীন। যথার্থ ঈমান ব্যতীত শুধু আমল দ্বারা নাজাত পাওয়ার কোন সুরত নেই।
দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বর্তমানে চরম ফিতনার যুগে অনেক মানুষ সকালে মু‘মিন থাকলেও বিকালে ঈমানহারা হচ্ছে, আবার কেউ বিকালে মু‘মিন থাকলেও সকালে নষ্ট করে ফেলেছে। কিন্তু মানুষের ঈমান-আক্বীদা সংরক্ষণের জন্য যথার্থ ব্যবস্থা সমাজে নেই। অথচ বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার দরুন এতদসম্পর্কিত অধিক সংখ্যক কিতাবপত্র রচনা ও আলোচনা-পর্যালোচনা অব্যাহত থাকা ছিল একান্ত জরুরী।
এতদুদ্দেশ্যে আমি নালায়েক ‘আকীদাতুত তাহাবী, শরহে আক্বায়িদ, তা‘লীমুদ্দীন, ফুরূউল ঈমান’সহ বিভিন্ন কিতাব থেকে সহীহ আকীদাসমূহ পেশ করতে সাধ্যানুযায়ী চেষ্টা করেছি। যাতে করে সাধারণ মানুষের বুনিয়াদী ঈমান-আক্বীদা সহীহ হয়ে যায়। পাশাপাশি তা পরিপূর্ণ ও মজবুত করার জন্য ঈমানের শাখাগুলোর বিবরণ পেশ করেছি। আর ঈমান হিফাযতের জন্য ভ্রান্ত আক্বীদা, কুফরী ও শিরকী কথা এবং ভুল রাজনৈতিক দর্শনের বর্ণনা দিয়েছি। যেন কেউ কুফরী আক্বীদা পোষণ করে নিজের ঈমান ধ্বংস করে না ফেলে। আর ৪র্থ অধ্যায়ের শেষাংশে গুনাহে কবীরার বিবরণ এজন্য পেশ করা হয়েছে, যাতে করে এগুলোকে মানুষ গুনাহ এবং আল্লাহর নাফরমানী বলে বিশ্বাস করে নিজেকে এসব কাজ থেকে দূরে রাখে। গুনাহে কবীরাকে হালাল বা জায়িয মনে করলে মানুষ ঈমানহারা হয়ে যেতে পারে। এজন্য গুনাহের ইলম থাকা ঈমানের জন্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সম্পূর্ণ বিষয়াদি মিলে বইটি রুগ্ন মুসলিম জাতির রোগ নিরাময়ের জন্যে বিশেষ কার্যকর হবে বলে আল্লাহর দরবারে আশা করি। আল্লাহ তা‘আলার দরবারে দু‘আ করি, তিনি যেন এ কিতাবটি কবুল করেন এবং এটাকে মুসলিম মিল্লাতের হিদায়াতের জারি‘আ করেন। আমীন।

mydearbd pdf book downloadডাউনলোড / Download

হাদিয়া আহলুল হাদীস

হার যামানায় যেসব ফিতনা উম্মাহর মাঝে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে এবং ব্যাপক মহামারীর রূপ ধারণ করেছে। তন্মধ্যে অন্যতম হল, ‘লা মাযহাবী ফিতনা’। এ ফিতনা মোকাবেলায় ও এদের মুখোশ উন্মোচনে যে সকল আলেমে দ্বীন উম্মাহর অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখে চলেছেন তাদের অন্যতম হলেন ফকীহুল মিল্লাত মুফতী আব্দুর রহমান সাহেব রহ.। তিনি বিষয়টির ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে এ ব্যাপারে বাংলাদেশের উলামায়ে কেরামকে সতর্ক ও সচেতন করার জন্য বিভিন্ন এলাকায় বড় বড় ফিক্বহী সেমিনার ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে উত্তম জাযা দান করেন। এ ব্যাপারে মাঠে-ময়দানে কাজ নেয়ার জন্য তিনি তার দূরদর্শিতা দ্বারা কয়েকজন আলেমকে বাছুনী করেন এবং তাদেরকে এ ময়দানে লাগান। ঐসব আলেমদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়ার শাইখুল হাদীস ও প্রধান মুফতী, হারদুঈ হযরতের অন্যতম খলীফা হযরতুল আল্লাম মুফতী মনসূরুল হক সাহেব দা.বা.।

