যেভাবে মানুষের ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে প্রতারনা করছে

মুফতী সাহেব হুজুরের বাসায় একবার জনৈক মৌলভী বেশভূষার এক লোক মাদরাসার কালেকশনের জন্য এসেছেন। হুজুর তাকে বসতে দিলেন। তাকে জিজ্ঞাসা করলেন কোথা থেকে এসছেন? কোন মাদরাসার পক্ষ থেকে? লোকটি যে মাদরাসার নাম বললো সেখানকার প্রিন্সিপাল সাহেব হুজুরকে খুব ভালভাবে চেনেন। হুজুর আলাপ করতে চাইলে লোকটি কাচুমাচু শুরু করে দিলেন (!) হুজুর লোকটির কাছে একটি রশিদ চাইলেন। হাতে নিয়ে দেখলেন প্রতিটি রশিদের পাতায় একই তারিখের সীল মারা অর্থাৎ একটা রশিদকে ফটোকপি করে বাকিগুলো বানিয়েছে। খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়- এই লোকটি মাদরাসায় কখনো পড়েনি এবং সেই মাদরাসার সাথেও কোন সম্পর্ক নেই। মাদরাসা কর্তপক্ষও এভাবে কালেকশন করেন না (যদিও অনেক জায়গায় কালেক্টর রেখে টাকা কালেকশন করতে দেখা যায়)। আগত লোকটি চিনতে পারেনি যে, কার কাছে এসেছে এবং তিনি কে?

এটাতো অফলাইনের ঘটনা। আজ এক ভাই অনলাইনে একটি ম্যাসেজ পাঠিয়েছেন যে, জনৈকা হাফেজা নামধারী এক ফেসবুক আইডি ম্যাসেজ দিয়েছে ৩০ জন কুরআনে হাফেজের জন্য ৩০টি কুরআন শরীফ প্রয়োজন। হাদিয়া দিতে চাইলে বিকাশ করুন (স্ক্রীনসট সংযুক্ত)। তার ও মাদরাসার পরিচয় জানতে চাইলে অস্পষ্ট কথাবার্তা বলেন। এ্যাপসের মাধ্যমে তার নম্বর চেক করলে নম্বরটি একজন পুরুষের নামে রেজিষ্ট্রিকৃত দেখা যায়। এটা তাকে প্রকাশের সাথে সাথেই ব্লক করে দেয়। এভাবে মানুষের ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে প্রতারনা করছে বলেই প্রতীয়মান হয়। সুতরাং অনলাইন হউক কিংবা অফলাইন; আপনারা অবশ্যই জেনেশুনে দান-সদকা করুন যেন আপনার আবেগকে কাজে লাগিয়ে কেউ প্রতারণা করতে না পারে। মুফতি সাহেব হুজুরকে দেখা যায় প্রতিটি লেনদেনের বিপরীতে রশিদ প্রদান করেন এবং সেই খাতেই দানকৃত অর্থ ব্যয় করে থাকেন। এমন স্বচ্ছতা বজায় রেখে চলা আমাদের ঈমানী দায়িত্ব। আল্লাহপাক মুফতী সাহেব হুজুরকে সুস্থতার সাথে দীর্ঘ নেক হায়াত দান করুন এবং আমাদেরকেও তাঁর ন্যয় আমানতদারীর সাথে যেকোনো কাজ করার তৌফিক দান করুন।

ইমাম ভুলে তিনটি সিজদা করে ফেললে করণীয় কী?

উত্তর: ইমাম সাহেব অতিরিক্ত সেজদা করার কারণে ইমাম এবং সকল মুকতাদীর উপর সেজদায়ে সাহু ওয়াজিব হয়েছে। কিন্তু সেজদায়ে সাহু না করার কারণে ইমাম মুক্তাদী সকলের জন্য নামাযটি পুনরায় পড়ে নেওয়া জরুরি।

উল্লেখ্য, এ ধরনের ভুলের ক্ষেত্রে ইমামের অনুসরণ না করাই নিয়ম। কিন্তু অনুসরণ না করলেও ইমামের ভুলের কারণে সকলের উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়ে যায়। খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৬১; শরহুল মুনয়া পৃ. ৫২৮, ৪৫৬; রদ্দুল মুহতার ১/৪৫৭। সূত্র: আল কাউসার

