বসুমতী পীর পরিচিতি ও কুফুরী আকীদা-বিশ্বাস 

 বসুমতী পীর বলতে বসুমতী আবাসিক প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সৈয়দ মােঃ নাসির উদ্দিন কে বােঝানাে হয়েছে। তার পূর্ণ ঠিকানা: দরবারে আশেকীন, সােলমাইদ দরবার শরীফ। বসুমতী আবাসিক প্রকল্প, ব্লক আই, বাড্ডা, ঢাকা- ১২১২। 

বসুমতী পীরের খেতাবঃ

 নূরে নুরানী, চেরাগে রুহানী, কুতুবে রব্বানী, শরীয়ত, মারফত, দকিকত, হাকিকত ও তাসাওয়াফের জ্ঞানে ওলিয়ে কামেল, কামেলে মােকাম্মেল। কোরআনে মুফাচ্ছেরীন, রহমতে রাহীম, তরিকতে শাহেনশাহ্, শরীয়তে মাওলানা, পীরে কামেল, গােপন দরবেশ না প্রকাশিত দরবেশ, নায়েবে রসুল, হেদায়েতকারী আউলিয়া। (দৈনিক আমাদের সময়, ৮ই মে ২০১১ইং) 

এসব খেতাবের একটিরও তার কাছে কণা পরিমাণ যােগ্যতা নেই। বিশ্বের বড়। বড় আউলিয়া ও সাহাবাগণ এমনকি নবী-রাসূলগণ পর্যন্ত নিজেদের নামের সঙ্গে নিজেরা কোন খেতাব ব্যবহার করেন নি। 

বসুমতীর কুফুরী আকীদা-বিশ্বাস 

১. আল্লাহ অসহায় ও বসুমতীর মুখাপেক্ষী। 

২. বসুমতী আল্লাহর ইজ্জত-সম্মান রক্ষাকারী। 

৩. তার কালবের মােবাইলে আল্লাহ টেলিফোন করেন। 

৪. আল্লাহ তাকে টিভির চ্যানেল খুলে দেখার আদেশ করেন। 

৫. স্বয়ং আল্লাহ তাকে কুরআন ও রাজনৈতিক শিক্ষা দেন। 

৬. সব সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূল তাকে দিয়েছে। 

৭. ব্রিাইল তার মুরীদ ও অনুগত। (সূত্র: দৈনিক আমাদের সময়, ৮ই মে ২০১১ইং)।

বসুমতী পীরের আকীদা-বিশ্বাস নং-১

 ভাল-মন্দ সব সিদ্ধান্ত পীরের হাতে। বসুমতী পীর দৈনিক আমাদের সময়, ৮ই মে ২০১১ ইংরেজী তারিখের এ পত্রিকার ১৮তম পর্বে লিখেছে, 

প্রশ্নঃ হুজুর বাংলাদেশে যানজট, গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের মারাত্মক সমস্যা। এ বিষয়ে আপনি কোন সিদ্ধান্ত দিবেন কি?

 উত্তরঃ সব সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূল আমাকে দিয়েছেন। যানজট গজবে বাংলাদেশের সরকার ও ব্যবসায়ীদের প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয় অর্থনীতিবিদরা বলেছেন যা আমি টিভিতে দেখেছি। আমার মুরীদরা ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত আমি আল্লাহর কাছে সুপারিশ করতে পারি না। মুরিদ ছাড়া আমি সুপারিশ করলে আল্লাহ আমার মন্ত্ৰীন্ত বাতিল করে দিবে…………..। 

 তার বিপক্ষে দলিলঃ

 বসুমতীর এই আকীদা সম্পূর্ণ কুরআন-হাদীস পরিপন্থী। এমন আকীদা পােষণকারীকে মুসলমানই বলা যায় না, পীর হওয়া দূরের কথা। পীর সাহেব দাবী করলেন, সব (ভালমন্দ) সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূল তাকে দিয়েছে। অথচ আল্লাহ তাআলা তার সবচেয়ে প্রিয় রাসূল (সাঃ) কে বলেন,

قل لا املك لنفتی نفعا ولا ضرا الا ما شاء الله

অর্থঃ হে নবী আপনি বলুন, আমি আমার লাভ ও ক্ষতির মালিক না, আল্লাহ যা চান তা ছাড়া। (সূরা ইউনুস, আয়াত: ৪৯) ,

وان يمسسك الله بضر فلا كاشف له الا هو وان يمسسك بخير فهو

” على كل شئ قدير.

অর্থঃ আল্লাহ যদি তােমাকে কোন ক্ষতি স্পর্শ করান, তাহলে তিনি ব্যতিত উহা দূর করার কেউ নেই। আর যদি তিনি তােমার কল্যাণ করলে তবে তিনিই তাে সর্ববিষয়ে শক্তিমান। (সূরা আনআম, আয়াত: ১৭)।

হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে:

والخيال لیدی

অর্থঃ ভাল-মন্দ সবই তােমার (আল্লাহর) হাতে। সুতরাং কুরআন হাদীসের বর্ণনা দ্বারা স্পষ্ট হলাে ভাল-মন্দ সব সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এরও ছিল না। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারাে প্রতি এমন বিশ্বাস রাখা গােমরাহী ও শিরক।