ফকীহুল মিল্লাত রহ. এর নিবেদনে তিনি এখন বয়ান-বক্তৃতা ও লেখনীর মাধ্যমে এদের মুখোশ উন্মোচনে বদ্ধপরিকর। মুফতী সাহেবের এসব বয়ানের মধ্যে ফকীহুল মিল্লাত রহ. এর রূহানী ফয়েয ও তাওয়াজ্জুহ স্পষ্ট। এ পর্যন্ত এ বিষয়ে হযরতের তিনটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়ে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে। আর হযরতের অসংখ্য বয়ান তো হযরতের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছে। হযরতের এ অসংখ্য বয়ান থেকে লা-মাযহাবী ফিতনা সংক্রান্ত চারটি বয়ান কয়েকটি ইসলামী মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হলে ব্যাপক পাঠক প্রিয়তা পায় এবং জনসাধারণের মাঝে অকল্পনীয় ফায়দা পৌঁছায়। ফলে তখন থেকে বিভিন্ন মহল হতে বারবার তাকাযা আসছিল, অনুরোধ-আবেদন চলছিল বয়ান চারটি মলাটবদ্ধ করে পাঠকের সামনে পেশ করার, যাতে এর ফায়দা ব্যাপক ও স্থায়ী হয়।

একটু বিলম্বে হলেও হযরতের নির্দেশে এ খিদমত আঞ্জাম দেয়ার সৌভাগ্য হয়। আলহামদুলিল্লাহ, বয়ানগুলো প্রয়োজনীয় পরিবর্ধন ও পরিমার্জন করে তা পাঠক সমীপে পেশ করা হল। এ সংকলনের কাজে বিভিন্ন জন বিভিন্নভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা সকলকে জাযায়ে খাইর নসীব করুন। সবাইকে তাফাক্কুহ ফিদ-দীন ও রুসুখ ফিল-ইলম দান করুন।

গ্রন্থটিকে সুন্দর ও ত্রুটিমুক্ত করার আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়েছে। তারপরও কোন ধরনের অসঙ্গতি কারো নযরে পড়লে আমাদেরকে অবগত করলে কৃতজ্ঞ হব।

mydearbd pdf book downloadডাউনলোড / Download

মাযহাব ও তাকলীদ

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সূরাতুল ফাতিহায় বান্দাদেরকে তাঁর কাছে সরলপথের তাওফীক প্রার্থনা করার শিক্ষা দিয়েছেন। কিন্তু সরলপথের ব্যাখ্যায় তিনি নির্দিষ্ট কোনো আমল বা কর্মপন্থার উল্লেখ করেননি। বরং তার অনুগ্রহপ্রাপ্ত বান্দাদের কর্মপন্থাকে সরল পথ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আর অন্যত্র নবী, সিদ্দীক, শহীদ ও নেককার বান্দাদেরকে তাঁর অনুগ্রহপ্রাপ্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সরলপথের ব্যাখ্যায় কর্মপন্থার পরিবর্তে ব্যক্তিবর্গের উল্লেখ, আর অনুগ্রহপ্রাপ্তদের তালিকায় নবীদের সাথে নেককার লোকদের অর্ন্তভুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর দ্বারা মূলত: নবীর অবর্তমানে উম্মাহর জন্য কুরআন-সুন্নাহ অনুসরণের সঠিক পন্থা বাতলে দেয়া হয়েছে। তারা  কুরআন-সুন্নাহর বিধি-নিষেধের ওপর প্রাজ্ঞ-নেককার ব্যক্তির আমল ও কর্মপন্থা মোতাবেক আমল করবে; চাই বিধানটি স্পষ্ট হোক বা সূক্ষ্ম, দ্ব্যর্থহীন হোক বা দ্ব্যার্থবোধক, সংক্ষিপ্ত হোক বা  বিস্তারিত। কারণ অনেক সময় কুরআন-সুন্নাহর সুস্পষ্ট শব্দাবলী থেকেও ভুল অর্থ অনুধাবনের আশংকা থাকে। উদাহরণত:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ

لَا يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ

‘হে ইমানদারগণ! নিজেদের ফিকির কর। যখন তোমরা ঠিক পথে চলবে তখন যে ব্যক্তি পথভ্রষ্ট তার কারণে তোমাদের কোনো ক্ষতি নেই।’-সূরা মায়িদা:১৪০ এ আয়াতটির কথাই ধরুন। হযরত আবূ বকর রাযি. বলেন,

يأيها الناس ، إنكم تقرؤن هذه الآية وتضعونها على غير مواضعها (عليكم أنفسكم لا يضركم من ضل إذا اهتديتم) قال عن خالد : وإنا سمعنا النبي صلى الله عليه وسلم يقول : (إن الناس إذا رأوا الظالم فلم يأخذوا على يديه أوشك أن يعمهم الله بعقاب(

‘হে লোক সকল! তোমরা এই আয়াতকে দলীল হিসাবে ভুল স্থানে পেশ করছো যে, শুধু নিজের ফিকির করলেই যথেষ্ট হবে, অপরাপর মানুষের হেদায়াতের ফিকির করতে হবে না,) অথচ আমি নবীজী صلى الله عليه وسلم  কে বলতে শুনেছি, যখন মানুষ কাউকে জুলুম করতে দেখবে কিন্তু তাকে প্রতিরোধের চেষ্টা করবে না তখন অতিসত্বর আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে ব্যাপকভাবে আযাবে লিপ্ত করবেন।’ (সুনানে আবূ দাউদ হা.৪৩৩৮)

