বাংলাদেশের বিশিষ্ট মুফাচ্ছির ও ওয়ায়েজিনে কেরামদের নাম ও ফোন নম্বর

 মাওলানা মুফতী মুস্তাকুন্নবী দাঃবাঃকুমিল্লা। ০১৬৭১৮১০০৮০

(1) মাওঃ খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী মানিকগঞ্জ ০১৭১১৩৭৯৫১২ (SMS)

(2) আল্লামা মুফতি দেলাওয়ার হুসাইন(ঢাকা) ০১৭১১১৫৩০২৯

(3) মুফতি শফি কাসেমী দাঃবাঃ (জামিল মাদরাসা বগুড়া) ০১৭৪৫ ০০৩৩৩৩ ০১৯১৬৪৪৬৬৯৯

(4) মাওঃ আব্দুল বাসেত খান (সিরাজগঞ্জ ০১৭১১০৪৯৮৪৫

(5) মাওঃ খোরশেদ আলম কাসেমী (ঢাকা) মুফতি নোমান কাসেমী ০১৯১৭০৪৫৯৯৬ ০১৭১১৩১১৫০৪

(6)মাওঃ জুনায়েদ আল হাবিব (বি-বাড়ীয়া) ০১৭১১১২৫৪৯৭

(7)মাওলানা ফরিদুদ্দীন আল মোবারক(ফেনী) ০১৭১১২৭০৯২৮

(8)মাওঃ যুবায়ের আহমদ আনসারী (বি-বাড়ীয়া) ০১৭১৫২১৬১৩১

(9)মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ (ঢাকা) ০১৮১৯২৫১০৭০

(10)মাওঃ মুজিবুর রহমান (চাঁদপুর) ০১৮১৯৩৬৯৬১২

(11)মাওঃ মুফতি আব্দুর রাজ্জাক কাসেমী (পাবনা)
০১৭১২০১৯৪৫১

(12)মাওঃ আব্দুল কাদের সিদ্দিকী( সিরাজগঞ্জ)
০১৭১৬০০৮২৯৯

(13)ডক্টর আ. ফ. ম খালেদ হোসেন (চট্রগ্রাম)
০১৮১৯৩৪৪১৬৪

(14)আল্লামা আব্দুল হক আযাদ (মাদরাসা বগুড়া)
০১৭১১-১১৬৫৬৯

(15)মাওঃ কাজি ফজলুল করিম (বগুড়া)
০১৭১২১৪৪০৭৪

(16)মাওঃ আব্দুস সবুর সাহেব জামিল মাদরাসা,(বগুড়া)
০১৭১৬৩৮৮৬৩৪

(17)মাওঃ আব্দুল লতিফ খান ( সিরাজগঞ্জ)
০১৭১৯০৩৮০৯০

(18)মুফতি নাসির বিন আসগর ( নওগাঁ)
০১৭১৬৮৮৪০৩৬

(19)মাওঃ সালেহ আহমাদ অবিরাম,( বগুড়া)
০১৭৩৭৫৮১৯০৪

(20)মাওঃ নজরুল ইসলাম আজাদী
০১৭১০৭৩১০৬০

(21)আল্লামা ড. মুশতাক আহমদ ( ঢাকা)
০১৭১৫৪৩৭৪৪৫

(22)মাওঃ ইয়াহইয়া মাহমুদ ( ফরিদপুর)
০১৮১৯২১৯৩৭৪

(23)মাওঃ হাফিজুর রহমান ছিদ্দীকী ( কুয়াকাটা)
০১৭১৭৩০৩২৩৫

(24)মাওঃ আজিজুল ইসলাম জালালী ( বি-বাড়ীয়া)
০১৭১১৯৮৯৯৪৭

(25)মাওঃ মেরাজুল হক কাসেমী (বি-বাড়ীয়া)
০১৭১১৩৬২৫৭৯

(26)মুফতী মুহসিনুল করিম (বি-বাড়ীয়া)
০১৭১৮৫৬৭৫১৫

(27)মাওঃ আব্দুল খালেক সাহেব (শরিয়তপুরী)
০১৭১৭১৩৯৭০৪
০১৭৪৬৬৪৪৪৩১

(28)মুফতি মাহমুদ উল্লাহ আতিকী (ঢাকা)
০১৭৩২৩১৬০০৯

(29)মাওঃ সিরাজুল ইসলামা সিরাজী (নবমুসলিম) ঝালকাঠি
০১৭১২১৫৬২০৩

(30)মুফতী উসমান গণী মুছাপুরী (মাগুরা)
০১৭৩৯৭৪২৪৪১

(31)মুফতি হেদায়াতুল্লাহ আজাদী
০১৯১৬৮১৮১৯৭

(32)মাওঃআবু নাঈম মুহাম্মাদ তানভীর (চাঁদপুর)
০১৬২৭৯৯৯১৯৭
০১৮২১৩৮৭৭৯৭

(33)মুফতি আব্দুস সালাম, ফরিদাবাদ মাদরাসা
০১৭১১১২১০০২

(34)মুফতী শিহাবুদ্দীন (চাঁদপুরী)
০১৮৭৭৬৮০৯১৫

(35)মুফতী মুসতাঈন বিল্লাহ আল-উসওয়ায়ী ( মাগুরা)
০১৭৫৪৯১৭৩২১

(36)মাওঃ আশরাফ আলী হরষপুরী ( হবিগঞ্জ)
০১৭১৭১৩৯৭০৪

(37)মাওলানা জাকারিয়া (নাটোর)
০১৭১১৪৬৬০৬৩

(38)মুফতী অামজাদ হোসাইন অাশরাফী (বি-বাড়ীয়া)
০১৭১৬৫২৫৩৩৫

(39)মুফতী আনোয়ার হোসাইন চিশতী (নরসিংদী)
০১৮১৯১৫২৫১৩
(40) মুফতি আব্দুর রহমান বেতাগী 01719911764

(40)মাওঃ আতিকুল্লাহ (বি-বাড়ীয়া)
০১৮১৯১৩৩৪০৬

(41)মাওঃ বশির আহমদ (বি-বাড়ীয়া)
০১৭২০২২৩০৮৬

(42)মাওঃ সিরাজুল ইসলাম মিরপুরী (হবিগঞ্জ)
০১৭১১৪৪৭৭৭০

(43)মাওঃ রিজওয়ান রফিকী (যশোর)
০১৯২০২৯৩২৬৪

(44)মাওঃ আবরারুল হক হাতেমী (মুন্সিগঞ্জ)
০১৭৮০০৮০০৪০

(45)মাওঃ রাফি বিন মুনির (সিলেট)
০১৭৩৭১১৮৮৭৮

(46)মাওঃএমঃআনোয়ারুল ইসলাম জাবেরী (বরগুনা)
০১৭১৬৮৯২৪৪১

(47)মাওঃ মোতাসিম বিল্লাহ আতিকী (বি-বাড়ীয়া)
০১৭৩৬৩০৬৩৯১

(48)মুফতী শেখ হামীদুর রহমান সাইফী ( ঢাকা)
০১৭২৬৪৬৮২৫৫

(49)আবদুল মাজেদ আনছারী(বগুড়া)
০১৭১৯৯৩০৪১৬

(50)মাওঃ আজহারুল ইসলাম আজমী (কিশোরগঞ্জ)
০১৭১২৯০৪৫০৩

(51)মাওঃ কামাল উদ্দিন দায়েমী (বি-বাড়ীয়া)
০১৭১১৪৭১৯০৬

(52)মাওঃ কামাল উদ্দিন কাসেমী (বি-বাড়ীয়া))
০১৮১৮২৬৭৪৯৭

(53)মুফতী রুহুল আমিন নুরী বাজিতপুর, (কিশোরগঞ্জ)
০১৭১২৮০৪৭৮৮

(54)মাওলানা মাজহারুল ইসলাম মাজহারী (নরসিংদী)
০১৬৭০৫১৭৯৪৪

(55)মাওলানা মামুনুর রশিদ(বগুড়া)
০১৭৮৩০৮১৪০১

(56)মাওঃ মাহমুদুল হাসান ফেরদাউস (কুয়াকাটা)
০১৭৪২৪১৭৫৮৫

(57)মুফতী এহসানুল হক জিলানী (বি-বাড়ীয়া)
০১৮১৪১০০০০০

(58)মাওঃ মাহবুবুর রহমান জিহাদী (চাঁদপুর)
০১৭১৫৬৬১৮১৭

(59)মুফতি শাহিদুর রহমান মাহমুদাবাদী
০১৭১২৮৩৩৭৬০

(60)মাওঃ মোঃ ইসমাঈল বুখারী (কাশিয়ানী)
০১৭১১০৫৬১১৬

(61)মাও:জয়নুল আবেদীন হাবিবী ( যশোর)
০১৭২১৫৮৭৫০৪

(62)মাওঃ ইউসুফ বিন এনাম শিবপুরী (নরসিংদী)
০১৭৩৪৬৩৫৫২৯

(63)মাওঃ শাববীর আহমদ উসমানী (সুনামগঞ্জ)
০১৭২০৮২৫৭২৫

(64)মুফতী জাহিদুল ইসলাম যায়েদ (যশোর)
০১৭৮২২৭২৭৮৫

(65)মাওঃ আব্দুল কাইয়ুম জামী (কিশোরগঞ্জ)
০১৭১২৫৭৮৬১০

(66)মাওঃআবুল কালাম আজাদ চুনারুঘাট, (হবিগঞ্জ)
০১৭১৬৯২৭০১৭

(67)মাওঃ ইসমাইল হোসাইন সিরাজী (বি-বাড়ীয়া)
০১৭১৪৫৮৩৮৩৯

(68)মাওঃ নুরে আলম আশরাফী (বি,বাড়িয়া)
০১৭১২৮৯৬০৮০

(69)মুফতী আব্দুর রহিম হেলালী (লহ্মিপুর)
০১৭১১০৬১০৭৫

(70)মুফতী ওমর ফারুক যুক্তিবাদী (কুমিল্লা)
০১৭১০০৭০৫৫৩

(71)আল্লামা মুফতি আবু সাইদ দা: বা: (ফরিদাবাদ)
০১৯১৮৮৬১৪৪৬

(72)মাওঃ মুশাহিদ আহমদ উজিরপুরী (সিলেট)
০১৭২৫২৯৮৯৩৫

(73)মাওঃ কাজিম উদ্দীন (অন্ধ হাফেজ)( মোমেনশাহী)
০১৭১৬১৮২৩৯৯

(74)মাওঃ ফেরদাউসুর রহমান (নারায়নগঞ্জ)
০১৭১১৯০৬৩২৬

(75)মাওঃ মুফতী হারুনুর রশিদ
০১৯১৮৪২০৩৭১

(76)হাফেজ মাওঃ আবুল কাসেম (চাঁদপুর)
০১৯২৩২২৬৮৩৫

(77)হা:মাওলানা মামদুদুর রহমান (শেরপুরী)
০১৭২৩৪৬৭৬২৯

(78)মুফতী ওয়ালী উল্লাহ
০১৭১১০১০২৭৬

(79)মাওঃ আবু নাঈম মুহাম্মাদ তানভীর (চাঁদপুর)
০১৬২৭৯৯৯১৯৭
০১৮২১৩৮৭৭৯৭

(80)মাওঃ আশরাফ আলী হরষপুরী (হবিগঞ্জ)
০১৭১৭১৩৯৭০৪

(81)হাঃমাওঃআবুল হাসান (সাদী) সিলেট।
০১৭১৫৪১৭১৮৬

(82)মুফতী রুহুল আমিন নুরী বাজিতপুর (কিশোরগঞ্জ)
০১৭১২৮০৪৭৮৮

(83)আবদুল মাজেদ আনছারী(বগুড়া)
০১৭১৯৯৩০৪১৬

(84)হা:মা:মুফতি মুকিমুদ্দিন (নাটোরী)০১৭২১৪২২৪১৪

(85)মাও:আবদুস সালাম (নাটোরী)
০১৭৩৬৮৯০৭১৭

(86)মুফতি মিজান (সিরাজগঞ্জ)
৯১৭৮২৬৭১৬২১

(87)আল্লামা মুফতি আমজাদ হুসাইন(কুমিল্লা)
০১৭১২৫৮১৬৫৯

(88)মাওলানা নজির আহমদ(টঙ্গী)
০১৭১৫০৩৬৭৬০

(89)মুফতি মুনির হুসাইন(ঢাকা)
০১৯৩৭১৬৪৫৯১

(90)মুফতি মাহমুদুল হাসান(কুমিল্লা)
০১৮৪৫৭০১৩৯৯

(91)মাওলানা আনিসুর রহমান আশরাফী(কুমিল্লা)
০১৮১৯-০৩৭৭৭১

(92)মাওলানা হারিছ উদ্দিন(ঢাকা)
০১৭১৭১৯৮১০৬

(93)মুফতী শাহ জামালউদ্দিন রব্বানী (নাটোর)০১৭১০৭৯০৫৫৩

(94)মুফতী মাওঃআব্দুল কাদের বিেপ্লবী (চাঁদপুর)  0১৭৫৬33৩২৫০২০

(95)মাওলানা ডাঃমোঃফখরুদ্দিন পাঠান, প্রভাসক হাজী আপ্তাব উদ্দিন আমেনা খাতুন ডিগ্রী কলেজ,জুরী,মৌলভীবাজার।
০১৯১১৫১২০৫২