 বসুমতীর আকীদা বিশ্বাস নং-২

 কালিমা পরিবর্তনঃ বসুমতী পীর নাসির উদ্দিন লিখেছে “হুজুর (বসুমতী পীর) বলেন, আমি জিব্রাইকে বললাম, আল্লাহ আমাকে যখন রাসূল (সাঃ) এর প্রতিনিধি ও হেদায়েতকারী আউলিয়া হিসাবে নিয়ােগ দিয়েছিলাে তখন আল্লাহ তােমাকেসহ সকল বিশ্ব সৃষ্টিকে নির্দেশ দিয়েছিল এই বলে যে, তােমরা বল: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মান তাজিদা লাহু আউলিয়া মুর্শেদা। আল্লাহর নির্দেশ পেয়ে সকল সৃষ্টি এই স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়েছিল। শুধু বাকী ছিল জ্বিন এবং ইনছান। তারপর আমি জিব্রাইলকে বললাম, তুমি কি আমাকে এই স্বীকৃতি দিয়েছিলে? জিব্রাইল বলল, জ্বি হুজুর, আল্লাহর নির্দেশ পেয়ে অবশ্যই আমি আপনাকে এই স্বীকৃতি দিয়েছিলাম।

তার বিপক্ষে দলিলঃ

 কালিমা সম্বন্ধে আহলে হকের আকীদা হল, কালিমা তায়্যিবা তাওহীদের মূলভিত্তি এবং এতে রিসালাতের স্বীকৃতি ও ঘােষণা দেওয়া হয়। এই কালিমাটি বিশ্লেষণ করলে তুিনটি অংশ পাওয়া যায়। প্রথম অংশ لا اله । দ্বিতীয় الا الله অংশ। তৃতীয় অংশ محمد رسول الله অর্থাৎ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর রাসূল। কালিমার এই তিনটি অংশের একটি অংশকেও অস্বীকারকারীকে মু’মিন বলা যায় না। কেননা, আল্লাহকে বিশ্বাস করা যেমন জরুরী, আল্লাহর রাসূলকে বিশ্বাস করাও তেমন জরুরী। তৃতীয় অংশ অর্থাৎ রাসূলকে বিশ্বাস না করলে আল্লাহকেও বিশ্বাস করা হয় না। কারণ, রাসূলের কাছেই আল্লাহর বাণী এসেছে। বসুমতী পীর কালিমার তৃতীয় অংশ অর্থাৎ محمد رسول الله এর স্থানে ‘মান তাজিদা লাহু আউলিয়া মাের্শেদা’ আনার অর্থ হল কালিমার তৃতীয় অংশ অবিশ্বাস করা। অতএব, প্রমাণ হল, সে কালিমার তৃতীয় অংশ অবিশ্বাসকারী। আর যে তা। অবিশ্বাস করে সে মুসলমানই নয়, পীর হওয়া তাে দূরের কথা।

 বসুমতী পীরের আকীদা-বিশ্বাস নং- ৩

 আল্লাহ রাজনীতির কারণে অসহায়। বসুমতী পীর লিখেছে, তাকে আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি আল্লাহ সর্ব শক্তিমান এটা সত্য, তবে আমি যে আমার রাজনীতির কারণে অসহায়। যে কারণে আমি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছি না। আমি প্রতিশ্রুতিভঙ্গ করতে পারছি না। আমি নিরুপায় তুমিই ব্যবস্থা গ্রহণ কর। (সূত্র: দৈনিক আমাদের সময়, ৮ই মে ২০১১ইং)

তার বিপক্ষে দলিলঃ

বসুমতীর এ আকীদা সম্পূর্ণ কুরআন পরিপন্থী কুফরী আকিদা। কেননা, কুরআনে বলা হয়েছে,

پایها الناس انتم الفقراء إلى الله والله هو الغنى الحميد”

অর্থঃ হে মানবগণ! তােমরা আল্লাহ তাআলার মুখাপেক্ষী এবং আল্লাহ হলেন। বেনিয়াজ, সর্বগুণে গুণান্বিত। (সূরা আল-ফাতির, আয়াত: ১৫)

 

الله الصمد   অর্থঃ আল্লাহ অমুখাপেক্ষী (সূরা ইখলাস, আয়াত: ২)

تبرک الذي بيده الملك وهو على كل شئ قدير .

অর্থঃ বরকতময় তিনি, যার হাতে সর্বময় কর্তৃতু। আর তিনি সব কিছুর উপর। সর্বশক্তিমান। (সূরা মূলক, আয়াত: ১) সুতরাং কুরআনের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দ্বারা এ কথা প্রমাণিত হল যে, বসুমতীর এই আকীদা ঈমান বিধ্বংসী। এমন আকীদা পােষণকারীকে মুসলমান বলা যায় না, পীর হওয়ার প্রশ্নই উঠে না। 

 

বসুমতী পীরের আকীদা-বিশ্বাস নং- ৪ 

বসুমতী পীর আল্লাহর সম্মান রক্ষাকারী। বসুমতী পীর লিখেছে, আল্লাহ নাকি তাকে বলেন, “অতি সত্বর ব্যবস্থা গ্রহণ কর, না হলে লেবাননের এই মহিলার বক্তব্যে আমার ইজ্জত সম্মান কিছুই থাকছে না। আমি লজ্জায় মরে যাচ্ছি। উত্তরে আমি আল্লাহকে বললাম, তুমি ধৈৰ্য্য ধর এবং শান্ত হও। আমি অতি সতুর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।” (সূত্র, আমাদের সময়, ৮ই মে ২০১১ইং) 

 

তার বিপক্ষে দলিলঃ।

 আল্লাহ সম্বন্ধে এমন গাঁজাখুরী কথা শয়তানও বলতে সাহস পায় না। কিন্তু বসুমতী ইবলিস তা বলতে একটু সংকোচও করে নাই। মূলত: সে এ যুগের দাজ্জাল বৈ কিছু নয়। আল্লাহ সম্বন্ধে সহীহ আকীদা হল, আল্লাহ সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল, সম্মান, অসম্মান সব তার হাতে। বান্দা ইবাদত করলে আল্লাহর এ সম্মান বাড়ে না, নাফরমানী করলেও তার সম্মান কিঞ্চিৎ কমে না। তিনি যাকে ইচ্ছা সম্মানিত করেন, যাকে ইচ্ছা অপমানিত করেন। এ সম্বন্ধে কুরআনে বলা , হয়েছে ,               وتعز من تشاء وتذل من تشاء بيدك الخير انك على كل شئ قدير

