নাম: আল মানার
ভাষা: বাংলা-আরবী
লেখক: মাওলানা আবু তাহের মেসবাহ
প্রকাশনী: নিউ মহাম্মদী কুতুব খানা
সাইজঃ ২২.৮ Mb

ডাউনলোড / Download
আব্দুল্লাহ ইবনে ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তায়ালা ভালো কাজ ও মন্দ কাজগুলোকে লিপিবদ্ধ করে রাখেন। অত:পর, যে ব্যক্তি কোন ভালো কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করে, কিন্তু তা করেনি তখন আল্লাহ তায়ালা তার আমলনামায় একটি পূর্ণ ভালো কাজের সাওয়াব বা প্রতিদান লেখার আদেশ দেন। আর যদি ভালো কাজের ইচ্ছা পোষণ করার পর সে তা বাস্তবায়ন করে, তখন আল্লাহ তায়ালা তাকে এই একটি ভালো কাজের জন্য দশ গুণ হতে সাতশ’ গুণ, বরং বহুগুণ বেশি সাওয়াব দান করেন। পক্ষান্তরে, যদি কোন ব্যক্তি কোন পাপ কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করে, কিন্তু বাস্তবে তা না করে, তখন সঙ্গে সঙ্গে তার আমলনামায় কোন গোনাহ লেখা হয় না বরং আল্লাহ তায়ালা তার জন্য এটাকে একটি পূর্ণ নেক কাজ হিসেবে লিখে নেন (যেহেতু পাপ কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করেও সেটা সে করেনি)। আর কেউ যদি কোন পাপ কাজের ইচ্ছা পোষণ করার পর তা বাস্তবে করে ফেলে, তখন আল্লাহ তায়ালা এর জন্য শুধুমাত্র একটি গুনাহ লিখে রাখেন। [মুসলিম]
উপমহাদেশের খ্যাতনামা উলামাদের প্রায় সকলেই মওদূদী সাহেবের চিন্তা ধারায় যে সব মারাত্মক ভুল ভ্রান্তি স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে প্রথমে তা মওদূদী সাহেব ও তার প্রতিষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামী নেতৃবর্গকে বিভিন্ন ভাবে অবহিত করে সেগুলো প্রকাশ্যে প্রত্যাহার করতে বলেছেন। কিন্তু যখন দেখা গেল মওদূদী সাহেব বা জামায়াতের নেতৃবর্গ তা প্রত্যাহার করার পরিবর্তে বাড়তি কিছু বিভ্রান্তি যোগ করে ক্রমাগত তা প্রতিষ্ঠিত করতেই চেষ্টা করেছেন। তখন মুসলিম জন সাধারণকে গোমরাহী থেকে বাঁচানোর স্বার্থে উলামায়ে কেরাম মওদূদী সাহেবের মৌলিক ভুলগুলো সুদৃঢ় প্রমাণসহ মুসলিম উম্মাহর সামনে তুলে ধরতে বাধ্য হয়েছেন, এমনকি মওদূদী সাহেবের প্রাথমিক পর্যায়ের তুলনামূলক ভ্রান্তিমুক্ত রচনা-প্রবন্ধ ইত্যাদি দেখে যেসব বিদগ্ধ উলামায়েকেরাম ও ইসলামী বুদ্ধিজীবীগণ জামাআতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠালগ্নে জনাব মওদূদী সাহেবের সঙ্গে এমনকি জামায়াতের অতি গুরুত্বপূর্ণ পদ সমূহে অধিষ্ঠিত হয়ে মওদূদী সাহেবকে খুব কাছে থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন। অতঃপর মওদূদী সাহেবকে ক্রমশঃ ভুলপথে চলতে দেখে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁরাও একে একে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে জামায়াত হতে পৃথক হয়ে গেছেন। উদাহরণতঃ জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা নায়েবে আমীর মাওঃ মনজুর নো’মানী, সেক্রেটারী জনাব কমরুদ্দীন (এম,এ) বেনারসী। মজলিসে শুরার অন্যতম সদস্য হাকীম আঃ রহীম আশরাফ ও মাওলানা আমীন আহসান এসলাহী বিশ্ব বরেণ্য দাঈয়ে ইসলাম মাওঃ আবুল হাসান আলী নদভী। জামায়াতের অন্যতম রুকন ও মওদূদী সাহেবের জন্যে নিবেদিত প্রাণ ডক্টর এসরার আহমাদ সাহেব প্রমূখ সহ প্রথম সারীর প্রায় আরো সত্তর জন নেতৃবর্গ।
ডাউনলোড / Download
আমলের চেয়ে ঈমানের গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ, শুধু সহীহ ঈমান দ্বারাও জান্নাত লাভ হবে (যদিও তা প্রথম অবস্থায় না হোক), কিন্তু সহীহ ঈমান ব্যতীত হাজারো আমল একেবারেই মূল্যহীন। যথার্থ ঈমান ব্যতীত শুধু আমল দ্বারা নাজাত পাওয়ার কোন সুরত নেই।
দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বর্তমানে চরম ফিতনার যুগে অনেক মানুষ সকালে মু‘মিন থাকলেও বিকালে ঈমানহারা হচ্ছে, আবার কেউ বিকালে মু‘মিন থাকলেও সকালে নষ্ট করে ফেলেছে। কিন্তু মানুষের ঈমান-আক্বীদা সংরক্ষণের জন্য যথার্থ ব্যবস্থা সমাজে নেই। অথচ বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার দরুন এতদসম্পর্কিত অধিক সংখ্যক কিতাবপত্র রচনা ও আলোচনা-পর্যালোচনা অব্যাহত থাকা ছিল একান্ত জরুরী।