(96)মাওলানা মুজ্জাম্মেল ইবনে মুসলিম (চাঁদপুর)
০১৬৮৩৬২৪৬১০

(97)হাফেজ মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফয়েজী (কুমিল্লা)
০১৬৮৬৩৫৯২৩৮

(98)মুফতী হাফেজ মাওলানা ইমরান হোসাইন মাদানী (কুমিল্লা)
০১৯৪১৪১৪২৪৩

(99)মুফতী হাফেজ মাওলানা মোঃতুফায়েল আহমাদ (কুমিল্লা)
০১৬১৫৭৩৫৭৬০

(100)হাফেজ মাওলানা আবু তৈয়ব সিরাজী(কুমিল্লা)
০১৭২০৩২৫৭৬৭

(101) ক্বারী আব্দুল্লাহ আল আমিন (01712-053688)(102)

কামরুল ইসলাম সাঈদী আনসারী (01977-885599)(103)

জহিরুল ইসলাম আল জাবেরী (01711-195911)(104)

মিজানুর রহমান আল আজহারী ( 01785-500393)

(105) শেখ সিদ্দিকুর রহমান (01837-112233)
(106) ড.মুফতি আবুল কালাম আজাদ বাশার (01716-251834)
(107) মোল্লা নাজিম উদ্দিন (০1711-263570
(108) সাদিকুর রহমান আল আজহারী (01703-987070)
(109) ফখরুদ্দিন আহমেদ (01711-489714)
(110) রেজাউল করিম খান (01712-898448)
(111) মুহাদ্দিস মাহমুদুল হাসান (01712-646213)
(112) নাসির ইকবাল বিন শাফি (01711-451478)
(113) আব্দুল জব্বার আল মামুন (01818-843347)
(114) আবদুর রহমান নাদিমি (01712-181218)
(115) মেহেবুল্লাহ সিদ্দিকী (01723-471913)
(116) মুফতি আমীর হামজা (01727-964987)
(117) নুরুল ইসলাম কাশেমী (01849444578)
(118) নাসির উদ্দিন হেলালী (01711-134199)
(119) আবুল বাশার হেলালী (01714-641489)
(120) এ.টি.এম.তাজুল ইসলাম (01812-941914)
(121) গোলাম রাব্বানী যুক্তিবাদী (01719-802245)
(122) মাওলানা জামাল উদ্দিন (01716-760355)
(123) মুফতি আরিফ বিল্লাহ সিদ্দিকী (01711-958301)
(124) মাওলানা গোলাম আযম (01716-476467)
(125) মামুন হোসাইন হাবিবি (01973329033)
(126) দেলোয়ার হোসাইন হুজাইফি (01743-297585)
(127) অব্দুল মান্নান আনসারী (01710-764491)(128) মুহাদ্দিস রফিক উল্লাহ আফসারী (01828-128465)
(129) জালাল উদ্দিন রুমি (01863-183071)
(130) হাঃ মাওঃ শুয়াইব আহমদ আশরাফী (01735-891787)
(131) মাওঃ মাসুম ফারদিন (01721-991178)
(132) মাওঃ ইমাম উদ্দিন (01834-235070)
(133) মাওঃ হাচান আনসারী (01915-158858)
(134) আমিরুল ইসলাম কাওছার (01704-347750)
(135) মাওঃ আল আমিন হোসাঈন (01787-703070)
(136) মাওঃ জসিম উদ্দিন (01813-5198804)
(137) মাওঃ মুফতি আমির হোসাইন লাকসামী (01624-591417)
(138) হাঃ মাওঃ হাবীবুল্লাহ মেসবাহ (01717-146988)
(139) মোস্তফা মাহবুবুল আলম (01767-798259)
(140) রাকিবুল ইসলাম শামীম (01786-470594)
(141) হাফেজ মনোয়ার হোসেন মোমীন (01740-593381)
(142) মুফতি মোহাম্মদ জাকারিয়া ( 01718-512714 )
(143) নূর মোহাম্মদ সিরাজি (01749-088031)
(144) নূর মোহাম্মদ বারাকাতী (01734-553312)
(145) আহমদ আলী মোল্লা (01858-365610)
(146) ইব্রাহিম খলিল (01714-557317)
(147) মুহাম্মদ হাবিবুর রশিদ (01718-006103)
(148) মাহবুব ইজ্জুদীন (01717-501491)
(149) হাফেজ এমদাদুল হক সুলতানী (01712-722785)
(150) আশরাফ বিন মোবারক সিদ্দিকী (01776-098023)
(151) আহসানুল্লাহ জীহাদি (01717-885437 )
(152) ওহেদুজ্জামান সেলিম (01723-318472)
(153) আব্দুল কাদের জিহাদি (01735-586387)
(01735-586327)
(154) ফখরুদ্দিন হেলালী (01824-832273)
(155) মাওলানা রেজাউল ইসলাম উজ্জল- (01712-766817)
(156) সাইয়্যেদ এইচ,এম,শহীদুল ইসলাম (01712-502223)
(157) রুহুল আমিন (01716-334746)
(158) মাহফুজুর রহমান দিনাজপুরী (01724-443401)
(159) আব্দুল মুমিন বিন দুরুল হুদা- (01737-779331)
(160) আব্দুল্লাহ আল মামুন (01716-571890)
(161) নাজমুল হাসান (01741-092982)
(162) হাফেজ আফতাব আহমেদ (01717-883612)
(163) মাওঃ নাজমুল হক (01718-897215)
(164) রেজাউল করিম নওগাঁ (01711-451435)
(165) শাহজাহান সাঈদী (01714-501885)
(166) হাফেজ ইদ্রিস আলী (01751-188583)
(167) ইমাম হাসান সাঈফী (01721-540444)
(168) আব্দুর রহিম আল মাদানী (01703-520012)
(169) শাইখুল ইসলাম শাইখ (01718-057335)
(170) মুহাদ্দিস মনিরুজ্জামান (01918-095088)
(171) আখিরুজ্জামান আজাদি (01734-675870)
(172) আবু বকর সিদ্দিক (01710-245548)
(173) অব্দুল বারি রাশিদী (01736-597617)
(174) মাওলানাঃ গোলজার হুসাইন (01711-964697)
(175) ড. শিবলী মাহমুদ সাঈদী (01912-707222)
(176) মুফতি আব্দুল কুদ্দুস (01911-177242)
(177) ফয়সাল আহমেদ হেলালী (01975-243454)
(178) আবুল কালাম আজাদ (01716-824567)
(179) আবুল কালাম আজাদ (01781-358926)
(180) আব্দুল গফ্ফার যশোরী (01711-341240)
(181) গোলাম মাওলা ফারুকী (01819-174144)
(182) মাওলানা মহিউদ্দিন (01712-212996)
(183) মুফতি আব্দুর রহমান (01721-990793)
(184) আব্দুর রহিম জামালী (01918824896)
(185) মুফতি মুহাঃ আফজাল হুসাইন (01914718878)
(186) মাওলানা জহিরুল ইসলাম জিহাদী   01718957485
(187)হাফেজ মাওলানা মহিউদ্দিন সাঈফী ০১৭৬৬৭৩৩২২৩
(188)মাওলান আবু নসর আশরাফী, হাজীগঞ্জ।
(01718583663)                                                (189) ক্বারীঃ মাওলানাঃমুফতিঃ কামরুল ইসলাম জিহাদী, যশোর।                                           (01739-87-84-93)                                             (190) হাফেজঃ মাওলানাঃ
মোঃ ওমর ফারুক হুসাইন, নওগাঁ।              (01795-02 86 54  )
(191)মাওলানা মুফতি মাহবুবুর রহমান মিজবাহ ঢাকা
01741570928
(192)  মুফতি ফরিদ উদ্দিন রহমানি রাজবাড়ী  01710921147  01914578174
(193) মুফতি হাবিবুর রহমান মিছবাহ কুয়াকাটা 01712379748
(194)  মুফতি এইচ এম কাওছার বাঙ্গালী, বরিশাল 01715917216
(195) কারী  মো:নুরুল আলম নুরী  –  ময়মনসিংহ
01642601630
আপনাদের জানামতে আরো কোন বক্তা তাকিলে কমেন্ট করে নাম্বার দিন।

গুণ্ডাবাহিনীর কবলে মাহফিল: আমার গাড়িতে হামলা… এম হাসিবুর রহমান

গতকাল কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলায় গোবিন্দপুর ইউনিয়নের নারায়াণপুর গ্রামের মাহফিলে স্থানীয় চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন শামীম-এর নেতৃত্বে তার গুণ্ডাবাহিনী আমার গাড়ি ভাংচুর করে।
মাহফিলে আমার আলোচনা চলাকালীন স্বঘোষিত এই গুণ্ডা চেয়ারম্যান তার স্বসস্ত্র গুণ্ডাবাহিনী নিয়ে মাহফিলস্থলে এসে মাহফিলে গণ্ডগোল সৃষ্টি করে। তারপর অকথ্য ভাষায় মাহফিলে আগত শ্রোতাগণকে গালিগালাজ শুরু করে এবং আয়োজকগণকে হুমকি দিয়ে বলতে থাকে- আমি গুণ্ডা-মাস্তান থেকে চেয়ারম্যান হয়েছি। যারা মাহফিল আয়োজন করেছো আমি তাদেরকে খুন করবো,কারো লাশ খুঁজে পাওয়া যাবে না।তাদের ঘরবাড়ি মরুভূমি বানিয়ে দিবো।মায়ের পেট থেকে বের করে জবাই করবো–এরকম অকথ্য ও অশালীন কথাবার্তা বলতে থাকে। উপস্থিত হাজার হাজার জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে গেলে পরিবেশ ঘোলাটে হওয়ার আশঙ্কায় আমি সাথে সাথে মোনাজাত দিয়ে মাহফিল শেষ করি।
অতঃপর আমি স্টেইজ থেকে নেমে নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশে ফোন করে পুলিশ প্রটেকশন চাই। এরই মধ্যে স্বঘোষিত এই গুণ্ডা চেয়ারম্যান তার লালিত পালিত গুণ্ডাদেরকে নিয়ে এলাকায় বিভিন্ন গাড়ি পুড়িয়ে দেয়াসহ মাহফিলে আগত বহু লোককে আক্রমণ করেছে। পুলিশ আসতে আসতে তারা আমার গাড়িও ভাংচুর করেছে। অবশেষে পুলিশের ভাইয়েরা আমাকে নিরাপত্তা দিয়ে আমার লোকজনসহ আমাকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিয়েছেন।
এমন জানোয়াররুপী লোকেরা জনপ্রতিনিধি হয় কী করে?এদেরকে কারা লালন-পালন করে?এরা মাফিয়াতন্ত্র ক্বায়েম করে জনগণের সেবক না হয়ে শোষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। এই স’ন্ত্রাসীকে চিনে রাখুন সবাই।

হাসপাতাল থেকে শায়খ আহমাদুল্লাহর বার্তা

আলহামদু লিল্লাহ আমাদের সবার প্রিয় শায়খ আহমাদুল্লাহ (হাফিযাহুল্লাহ)-এর শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা ভালো। হাসপাতাল থেকে তিনি একটি ভয়েস মেসেজ পাঠিয়েছেন। সবার জ্ঞাতার্থে ভয়েস মেসেজের লিখিত রূপ তুলে ধরছি। (অ্যাডমিন)
“আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ” প্রিয় ভাই ও বোন,
আলহামদু লিল্লাহ, আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি এখন অনেকটাই সুস্থবোধ করছি। শ্বাসকষ্ট কমেছে। তবে ভাইরাসের সংক্রমণ জনিত কারণে ফুসফুসের যে ক্ষতি হয়েছে, তার চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকদের পরামর্শে ঔষধ সেবন করছি। তাঁরা আশা প্রকাশ করেছেন, ইন শা আল্লাহ সেরে উঠতে পারব। আরো তিনদিন ঔষধ সেবনের পর পুনরায় পরীক্ষা করা হবে। তখন ইন শা আল্লাহ ফুসফুসের অবস্থা পুরোপুরি জানা যাবে। তাঁরা বিশ্রাম নেয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। হালকা কাশি আছে। অনিদ্রায় ভুগছি, খাবারের চাহিদা অনেক কম, শরীর বেশ দুর্বল। তবে আলহামদু লিল্লাহ মানসিকভাবে ভালো আছি।
আমি জেনেছি যে, আমি অসুস্থ হওয়ার পর আপনারা অনেকে আমার জন্য দোয়া করেছেন, উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন, খোঁজ-খবর নিয়েছেন. আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আল্লাহ আপনাদেরকে উত্তম বিনিময় দান করুন। আপনারা যে আমাকে এত ভালোবাসেন, এটা জেনে আমি আশ্চর্য হয়েছি। আপনাদের জন্য দোয়া করা ছাড়া আপনাদের এই ভালোবাসার যথার্থ প্রতিদান দেয়ার ক্ষমতা আমার নেই। আপনাদের দোয়া ও ভালোবাসা আমার দায়িত্ব আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। আমি জানি না, কতটুকু দায়িত্ব পালন করতে পারব। আল্লাহ তাওফিক দান করুন।
বিপদ ও অসুস্থতা আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা। মাঝেমধ্যে আল্লাহ তায়ালা বিপদ ও অসুস্থতা দিয়ে বান্দাকে পরীক্ষা করেন। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় তারাই, যারা ধৈর্য ধারণ করেন। আমিও এরকম একটি পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছি। আপনারা দোয়া করবেন, আমি যেন এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারি।
সবার প্রতি আমার আহ্বান, যথাসম্ভব সবাই সতর্ক থাকবেন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন। তবে সবসময় ভরসা রাখবেন আল্লাহর ওপর। আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উদ্ধারকর্তা ও পরিত্রাতা নেই। আপনরা ইতোমধ্যে অনেকেই হয়ত জেনেছেন, আমার পরিবারের আরো তিনজন সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আমার জন্য এবং আমাদের পরিবারের জন্য সবাই দোয়া করবেন। এই সময়ে দোয়া-ই অনেক বড় দাওয়াই।
সবাইকে অনুরোধ করব, ফোন না করার জন্য। সকল আপডেট আমার এই পেইজে জানানো হবে। একান্ত কথা বলতে হলে ফাউন্ডেশনের নম্বরে কল করবেন। কারণ কথা বলা আমার জন্য পুরোপুরি নিষিদ্ধ। আপনারা আমাদেরকে ভালোবাসেন, জানি; কিন্তু আমরা এখন কল রিসিভ করার অবস্থায় নেই। আল্লাহ আপনাদের কল্যাণ করুন।