অর্থঃ (আল্লাহ) যাকে ইচ্ছা সম্মান দান করেন আর যাকে ইচ্ছা অপমানে পতিত করেন। তােমারই (আল্লাহর) হাতে রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ। নিশ্চয়ই তুমি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাশীল। (সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ২৬) অন্যত্র বলা হয়েছে,

ان الفضل بيد الله يؤتيه من يشاء والله واس عليه

অথঃ আপনি বলুন, অবশ্যই মর্যাদা ও সম্মান আল্লাহর হাতে, তিনি তা যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। আর আল্লাহ প্রশস্ত, সর্বজ্ঞ। (সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ৭৩)। সুতরাং বসুমতী আউলিয়া কুরআনের এসব আয়াতের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বেঈমান বলে সাব্যস্ত হল। এতে সন্দেহের অবকাশ নাই।

 

হে বোন! বোরকাতে আপনি পরাধীন নন।আল্লামা হাসান জামিল দাঃবাঃ

হে বোন! একটু ভাবুন!

(ক) হে বোন! বোরকাতে আপনি পরাধীন নন, এখানেই তো প্রকৃত স্বাধীনতা। কারণ, এখন আপনার ইচ্ছার উপরই সব, নিজের মুখাবয়ব কাকে দেখাবেন, কাকে দেখাবেন না—সব আপনার ইচ্ছাধীন, আপনি যে স্বাধীন!

আর যদি খোলামেলা থাকেন, তখন রিক্সাচালক, ভ্যানচালক, লম্পট, ধর্ষণের সেঞ্চুরিয়ান, চেতনাধারী গোবরমনা কাকে রুখবেন? আপনি তো স্বাধীন নন, সবার লোলুপ দৃষ্টি, কামাতুর কল্পনা… কাকে আটকাবেন? নাহ সম্ভব নয়, আপনি পরাধীন!
ইসলাম আপনাদের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা, সম্মান সব দিতে চায়, নিবেন না বোনেরা?

(খ) ক’দিন আগে সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলাম, কাছ থেকে দেখেছি, আমার ড্রাইভারের কোনো দোষ ছিল না, তারপরও দুর্ঘটনার কবলে পড়লাম। বোঝা গেল, নিজেদের সতর্কতার পরেও অন্যের অসতর্কতায় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সেটা দুর্ভাগ্য; জাস্ট এক্সিডেন্ট! আচ্ছা এখন কেউ কি বলবেন যেহেতু অন্যের কারণেও দুর্ঘটনায় পড়তে হয় তাই আমি সাবধান থেকে কী লাভ? নিশ্চয়ই এটা অবিবেচকদের কথা? বোন পর্দা করেও দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন অন্যের কারণে, তাই বলে আপন…?
আমরা সেই “অন্যের” দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, আপনি নিজেকে সেভ করুন প্লিজ!

(গ) অনেকের অভিযোগ, আমরা কেবল আপনাদেরকেই বলি, পুরুষদের কথা বলি না। কথাটা ডাহা মিথ্যা, আমরা সবাইকেই বলি।
তবে আপনাদেরকে বেশি বলার কারণ আছে, পুরুষদের পর্দার বিধান যেনো সে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পায়, কারণ অনেক থাকতে পারে, মূল এটাই।

আর আপনাদেরকে বলার মূল কারণ দু’টি;
ক. যেনো আপনিও জাহান্নাম থেকে বাঁচেন;
খ. নিজেকে লম্পটদের কু-দৃষ্টি থেকে আড়াল করে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।
আপনার নিজের নিরাপত্তার জন্যই আপনাকে বেশি তাকিদ! দেখুন না, আমি রাস্তায় চলি একা একা, অথচ প্রধানমন্ত্রীর কতো গার্ড! কারণ কী? কারণ তার সম্মান, মর্যাদা ও নিরাপত্তা। আপনিও আমাদের কাছে কম মূল্যের নন, তাই আপনার পর্দা আর নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের এতো মাথাব্যথা।  ভুল না বুঝে একটু ভাবুন প্লিজ!

মাদ্রাসার হুজুর তার ছাত্রের সাথে বলাৎকার। মুফতী নাজমুল হক খান

বিসমিহী তায়ালা
কথাগুলো লিখতে চেয়েছিলাম না, কিন্তু কিছু আলেম বিদ্বেষীদের জন্য লিখতে বাধ্য হলাম।
মাঝে মাঝেই বিভিন্ন জায়গা থেকে খবর আসে মাদ্রাসার হুজুর তার ছাত্রের সাথে বলাৎকার করেছে দুঃখিত এরকম ভাষা ব্যবহার করার জন্য। কিন্তু একটা বার কি খেয়াল করেছেন? এ সমস্ত খবর আসার কারণে সুন্নিরা আলেম সমাজকে কি পরিমান গালি দেয়? তাদের কথা না হয় বাদই দিলাম সাধারণ মানুষ যারা আছেন, যারা ছেলেদেরকে বড় আলেম বানানোর স্বপ্ন দেখেন, কিন্তু এই সমস্ত নিউজ দেখার পর ভয়ে আত্মসম্মানবোধে নিজের ছেলেকে মাদ্রাসায় দিতে চায়না, তাদের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়, সাথে সাথে ওলামায়ে কেরামের প্রতি জন্ম নেয় প্রচন্ড আকারে ঘৃণা।