তো দেখা যাচ্ছে, দীন পালনে ভুল-ভ্রান্তি থেকে বেঁচে থাকার জন্য  নেক ও সৎকর্মশীল ব্যক্তিদের থেকে কুরআন-সুন্নাহর সঠিক মর্ম জেনে নেয়া এবং এ দু‘টোর উপর আমলের ক্ষেত্রে তাদের আমলের অনুসরণ করা আল্লাহ তা‘আলারই নির্দেশ। এখন এটাকে কেউ ইত্তিবা আর অনুসরণ বলুক কিংবা তাকলীদ আর মাযহাব অনুসরণই বলুক।  কিন্তু এই সহজ ও সাধারণ বিষয়টিকে বর্তমানে ভুলভাবে উপস্থাপন করে উম্মাহকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। দীনের সংক্ষিপ্ত, সূক্ষ্ম ও জটিল বিষয়ে ইমাম আবূ হানীফা রহ. ও তাঁর শিষ্যদের মতামত অনুসরণকে শিরক আর অনুসারীকে মুশরিক বলা হচ্ছে।  প্রশ্ন হল, বহু সাহাবায়ে  কেরামের স্নেহধন্য কূফা নগরীর ইলমী মসনদের মহান ইমাম ও তাঁর শিষ্যগণ কি কারো অনুসরণযোগ্য নয়? ছোট যদি দক্ষ ও প্রাজ্ঞ বড়র ব্যাখ্যা অনুযায়ী দীনের অনুসরণ করে  এটাকে শিরক বলা যায় কি? পাক-ভারত-বাংলায় তাকবীরে তাহরীমা ব্যতীত অন্য কোনো সময় রফয়ে ইয়াদাইন করে না এমন একজন সাধারণ মুসলমানকে তার ধর্ম, কিতাব ও নবী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে দেখুন, উত্তরে সে ইসলাম, কুরআন ও মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم  কে বাদ দিয়ে ইমাম আবূ হানীফা ও তাঁর মাযহাবের নাম বলে কিনা ? যদি না বলে, তাহলে কিসের ভিত্তিতে এ কথা বলা হয় যে, এরা কুরআন-হাদীস না মেনে আবূ হানীফাকে অনুসরণ করে ? হাঁ, তারা অবশ্যই ইমাম আবূ হানীফা রহ. ও তার শিষ্যদের অনুসরণ করে, তবে তা তাঁর ও তাঁর  শাগরেদদের কুরআন-সুন্নাহয় গভীর পাণ্ডিত্য ও তাকওয়া-তাহারাতের ভিত্তিতে তাদের সংকলিত ফিকহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ; যা তারা অর্জন করেছিলেন পর্যায়ক্রমে হাম্মাদ ইবনে আবী সুলাইমান, ইবরাহীম নাখয়ী, আলকামা ও আসওয়াদ এবং আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাযি. এর মাধ্যমে নবীজী صلى الله عليه وسلم  এর নিকট থেকে। তাহলে দক্ষ ও যোগ্য মুজতাহিদের কুরআন-সুন্নাহ ও ইজমা-কিয়াসের আলোকে আহরিত ফিকহ অনুসরণ করা আর নির্ভেজাল কুরআন-সুন্নাহ অনুসরণের মধ্যে পার্থক্য কোথায়? ইমাম বুখারীকে রহ. দেখুন, বুখারী শরীফে তিনি প্রায় প্রতিটি হাদীসের শুরুতে তরজমাতুল বাব নামে তার আহরিত ফিকহ সন্নিবেশিত করেছেন। এ ব্যাপারে কারো কোনো আপত্তি নেই। তো ইমাম বুখারী রহ. (মৃত:২৫৬ হি.) এর ফিকহ যদি অনুসরণীয় হয়, তাহলে তার উস্তাদের উস্তাদ ইমাম আবূ হানীফা রহ. (জন্ম: ৮০ হি. মৃত:১৫০ হি.) এর ফিকহ কেন অনুসরণীয় হবে না? মাসআলা উদ্ভাবনে কিয়াস করেছেন বলে কি তার ফিকহ পরিত্যাজ্য হবে? কুরআন সুন্নাহয় কোনো সমস্যার সমাধান পাওয়া না গেলে কিয়াস করা তো শরী‘আতেরই নির্দেশ। হযরত মুআয রাযি. এর اجتهد برأى (কুরআন-সুন্নাহয় না পেলে আমি আমার রায় দ্বারা সমস্যা সমাধানে সর্বাত্মক চেষ্টা করব) কথাটি এর সুস্পষ্ট প্রমাণ। তা সত্ত্বেও সর্তকতা স্বরূপ ইমাম আযম রহ. কুরআন-সুন্নাহর পর সাহাবায়ে কেরামের ইজমা ও তাদের কর্মপন্থায় সমাধান খুঁজেছেন। এতেও পাওয়া না গেলে তখন তিনি কিয়াসের আশ্রয় নিয়েছেন। তা ছাড়া এ আমল তো তার একারও নয়; কিয়াস  তো  খোদ নবীজী صلى الله عليه وسلم , সাহাবায়ে কেরাম এবং তাবেঈনেরও আমল ছিল। প্রচার করা হয়, হানাফী মাযহাবে দুর্বল বর্ণনা সূত্রের হাদীসের উপর আমল করা হয়। দেখুন না, যঈফ হাদীস যদি একেবারেই পরিত্যাজ্য হবে তাহলে ইমাম বুখারী রহ. কেন যঈফ হাদীসের ভিত্তিতে তার সহীহ হাদীসের কিতাব ‘বিসমিল্লাহ’ দ্বারা শুরু করেছেন? শুধু ইমাম বুখারী রহ. এর জন্য যঈফ হাদীসের উপর আমল বৈধ, অন্য কারো জন্য নয় এর কী ভিত্তি আছে? হাদীস যাচাইয়ের ক্ষেত্রে একেক মুহাদ্দিসের একেক মানদণ্ড থাকে। ফলে একই হাদীস কারো কাছে সহীহ, কারো কাছে যঈফ হতে পারে। সে হিসেবে ইমাম আযম রহ. এর কি হাদীস যাচাইয়ের ভিন্ন কোনো মানদণ্ড থাকতে পারে না? এবং তার যাচাই অনুযায়ী কোনো হাদীস সহীহ হলেও তার পরবর্তী কোনো রাবীর দুর্বলতার কারণে তা কি যঈফ হতে পারে না? তো পরবর্তী রাবীর দুর্বলতার কারণে ইমাম আযমের যাচাইকৃত সহীহ হাদীসটি দুর্বল হয়ে পড়বে কি? কস্মিন কালেও নয়।