অনলাইনে কাতারের কুরআন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবেন যেভাবে

শুরু হয়েছে আজান ও কুরআন তিলাওয়াতের বিশ্ব প্রতিযোগিতা, কাতারের বিশ্বখ্যাত Tegan of Light তার নবম মৌসুমের জন্য নিবন্ধন শুরু করেছে। এতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন ৭ থেকে ১৩ বছরের শিশুকিশোর। ছেলে, মেয়ে উভয়ে এতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

যেসব শর্ত মেনে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে হবে

এক. বয়স ৭ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে হতে হবে।
দুই. নাম ৩ শব্দ বিশিষ্ট্য হতে হবে।
তিন. তিলাওয়াতের ভিডিও দুই থেকে চার মিনিটের মধ্যে হতে হবে।
চার. তিলাওয়াতের মধ্যে কোন ধরনের ইকো বা কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা যাবে না।
পাঁচ. তিলাওয়াত রেকর্ডিং করার শুরুতে নিজের নাম বলতে হবে।

ছয়. একজন প্রতিযোগী আজান ও তিলাওয়াত উভয়টিতেই অংশগ্রহণ করতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে আলাদা আলাদা ভিডিও জমা দিতে হবে।

যেসব তথ্য আপনাকে জমা দিতে হবে

এক. প্রতিযোগীর নাম।
দুই. বয়স।
তিন. জন্ম তারিখ ও জন্ম সাল।
চার. নাগরিকত্ব এবং বাসস্থানের স্থান।
পাঁচ. নিজের মোবাইল নাম্বার (যদি থাকে)।
ছয়. অভিভাবকের মােবাইল নাম্বার।

 জমা দিবেন যেভাবে

আপনার প্রয়োজনীয় তথ্যসহ ভিডিও ক্লিপটি পাঠিতে দিতে হবে tijanannour@bein.com এ ইমেইলে। তিলাওয়াত ও আজান জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১।

অতি শীঘ্রই উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আল-মাদানী এক্সক্লুসিভ

আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবানি এবং ওলামায়ে কেরামদের দোয়া ও মেহনতে, উত্তরবঙ্গ বাসিদের ঢাকা যাতায়াতের সুবিধার্থে অতি শীঘ্রই উদ্বোধন হবে “আল-মাদানী এক্সক্লুসিভ”।

উদ্বোধন তারিখ : ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২১ ইংরেজি

সার্বিক সহযোগিতায় :
১। হাঃ মাঃওসমান সাহেব (দাঃ বাঃ)
২। মুফতি মোঃ ইব্রাহিম খলিল আল মাদানী সাহেব (দাঃ বাঃ) MD Ibrahim Khalil ( চেয়ারম্যান : আল মাদানী গ্রুপ লিমিটেড বাংলাদেশ)

পরিচালনায়ঃ আবুযর গিফারী

বিঃ দ্রঃ বাস সেইম ডিজাইনের নন এসি হবে।

জীবন পাল্টে দেবে মুফতি মেনকের যে ১০ উপদেশ

ইসমাইল ইবনে মুসা মেঙ্ক হলেন জিম্বাবুয়ের ‘গ্র্যান্ড মুফতি’। একজন বিখ্যাত মুসলিম শিক্ষাবিদ, ইসলাম প্রচারক ও বক্তা। তবে মুফতি মেঙ্ক নামে অধিক পরিচিত।

জিম্বাবুয়ের মুসলিম জনসংখ্যার শিক্ষার চাহিদা পূরণের জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন দারুল ইলম (ইসলামিক এডুকেশনাল সেন্টার)। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান পরিচালকও তিনি। মুফতি মেঙ্ক বিশেষত পূর্ব আফ্রিকায় বিপুল জনপ্রিয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে মুসলিম-বক্তা হিসেবে পরিচিত মুখ।

আজ আওয়ার ইসলাম পাঠকদের জন্য আজ থাকছে জীবন পাল্টে দেযার মতো তার ১০ উপদেশ।

১. মানুষকে ব্যক্তিগত প্রশ্ন করা বন্ধ করুন। কেন কেউ এখনো বিয়ে করেনি বা বিয়ে করলেও বাচ্চা নিচ্ছে না-সেটা আসলেই আপনার জানার প্রয়োজন নেই। তাই এমন প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকুন।

২. আপনার চারপাশে যা চলছে তা আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন এমন নয়। কিন্তু আপনার নিজের ভেতরে যা আছে তা অবশ্যই আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন! তাই নিজের ভেতরটা আগে নিয়ন্ত্রণ করুন। নয়তো বেঁচে থাকার শান্তি নষ্ট হবে। আপনাকে কেন্দ্রিক, ফোকাসড এবং একক মনের হতে হবে। যাতে আপনি আল্লাহর সহায়তায় যেকোন ঝড় মোকাবেলা করতে পারেন।

৩. মাঝে মাঝে নয় প্রতিদিনই কৃতজ্ঞ থাকুন। নিজে থেকে কোন কিছু মঞ্জুর করে নিও না। কারণ আল্লাহ যতটুকু দেন ততটুকুর উপর সন্তুষ্ট থাকুন ও আপনার যা আছে তার উপর খুশি থাকুন ও আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হোন।

৪. নিজের জীবনকে অন্যের সাথে তুলনা করবেন না। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের ‘পারফেক্ট’ লাগতে পারে কিন্তু বাস্তব জীবনে তাদের সবারই সমস্যা আছে।

৫. আপনার হৃদয় সর্বদা আল্লাহর সাথে সংযুক্ত রাখুন। দেখবেন আপনি আপনার জীবনের এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছে যাবেন, যেখানে আপনি তাকে সম্পূর্ণরূপে বিশ্বাস করবেন। এবং আপনার মত যখন সব কিছু না হবে তখন আপনি আর মন খারাপ করবেন না।

৬. নিজের কাজের প্রতি অটল থাকুন। নিজের কাজ নিজে করুন এবং লোকে কি বলে তা নিয়ে চিন্তা করবেন না। এটা তাদের কাছে অর্থহীন হতে পারে কিন্তু এটা ঠিক আছে। আশা করবেন না যে সবাই আপনাকে বুঝবে। তাদের বুঝতে হবে না। এটা আপনার এবং আল্লাহর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেই চলবে। তাই চালিয়ে যান!

৭. আল্লাহ তায়ালা যা করছেন ও যা কিছু করতে পারেন তা কখনো ছোট করে দেখবেন না । আপনি এটা করতে পারবেন না, তার মানে এই নয় যে আল্লাহ এটা করতে পারবেন না! তিনি হলেন বিশ্বজগতের প্রভু। তিনি যদি রাতকে দিনে রুপান্তর করতে পারেন, তবে চোখের পলকে অবশ্যই আমাদের অবস্থার পরিবর্তন করতে পারবেন। তিনি তখনই করবেন যখন তিনি জানবেন যে, এখন করার সময় সঠিক!

৮. মাঝে মাঝে আপনি একই পুরনো সমস্যার সম্মুখীন হতে থাকেন কারণ আপনি একই মানুষকে আপনার জীবনে বার বার ফিরে আসতে দেন। মাঝে মাঝে আল্লাহ তায়ালা চান আপনি এটি সম্পূর্ণ স্টপ রাখুন, কিন্তু আপনি স্টপ রাখতে অস্বীকার করেন । সম্ভবত এটা রিউইন্ড চাপানো বন্ধ করার এবং ডিলিট বাটনে চাপার সময়!

৯. যখন তুমি জীবনে এলোমেলো হয়ে যাও, কিংবা যখন তুমি নিজেকে ধোকায় ফেলো। অথবা যখন তুমি মনে কর যে, তুমি এত বড় পাপ করেছ; তার আর কোন উপায় নেই। তখন আল্লাহর দিকে ফিরে যাও; তাঁর থেকে দূরে যেও না। কেননা তিনি পরম দয়ালু। আপনি আন্তরিকভাবে তাঁকে ডাকলে তিনি অবশ্যই আপনাকে পথপ্রদর্শন করবেন!

১০. একবার আপনি পাপ করে ফেললে, তা স্বীকার করে নিন, দ্রুত অনুশোচনা করুন এবং এগিয়ে যান। আল্লাহর সাথে আপনার স্লেট পরিষ্কার করুন। অতিরিক্ত চিন্তা করে সময় নষ্ট করবেন না। এটি আপনার উপর বাস করে। এটি আপনাকে ধ্বংস করে এবং আপনার ভবিষ্যত ধ্বংস করে। শয়তান এটাই চায় এবং সে এটাই করবে! তাকে সফল হতে দিও না।

সূত্র: মুফতি মেনক এর ফেসবুক স্টাটাস থেকে অনুবাদ।

আটরশি পীর পরিচিতি ও আকীদা-বিশ্বাস

 আটরশির মূল পীর হলেন শাহসূফী হযরত হাশমত উল্লাহ। জামালপুর জিলার • অন্তর্গত শেরপুর থানাস্থ পুকুরিয়া নামক গ্রামে তার জন্ম। তার পিতার নাম শাহ আলীম উদ্দিন। তার আরবী, ফার্সীর প্রাথমিক শিক্ষা মাওলানা শরাফত আলী , নােয়াখালীর কাছেই অর্জন হয়। তার নিয়মতান্ত্রিক লেখাপড়ার ইতিহাস এতটুকুই পাওয়া যায়। তার পীর হলেন, শাহসূফী ইউনূস আলী এনায়েতপুরী। আটরশির পীর দীর্ঘ ত্রিশ বৎসর যাবৎ এনায়েতপুরীর সংস্রবে থাকেন এবং তার নিকট হতে খিলাফত লাভ করেন। তারপর এনায়েতপুরীর নির্দেশে বর্তমান ফরিদপুর শহরের নিকটস্থ আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিল স্থাপন করেন। আটরশির বর্তমান গদিনশিন পীরজাদার নাম মােস্তফা আমীর ফয়সাল মুজাদ্দেদী। তিনি নিয়মতান্ত্রিক লেখাপড়া করা কোন আলেম নন। বরং একজন কলেজ শিক্ষিত ব্যক্তি।

 আটরশির আকীদা-বিশ্বাস নং-১

 আল্লাহকে পেতে মুসলমান হওয়ার কোন প্রয়ােজন নেই। আটরশির গ্রন্থ “তাসাউফ ও ততুপর্যালােচনা’র” ১৪৭ নং পৃষ্ঠায় লিখেছে। “হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ প্রত্যেকেই নিজ নিজ ধর্ম থেকেই আল্লাহ্কে পেতে পারে। পীরের কাছে মুরীদ হলেই চলবে।” ‘আটরশির কাফেলা’ নামক গ্রন্থের ৮৯নং পৃষ্ঠায় আরও লিখেছে “হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খৃষ্টানগণ নিজ নিজ ধর্মের আলােকেই সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করতে পারে। এজন্য আটরশির পীর ওরশের সময় প্রায় ৪০ হাজার অমুসলিম জাকেরানের জন্য আলাদা একটি প্যান্ডেল তৈরি করে।(প্রমাণঃ আটরশির কাফেলা, পৃষ্ঠা- ৬২)।

 

তার বিপক্ষে দলিলঃ। আটরশির এই আকিদা সম্পূর্ণ কুরআন-সুন্নাহ পরিপন্থী ও কুফুরী আকিদা। কারণ, আল্লাহ রাব্বল আলামীন ইসলাম ধর্মকেই সর্বোত্তম গ্রহণযােগ্য দ্বীন হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং নিজের সকল বান্দাদের জন্য তা পছন্দ ও মনােনয়ন করেছেন। বিশ্বমানবের একমাত্র এটাই শান্তি ও মুক্তির ধর্ম। এটাই সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ট ধর্ম। কিয়ামত পর্যন্ত আর কোন নতুন দ্বীন প্রবর্তনের অবকাশ নেই। অতএব, কিয়ামত পর্যন্ত সকলের কাছে এই সুমহান দ্বীনই অনুসৃত ও প্রতিপালিত হবে। এ মর্মে কুরআন শরীফে ইরশাদ হচ্ছেঃ

ورضيت لكم الإسلام دينا

অর্থঃ আমি ইসলামকেই তােমাদের ধর্ম হিসেবে মনােনিত করলাম (সূরা মায়িদা, আয়াত: ৩) কুরআনে পাকের অন্যত্র বলা হচ্ছেঃ

ان الدین عبد الله الإسلام

অর্থঃ নিশ্চই আল্লাহর নিকট গ্রহণযােগ্য একমাত্র ধর্ম হচ্ছে ইসলাম। (সূরা আলে-ইমরান আয়াতঃ ১৯)। সুতরাং আল্লাহ তাআলার নিকট একমাত্র ইসলামই সত্য সঠিক ধর্ম হিসেবে মনােনীত। তাই তিনি বিশ্ববাসীকে সম্বােধন করে কুরআনে পাকে ইরশাদ করেছেন

وأنتم مسلمون ولا تموت

তােমরা মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করাে না। (সূরা আলে-ইমরান, আয়াত: ১০২)

আল্লাহ তাআলা আরাে বলেন

,

ومن يبتغ غير الإسلام دينا فلن يقبل منه وهو في الأخرة من الخيرون.

“যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতিত অন্য কোন ধর্ম সন্ধান করবে আল্লাহ্ তাআলার নিকট তাহার সেই ধর্ম কখনই গ্রাহ্য হবে না। আর সেই ব্যক্তি পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভূক্ত হবে।” (সূরা আলে-ইমরান, আয়াত: ৮৫) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন।

وتی کتبع ولو كان حيا و درک

অর্থঃ যদি তিনি (হযরত মুসা আঃ) জীবিত থাকতেন এবং আমার নবুওয়াতের সময় কাল পেতেন, তবে নিশ্চয় তিনি আমার অনুসরণ করতেন। (মিশকাত: ২৩) উপরােক্ত আলােচনায় বুঝা যায় যে, ইসলামই হচ্ছে সকল দ্বীন-ধর্মের মাঝে একমাত্র গ্রহণযােগ্য ও মুক্তির ধর্ম। ইসলামই হচ্ছে পূর্বেকার সকল ধর্ম ও মতবাদকে রহিতকারী। সুতরাং যদি কেউ বিশ্বাস করে যে, ইসলাম ব্যতিত অন্যান্য ধর্মের লােকেরাও নিজ নিজ ধর্মের আলােকে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারে এবং মুক্তি পেতে পারে। তাহলে সে এ সকল আয়াত অস্বীকারকারী গণ্য হয়ে কাফের হয়ে যাবে।

আটরশির আকীদা-বিশ্বাস নং- ২

 আমাদের নবী (সাঃ) অপরিপূর্ণ নবী ছিলেন। আটরশি পীরের নসীহত বই “খােদা প্রাপ্তি জ্ঞানের পথে”র ৩নং খন্ডের ৪১ নং পৃষ্ঠায় লিখেছে, আমাদের নবী (সাঃ) প্রথমে পরিপূর্ণ নবী ছিলেন না। পরবর্তিতে এক হাজার বছর পরে আল্লামা আহমদ ছিরহিন্দীর (রহ.) মাধ্যমে রুহানী, ফয়েজ বরকতে পূর্ণতা লাভ হয়েছে।

 

তার বিপক্ষে দলিলঃ  আটরশির এই মতবাদ সম্পূর্ণ কুরআন-হাদীস বিরােধী। কেননা, সহীহ্ আকীদা * হল, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) হলেন সর্বশ্রেষ্ট ও সর্বশেষ পরিপূর্ণ নবী। স্বয়ং আল্লাহপাক তাকে ‘খাতামুন নাবিয়্যীন’ সর্বশেষ পরিপূর্ণ নবী বলে আখ্যায়িত করেছেন। আল্লাহপাক বলেন,

ماکان محمد ابا احد من رجالكم ولكن رسول اللو وخاتم البين

অর্থঃ মুহাম্মদ (সাঃ) তােমাদের কোন পুরুষ লােকের পিতা নন বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী। (সূরা আহযাব, আয়াত: ৪০) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন,

انا خاتم التبين لا نبی بعدی

“আমিই শেষ নবী আমার পরে কোন নবী নেই।” (খাতমুন শব্দের এক অর্থ। সীলমােহর, উপসংহার, সমাপ্তি । কোন কিছুতে সীলমােহর তখনই অঙ্কিত করা হয়। যখন তা পরিপূর্ণ বা সমাপ্ত হয়ে যায়। অতএব, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে সর্বশেষ পরিপূর্ণ নবী বিশ্বাস করা ঈমানের অঙ্গ। নতুবা আল্লাহর কালাম এবং আল্লাহ। পাককেই অবিশ্বাস করা হবে। আল্লাহ তাআলা আরাে ইরশাদ করেন,

وما ارسلناک الا رحمة للعالمين

অর্থঃ আমি আপনাকে সারা বিশ্বের পরিপূর্ণ রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছি।(সূরা আম্বিয়া, আয়াত: ১০৭) রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেন

بعثت لأتمم مكارم الأخلاق

অর্থঃ উত্তম চারিত্রিক গুণাবলি পরিপূর্ণ করার উদ্দেশ্যে আমি প্রেরিত হয়েছি। সুতরাং উল্লিখিত কুরআন ও হাদীসের বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত হল, আমাদের নবী (সাঃ) পরিপূর্ণ নবী ছিলেন। অতএব, যারা নবী (সাঃ) কে অপরিপূর্ণ বলে উম্মতের একজন বুযুর্গের মুখাপেক্ষী করে তার পূর্ণতার আকিদা পােষণ করে, তারা মুসলমান থাকতে পারে না। পীর হওয়াতাে প্রশ্নই উঠে না।

আটরশির আকীদা-বিশ্বাস নং- ৩

 আটরশি পীর ধনী করার মালিক। আটরশি পীরের অনুসারী বা এজেন্টরা বলে বেড়ায় যে, আটরশির মুরীদ হলে অভাব-অনটল থাকে না ধনী হওয়া যায়। এজন্য অনেকে আটরশি পীরের ওরশে যায়। 

 

তার বিপক্ষে দলিলঃ। আল্লাহ ছাড়া কোন পীর, ওলী, বাবা যাকে ইচ্ছে ধনী বানাতে পারে যাকে ইচ্ছে গরীব বানাতে পারে এসব ধারণা ঈমান বিধ্বংসী শিরকী। কেননা, আল্লাহপাক স্পষ্ট ভাষায় কুরআনে বলেন, ,

قل ان ربی یبسط الرزق لمن يشاء من عباده ويقدره 

অর্থঃ হে নবী! আপনে বলে দিন, নিশ্চই আমার পালনকর্তা তার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা রিযিক বাড়িয়ে দেন এবং সীমিত পরিমাণে দেন। (সূরা সাবা, আয়াত: ৩৯)

অর্থঃ এবং তিনিই (আল্লাহ) ধনবান করেন ও সম্পদ দান করেন (সূরা নাজম, আয়াত: ৪৮)

وانه هو اغني واقني وترزق من تشاء بغير حساب

অর্থঃ তুমিই (আল্লাহ) যাকে ইচ্ছা বে-হিসাব রিযিক দান কর। (সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ২৭) সারাংশ কথা হচ্ছে, আল্লাহ তাআলা যাকে ইচ্ছে ধনী বানান, যাকে ইচ্ছে গরীব

বানান। এই ক্ষমতা আল্লাহ ছাড়া আর কারাে নেই। সুতরাং কেউ যদি পীরের, বাবার ক্ষমতা আছে বলে মনে করে সে মুশরীক হয়ে যাবে। আর মুশরীকের ঠিকানা জাহান্নাম। ।

আটরশির আকীদা-বিশ্বাস নং- ৪

পীর দুনিয়াতে যাবতীয় মসিবত থেকে রক্ষা করতে পারেন। “শাহসূফী হযরত ফরিদপুরী (মা.জি.আ) সাহেবের নসীহত নামক গ্রন্থের ৬ষ্ঠ খন্ড ৩৬ নং পৃষ্ঠায় লিখা হয়েছে, মুরীদ পৃথিবীর যে স্থানেই থাকুক না কেন সেই স্থানেই তাহাকে যাবতীয় বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করতে পারেন। মুর্শিদে কামেলকে আল্লাহ এইরূপ ক্ষমতা দান করেন। শুধু মুরীদকেই নয় মুরীদের আত্মীয়-স্বজন, মাল-সামানা, ঘর-বাড়ী যাহা কিছুই খেয়াল করুক, তাহার সব কিছুই আল্লাহর কুওতের কেল্লায় বন্দী করিয়া দেন।

তার বিপক্ষে দলিলঃ আটরশির এ ধারণা সম্পূর্ণ কুরআন-সুন্নাহ পরিপন্থী ও জঘন্য কুফুরী মতবাদ। কেননা, আল্লাহপাক কাহরাে বিপদ-আপদের ফয়সালা করলে কেউ তাকে তা থেকে বিরত রাখতে পারে না। এমনকি বিশ্বনবী (সাঃ)ও সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী নন; বরং তিনি তার নিজের ক্ষতি ও লাভের ক্ষমতাও রাখতেন না। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ রাব্বল আলামীন বিশ্বনবী (সাঃ) কে বলেন,

قل لن يصيبنا الا ما كتب الله لنا

অর্থঃ হে নবী আপনি বলে দিন, কখনাে আমাদের পৌছবে না, আল্লাহ তা’আলা আমাদের জন্য যা লিখে রেখেছেন তা ছাড়া। (সূরা তওবা আয়াত: ৫১)। কারাে কোন বিপদাপদ এলে আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ তা দূর করতে পারে না; একথা উল্লেখ করে আল্লাহপাক ইরশাদ করেন,

ان تمسك الله بضر فلا كاشف له الا هو

অর্থঃ আল্লাহ তাআলা যদি তােমাকে কোন ক্ষতি স্পর্শ করান, তাহলে তিনি। ব্যতিত তা দূর করার কেউ নেই। (সূরা ইউনুস, আয়াত: ১০৭) বিশুদ্ধ আকীদা হল, একমাত্র আল্লাহ তাআলাই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী, বিপদ-আপদ থেকে রক্ষাকারী। কোন নবী-রাসূল, পীর-আউলিয়া কোন মানুষের উপকার-অনুপকার, মসিবত দূর করার ক্ষমতা রাখে না। এ মর্মে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন

الا بشی بشي لم ينفع واعلم أن الأمة لو اجتمعت على ان ينفعو الا قد كتبه الله لك ولو اجتمعوا على أن يضروك بشئ لم يضرو بشئ قد كتبه الله عليت.