এবার আসুন জেনে নেই যে শিক্ষকগণ তাদের ছাত্রদের সাথে বলাৎকার করে আসুন জেনে নেই আমাদের মাথার তাজ যাত্রাবাড়ীর শায়খ মাওলানা মাহমুদুল হাসান এর মুখ থেকে- তিনি তার মাদ্রাসার একটি ঘটনাকে তার মসজিদের বয়ান করেছিলেন যার সারমর্ম হলো, একজন ছাত্রের মতিগতি ভাল ছিলনা, তার আচার-আচরণ হুজুরদের যথেষ্ট সন্দেহের মধ্যে ফেলে দিয়েছিল তৎক্ষণাৎ ছাত্রকে বড় হুজুরের কাছে নিয়ে আসা হয় অনেকক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করার পর সেই ছেলে রাজি হয় যে সে একজন হিন্দু। পরবর্তীতে তাকে অনেকক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর আরো জানতে পারা যায় যে এই মাদ্রাসায় আরো 10 জন ছাত্র এমন আছে যারা হিন্দু,

-হুজুর তখন তাকে জিজ্ঞেস করেন আর নয় জন ছেলে কে কে তাদেরকে আমার সামনে হাজির করো।
-তখন ঐ হিন্দু ছাত্রটি বলেন আমাকে আপনার কাছে আসা দেখে ওরা সকলেই পালিয়ে গেছে।
তাকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয় হিন্দু হওয়া সত্ত্বেও তোমরা কেন মাদ্রাসায় পড়তে এসেছো?
উত্তরে তখন সে বলে আমি সহ যারা সারা বাংলাদেশে মাদ্রাসায় পড়ালেখা করে তাদের একটা উদ্দেশ্য কওমি ওলামায়ে কেরামের দুর্নাম যাতে সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। তার জন্য সকল ধরনের অপরাধ তারা করে থাকেন এবং পরবর্তীতে বিচারের আওতায় নেওয়া হলে তাদের সংগঠনের মাধ্যমে ছাড়িয়ে নেওয়া হয়।

উপরোক্ত ঘটনা থেকে অবশ্যই এতক্ষণে বুঝে গেছেন এই সমস্ত কাজ কারা করে থাকেন? সুতরাং প্রত্যেকটি জায়গায় এ ব্যাপারে সকলেই সতর্ক থাকুন এবং মানুষকে এ ব্যাপারে বুঝান।

একটা কথা মনে রাখবেন। ইহুদি, খ্রিস্টান ,হিন্দু সকলেরই একটাই চাওয়া যাতে করে মুসলমানদেরকে নিঃশেষ করা যায়। আর মুসলমানদেরকে নিঃশেষ করতে হলে সর্বপ্রথম মাদ্রাসার দিকে আঙ্গুল তুলতে হবে।সুতরাং সকল ওলামায়ে কেরাম এবং ছাত্র ভাইয়েরা সাবধান!
এ সমস্ত ঘটনা যত জায়গায় হচ্ছে আমাদের হক্কানী আলেম গন লজ্জায় কোন উত্তর দিতে পারতেছে না। যার দরুন বাতিলরা ওলামায়ে কেরামের বিরুদ্ধে ইচ্ছে মত সমালোচনা করে যাচ্ছেন। যা আমাদের এই ইলমে লাইনের সকলের জন্য বড় ক্ষতি।
আল্লাহতালা সকলকেই বুঝে তদনুযায়ী আমল করার তৌফিক নসিব করেন। আমীন।

লক্ষটাকার মালিক হয়েও ভিক্ষারী বৃদ্ধা মহিলা

একজন বৃদ্ধা মহিলা মসজিদের সামনে ভিক্ষা করত। একদিন ইমাম সাহেব তাকে জিজ্ঞেস করলেন,“আপনি কেন ভিক্ষা করেন? আপনার ছেলেও তো অনেক ভালো আয় করে!”
মহিলা বলল,”আমার একটাই ছেলে, সে ৮ মাস যাবত বিদেশে। সে আমাকে টাকা দিচ্ছিল,এরপর টাকা শেষ হয়ে গেছে। এখন আমার ভিক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই!”
ইমাম বলেন,”কেন? সে কি আপনাকে আর টাকা পাঠায় না?
বৃদ্ধা বললেন,”না, কিন্তু সে আমাকে প্রতিমাসে একটা করে ছোটো রঙিন ছবি পাঠায়। যেগুলো আমি আদর করে চুমু দিয়ে ওর স্মৃতি হিসেবে দেয়ালে লাগিয়ে রেখে দেই!”
ইমাম সাহেবের কাছে ব্যপারাটা অদ্ভূত লাগলো, কী এমন ছবি! ইমাম সাহেব সিদ্ধান্ত নিলেন যে বৃদ্ধার বাসায় যাবেন। একদিন বৃদ্ধার বাড়িতে গেলেন এবং তিনি দেখলেন দেয়ালে লাগানো সেই রঙিন ছবিগুলো ছিল আসলে ডলারের চেক। কিন্তু মহিলা অশিক্ষিত হওয়ায় বুঝতে পারেনি সেগুলো কী, এবং কীভাবে কাজে লাগাতে হয়,গল্পটা একটু অদ্ভুত না? গল্পটা ঠিক আমাদের জীবনের মত।
আমাদের সকলেরই বাসায় কুরআন নামের অমূল্য গ্রন্থ আছে কিন্তু অনেকেই পড়িনা, শুধু সযত্নে শেল্ফে রেখে দেই।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে কুরআনের শিক্ষায় সমৃদ্ধ জীবন গড়ার তৌফিক দান করুন।(আমিন)

দেশে “আওয়ামী জাহেলিয়াত” চলছে -মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারীর উপর বর্বরোচিত পাশবিক নির্যাতনের প্রতিবাদ ও শাস্তির দাবিতে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস।
সমাবেশে বক্তাগণ দেশব্যাপী গুম-খুন, ধর্ষণ ও নারী নিপিড়নের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অন্যথায় আরো বৃহত্তর আন্দোলন করা হবে বলে হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন।