মূলনীতি ও গঠনতন্ত্র মেনেই বেফাক সংকটের সমাধান করতে হবে: শীর্ষ উলামায়ে কেরাম

আজ ১২ই সেপ্টেম্বর’২০ শনিবার কওমী মাদরাসায় চলমান সংকট থেকে উত্তোরণের উপায় আলোচনা করতে দেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরামের উপস্থিতিতে কামরাঙ্গীরচর মাদরাসায় গুরুত্বপূর্ণ ইসলাহী মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাহফিলে বেফাককে তাঁর সংবিধান মোতাবেক চলতে বাঁধাগ্রস্থ করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা । সেখানে আরো বলা হয় দারুল উলোম দেওবন্দের অষ্টনীতির ভিত্তিতে সরকার আমাদেরকে স্বীকৃতি দিবে, এমন কথা শুনেই আমরা স্বীকৃতি নিয়েছি। কিন্তু সেখানে বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, দেশের কওমি মাদরাসা দেওবন্দের আদর্শ মোতাবেক পরিচালিত হবে কথাটি থাকলেও অষ্টনীতি বা উসুলে হাশতেগানাহর উল্লেখ নেই। এটাকে বিলোপ করে দেয়া হয়েছে।

সভাপতির ভাষণে মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী বলেন, আমরা বেফাকে ভাঙ্গণের জন্য এখানে ইসলাহী মজলিস করিনি। বরং বেফাকসহ কওমী সকল প্রতিষ্ঠান যেনো সঠিকভাবে পরিচালিত হতে পারে সেজন্য এই ইসলাহী মজলিসের আয়োজন করা হয়েছে।

ইসলাহী মজলিসে চার দফা প্রস্তাব পাশ হয়।
প্রস্তাবগুলো হলো,
১. কওমি মাদরাসার ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা রক্ষার্থে ‘তাহাফফুজে ফিকরে দেওবন্দ’ শিরোনামে সারাদেশে আলোচনা সভা করা হবে।

২. দ্রুত সময়ের মধ্যে বেফাকের মজলিসে শুরা ও আমেলার বৈঠক করে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।

৩. ইসলাহী মাহফিল থেকে সংকট নিরসনে ভূমিকা রাখার জন্য ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে । উক্ত কমিটি দ্রুত সময়ের মধ্যে সংকট সমাধানের জন্য বেফাক নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করবে ।

৪. মাদরাসায় মাদরাসায় কাদিয়ানীদের পক্ষ থেকে প্রেরিত চিঠি প্রেরণ ও তাদের অন্যান্য অপতৎপরতা বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

ইসলাহী মজলিসে বেফাকের সংকট কাটিয়ে উঠতে পরামর্শ ও ইসলাহীমূলক বক্তব্য দেন দেশের শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম ।

কে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী ? আসুন সংক্ষিপ্তভাবে বংশীয় পরিক্রমায় জেনে নেই

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হাফিযাহুল্লাহু উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন ঐতিহ্যবাহী ইলমী বংশের সন্তান

✍ আপোষহীন ক্বায়েদে মিল্লাত আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হাফিযাহুল্লাহ। তাঁর বড় আব্বা (মায়ের দাদা) যুগশ্রেষ্ঠ বুজুর্গ আল্লামা সুফী আজিজুর রহমান রহ.( মৃত্যু:১৩৩৯ হি.) ছিলেন হাটহাজারী মাদরাসার চারজন প্রতিষ্ঠাতের অন্যতম একজন।

✍ আরেক বড় আব্বা ( নানার খালু) শায়খুল কুল আল্লামা আব্দুল ওয়াহেদ হাওলভী রহ. (মৃত্যু:১৩২৩ হি.)। তিনিও হাটহাজারী মাদরাসার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। যিনি ছিলেন তাসাওউফের সিদ্ধপুরুষ আল্লামা ফজলুর রহমান গঞ্জে মুরাদাবাদী রহ. ও হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজেরে মক্কী রহ. এর বিশিষ্ট খলিফা।

✍ আল্লামা বাবুনগরীর মায়ের ফুফা ছিলেন হাটহাজারী মাদরাসার প্রথম পৃষ্ঠপোষক শায়খুল মাশায়েখ আল্লামা জমিরউদ্দীন রহ.।হাটহাজারী মাদরাসার দুইজন বানী ১/সূফী আজিজুর রহমান রহ. ২/ শায়খুল কুল আব্দুল ওয়াহেদ হাওলভী এবং পৃষ্ঠপোষক আল্লামা শাহ জমির উদ্দীন রহ. এর সুযোগ্য বংশধর ও উত্তরসূরী হলেন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

✍ আল্লামা বাবুনগরী হাফিযাহুল্লাহুকর নানা ছিলেন আধ্যাত্মিক জগতের সম্রাট,বাবুনগর মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা শাহ হারূন বাবুনগরী রহ.।