অর্থঃ জেনে রেখ! তােমার উপকার করার জন্য সমস্ত জাতি যদি একত্রিত হয়, তবে আল্লাহ্ তােমার জন্য যা লিখে রেখেছেন তা ছাড়া তারা তােমাকে কোন উপকার করতে পারবে না। আর তােমাকে কোন ক্ষতি করার জন্য যদি সমস্থ মানুষও একত্রিত হয়, তবে আল্লাহ যা তােমার উপর লিখে রেখেছেন তা ছাড়া তারা। তােমাকে কোন ক্ষতি করতে পারবে না। (মিশকাত, পৃষ্ঠা- ৪৫৩, তিরমিযী, খন্ড- ২, পৃষ্ঠা- ৭৮)। প্রিয় পাঠক! লক্ষ্য করুন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যেখানে মসিবত দূর করার বা , লাভ-ক্ষতির অধিকারী নন সেখানে আটরশির ভন্ডকে মসীবত থেকে রক্ষাকারী বলে বিশ্বাস করলে, আটরশির ভন্ডকে রাসূল (সাঃ) এর চেয়ে বড় মনে করা বৈ কিছু নয়। যা কুফুরের অন্তর্ভূক্ত।

মাইজভান্ডারী পীরের পরিচিতি ও আকিদা-বিশ্বাস

 মাইজভান্ডারের প্রথম পীর হলেন গাউসুল আজম হযরত মাওলানা শাহসূফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ আল হাসানী (ক.)। তিনি ১৮২৬ খ্রিস্টাব্দের ১৫ই জানুয়ারী বাংলা ১২৩৩ সালে ১লা মাঘ, রােজ বুধবার, চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি থানাধীন মাইজভান্ডার নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম শাহসূফী মাওলানা সৈয়দ মতিউল্লাহ আল-হাসানী (রহ.)। তার মাতার । নাম খাইরুন্নেসা। তিনি নিজ গ্রামের মক্তবে আরবী, বাংলার প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করার পর উচ্চ শিক্ষা লাভের উদ্দেশ্যে ১২৬০ হিজরী সালে সুদূর কলিকাতা আলিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন এবং ১২৬৮ হিজরী সালে কলিকাতা আলিয়া মাদ্রাসায় লেখা-পড়া সমাপ্ত করেন। তার পীর হলেন হযরত শাহসূফী সৈয়দ মােহাম্মদ সালেহ লাহােরী (রহ.)। মাইজভান্ডারী পীর ১৯০৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ই জানুয়ারী বাংলা ১৩১৩ সালের ১০ই মাঘ, রােজ সােমবার, ৮০ বসর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর একমাত্র পুত্র হযরত মাওলানা সৈয়দ ফয়জুল হক ফানায়ে ওয়াসেল (রহ.) এর পুত্র হযরত মাওলানা সৈয়দ দেলাওর হােসাইন (ক.) তার স্থলাভিষিক্ত হন।

মাইজভান্ডারী পীরের দাবিঃ

 মাইজভান্ডারী পীর সৈয়দ জিয়াউল হক দাবী করেনঃ

১. রহমাতুল্লিল আলামীন রাসূলের রহমতের সীমা জুড়ে আমার বেলায়তি কর্মক্ষমতা।

২. আমার দরবার আন্তর্জাতিক প্রশাসন অফিস; যেখান থেকে এই বিশ্ব পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত।

৩. এ বিশ্বের ৫০০ কোটি মানুষ আমিই তাে চালাই।

৫. এই বিশ্বের কোথায় কখন কি হয়েছে, হচ্ছে, হবে সব আমার জানা। 

৫. আকাশের উপরে বসে আমি সৃষ্টির কাজকর্ম দেখি; উপরের দিকে আল্লাহর সাথে কথা বলি।

৬. আমার দরবার আন্তর্জাতিক সামরিক আইন প্রসাশক অফিস। দুনিয়ার সবকিছু আমি ভেঙ্গেচুরে ঠিক করি।

৭. মাইজভান্ডার শরীফ হায়াতের ভান্ডার, রিজিকের ভান্ডার, দৌলতের ভান্ডার, ইজ্জতের ভান্ডার। (সূত্র ঃ শাহানশাহ্ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী (ক.) ফিতরাত ও সিফাত, নবম পরিমার্জিত সংস্করণ, পৃষ্ঠা-১১৫)

মাইজভান্ডারীর আকিদা-বিশ্বাস নং- ১ 

পীর দুনিয়াতে বিপদমুক্ত করতে পারেন। “শাহ ছুফি আলহাজ্ব মাওলানা ছৈয়দ শফিউল বশর আল-হাচানী আল মাইজভান্ডারী কেবলা কাবার জীবনী” নামক পুস্তকের ৩৪ নং পৃষ্ঠায় লিখেছে, “তিনি (বাবা শফিউল বশর) যে কোন অবস্থাতেই বিপদে ধৈর্যহারা না হয়ে । তাঁর অদ্ভুত প্রত্যুৎপন্নমতিতুের দ্বারা নিজেকে বিপদমুক্ত করতে পারেন।” একই পৃষ্ঠার ১২ লাইন পরে আরাে লিখেছে, “দুঃখে কষ্টে পড়ে মানুষ যখন। তার সান্নিধ্যে ছুটে আসতেন, তখন তিনি অতি নম্রতার মাধ্যমে ধৈর্য্যের সাথে তাদের কথা শ্রবণ করতেন এবং দুঃখ কষ্টের কারণ উদ্ভাবনে ব্রতী হয়ে দয়াল বাবা ভান্ডারীর (ক.) উছিলা তলবের মধ্য দিয়ে আগত ভক্তবৃন্দকে পরিপূর্ণ তৃপ্তি দানের জন্য নিরলস প্রচেষ্টায় রত থাকতেন।”

 তার বিপক্ষে দলিলঃ

 কোন পীর বা ওলী যত বড়ই হােক না কেন তারা কোন বিপদ-আপদ দূর করার বা কল্যাণ-অকল্যাণের মালিক নন। কেননা তারা সবাই মানব জাতির অন্তর্গত। আল্লাহ তাআলা তার সবচেয়ে প্রিয় রাসূল মুহাম্মদ (সাঃ) কে বলেন, .

قل لا أملك لنفسی نفعا ولا ضرا الأماشاء الله

অর্থঃ হে নবী আপনি বলুন, আমি আমার নিজের উপকার ও ক্ষতির মালিক না, আল্লাহ যা চান তা ছাড়া। (সূরা ইউনুস, আয়াত: ৪৯)। কারাে কোন বিপদাপদ আসলে আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ তা দূর করতে পারে ; একথা উল্লেখ করে আল্লাহ তাআলা ঘােষণা করেন

الله بضر فلا كاشف له إلا هو. وان يمشک بخير فهو وان يمس على كل شئ قدير

অর্থঃ আল্লাহ যদি তােমাকে কোন ক্ষতি স্পর্শ করান, তাহলে তিনি ব্যতিত উহা দূর করার কেউ নেই। আর তিনি যদি তােমার কল্যাণ করেন তবে তিনিই তাে সর্ববিষয় শক্তিমান। (সূরা আন’আম, আয়াত: ১৭)। সুতরাং কুরআনের বর্ণনা দ্বারা স্পষ্ট হলাে, নিজের বিপদ-আপদ দূর করার ক্ষমতা স্বয়ং রাসূল (সাঃ) এরও ছিল না। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারাে প্রতি এমন বিশ্বাস রাখা গােমরাহী ও শিরক। যা ঈমান বিধ্বংসকারী আকিদা।। মাইজভান্ডারীর আকীদা-বিশ্বাস নং- ২ পীর ইহ-পরকালে মুক্তির ব্যবস্থা করে দিবেন। তাদের গ্রন্থ রত্নভান্ডার এর ১ম খন্ড ১৭ নং পৃষ্টায় লিখেছে

 হীন দাস হাদী কয় হাশরেতে নাহি ভয়,

 পিছে পিছে দাসগণ ফিরাইবেন গাউছ ধন।

 

 ‘শাহানশাহ্ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী’ বইয়ের ৫৫ নং পৃষ্টায় লিখেছে “আমার মুরীদ ও প্রকৃত মাইজভান্ডারী আশেক ভক্তদের কোন ভয় নাই। ইহ-পরকালের সকল বিপদ সংকটে দোধারী তাওহীদি তলােয়ার নিয়ে আমি তাদের সামনে আছি। যে তরবারী যেতে আসতে উভয় ধারে কেটে তৈরি করবে তাদের মুক্তি মঙ্গল পথ।

 তার বিপক্ষে দলিলঃ

 ভান্ডারীর এই মতবাদ সম্পূর্ণ কুরআন বিরােধী। যা কুফুরীর অন্তর্ভূক্ত। কেননা, আহলে সুন্নাত ওয়াল-জামাতের আকীদা হচ্ছে, হাশরে আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে জীবনের সমস্ত কৃতকর্মের হিসাব দিতে হবে। যারা দুনিয়াতে আল্লাহ ও

তাদের ভীষণ আযাব হবে। তাদের কষ্টের সীমা থাকবে না। শুরু হবে বিচার; স্বয়ং আল্লাহ হবেন বিচারক। সেদিন কারাে ক্ষমতা থাকবে না যে, আল্লাহর বিচার থেকে তাকে রক্ষা করবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআ

ان يشتروا إلى ربهم ليس لهم من دونه ولئ ولا شفيع

অর্থঃ তাদেরকে স্বীয় প্রতিপালকের সমীপে সমবেত করা হবে এমন অবস্থায় যে, তিনি ব্যতিত তাদের কোন অভিভাবক বা সুপারিশকারী থাকবে না।

| (সূরা আনআম: ৫১),

مالهم من الله من عاصم

অর্থঃ আল্লাহ হতে তাদেরকে রক্ষা করার কেউ নাই। (সূরা ইউনুস, আয়াত: ২৭) আল্লাহপাক আরাে বলেন,

অর্থঃ (কাল হাশরে) কেউ অপরের পাপের বােঝা বহন করবে না। (সূরা ফাত্রি, আয়াত: ১৮)

ولاتزژوازره و آخری لكل امرئ منهم يوم شأن يغنيه

অর্থঃ সে দিন (হাশরে) প্রত্যেকেরই নিজের এক চিন্তা থাকবে, যা তাকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখবে। (সূরা আবাসা, আয়াত: ৩৭)। দুনিয়াতে যেসব আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে মানুষ একে অপরের জন্য জীবন পর্যন্ত বিসর্জন দিতে কুষ্ঠিত হয় না, হাশরে তারাই নিজ নিজ চিন্তায় এমন নিমগ্ন হবে যে, কেউ কারও খবর নিতে পারবে না। বরং সামনে দেখলেও মুখ লুকাবে। (সংক্ষিপ্ত বাংলা মারেফুল কোরআন- পৃ: ১৪৩৮)

সুতরাং উল্লিখিত কুরআনের বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত হল, হাশরে কোন পীরের ক্ষমতা নেই যে, আল্লাহর হাত থেকে মুরীদকে রক্ষা করবে, বরং পীর নিজের চিন্তায় হাবুডুবু খাবে কীভাবে মুক্তি পাওয়া যাবে। অতএব, সাব্যস্থ হল যে, উপরে বর্ণিত ভান্ডারীর অলিক ধারণা কুরআন বিরােধী ও কুফুরী। যারা কুফরী করে তারা পথভ্রষ্ট লােক।

 মাইজভান্ডারীর আকিদা-বিশ্বাস নং- ৩

 পীরের দরবারে গেলে খালি হাতে ফিরে যেতে হয় না এবং পীর কর্তৃক মনের বাসনা পূরণ হয়। মাইজভান্ডারীর বই ‘শফি বাবার জীবনীর (৪র্থ প্রকাশ) ৪১নং পৃষ্ঠায় লিখেছে“তার (শফি বাবার) দরবারে এসে কেউ খালি হাতে ফিরে যেতনা। কেউ কেউ শফি বাবার সাক্ষাতে ও আলােচনায় ফয়েজ প্রাপ্ত হয়ে নিজেদের ভাগ্যমান মনে করে তাঁর গুণ গ্রাহিতা ও মহত্তের আলােচনা করতেন। এ প্রসঙ্গে তাদের নিম্নোক্ত কবিতাটি আরাে স্পষ্ট “ভান্ডারীকে যে পাইল-খােদা রাসূল সে চিনিল। গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী পূর্ণ করেন বাসনা।” (রত্ন ভান্ডার, প্রথম খন্ড, পৃষ্ঠা- ৩৩)। 

তার বিপক্ষে দলিল

 মাইজভান্ডারী পীর সম্পর্কে তাদের এই বিশ্বাস ভ্রান্ত ও ঈমান হরণকারী। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারাে সম্পর্কে এরকম বিশ্বাস রাখা বড় শিরক। কেননা কামনা-বাসনা পূর্ণ করার মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলা। আল্লাহ ব্যতিত অন্য কারাে ভাল-মন্দ পৌছানাের ক্ষমতা নাই। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন

قل لن يصيبنا إلا ما كتب الله لنا

অর্থঃ হে নবী আপনি বলে দিন, কখনাে আমাদের পৌছবে না, আমাদের জন্য আল্লাহ তাআলা যা লিখে রেখেছেন তা ব্যতিত। (সূরা তওবা, আয়াত: ৫১) একমাত্র আল্লাহ তাআলাই খালি হাত পূর্ণ করার বা বাসনা পূর্ণ করার মালিক। সব কিছুর কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর হাতে। একথা উল্লেখ করে আল্লাহপাক বলেন

فسبحان الذي بيده ملكوت كل شي

অর্থঃ অতএব, পবিত্র তিনি, যার হাতে সবকিছুর কর্তৃত্ব। (সূরা ইয়াসীন, আয়াত: ৮৩) আল্লাহ তাআলাই যে কামনা-বাসনা পূর্ণকারী এবং তিনিই যে সর্বময় ক্ষমতার

অধিকারী আর কোন নবী, কোন পীর, কোন বাবা, কোন খাজা কোন মানুষের কামনা-বাসনা পূর্ণ করার এবং লাভ-ক্ষতির ক্ষমতা রাখে না একথা উল্লেখ করে রাসূল (সাঃ) বলেন, এ

واعلم أن الأمة لو اجتمت على ا ينفعوك إلا بشئ قد كتبه لك ولواجتمعوا على أن يضروك بشئ لم يضروگ الآ بئى قد كتبه الله