ঢাকা মহানগর আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি পরিষদ সদস্য মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী বলেন, নোয়াখলিতে নারীর উপর পাশবিকতার যে চিত্র সামনে এসেছে তা আইয়ামে জাহেলিয়াতকেও হার মানিয়েছে। দেশে এখন “আওয়ামী জাহেলিয়াত” চলছে। বিগত বারো বছরে নারী উন্নয়নের বুলি আওড়ানো আওয়ামীলীগ; যুবলীগ ও ছাত্রলীগের মাধ্যমে দেশকে ধর্ষনের অভয়ারণ্যে পরিনত করেছে। একেরপর এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে কিন্তু কোনটিরই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হয়নি বরং মজনু মিয়ার মত নাটক সাজানো হয়েছে। এসময় তিনি ধর্ষণকামী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবী জানান। সমাবেশে বক্তারা ২৪ ঘন্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
মহানগর সভাপতি মাওলানা রাকীবুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও বাইতুল মাল সম্পাদক মাওলানা আব্দুল্লাহ আশরাফের পরিচালনায় আরো বক্তব্য পেশ করেন কেন্দ্রীয় সংগঠন বিভাগের সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান, বাইতুল মাল বিভাগের সম্পাদক মাওলানা জহিরুল ইসলাম, সমাজকল্যাণ বিভাগের সম্পাদক মাওলানা শরীফ হুসাইন, মহানগরীর মজলিসে আমেলা সদস্য মাওলানা রুহুল আমীন, মুর্শিদ সিদ্দিকী, হাশমতুল্লাহ প্রমুখ।
বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধূর উপর পাশবিক নির্যাতনের প্রতিবাদে ও ধর্ষক- নির্যাতনকারীদের শাস্তির দাবিতে সুনামগঞ্জ জেলা যুব মজলিসের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ০৫/১০/২০ ইং বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শক্তিয়ারখলা বাজারে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়।
এতে উপস্থিত ছিলেন যুব মজলিস সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা সাইদুর রহমান সাঈদ, দপ্তর সম্পাদক হাফিজ আনোয়ার হোসাইন, নির্বাহী সদস্য মাওলানা বশির উদ্দিন, আজহারুল ইসলাম,
প্রতিবাদ সভায় বক্তাগণ নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে বখাটে ছেলেদের কর্তৃক একজন গৃহবধূকে উলঙ্গ করে নির্যাতন ও ভিডিও প্রকাশের সাথে জড়িতদের প্রকাশ্যে দ্রুত বিচারের আওতায় বিচার করার দাবি জানান।
দেশে চলমান ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন রোধে সরকারের নীরব ভূমিকাকে দায়ী করে ধর্ষক ও নারী নির্যাতনকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে ফাঁসি দেওয়ার জোর দাবি জানান।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা তাজুল ইসলাম, মাওলানা নাসির উদ্দিন, মোঃ আব্দুল হাই প্রমুখ।
মোমেনশাহী
আজকে বাদ আছর ময়মনসিংহ বড় মসজিদ চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মহানগর সভাপতি মুফতি রফিকুল ইসলাম, পরিচালনা করেন মহানগর দায়িত্বশীল মাওলানা আনোয়ার হোসেন, প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন জেলা সভাপতি মাওলানা রেজাউল কীম, বক্তব্য রাখেন জেলা বাইতুল মাল সম্পাদক লৎফর রহমান, জেলা দফতর সম্পাদক রুহুল আমিন, ছাত্র মজলিস জেলা সহ সভাপতি আতহার আলী।
প্রধান অতিথি বক্তব্যে বলেন যেই সমাজ মা-বোনদের নিরাপত্তা দিতে পারেনা ঐ সমাজ ভেংগে গুড়িয়ে দিতে হবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আর কয়জন মা-বোন ধর্ষিত হলে ধর্ষিতাদের আত্মচিৎকার আপনার কানে পৌছবে।
অনতিবিলম্বে ধর্ষকদের বিরুদ্ধে ফাঁসির আইন পাশ করুন।
সভাপতি বক্তব্যে বলেন যদি ধর্ষকদের বিরুদ্ধে আইন পাশ না করাহয় সারা দেশ অচল করে দেওয়া হবে।
বক্তব্য শেষে বড় মসজিদ চত্বর থেকে মিছিল শুরু হয়ে বিভিন্ন সরক পদিক্ষন করে কৃষ্ণচূড়া চত্বরে দোয়ার মাধ্যমে সমাপ্ত করা হয়।
এছাড়াও ত্রিশাল জোন সভাপতি মাওলানা হাবিবুর রহমানের ত্রিশালে যুব মজলিসের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্টিত হয়
বক্তব্য রাখেন, মাওলানা নাসির উদ্দিন, মাওলানা শরীফুল ইসলাম প্রমূখ
নেত্রকোণা
নেত্রকোনা জেলা সভাপতি মাওলানা মাজহারুল ইসলামের নেতৃতে নেত্রকোনায় বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা আসাদুর রহমান আকন্দ খেলাফত মজলিসের সম্পাদক নেত্রকোনা জেলা‌ দায়িত্বশীল মাওলানা সাঈদুর রহমান মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমান মুফতী হিফজুর রহমান মাওলানা নুরুজ্জামান মাওলানা আবু ছালেহ।
মিছিলটি বড়বাজার জামে মসজিদ থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জামিয়া মিফতাহুল উলুম মাদ্রাসার ফটকে শেষ হয়।
#নরসিংদী
নরসিংদীর জেলার বাজিরমোড় থেকে ইনডেক্স প্লাজা পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা সভাপতি মাওঃ মামুনুর রশীদ, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আনোয়ার মাহমুদ, আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা মজলিসে আমেলা সদস্য মাওঃ ফখরুল ইসলাম, মাওঃ ইমরান হোসাইন, হাফেজ মোঃ ছানাউল্লাহ, মাওঃ মুস্তাক আহমদ।
#বগুড়া
বগুড়ায় নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত
জেলা যুব মজলিসের আয়োজনে বগুড়ার কলোনিতে নোয়াখালিতে নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে এবং ধর্ষক নরপশুদের দ্রুত কঠিন বিচারের আওতায় আনার দাবিতে একটি মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মুফতি মামুন রহমানির সভাপতিত্বে মানব বন্ধনে বক্তব্য রাখেন বিশিস্ট মিডিয়া ব্যাক্তি সালাহউদ্দীন মাসউদ, জেলা দায়িত্বশীল মাওঃ মাহফুজুল ইসলাম, হাবিবুল্লাহ, আরিফুল ইসলাম, কাওছার হামিদ, মুফতি আবু ওবায়েদ ও মোস্তফা বিন হাবিব।
ছাত্র মজলিসের দায়িত্বশীল আতাউর রহমান, আব্দুল্লাহ তাকি, আব্দুল্লাহ মারুফ প্রমুখ
বক্তারা দেশব্যাপী ঘটমান ধারাবাহিক ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন একটি স্বাধীন দেশে এভাবে অন্যায়, অবিচার, জুলুম নির্যাতন ও ধর্ষণ চলতে পারে না। এবাবে চলতে থাকলে একসময় জনগন এসব ধর্ষকদের প্রকাশ্যে গণধোলাই দিতে থাকবে এমনকি তাদের বাড়ীঘরে জালাও পোড়াও শুরু হতে পারে।
এসব ঘটণার দ্রুত বিচার না হলে আল্লামা মামুনুল হকের নির্দেশে তাওহিদি জনতা পথে নামলে সরকারের গদি টিকে রাখাও মুশকিল হয়ে পড়বে বলে বক্তারা হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন।
ফেনী
ফেনীতে যুব মজলিসের মানববন্ধন
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করে গণধর্ষণ ও লোমহর্ষক নির্যাতনের প্রতিবাদে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস ফেনী শহর শাখার উদ্যোগে আজ০৫ অক্টোবর ২০ইং সকাল ১১টায় শহীদ মিনার চত্বর ট্রাংক রোড, ফেনীতে মানববন্ধন পালন করা হয়।
গাজীপুর
গাজীপুর জেলা সভাপতি মাওলনা তোফাজ্জল হুসাইনের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্টিত হয়।গাজীপুর চৌরাস্তা কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সহসভাপতি মাওলানা হাফেজ নিজাম উদ্দিন, জেলা মজলিসে আমেলার সদস্য মাওলানা আবদুল মালেক, মাওলানা বেলাল মাহমুদি, মাওলানা মুরশেদ কামাল, মুহাম্মাদ আবু বকর সিদ্দীক প্রমুখ।
কালিয়াকৈর
কালিকৈরে উপজেলা সভাপতি আনোয়ার হোসেন এর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা আশরাফ, বিশেষ অতিথি মোহ্মমাদ সোহেল। মিছিলটি মাহমুদ নগর মাদ্রাসা থেকে শুরু হয়ে চন্দ্রা গোলচত্বরে এসে শেষ হয়।
এসময় বক্তারা বলেন, ধর্ষণকারীকে শুধু গ্রেফতার করলে হবে না জনতার সামনে প্রকাশ্যে তাকে ফাঁসিতে ঝুলাতে হবে।
তারা বলেন, মাথার কাফনের কাপড় বেঁধে এদেশের মা-বোনদের সম্মান বাঁচানোর জন্য বাংলাদেশের 16 কোটি জনগণ জীবন দিতে প্রস্তুত আছে।
এছাড়াও নারায়নগঞ্জ সহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