✍ আল্লামা বাবুনগরী হাফিযাহুল্লাহুর মায়ের মেজ জেঠা শায়খুল হাদীস আল্লামা আমিন বাবুনগরী রহ.(মৃত্যু:১৩৮০ হি.)। তিনি খাতামুল মুহাদ্দিসীন আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী রহ. এর সুযোগ্য শাগরেদ ছিলেন।

✍ আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হাফিযাহুল্লাহুর মায়ের নানা ছিলেন,শায়খুল হিন্দ আল্লামা মাহমুদ হাসান দেওবন্দী রহ. এর শাগরিদ আল্লামা শায়খ আব্দুল আজিজ জাহাঁপুরী রহ.।

✍ আল্লামা বাবুনগরী হাফিযাহুল্লাহুর মায়ের মামা মাওলানা মাসউদ জাহাঁপুরী ছিলেন দারুল দেওবন্দের কৃতি ফাযেল

✍ আল্লামা বাবুনগরী হাফিযাহুল্লাহুর আম্মাজান হলেন এক মহিয়সী রত্নগর্ভা রমনী। তিনি ছিলেন আল্লামা সূফী আজিজুর রহমান রহ. এর দৌহিত্রা,আল্লামা হারূন বাবুনগরী রহ.এর কন্যা। তিনি পটিয়া মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা কুতুবুল আলম আল্লামা মুফতী আযীযুল হক রহ. ও হাকিমুল উম্মত আল্লামা আশরাফ আলী থানভী রহ. এর খলিফা আল্লামা শাহ আব্দুল ওয়াহহাব রহ. এর বাইয়াত ছিলেন।

✍ আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হাফিযাহুল্লাহুর দুই মামাও প্রখ্যাত আলেম,মুহাদ্দিস ও বুযুর্গ ব্যক্তিত্ব। বড় মামা হলেন মুজাহিদে মিল্লাত আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী( দা.বা.)। আল্লামা হাফেজ হাবীবুল্লাহ সাহেব দা.বা.।

✍ আল্লামা বাবুনগরী হাফিযাহুল্লাহুর পিতা ছিলেন দরস জগতের সম্রাট, মেশকাত শরীফের বিশ্ববিখ্যাত ভাষ্য তানজিমুল আশতাতের রচয়িতা আল্লামা আবুল হাসান (রহ.)।তিনি হাটহাজারী মাদরাসার শায়খুত তাফসীর ছিলেন।

✍ আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হাফিযাহুল্লাহুর তিনভাই।তিনজনই উঁচু মাপের আলেম এবং মুহাদ্দিস। মাওলানা শুয়াইব বাবুনগরী,তিনি বাবুনগর মাদরাসার মুহাদ্দিস, মাওলানা জোবায়ের বাবুনগরী তিনি রাউজান সুলতানপুর মারাসার মুহাদ্দিস।

✍ আল্লামা বাবুনগরী হাফিযাহুল্লাহুর ভগ্নিপতিরাও বড় মাপের আলেম। একজন হলেন বিশিষ্ট লেখক,গবেষক,সাহিত্যক,চট্টগ্রাম জমিয়তুল ফালাহ শাহী জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা হাফেজ আবু জাফর সাদেক (রহ.)। ছোট ভগ্নিপতি মুর্শিদে আজম মাওলানা আবদুল মজিদ শাহ সাহেব রহ. এর সুযোগ্য সন্তান বিশিষ্ট আলেম মাওলানা যাকারিয়া সাহেব।যিনি চট্টগ্রাম হাটহাজারীস্থ উত্তর মাদার্শা মজিদিয়া মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক।

✍ আল্লামা বাবুনগরী হাফিযাহুল্লাহুর ভাগ্নেরাও বড় মাপের আলেম। এক ভাগ্নে পাকিস্তান করাচি জামিয়া বান্নুরী টাউন থেকে উচ্চতর ডিগ্রীপ্রাপ্ত মুফতি ওসমান সাদেক।তিনি বিশিষ্ট আরবী ভাষাবিদ। লেখক ও গবেষক। আরেক ভাগ্নে হাটহাজারী মাদরাসার উচ্চতর আরবী সাহিত্য বিভাগের সাবেক উস্তায,বিশ্ববিখ্যাত জামিয়া আল- আযহার মিশরের কৃতি ফাযেল আল্লামা আনোয়ার শাহ আযহারী দা.বা.,আরেক ভাগ্নে মাওলানা হাফেজ ইরফান সাদেক,বাহরাইন আয়শা জামে মসজিদের ইমাম।