অর্থঃ জেনে রেখ! তােমার উপকারের জন্য সমস্ত জাতি যদি একত্রিত হয়, তবে আল্লাহ তােমার জন্য যা লিখে রেখেছেন তা ছাড়া তারা তােমাকে কোন উপকার করতে পারবে না। আর তােমাকে কোন ক্ষতি করার জন্য যদি সমস্ত মানুষও একত্রিত হয়, তবে আল্লাহ যা তােমার উপর লিখে রেখেছেন তা ছাড়া তারা তােমাকে কোন ক্ষতি করতে পারবে না। (মেশকাত, ৪৫৩ পৃষ্ঠা, তিরমিযী ২য় খন্ড, ৭৮ পৃষ্ঠা)

 মাইজভান্ডারীর আকিদা-বিশ্বাস নং- ৪

 বাবা ভান্ডারী সন্তান দিতে পারেন। ভান্ডারী ভক্তদের দৃঢ় বিশ্বাস, বাবা ভান্ডারী সন্তান দিতে পারেন। এমনই এক ভক্তের ঘটনা এখানে উল্লেখ করা হল। ১৯৭৩ সালের ফেব্রুয়ারী ৪ তারিখে আমার বিয়ে হয়। সুদীর্ঘ ১৪ বৎসর আমাদের কোন সন্তান হয় নাই। বাবাজানের কাছে অনেকবার সামনা-সামনি আর্জি করেছি। সবসময় বলতেন, হবে, দেব’। (ঘটনার শেষাংশে লিখে) ১৪ বৎসর ৭মাস পর ১৯৮৮ইং সেপ্টেম্বর মাসে, বাবাজানের অশেষ মেহেরবানীতে আমাদের প্রথম মেয়ে জন্মগ্রহণ করে। বাবাজানের ওফাতের সপ্তাহ পূর্বে জিজ্ঞেস করলাম- আপনি যে মেয়েটি দিয়েছেন তার একটা নাম দিলে ভাল হয়। বাবাজান কালাম করলেন, ‘নীহার রাখেন, নীহার’ মেয়ের নাম রাখলাম নীহার আখতার। তাঁর মেহেরবানীতে আমাদের ২ মেয়ে ১ ছেলে হয়েছে। বর্ণক: কামাল উদ্দিন | আহম্মদ, চট্টগ্রাম। (তথ্যসুত্রঃ শাহানশাহ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী (ক) (নবম পরিমার্জিত সংস্করণ, পৃষ্ঠা ২২৬-২৭)

 তার বিপক্ষে দলিলঃ

 ভান্ডারীর এই বিশ্বাস ঈমান বিধ্বংসী শিরিকী। এরকম বিশ্বাসকারী ব্যক্তিকে মুসলমান বলা যায় না। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন,

يخلق ما يشاء يهب لمن يشاء اناثا ويهب لمن يشاء الذكور او يزوجهم ذكرانا وانائا ويجعل من يشاء عقيما

অর্থঃ তিনি (আল্লাহ) যা ইচ্ছা, সৃষ্টি করেন, যাকে ইচ্ছা কন্যা-সন্তান এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র-সন্তান দান করেন; অথবা তাদেরকে দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন। (সূরা শূরা; আয়াত: ৪৯-৫০)। সুতরাং উল্লিখিত কুরআনের বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, সন্তান দেওয়ার “লক একমাত্র আল্লাহ তাআলা। গাইরুল্লাহ তথা পীর বা মাজারের কাছে। স্তান চাওয়া এবং পীর সন্তান দিতে পারে এমন আকিদা পােষণ করা শিরিকের নামান্তর। আর আল্লাহর সাথে যারা শিরিক করে, তারা মুশরীক। মুশরীকের জন্য জান্নাত হারাম।

 মাইজভান্ডারীর আকিদা-বিশ্বাস নং- ৫

দ্যি, নৃত্যর দ্বারা খােদাপ্রেমে হৃদয় উজ্জীবিত হয়। এ প্রসঙ্গে তারা লিখেছে “মাইজভান্ডারী গানের কথা ও সুরে বাদ্যের তালে তালে অন্য সবকিছু ভুলে খােদাপ্রেমে হৃদয় মন উজ্জীবিত হয়। সামা’ বা এই সংগীতময় জিকির স্মরণ অনুষ্ঠানে ভক্তদেরকে ‘হালকা বা হেলে দুলে নৃত্য করতে দেখা যায়। ফলে শরীরের সমস্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গ জাগ্রত হয়ে জিকিরে রত হয়।

(শাহানশাহ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী (ক.), পৃষ্ঠা ৪৩)

তার বিপক্ষে দলিলঃ

 তাদের এই মতবাদ মারাত্মক ঈমান হরণকারী। যা সম্পূর্ণ কুরআন-সুন্নাহ পরিপন্থী। এখানে ভান্ডারী বলে, তার গানের কথা ও সুরে বাদ্যের তালে তালে অন্য সব কিছু ভুলে খােদাপ্রেমিক হয়। পক্ষান্তরে আল্লাহ তাআলা বলেন, গান-বাদ্যের দ্বারা শয়তান প্রেমিক হয়। এ প্রসঙ্গে কুরআনে বলা হয়েছে।

واستفز من استطعت منه بصوتك

অর্থঃ আল্লাহপাক শয়তানকে লক্ষ্য করে বলেন, তুই তাদের মধ্য থেকে যাকে পারিস, সত্যচ্যুত (পথভ্রষ্ট) কর স্বীয় আওয়াজ (গান-বাদ্য) দ্বারা। (সূরা বনী ইস্রাঈল আয়াত: ৬৪) হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, গান-বাদ্যযন্ত্র ও রং তামাশার আওয়াজই শয়তানের আওয়াজ। হাফেজ ইবনে কাইয়ুম (রহ.) বলেন, গুনাহর দিকে আহবানকারী সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হচ্ছে গান-বাদ্য। তাই শয়তানের আওয়াজের ব্যাখ্যা গান-বাদ্য দ্বারা করা হয়েছে। (এগাছাতুল লহফান, খন্ড ১ পৃষ্ঠা ২৫৫, আহছানুল ফতওয়া ৮/৩৮১) ভান্ডারীর দাবি গান-বাদ্যে অন্তর খােদাপ্রেমে উজ্জীবিত হয়। পক্ষান্তরে রাসূল (সাঃ) বলেন, অন্তরে মুনাফেকী সৃষ্টি হয়। এ মর্মে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে

عن جابر قال قال رسول الله علم الغناء ينبت النفاق في القلب گما ينبت الماء الزرع

 

অর্থঃ হযরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সাঃ) ইরশাদ করেন, গান-বাজনা মানুষের অন্তরে এইভাবে মুনাফেকী বা কপটতা জন্ম দেয়, যেমনভাবে পানি শস্য উৎপাদন করে। (মিশকাত শরীফ, পৃষ্ঠা ৪১১) 

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আরাে বলেন,

روی ابوامامة عنه عدم انه قال ما رفع احد صوته لغناء الأبعث الله شيطانين على منكبيه يضربان باعقابهما على صدره حتی یمسک

” অর্থঃ কোন ব্যক্তি গান শুরু করার সাথে সাথে আল্লাহপাক তার জন্য দুটি

শয়তান নিযুক্ত করে দেন। যারা তার কাঁধে বসে বক্ষে পা দ্বারা আঘাত করতে থাকে যতক্ষণ না সে গান বন্ধ করে। (ইহয়াউল উলুম, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ২৫১) 

নবী করীম (সাঃ) আরাে বলেন,

انه الله قال ان الي اول متاح أول من تغني

অর্থঃ সর্বপ্রথম বিলাপকারী ও সর্বপ্রথম গায়ক হচ্ছে অভিশপ্ত শয়তান।

| (ইহয়াউল উলূম, খন্ড ২ পৃষ্ঠা ২৫১) সুতরাং গান-বাদ্য যে কত জঘণ্য, তা উল্লিখিত বর্ণনা দ্বারা সহজেই বুঝে আসে। গান-বাদ্য হারাম জেনেও করা ফাসেকী, আর হালাল মনে করা কুফুরী। তাতে ঈমান চলে যাওয়ার আশংকা আছে। মাসআলাঃ সকল প্রকার বাদ্য-বাজনা বিশিষ্ট মারফতী গান, মুর্শিদী গান, বাউল গান, ছেমা, উপদেশ মূলক গান, আল্লাহ ও রাসূলের নাম নিয়ে গান গাওয়া, শ্রবণ করা, শিক্ষা দেওয়া এবং এগুলােকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করা সবই কবীরা গুনাহ ও হারাম। (প্রমাণঃ তাফসীরে মাযাহিরী ৭ম খন্ড পৃষ্ঠা ২৪৭-৪৮, রুহুল মাআনী ২১/৬৯, ফাতহুল কাদীর ৮ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৪৫০, আলমগিরি ৫ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৫১, রদুল মুখতার, ৫ম খন্ড, পৃষ্ঠা ২৩০)

 

দেওয়ানবাগী পীর পরিচিতি ও কুফুরী আকিদা-বিশ্বাস

দেওয়ানবাগী পীরের নাম মাহবুবে খােদা।। ১৯৪৯ সালে ১৪ই ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার আশুগঞ্জ থানার বাহাদুরপুর নামক গ্রামে তার জন্ম। তিনি প্রাথমিক স্কুল শিক্ষার পর তালশহর করিমিয়া আলীয়া মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেন। (তার পীর এবং শশুর হল ফরিদপুরস্থ চন্দ্রপাড়া দরবারের প্রতিষ্ঠাতা মৃত আবুল ফজল সুলতান আহমদ) বর্তমানে সে ঢাকার অদূরে দেওয়ানবাগ নামক স্থানে একটি এবং ঢাকার আরামবাগে বাবে রহমত (রহমতের দরজা) নামে আরেকটি আস্তানা স্থাপন করেছেন। এই ভন্ড পীর সূফীবাদ ও তরীকত-মারিফাতের ভাওতা দিয়ে মুহাম্মদী ইসলাম নামে এক কুফুরী মতবাদ প্রচার করে চলছে। লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে সারা দেশে দেওয়ালে দেওয়ালে ‘আশেকে রাসূল সম্মেলন’ নামের বিজ্ঞাপন দিয়ে সে তার দরবারে ঈমান ধ্বংসের সম্মেলন সারা বছর অব্যাহত রেখেছে। কুফরী, শিরকী মতবাদে ভরপুর বই-পুস্তক, সাপ্তাহিক, মাসিক পত্রিকা ও বয়ানের ক্যাসেট এবং লিফলেট, হ্যান্ডবিল প্রচার করছে। হাজার হাজার অশিক্ষিত, জেনারেল শিক্ষিত সরলপ্রাণ মুসলমান তার এই কুফুরী, শিরকী মতবাদের ইন্দ্রজালে আটকা পড়ে চিরতরে নিজেদের ঈমান রত্ন হারাতে বসেছে।

 দেওয়ানবাগী পীরের দাবিঃ 

১. তিনি আল্লাহর তরফ থেকে প্রেরিত প্রতিশ্রুত মহামানব। আল্লাহই তাকে গােটা বিশ্বে খাঁটি মুহাম্মদী ইসলাম প্রচারের দায়িত্ব দিয়ে নূরে মুহাম্মদীর ধারক-বাহক রূপে পাঠিয়েছেন। 

২. সে বর্তমান যামানার মােজাদ্দেদ, মহান সংস্কারক শ্রেষ্ঠতম অলীআল্লাহ। 

৩ মহাম্মাদী ইসলামের বাইরে সারা বিশে, যে ইসলাম চালু রয়েছে এটা আসল ইসলাম নয়। এজিদী ইসলাম। এজেদী চক্রান্তের ফসল। এজিদের সৈন্যরা নাকি সাহবাদের পরিবারে এক হাজার জারজ সন্তানের জন্ম দিয়েছিল। 

৪. কুরআন, কিতাব, হাদীস, তাফসীর পড়ে আল্লাহকে পাওয়া যায় না। একমাত্র মুর্শিদের সাহায্য নিয়ে আধ্যাত্মিক সাধনা করেই আল্লাহকে পাওয়া সম্ভব, এমনকি দুনিয়াতেই আল্লাহকে স্বচক্ষে দেখা যায়।

৫ দেওয়ানবাগী ও তার মুরীদদের মীলাদ-মাহফিলে স্বয়ং আল্লাহ, ফেরেশতা, শেষ নবীসহ সমস্থ নবী-রাসূল ও ওলী-আউলিয়াগণ হাজির হন। সবাই দাঁড়িয়ে মীলাদ পড়েন, কাঠের খাট নূরের খাটে পরিণত হয়। 

৬. আল্লাহ, রাসূল (সাঃ) সহ সমগ্র নবী-রাসূল ফেরেশতা এবং দেওয়ানবাগী ও তার মুর্শেদ চন্দ্রপাড়ার মৃত আবুল ফজলের উপস্থিতিতে সমস্ত ওলী-আউলিয়াগণ এক বিশাল ময়দানে সমবেত হয়ে সর্বসম্মতিক্রমে দেওয়ানবাগীকে মুহাম্মদী ইসলামের প্রচারক নির্বাচিত করেন। অতঃপর সবাইকে নিয়ে আল্লাহ এক বিশাল মিছিল বের করেন। আল্লাহ, রাসূল দেওয়ানবাগী ও তার পীর এ চার জনের হাতে চারটি মুহাম্মদী ইসলামের পতাকা। আল্লাহ, দেওয়ানবাগী ও তার পীর এই তিনজন সামনের সারিতে। সমস্ত নবী-রাসূলসহ বাকীরা পিছনে। মিছিলে আল্লাহ নিজেই শ্লোগান দিচ্ছিলেন, মুহাম্মদী ইসলামের আলাে, ঘরে ঘরে জ্বালাে’। (নাউজুবিল্লাহ)। 