বেগমগঞ্জে নারী নিপীড়নের ঘটনা আইয়্যামে জাহিলিয়্যার বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক নারীর উপর ভয়াবহ পাশবিকতার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে দোষীদের পাকড়াও ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ’র মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী।

গতকাল রোববার (৫ অক্টোবর) রাতে আল্লামা কাসেমী বেগমগঞ্জের ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আরো বলেন, কিশোর বয়সী কয়েকটা তরুণ মায়ের বয়সী এক নারীর সাথে যা করেছে, সেটা আইয়্যামে জাহিলিয়্যার বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। দেশে আইনের শাসন, বিচার ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলায় কত ভয়াবহ অধোগতি ও ধ্বস নেমেছে, এই ঘটনা তার প্রমাণ। এ ঘটনায় গোটা জাতি বেদনাহত, মর্মাহত ও বিক্ষুব্ধ। এ ঘটনায় দেশের নারী সমাজ ও অভিবাবক মহলে আতংক ও অসহায়ত্ব ছড়িয়ে পড়েছে।

জমিয়ত মহাসচিব আরো বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা ও নাগরিক নিরাপত্তা কত ভয়াবহ মাত্রায় ভেঙে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান ও নিরাপত্তা কতটা অসহায় ও জঘন্য রূপ নিয়েছে, বেগমগঞ্জ, সিলেট, খাগড়াছড়ি’সহ গোটা দেশের নিত্যদিনকার ধর্ষণ ও খুনাখুনির ঘটনা তার প্রমাণ বহন করে।