✍ আল্লামা বাবুনগরী হাফিযাহুল্লাহুর মেয়ের জামাতারাও একেকজন বড় আলেম,মুহাদ্দিস। মুফতী ইরশাদুল্লাহ দা.বা. মুহাদ্দিস,জিরি মাদরাসা,মাওলানা আব্দুল্লাহ সাহেব দা.বা.,উস্তাযুত তাফসীর ও নাজেমে তালিমাত ফতেহপুর মাদরাসা চট্টগ্রাম,মুফতী কুতুবউদ্দিন দা.বা.,তিনি নানুপুরের পীর সাহেব আল্লামা শাহ জমিরউদ্দীন নানুপুরী রহ. এর সুযোগ্য সাহেবজাদা এবং জামিয়া নানুপুরের বর্তমান শায়খুল হাদীস ও উচ্চতর হাদীস গবেষণা বিভাগের তত্বাবধায়ক। মাওলানা জুনায়েদ দা.বা. তিনি উজানী মাদরাসার মুহাদ্দিস। মাওলানা ফয়লুল করীম দা.বা. তিনি বিশিষ্ট আলেম এবং আগ্রাবাদ হাজীপাড়া মাদরাসার পরিচালক।

উচ্চ বংশ, বিনয়-নম্রতা, তাকওয়া পরহেজগারি ও খোদাভীরুতা, ইলম-আমাল, আখলাক-চরিত্র সর্ব দিক দিয়েই অতুলনীয় আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হাফিযাহুল্লাহ। আল্লাহ তায়া’লা শায়েখকে সুস্থতার সহিত দীর্ঘ নেক হায়াত দান করুন আমিন।

লেখক-এইচ.এম. জুনাইদ ফাযেল: দাওরায়ে হাদীস (মাস্টার্স)ও উচ্চতর আরবী সাহিত্য বিভাগ,দারুল উলুম হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।

বিয়ে পূর্ব যিনা করা দ্বারা বান্দার হক নষ্ট হয় না আল্লাহর হক?

প্র:শরিয়তে জিনার বেপারে কি বলা হয়েছে? আর জিনা করলে কি আল্লাহর হক নষ্ট হয় না কি বান্দার হক নষ্ট হয়? কোন যুবক যুবতী যদি বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পরে তাহলে আল্লাহ কি তাদের ক্ষমা করবেন? আর এখন তাদের কি করা উচিত? শরিয়তের আলোকে একটা সমাধান চাই

উত্তর: ব্যাভিচার একটি অশ্লীল কাজ। মানুষ লজ্জা-শরম ও মনুষ্যত্ব থেকে বঞ্চিত হয়ে শয়তানের আতœপ্রবঞ্চনার শিকার হয়ে এ অনৈতিক ও পাশবিক কাজে জড়িয়ে পড়ে। ব্যাভিচারের কারণে সৃষ্টি হয় সামাজিক অনাসৃষ্টি, খুন খারাবী হত্যা ও হত্যার মত জঘন্য অপরাধ।

যে যৌন শক্তি আল্লাহ পাক মানুষের বংশধারা সম্প্রসারণের জন্যে প্রদান করেছেন, তা যদি বিপথে বিনষ্ট করা হয় , তখন মানব সমাজে বিপর্যয় দেখা দেয়। চোখ কান খোলা রাখেন এমন ব্যক্তির জন্য তা আর খুলে বলার প্রয়োজন বলে মনে করছি না। আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজীদে ইরশাদ করেন- ﻭَﻟَﺎ ﺗَﻘْﺮَﺑُﻮﺍ ﺍﻟﺰِّﻧَﺎ ﺇِﻧَّﻪُ ﻛَﺎﻥَ ﻓَﺎﺣِﺸَﺔً ﻭَﺳَﺎﺀَ ﺳَﺒِﻴﻠًﺎ (৩২)আর তোমরা ব্যাভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ। (সূরা ইসরা -৩২)

আল্লাহ তাআলা সফলকাম মুমিনের পরিচয়ে সূরা মুমিনের (৫-৬) নং আয়াতে বলেন- ﻭَﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻫُﻢْ ﻟِﻔُﺮُﻭﺟِﻬِﻢْ ﺣَﺎﻓِﻈُﻮﻥَ (৫) ﺇِﻟَّﺎ ﻋَﻠَﻰ ﺃَﺯْﻭَﺍﺟِﻬِﻢْ ﺃَﻭْ ﻣَﺎ ﻣَﻠَﻜَﺖْ ﺃَﻳْﻤَﺎﻧُﻬُﻢْ ﻓَﺈِﻧَّﻬُﻢْ ﻏَﻴْﺮُ ﻣَﻠُﻮﻣِﻴﻦَ (৬)(তরজামা) এবং যারা নিজেদেও যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে। তবে তাদের স্ত্রী ও মালিকানাভুক্ত দাসীদের ক্ষেত্রে সংযত না রাখলে তারা তিরস্কৃত হবে না।