এতদুদ্দেশ্যে আমি নালায়েক ‘আকীদাতুত তাহাবী, শরহে আক্বায়িদ, তা‘লীমুদ্দীন, ফুরূউল ঈমান’সহ বিভিন্ন কিতাব থেকে সহীহ আকীদাসমূহ পেশ করতে সাধ্যানুযায়ী চেষ্টা করেছি। যাতে করে সাধারণ মানুষের বুনিয়াদী ঈমান-আক্বীদা সহীহ হয়ে যায়। পাশাপাশি তা পরিপূর্ণ ও মজবুত করার জন্য ঈমানের শাখাগুলোর বিবরণ পেশ করেছি। আর ঈমান হিফাযতের জন্য ভ্রান্ত আক্বীদা, কুফরী ও শিরকী কথা এবং ভুল রাজনৈতিক দর্শনের বর্ণনা দিয়েছি। যেন কেউ কুফরী আক্বীদা পোষণ করে নিজের ঈমান ধ্বংস করে না ফেলে। আর ৪র্থ অধ্যায়ের শেষাংশে গুনাহে কবীরার বিবরণ এজন্য পেশ করা হয়েছে, যাতে করে এগুলোকে মানুষ গুনাহ এবং আল্লাহর নাফরমানী বলে বিশ্বাস করে নিজেকে এসব কাজ থেকে দূরে রাখে। গুনাহে কবীরাকে হালাল বা জায়িয মনে করলে মানুষ ঈমানহারা হয়ে যেতে পারে। এজন্য গুনাহের ইলম থাকা ঈমানের জন্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সম্পূর্ণ বিষয়াদি মিলে বইটি রুগ্ন মুসলিম জাতির রোগ নিরাময়ের জন্যে বিশেষ কার্যকর হবে বলে আল্লাহর দরবারে আশা করি। আল্লাহ তা‘আলার দরবারে দু‘আ করি, তিনি যেন এ কিতাবটি কবুল করেন এবং এটাকে মুসলিম মিল্লাতের হিদায়াতের জারি‘আ করেন। আমীন।
ডাউনলোড / Download
হযরতওয়ালার “কিতাবুল ঈমান” কিতাবের ৩য় অধ্যায় থেকে সংকলিত
ডাউনলোড / Download
হার যামানায় যেসব ফিতনা উম্মাহর মাঝে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে এবং ব্যাপক মহামারীর রূপ ধারণ করেছে। তন্মধ্যে অন্যতম হল, ‘লা মাযহাবী ফিতনা’। এ ফিতনা মোকাবেলায় ও এদের মুখোশ উন্মোচনে যে সকল আলেমে দ্বীন উম্মাহর অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখে চলেছেন তাদের অন্যতম হলেন ফকীহুল মিল্লাত মুফতী আব্দুর রহমান সাহেব রহ.। তিনি বিষয়টির ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে এ ব্যাপারে বাংলাদেশের উলামায়ে কেরামকে সতর্ক ও সচেতন করার জন্য বিভিন্ন এলাকায় বড় বড় ফিক্বহী সেমিনার ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে উত্তম জাযা দান করেন। এ ব্যাপারে মাঠে-ময়দানে কাজ নেয়ার জন্য তিনি তার দূরদর্শিতা দ্বারা কয়েকজন আলেমকে বাছুনী করেন এবং তাদেরকে এ ময়দানে লাগান। ঐসব আলেমদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়ার শাইখুল হাদীস ও প্রধান মুফতী, হারদুঈ হযরতের অন্যতম খলীফা হযরতুল আল্লাম মুফতী মনসূরুল হক সাহেব দা.বা.।
ফকীহুল মিল্লাত রহ. এর নিবেদনে তিনি এখন বয়ান-বক্তৃতা ও লেখনীর মাধ্যমে এদের মুখোশ উন্মোচনে বদ্ধপরিকর। মুফতী সাহেবের এসব বয়ানের মধ্যে ফকীহুল মিল্লাত রহ. এর রূহানী ফয়েয ও তাওয়াজ্জুহ স্পষ্ট। এ পর্যন্ত এ বিষয়ে হযরতের তিনটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়ে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে। আর হযরতের অসংখ্য বয়ান তো হযরতের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছে। হযরতের এ অসংখ্য বয়ান থেকে লা-মাযহাবী ফিতনা সংক্রান্ত চারটি বয়ান কয়েকটি ইসলামী মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হলে ব্যাপক পাঠক প্রিয়তা পায় এবং জনসাধারণের মাঝে অকল্পনীয় ফায়দা পৌঁছায়। ফলে তখন থেকে বিভিন্ন মহল হতে বারবার তাকাযা আসছিল, অনুরোধ-আবেদন চলছিল বয়ান চারটি মলাটবদ্ধ করে পাঠকের সামনে পেশ করার, যাতে এর ফায়দা ব্যাপক ও স্থায়ী হয়।
একটু বিলম্বে হলেও হযরতের নির্দেশে এ খিদমত আঞ্জাম দেয়ার সৌভাগ্য হয়। আলহামদুলিল্লাহ, বয়ানগুলো প্রয়োজনীয় পরিবর্ধন ও পরিমার্জন করে তা পাঠক সমীপে পেশ করা হল। এ সংকলনের কাজে বিভিন্ন জন বিভিন্নভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা সকলকে জাযায়ে খাইর নসীব করুন। সবাইকে তাফাক্কুহ ফিদ-দীন ও রুসুখ ফিল-ইলম দান করুন।
গ্রন্থটিকে সুন্দর ও ত্রুটিমুক্ত করার আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়েছে। তারপরও কোন ধরনের অসঙ্গতি কারো নযরে পড়লে আমাদেরকে অবগত করলে কৃতজ্ঞ হব।