তিনি বলেন, শুধু নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নয়, ধর্ষণ যেন সারাদেশে মহামারির রূপ নিয়েছে। গত ১ অক্টোবরের পত্রিকায় দেখেছি, গত ৯ মাসে দেশে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৯৭৫ জন নারী। এর মধ্যে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২০৮ জন নারী। এছাড়া ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছেন ৪৩ জন হতভাগা নারী। আর আত্মহত্যা করেছেন ১২ জন নারী। এই চিত্র যে কোন নাগরিকের মনে আতংক না ধরিয়ে পারে না।

আল্লামা কাসেমী অবিলম্বে বেগমগঞ্জ, সিলেট, খাগড়াছড়ি’সহ দেশের যে কোন স্থানে সংঘটিত প্রতিটি ধর্ষণ ও নারী নিগ্রহের ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীকে দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান।

তিনি বলেন, এ ব্যাপারে সরকার ও প্রশাসন গড়িমসি ও অবহেলা করলে বিক্ষুব্ধ জনতার গণজোয়ার রাজপথে নেমে আসলে উদ্ভূত পরিস্থিতির সকল দায় সরকারকেই নিতে হবে।

নোয়াখালীর ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে গোটা দেশ উত্তাল হয়ে উঠতে পারে : আল্লামা বাবুনগরী

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে একজন নারীকে বিবস্ত্র করে বর্বরোচিত নির্যাতন চালানোর ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবী জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব,হাটহাজারী মাদরাসার শায়খুল হাদীস ও শিক্ষাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।
আজ ৫ অক্টোবর সোমবার রাজধানীর বারডেম জেনারেল হসপিটাল থেকে সংবাদ মাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে হেফাজত মহাসচিব বলেন, সম্প্রতি সময়ে দেশে ধর্ষণের ঘটনা উদ্বেগজনক মাত্রায় বেড়েছে। সংবাদপত্রের ভাষ্য অনুযায়ী নোয়াখালির এ ঘটনা আইয়্যামে জাহিলিয়াতকেও হার মানিয়েছে। এ ঘটনার বিবরণ শুনে আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। মানুষ কিভাবে এতটা হিংস্র হতে পারে! বর্বরোচিত কায়দায় এভাবে কোন মা-বোন নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর চুপ করে ঘরে বসে থাকা যায় না।
আল্লামা বাবুনগরী বলেন,এ ঘটনায় এক মাস পার হয়ে গেলেও স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লম্পটদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি তা বড়ই দুঃখজনক। অবহেলার এ দায় স্থানীয় প্রশাসন কভু এড়াতে পারেনা।
তিনি বলেন- দেশে একের পর ধর্ষণের ঘটনার পরও অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হচ্ছেনা। যার দরূন ধর্ষণ আজ মহামারীর আকার ধারণ করেছে।
তিনি আরো বলেন,পর্দা নারীর মৌলিক অধিকার। পর্দাতেই নারী সর্বাধিক নিরাপদ। নারীকে নিরাপদে রাখতে পারলে তখন ব্যক্তি,দেশ, জাতি ও সমাজ, সংসার সবকিছুই নিরাপদ। ধর্ষণ,নারী নির্যাতন এসব রোধে শরঈ পর্দা বাধ্যতামূলক করার বিকল্প নেই।
হুশিয়ারী উচ্চারণ করে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন,অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে নোয়াখালীর বর্বোরোচিত এ ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত না করলে এর প্রতিবাদে গোটা দেশ উত্তাল হয়ে উঠতে পারে।

এই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের দায়িত্ব শুধু বিরোধীদলের? আমাদের কোনো দায়িত্ব নেই?

আমাদের ভাবটা হলো এমন, সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের দায়িত্ব শুধু বিরোধীদলের। আর আমার আপনার দায়িত্ব হচ্ছে, ঘরে বসে চায়ের কাপে ঝড় তোলা। সমালোচনা করা। বিরোধী আন্দোলনের ঘোষণা শুনে হাসি তামাশা করা।
এভাবেই চলছে বছরের পর বছর। যে কোনো একটা বড় অঘটন ঘটে গেলে কিছুদিন নিরাপদে ফেসবুকীয় আন্দোলন চলে। এরপর আরেকটা ইস্যু আসে। আগেরটা হারিয়ে যায়। কিন্তু এসব অন্যায় অনাচারের মূল আশ্রয় প্রশ্রয়দাতার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলে না।
যতদিন পর্যন্ত মানুষ সমস্যার মূলে আঘাত না হবে। বিচ্ছিন্ন এসব ঘটনার পিছনের না পরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে আন্দোলনে না হব, ততোদিন পর্যন্ত এই পরিণতিই ভোগ করতে হবে। এর চেয়ে ভালো আশা করা অন্যায়।
বিরোধীদল গুলো আমাকে আপনাকে ডাকতে ডাকতে ক্লান্ত হয়ে গেছে। আমি আপনি জালিমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবো এই আশায় কত আন্দোলনের ঘোষণা হয়েছে। আমরা সাড়া দেইনি। আর আন্দোলনের ঘোষণাও আসে না। এখন খুশি তো?
এখন খারাপ লাগে কেন? এখন কেনো কাঁদতে ইচ্ছা করে? এটাই আমাদের অনিবার্য পরিণতি।

মক্কা শরীফের ইমাম উদ্বোধন করবেন টাঙ্গাইলের মসজিদ

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে যমুনার শাখা ঝিনাই নদীর তীরে ২০১ গম্বুজের মসজিদ নির্মিত হয়েছে। শিমলা ইউনিয়নের দক্ষিণ পাথালিয়া গ্রামে অবস্থিত ২০১ গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটির নির্মাণ কাজ ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে শুরু হয়।

মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে মসজিদটির নির্মাণ শুরু হয়। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা নির্মাণ শেষ হলে গিনেস রেকর্ড বুকে স্থান করে নেবে ২০১ গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ।
এই মসজিদের দ্বিতীয়তলায় প্রধান দরজা তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৫০ মণ পিতল।

এখানে একসঙ্গে ১৫ হাজার মুসল্লী নামাজ পড়তে পারবেন। দ্বিতল এই মসজিদটি নির্মাণে ব্যবহৃত হয়েছে বিভিন্ন ধরনের উন্নতমানের টাইলস, যা মিশর থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। মসজিদের অভ্যন্তরের দেয়ালের চারদিকে একসারি টাইলস লাগানো হয়েছে, যাতে খণ্ড খণ্ড করে পুরো পবিত্র কোরআন লিপিবদ্ধ। মিহরাবের পাশে লাশ রাখার জন্য হিমাগার তৈরি করা হয়েছে।

প্রায় ১৫ বিঘা জমির ওপর নির্মাণাধীন এই মসজিদটি সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হলেও এতে সহস্রাধিক বৈদ্যুতিক পাখা যুক্ত করা হবে। মসজিদের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ একই। মানে ১৪৪ ফুট করে। দৃষ্টিনন্দন মসজিদটির ছাদের মূল গম্বুজের উচ্চতা ৮১ ফুট। এই গম্বুজের চারপাশ ঘিরে ১৭ ফুট উচ্চতার আরও ২০০ গম্বুজ তৈরি করা হয়েছে। মসজিদের চার কোনায় রয়েছে ১০১ ফুট উঁচু চারটি মিনার। এছাড়া ৮১ ফুট উচ্চতার আরও চারটি মিনার পাশাপাশি স্থাপন করা হয়েছে।

তবে করোনাভাইরাসের কারণে বেশ কিছুদিন মসজিদটি বন্ধ ছিল। আবার তা চালু হয়েছে এবং যথারীতি নামাজও আদায় হচ্ছে। মুখরিত হয়ে উঠেছে দর্শনার্থীদের ভিড়ে।

মসজিদটির উত্তর-পশ্চিম দিকে একটি ছয়তলাবিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে বিনামূল্যে হাসপাতাল, এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম, দুস্থ মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা থাকবে। এই বিল্ডিংয়ের ছাদে উঠলে মসজিদ ও নদীর সৌন্দর্য পুরোপুরি উপভোগ করা যায়।

এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম কল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, মসজিদের ব্যয় ধরা হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। বিশ্বের সকল মসজিদের চেয়ে এর কারুকাজ অন্যরকম। মসজিদের নির্মাণকাজ শেষ হলে কাবা শরিফের ইমাম এসে নামাজের ইমামতি করে এর উদ্বোধন করবেন।

প্রতিদিনই মসজিদের সৌন্দর্য উপভোগ করতে অনেক মানুষ দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন এই মসজিদটিতে।

মধুপুরে একাদ্বশ শ্রেণীর ছাত্রী ধর্ষনের অভিযোগ,বিচার দাবিতে মানববন্ধন

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার বৃহৎ পাহাড়িয়া অঞ্চলের প্রত্যন্ত গ্রামে এক কলেজ ছাত্রী ধর্ষনের অভিযোগে বিচার দাবিতে অাজ ৩ অক্টোবর,/২০ ধরাটি বাজারে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। ঘটনার বিবরনে মানববন্ধনে নেতৃবৃন্দ জানান -উপজেলার ধরাটি অাঙ্গারিয়া গ্রামের হীরন মিয়ার কলেজ পড়ুয়া মেয়েকে পাশবতী ধনবাড়ী উপজেলার ধরাটির নিকটবর্তী বন্দ হাওড়া গ্রামের অাঃ রাজ্জাকের ছেলে নাইম ইসলাম(একাদ্বশ শ্রেণীর ছাত্র) গত ১অক্টোবর /২০ তারিখ অানুমানিক বেলা ১১ঘটিকার সময় রাস্তা হতে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে পাশের কলাবাগানে ধর্ষন করে। পাশের লোকজন তা দেখে ফেলে হাতেনাতে ধরে ফেলে। পরে এলাকার মাতাব্বরগন উভয় পক্ষের মধ্যে অাপোষের মাধ্যমে বিবাহের উদ্যোগ নেন। কিন্তু ছেলে পক্ষ কালক্ষেপন করে বাল্যবিবাহ বলে মধুপুর থানা পুলিশের মাধ্যমে ধর্ষক নাইমকে তুলে নিয়ে যায় বলে মানববন্ধনে ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল হক, ধর্ষিতার পরিবার ও এলাকার নেতৃবৃন্দ জানান। তাঁরা ধর্ষনের উপযুক্ত বিচার দাবিতে বক্তব্য রাখেন। ধর্ষকের ফাঁসির দাবির শ্লোগান সম্বলিত ফেস্টুন নিয়ে এলাকার শিক্ষার্থি ও শত শত পুরুষ মহিলার অংশগ্রহনে মানববন্ধনে সংরক্ষিত মহিলা অাসনের ইউপি সদস্য অর্চনা নকরেক, প্রবীন ইউপি সদস্য অাবুল হোসেন, কুঁড়াগাছা ইউনিয়নের ওয়ার্ড অা’লীগের সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান ও ওয়ার্ড অাওয়ামী লীগের অাহবায়ক মিজানুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। বক্তাগন অপরাধীর উপযুক্ত বিচার ও এলাকার মেয়েদের নিরাপত্তার দাবি করেন। ধর্ষিতার পরিবার ও এলাকাবাসী জানান সর্বস্ব হারিয়ে মেয়েটি এখন অাত্বহত্যার চেষ্টা করছে। বিবাহের উদ্যোগের কারনে এখনো কোন মামলা হয়নি বলে জানা যায়।