১. এই অভিশপ্ত শয়তান নাকি স্বপ্নে দেখেছে যে, ঢাকা হতে ফরিদপুর পর্যন্ত বিস্তৃত ফলেফুলে সজ্জিত এক বিশাল মনােরম বাগান। ঐ বাগানে একটি ময়লা-আবর্জনার স্তুপের উপর নবীজির বিবস্ত্র (উলঙ্গ) লাশ অত্যন্ত করুন অবস্থায় পড়ে আছে। দেওয়ানবাগী উক্ত লাশের হাঁটুতে তার হাত লাগানাে মাত্রই ঐ লাশে প্রাণ ফিরে এলাে। সুন্দর পােশাকে সুসজ্জিত ও উজ্জ্বল চেহারা বিশিষ্ট হয়ে গেলেন নবীজি। হাসিমুখে তাকে বললেন, হে ধর্মের পুনর্জীবনদানকারী! আমার ইসলামকে এর আগে আরাে পাঁচ বার জীবিত করা হয়েছিল। (নাউজুবিল্লাহ) (সুত্র: রাসূল কি সত্যিই গরীব ছিলেন?, আল্লাহকে সত্যিই কি দেখা যায় না? ইত্যাদি)

 আল্লাহ সম্পর্কে তার কুফুরী আকিদা 

১. আল্লাহর সাথে যােগাযােগ আপন কূলবেই হয়ে থাকে। অন্যভাবে হাজার ইবাদত করেও আল্লাহকে পাওয়া যাবে না। 

২. আল্লাহ ও রাসূলকে স্বচক্ষে না দেখে কালেমা পড়ে সাক্ষ্য দেওয়ার ও বিশ্বাস করার কোন অর্থ হয় না। 

৩. মানুষ ও আল্লাহর সত্তা বা মূল অস্তিত্ব আলাদা নয়; বরং এক প্রত্যেক, মানুষের আত্মা আল্লাহর মূল সত্তার মধ্যে বিলীন ও মিশ্রিত ছিল। প্রত্যেক মানুষের দিলে আল্লাহর মূল সত্তার এক টুকরা নূর আছে। 

৪. জিব্রাইল বলিতে অন্য কেহ নন, স্বয়ং হাকিকতে আল্লাহই। যিনি রাসূল তিনিই আল্লাহ। (নাউজুবিল্লাহ) 

৫. আল্লাহ নিরাকার নন, তাঁর আকার আকৃতি, হাত-পা, চোখ-কান, জবান সবই আছে।

 দেওয়ানবাগী আকিদা-বিশ্বাস নং-১

 দেওয়ানবাগী পীরের হজ্জ করার প্রয়ােজন নেই। তার ‘আল্লাহ কোন পথে? বইয়ের ২য় সংস্করণ মে১৯৯৭ইং,১৯২-১৯৩ পৃষ্ঠায় লিখেছে: তার জৈনক ভক্ত আহমদ উল্লাহ যুক্তিবাদী দেওয়ানবাগী সাহেব কেন হজ্জ করেননি এটা চিন্তা করতে করতে ঘুমিয়ে যান। স্বপ্নে দেখেন হযরত ইবরাহীম (আঃ) নির্মিত মক্কার কা’বা ঘর এবং স্বয়ং রাসূল (সাঃ) বাবে রহমতে হাজির হয়েছেন। (বাবে রহমত পবিত্র মদীনার মসজিদের একটি বিখ্যাত দরজার নাম। নবীজীর (সাঃ) রওযা শরীফের সােজা উপরে নির্মিত সবুজ গম্বুজের মত একটি সবুজ গম্বুজও দেওয়ানবাগী তার আরামবাগের আস্থানার উপর নির্মাণ করেছে) রাসূল (সাঃ) তাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: তুমি যে ধারণা করতেছ যে, শাহ দেওয়ানবাগী হজ্জ করেননি, আসলে এটা ভুল। আমি স্বয়ং আল্লাহর নবী মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর সাথে আছি এবং সর্বক্ষণ থাকি। আর কা’বা ঘরও তার সম্মুখে উপস্থিত আছে। আমার ‘মুহাম্মাদী ইসলাম শাহ দেওয়ানবাগী প্রচার করতেছেন। তার হজ্জ করার কোন প্রয়ােজন নেই।

তার বিপক্ষে দলিলঃ 

 দেওয়ানবাগীর এই উক্তি সম্পূর্ণ কুরআন-হাদিস পরিপন্থী। পবিত্র কুরআনে হজ্জ সম্পর্কিত একটি পূর্ণ সূরাই নাযিল হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন,

ولله على الناس حج البيت من استطاع اليه سبيلا

অর্থঃ আল্লাহর উদ্দেশ্যে বায়তুল্লাহ শরীফে হজ্জ পালন করা মানুষের উপর অবশ্য কর্তব্য (ফরজ) মানুষের মধ্যে যাদের সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে। (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৯৭) এখানে বলা হয়েছে, মক্কা স্থিত বায়তুল্লাহ শরীফ গিয়ে হজ্জ পালন করার কথা।

সে ফরযিয়াতকে দেওয়ানবাগী অস্বীকার করেন। যা পবিত্র কুরআনের | বিরুদ্ধাচরণকারী। যে ব্যক্তি আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ করে সে তাে মুসলমানই নয়, তার পীর হওয়ার প্রশ্নই উঠে না।

 দেওয়ানবাগী আকিদা-বিশ্বাস নং- ২

 যিনি রাসূল তিনিই আল্লাহ।।

দেওয়ানবাগ হতে প্রকাশিত আত্মার বাণী ৭ম বর্ষ ৭ম সংখ্যার ১৩নং পৃষ্ঠায়। | দেওয়ানবাগীর কথা লিখেছেন। হাদীসে আছে “মান রায়ানী ফাকাদ রায়াল হক’ মানে যে রাসূলকে দেখেছে সে মূলে আল্লাহ তায়ালাকে দেখেছে। তার ৩ একথা মতে যিনি রাসূল তিনিই আল্লাহ। (বাতিল পীরের পরিচয়, পৃ: ৩১)

তার বিপক্ষে দলিলঃ

 হাদীসটি মিশকাত শরীফে এভাবে বর্ণিত হয়েছে।

من رانی قد رای الحق

হাদীসটির সহীহ অর্থ এই, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আমাকে স্বপ্নে দেখবে সে সত্যিই আমাকে দেখবে, কারণ শয়তান আমার আকার ধারণ করতে পারে না। (মিশকাত, পৃ: ১১১) দেওয়ানবাগীর কথা হল- যে রাসূলকে দেখেছে সে আল্লাহকে দেখেছে অর্থাৎ = রাসূলই আল্লাহ। দেওয়ানবাগীর এই ধারণা ঈমান বিধ্বংসী কুফরী। যে ধারণা | পােষণকারীকে মুসলমান বলা যায় না। কেননা, রাসূল সম্বন্ধে সহীহ ঈমান হল, আল্লাহ তাআলা খালিক (সৃষ্টিকর্তা) রাসূল (সাঃ) মাখলুক ও আল্লাহর বান্দা। আল্লাহর জাত বা সত্তা কারও জাত বা সত্তার মধ্যে মিশ্রিত বা দ্রবীভূত হন না। এবং তাঁর জাত বা সত্তার মধ্যেও কেউ মিশ্রিত বা দ্রবীভূত হয় না। অতএব, খালিক (আল্লাহর) সাথে মাখলুক ‘রাসূল’ এর অভিন্নতা প্রকাশ করা কুফরীর অন্তর্ভূক্ত। যা পরিপূর্ণ কুরআন বিরােধী। কেননা, কুরআনে ঘােষুিত হয়েছে

وما محمدا رسول”

| অর্থঃ মুহাম্মদ (সাঃ) একজন রাসূল বৈ কিছুই নয়। (সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ১৪৪),

অর্থঃ মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহ তাআলার রাসূল। (সূরা ফাতহ, আয়াত: ২৯),,,,

محمد رسول الله ماکان محمد ابا اكبر من رجالکم ولکن رسول الله وخاتم البين

অর্থঃ হে মানবজাতি! মুহাম্মদ (সাঃ) তােমাদের পুরুষদের মধ্যে কারাে পিতা নয়, বরং আল্লাহর রাসূল ও সর্বশেষ নবী। (সূরা আহযাব, আয়াত: ৪০) উল্লিখিত কুরআনের বর্ণনায় নবী করীম (সাঃ) কে আল্লাহর রাসূল বলা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে যাকে রাসূল বলা হয়েছে তিনি কখনও আল্লাহ হতে পারেনা। সুতরাং আল্লাহ এবং রাসূলের মধ্যে পার্থক্য এবং বৈপরিত্য রয়েছে

 দেওয়ানবাগীর আকিদা-বিশ্বাস নং- ৩

 মৃত্যুর পর জীবিত করা হবে না। “আল্লাহ কোন পথে গ্রন্থের” ৫৮নং পৃষ্ঠায় লিখেছে, আর এ আত্মাকে পরিত্যক্ত • দেহে আর কখনও প্রবেশ করানাে হয় না। | দেওয়ানবাগীর মতে মৃত্যুর পর মানুষের দেহ ধ্বংস হয়ে যায়। আর কোন দিন . এ দেহ বানানাে হবে না। রুহ ঢুকায়ে এ দেহকে জীবিত করা হবে না। 

 

তার বিপক্ষে দলিলঃ দেওয়ানবাগীর এ মতবাদ ঈমান বিধ্বংসী কুফুরী। যা সম্পূর্ণ কুরআন-সুন্নাহ পরিপন্থি। কেননা, কুরআনে বলা হয়েছে।

                                                                                                                و الموتی يبعثهم الله ثم الي يرجعون  

অর্থঃ আর মৃতকে আল্লাহ পুনর্জীবিত করবেন; অতঃপর তার প্রতিই তারা প্রত্যাবর্তিত হবে। (সূরা আনয়াম, আয়াত: ৩৬)

وبعدها علينا اناگا فعلين

অথঃ মৃত্যুর পর তােমাদেরকে পুনর্জীবিত করবাে যাতে তােমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর। (সূরা বাকারা, আয়াত: ৫৬) 

 

অর্থঃ যেভাবে আমি প্রথমে সৃষ্টি করছিলাম, সেভাবে পুনরায় (হাশরে) সৃষ্টি করবাে । আমার প্রতিশ্রুতি সত্য। নিশ্চয়ই আমি তা পূর্ণ করবােই। (সূরা আম্বিয়া, আয়াত: ১০৪) 

উল্লিখিত কুরআনের বর্ণনা দ্বারা স্পষ্ট হল- মৃত্যুর পর আল্লাহ তাআলা পুনর্জীবিত করবেন। সুতরাং দেওয়ানবাগীর এ মতবাদ ভ্রান্ত ও গােমরাহী। যারা এমন মতবাদ পােষণ করে তারা এ সকল কুরআনের আয়াত অস্বীকারকারী গণ্য হয়ে কাফের হয়ে যাবে।। 

দেওয়ানবাগী আকিদা-বিশ্বাস নং- ৪

 জান্নাতের অস্তীত্বকে অস্বীকার। আল্লাহ কোন পথে? (৩য় সংস্করণ) বইয়ের ৪০ পৃষ্ঠায় লিখেছে, “প্রভুর সাথে। পুনরায় মিলনে আত্মার যে প্রশান্তি ও আনন্দ লাভ হয় উহাই শ্রেষ্ঠ সুখ। এ মহামিলনের নামই প্রকৃত জান্নাত।

 তার বিপক্ষে দলিলঃ

দেওয়ানবাগী এখানে জান্নাতের স্বতন্ত্র অস্তিত্বকে অস্বীকার করেছে এবং জান্নাত বলতে আত্মিক সুখকে বুঝিয়েছে। এতে জান্নাত সম্পর্কিত কুরআনের আয়াত সমূহ এবং হাদীস সমূহকে অস্বীকার করল। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা হল, জান্নাত শব্দের অভিধানিক অর্থউদ্যান, বাগান, সুখময় স্থান ইত্যাদি। ইসলামী পরিভাষায়- পার্থীব ক্ষণস্থায়ী জীবনের অবসানের পর মু’মিনের অনন্ত সুখময়, চিরস্থায়ী জীবনের জন্য মহান আল্লাহ তাআলার যে সুসজ্জিত আবাস প্রস্তুত করে রেখেছেন, তাকে জান্নাত বলে। জান্নাত সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে- ১) ,

ان الذین امنوا الصليخت كانت لهم جنت الفردوس نز. خلدين فيها  يبغون عنها حولا.