mydearbd pdf book download

কিতাবুল ঈমান

হামদ ও সালাতের পর, আল্লাহ তা‘আলা মানব জাতিকে আশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে সৃষ্টি করে সমগ্র বিশ্ব জগতকে তাদের সেবায় নিয়োজিত করেছেন। মানব সৃষ্টির একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে, ইবাদত করা। এই ইবাদত তথা সহীহ ঈমান ও নেক আমলের মধ্যেই মানুষের শান্তি ও কল্যাণ নিহিত। আর বিরুদ্ধাচরণের পরিণতিতে বেইজ্জতি, ধ্বংস ও জাহান্নাম অনিবার্য। মানব সৃষ্টির সূচনা লগ্নে আল্লাহ তা‘আলা নিজ পরিচয় ও কুদরতের বর্ণনা দিয়ে তাদের থেকে নিজের প্রভুত্বের স্বীকারোক্তিমূলক অঙ্গীকার নেয়ার পর দুনিয়াতে তা পূনরায় স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য যুগে যুগে প্রেরণ করেছেন অসংখ্যা নবী, রাসূল ও পয়গাম্বর(আ)। সকল পয়গাম্বরের মৌলিক শিক্ষা ছিল এক ও অভিন্ন। তাঁরা সকলেই এক আল্লাহর প্রতি ও হাশর-নাশরের প্রতি ঈমান এবং নেক আমল ইত্যাদি বিষয়ে দাওয়াত দিয়েছেন।

ঈমান ও আমল উভয়টা মানুষের ইখতিয়ারভূক্ত বিষয়। সুতরাং, মেহনত-মুজাহাদা ও কষ্ট-সাধনার মাধ্যমে উক্ত মহামূল্যবান দু’টি বিষয়কে পরিপূর্ণভাবে লাভ করা এবং তা খুব মজবুত ও দৃঢ় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্যে অপরিহার্য।

উল্লেখ্য যে, আমলের চেয়ে ঈমানের গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ, শুধু সহীহ ঈমান দ্বারাও জান্নাত লাভ হবে (যদিও তা প্রথম অবস্থায় না হোক), কিন্তু সহীহ ঈমান ব্যতীত হাজারো আমল একেবারেই মূল্যহীন। যথার্থ ঈমান ব্যতীত শুধু আমল দ্বারা নাজাত পাওয়ার কোন সুরত নেই।

দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বর্তমানে চরম ফিতনার যুগে অনেক মানুষ সকালে মু‘মিন থাকলেও বিকালে ঈমানহারা হচ্ছে, আবার কেউ বিকালে মু‘মিন থাকলেও সকালে নষ্ট করে ফেলেছে। কিন্তু মানুষের ঈমান-আকীদা সংরক্ষণের জন্য যথার্থ ব্যবস্থা সমাজে নেই। অথচ বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার দরুন এতদসম্পর্কিত অধিকসংখ্যক কিতাবপত্র রচনা ও আলোচনা-পর্যালোচনা অব্যাহত থাকা ছিল একান্ত জরুরী।

mydearbd pdf book download

ডাউনলোড / Download