অর্থঃ যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে তাদের আপ্যায়নের জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফিরদাউস। সেথায় তারা চিরস্থায়ী হবে, সেখান হতে তারা। স্থানান্তর কামনা করবে না। (সূরা কাহফ, আয়াত: ১০৭-১০৮)।

জান্নাতের মােট আটটি স্তর রয়েছে

 ১. জান্নাতুল ফিরদাউস, ২. দারুল মাকান, ৩. দারুল কারার, ৪. দারুস সালাম, ৫. জান্নাতুল মাওয়া, ৬. দারুন নাঈম, ৭. দারুল খুদ, ৮. জান্নাতুল আদন।

إن الذين امنوا وعملوا الصيحتي لهم جي التعيم

অর্থঃ যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করেন তাদের জন্য আছে নেয়ামতে ভরা জান্নাত। (সূরা লুকমান, আয়াত: ৮) ,

.

.أما الذين آمنوا وعملوا البخت فلهجنت الماوی نزلا بما كانوا يعملون

অর্থঃ যারা ঈমান আনে, সৎকর্ম করে, তাদের কৃত কর্মের ফল স্বরূপ তাদের আপ্যায়নের জন্য জান্নাতুল মাওয়া হবে বাসস্থান। (সূরা সাজদাহ, আয়াত: ১৯) এখানে লক্ষ্যণীয় বিষয় হলাে, দেওয়ানবাগী জান্নাতের যে মনগড়া অর্থ করেছে। তাতে কুরআনে বর্ণিত জান্নাতের স্থরের আয়াত সমূহকে অস্বীকার করে একজন গােমরাহ পীর বলে সাব্যস্থ হল। এহেন স্বভাবের মানুষ পীর হওয়া তাে দূরের কথা, ঈমান আছে কি-না চিন্তা করে দেখুন?

দেওয়ানবাগী আকিদা-বিশ্বাস নং- ৫

 মিযান অর্থ দাড়িপাল্লা নয়। ‘আল্লাহ কোন পথে? বইয়ের ৫৬নং পৃষ্ঠায় লিখেছে “মিযান বলতে মানুষের ষড়রিপুমুক্ত পরিশুদ্ধ বিবেককে বুঝায়। মিযান অর্থ দাড়িপাল্লা নয়।” উক্ত বইয়ে আরাে লিখা আছে “উপসংহারে বলা যায় যে, জাগতিক বিচারে যেহেতু বিচারকের কোন দাড়িপাল্লার প্রয়ােজন হয় না, দাড়িপাল্লা দ্বারা বিচার করার বিষয়টি উপমা স্বরূপ ব্যবহার করা হয়েছে।”

তার বিপক্ষে দলিলঃ 

এখানে দেওয়ানবাগী মিযানের মূল অর্থঃ দাড়িপাল্লা বাদ দিয়ে মনগড়া অর্থ করে মিযানকে অস্বীকার করল। যে ব্যক্তি কুরআনের মনগড়া অর্থ বা ব্যাখ্যা করবে তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম। এ প্রসঙ্গে হাদীসে বর্ণিত আছে,

قال رسول الله غالبة من قال في القران برأيه فليتبواء مقعده من النار وفي رواية من قال في القران بغير علم فليتبوأ مقعده من التار

অর্থঃ নবী করীম (সাঃ) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কুরআনের মনগড়া ব্যাখ্যা বলবে সে নিশ্চিতভাবে জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নিল। অন্য বর্ণনায় আছে, যে ব্যক্তি কুরআনের (মর্ম উদঘাটনের) ব্যাপারে ইলম ছাড়া (মনগড়া) কথা বলল, সে নিশ্চই জাহান্নামে নিজের ঠিকানা বানিয়ে নিল।

| (তিরমিযী, মিশকাত: ৩৫) মিয়ান সম্পর্কে সহীহ আকিদা হল, মিযান শব্দের অর্থ দাড়িপাল্লা। হাশরের ময়দানে মিযান স্থাপন করা হবে। নেক আমল বদ আমলের ওজন করা হবে। মিযান অর্থ যে দাড়িপাল্লা বা তুলাদন্ড তা কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াত থেকে প্রমাণিত।

والماء رفعها ووضع الميزان

অথঃ তিনি (আল্লাহ) আকাশকে করেছেন সমুন্নত এবং স্থাপন করেছেন দাড়িপাল্লা ।(সূরা আর-রহমান আয়াত: ৭) ..

موازينه فامهاوية فاما من ثقل موازينه فهو في عيشة الراضية. وأما من

অর্থঃ যখন যার পাল্লা ভারী হবে, সে তাে লাভ করবে সন্তোষজনক জীবন। কিন্তু যার পাল্লা হালকা হবে তার স্থান হবে হাবিয়া’ (জাহান্নাম)। (সূরা কারিয়া আয়াত: ৬-৯)।

الله الذي انزل الكتب بالحق والميزان

অর্থঃ আল্লাহই অবতীর্ণ করেছেন সত্যসহ কিতাব এবং তুলাদণ্ড। (সূরা শূরা আয়াত: ১৭) সুতরাং ভন্ড দেওয়ানবাগী মিযানের মনগড়া অর্থ করে মিযানের সঠিক অর্থকে অস্বীকার করে উপরােক্ত কুরআনের বর্ণনা অস্বীকারকারী সাব্যস্থ হল।

এনায়েতপুরী পীর পরিচিতি ও আকিদা-বিশ্বাস

 এনায়েতপুরের পীরের নাম মাওলানা শাহ্ সূফী মােহাম্মদ ইউনুছ আলী। তার পিতার নাম মাওলানানা শাহ সূফী আঃ করীম। তিনি বাংলা ১২৯৩ সালের ২১ শে কার্তিক, সিরাজগঞ্জ জেলা অন্তর্গত চৌহালী থানাস্থ এনায়েতপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। গ্রামের নিসবতে তাকে এনায়েতপুরী পীর বলা হয়। তিনি সৈয়দ উয়াজেদ আলী (কলকাতা) এর নিকট বাইআত গ্রহণ করেন এবং তার থেকে খিলাফত লাভ করেন। তিনি ১৮ই ফাল্গুন ১৩৫৮ সালে ইন্তেকাল করেন।

এনায়েতপুরীর আকিদা-বিশ্বাস  নং- ১

আল্লাহ ও রাসূলের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। আল্লাহ হলেন “আহাদ” আর রাসূল হলে “আহমদ” এই দুয়ের মধ্যে পার্থক্য শুধু একটা “মীম” হরফের তার প্রমাণ তাদের রচিত পুস্পহার বইয়ের ১২তম সংস্করণ ৩৬নং পৃষ্ঠার নিম্নোক্ত কবিতাঃ    

বানাইয়া নূর নবী দেখাইলেন আপনা ছবি

সেই নবীজীর চরণ বিনে নাইগাে পরিত্রাণ ।

আহাদে আহম্মদ বানাইয়ে, মিমকা পদ মাঝে দিয়ে

খেলতিয়াছেন পাক বারি হইয়া বে-নিশান।

তার বিপক্ষে দলিলঃ এনায়েতপুরীর এই আকিদা ঈমান বিধ্বংসী কুফরী। রাসূল সম্বন্ধে আহলে-হকের ।

তা) রাসূল মাখলুক ও আল্লাহর বান্দা। আল্লাহর জাত বা সত্তা কারও জাত বা সত্তার মধ্যে মিশ্রিত বা দ্রবীভূত হন না এবং তাঁর জাত বা সত্তার মধ্যেও কেউ মিশ্রিত বা দ্রবীভূত হয় না। অতএব, খালিক (আল্লাহর) সাথে মাখলুক রাসূল এর অভিন্নতা প্রকাশ করা কুফরীর অন্তর্ভূক্ত। যা সম্পূর্ণ কুরআন পরিপন্থী। কেননা কুরআনে বলা হয়েছে

وما محمد الا رسول

অর্থঃ মুহাম্মদ (সাঃ) একজন রাসূল বৈ কিছুই নয়। (সূরা আল-ইমরান, আয়াতঃ ১৪৪)।

محمد رسول الله

অর্থঃ মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহ তাআলার রাসূল। (সূরা ফাতহ, আয়াত: ২৯)। উল্লিখিত কুরআনের বর্ণনায় রাসূল (সাঃ) কে আল্লাহর রাসূল বলা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে যাকে রাসূল বলা হয়েছে তিনি কখনও আল্লাহ হতে পারেন না। সুতরাং আল্লাহ এবং রাসূলের মধ্যে পার্থক্য এবং বৈপরিত্য রয়েছে।

 

 এনায়েতপুরীর আকিদা-বিশ্বাস নং-২

 পীর মনের আশা পূর্ণ করেন। ‘পুষ্পদ্যান’ বইয়ের ৭৬ নং পৃষ্ঠায় লিখেছে,

খাজা তােমার দরবারে কেউ ফিরে না খালি হাতে, খাজা তােমার পাক রওজায় এসে যদি কেউ কিছু চায়,

| চাইতে জানলে রয়না কাঙ্গাল অফুরন্ত ভান্ডারে।

 

তার বিপক্ষে দলিলঃ

 তাদের এই মতবাদ সম্পূর্ণ শিরিকী মতবাদ। কেননা, আল্লাহ ছাড়া কোন পীর-মাশায়েখ, বুযুর্গ-ওলী মনের আশা পূর্ণ করার ক্ষমতা রাখে না। এ মর্মে আল্লাহপাক ঘােষণা করেন,

فل كن يصيبنا الا ما كتب الله لنا

অর্থঃ হে নবী আপনি বলে দিন, কখনাে আমাদের পৌঁছবে না আল্লাহ তাআলা আমাদের জন্য যা লিখে রেখেছেন তা ছাড়া, (সূরা তওবা আয়াতঃ৫১) 

قل كل من عند الله فمال هؤلاء القوم لا يكادون يفقهون حديثا

অর্থঃ হে নবী আপনি বলে দিন, সবকিছুই আল্লাহর তরফ থেকে। এই সম্প্রদায়ের কী হল যে, এরা একেবারেই কোন কথা বুঝে না। (সূরা নিসা, আয়াতঃ ৭৮)।

 

সুতরাং আল্লাহ ছাড়া কাউকে মনের আশা পূর্ণকারী বিশ্বাস করলে তা হবে শিরক।

এনায়েতপুরীর আকিদা-বিশ্বাস নং-৩

 পীর ধরা ফরজ তরিকতের ওজিফা শিক্ষা ২৬ নং পৃষ্ঠায় লিখেছে “পীর ধরা সবার জন্য ফরজ।” 

 

তার বিপক্ষে দলিলঃ এনায়েতপুরীর পীরের এ মতবাদ সম্পূর্ণ বাতিল ও ভিত্তিহীন। কুরআন ও বিশুদ্ধ হাদীসে

লল বা প্রমাণ নেই। কেননা, ফরজ বলা হয় যে সকল কাজ কুরআন-সুন্নাহর অকাট্য দলিল দ্বারা অবশ্য পালনীয় ও অলঙ্গনীয় বলে প্রমাণিত। আর পীর ধরা কুরআন-সুন্নাহর মধ্যে অবশ্য পালনীয় ও অলঙ্গনীয় বলে প্রমাণিত নয়। কোন কিছুকে ফরজ সাব্যস্ত করতে হলে কে অর্থাৎ কুরআনের স্পষ্ট বর্ণনা থাকা জরুরী। যা এখানে মওজুদ নেই। সুতরাং শরীয়তের কোন দলিল ছাড়া পীর ধরাকে ফরজ বলা বাড়াবাড়ি ছাড়া কিছু নয়। এগুলি শরিয়ত বিকৃত করার মত জঘণ্য অপরাধ। মুক্তিপ্রাপ্তি ও বেহেশত লাভের জন্য শর্ত হচ্ছে শরীয়তের অনুসরণ। যে ব্যক্তি শরীয়তকে মান্য করবে এবং তদানুযায়ী আমল করবে, সে মুক্তি পাবে ও বেহেশতে প্রবেশ করবে। যদি কারও নিকট সে মুরীদ না হয়। তার প্রমাণ,

والذين امنوا وعملوا الصلحت او لائک أصحاب الجنة هم فيها خالدون.

অর্থঃ যারা ঈমান এনেছে এবং সকাজ করেছে তারাই জান্নাতের অধিবাসী। তারা সেখানেই চিরকাল থাকবে। (সূরা বাকারা, আয়াত: ৮২) আর যদি কেউ কারাে নিকট মুরীদ হয়, কিন্তু শরীয়তের পাবন্দী না করে, তবে তার বেহেশতে প্রবেশ হওয়া সম্ভব নয়। একথার অগণিত প্রমাণ কুরআন ও হাদীসে বিদ্যমান রয়েছে। যার কোন পীর নেই, তার পীর শয়তান” পীর সাহেবের এ মতবাদও সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ও ভিত্তিহীন। কুরআন ও হাদীসে এর কোন দলিল বা প্রমাণ নেই। আহলে হক উলামা-মাশায়েখগণ বাইআত বা মুরীদ হওয়াকে সুন্নাত প্রমাণ। করেছেন। তবে ইসলাহে নফস বা আত্মশুদ্ধি ফরজ। তা ভিন্ন কথা।