মোটকথা বিবাহিত স্ত্রী অথবা শরীয়াত সম্মত দাসীর সাথে শরীয়াতের বিধি মোতাবেক কামপ্রবৃত্তি চারিতার্থ করার আর কোন হালাল পথ নয়। তাই ইসলামে বিবাহ পূর্ব প্রেম-প্রীতি সম্পূর্ণরূপে হারাম। এর পরিণাম ভয়াবহ হয়ে থাকে। এ অভিশপ্ত অপরাধ নির্মূলের জন্য ইসলাম অনেক ব্যাবস্থা পত্র দিয়েছে। নিম্নে তার কিয়দাংশ উল্লেখ করা হলো।

১. তাকওয় অর্জনের মাধ্যমে সমাজকে অপরাধমুক্ত রাখার প্রচেষ্টা। ২.পর্দা রক্ষা করে চলার নির্দেশ দিয়ে।

৩. লজ্জাবোধের নির্দেশ দিয়ে। ৪.দৃষ্টি সংযত রাখার নির্দেশ দিয়ে।

৫.জাহেলী যুগের ন্যায় উগ্র পোশাকে চলাফেরা না করার নির্দেশ দিয়ে।

৬. দেহাবয়বের সৌন্দর্য প্রকাশ না করার নির্দেশ দিয়ে।

৭. নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা বর্জনের নির্দেশ দিয়ে।

৮. সহশিক্ষার পদ্ধতি পরিহার করার বিধান আরোপ করে।

৯. কোন পুরুষের সাথে একান্ত সাক্ষাতের ব্যাপারে নিষাধাগ্ঞা আরোপ করে। যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি করে এমন বিষয় থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ দিয়ে।

১০. শাস্তিদানে কঠোরতার মাধ্যমে। অবিবাহিত কেউ ব্যাভিচার করলে তার শাস্তি হল ১০০ চাবুক।

আর বিবাহিত কেউ ব্যাভিচার করলে তার শাস্তি হল সঙ্গেসার বা প্রস্তারাঘাতে মৃত্যুদ-। ইরশাদ হয়েছেﺍﻟﺰَّﺍﻧِﻴَﺔُ ﻭَﺍﻟﺰَّﺍﻧِﻲ ﻓَﺎﺟْﻠِﺪُﻭﺍ ﻛُﻞَّ ﻭَﺍﺣِﺪٍ ﻣِﻨْﻬُﻤَﺎ ﻣِﺎﺋَﺔَ ﺟَﻠْﺪَﺓٍ ﻭَﻟَﺎ ﺗَﺄْﺧُﺬْﻛُﻢْ ﺑِﻬِﻤَﺎ ﺭَﺃْﻓَﺔٌ ﻓِﻲ ﺩِﻳﻦِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺇِﻥْ ﻛُﻨْﺘُﻢْ ﺗُﺆْﻣِﻨُﻮﻥَ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺍﻟْﻴَﻮْﻡِ ﺍﻟْﺂﺧِﺮِ ﻭَﻟْﻴَﺸْﻬَﺪْ ﻋَﺬَﺍﺑَﻬُﻤَﺎ ﻃَﺎﺋِﻔَﺔٌ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ (২)যিনাকার পুরুষ ও মহিলা তাদের প্রত্যেককে একশত দুররা মার। আল্লাহর বিধান কার্যকর করার ক্ষেত্রে তাদের প্রতি কোনরূপ অনুকম্পা যেন তোমাদেরকে স্পর্শ না করে। যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী হও। (সূরা নূর:৩) উল্লেখ্য যে এ বিধান কার্যকর অধিকার রয়েছে একমাত্র রাষ্ট্রের। ব্যক্তিগত বা সামাজিক উদ্যেগে এ শাস্তি প্রয়োগ করা যাবে না।

ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে সুবিবেচক, মহাজ্ঞানী ও সর্বজ্ঞ হিসাবে মহান আল্লাহ্ তাআলা তদীয় বিধানে মানুষের জীবনকে সাবলীল, গতিশীল, সৌন্দর্যমন্ডিত ও শান্তিপূর্ণ করে তোলার জন্য এবং মানুষের নৈতিক, আধ্যাত্মিক, জ্ঞানগত ও জাগতিক বিকাশের জন্য প্রত্যেক মানুষকে তার ব্যক্তি জীবন, সামাজিক জীবন, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জীবনে কতিপয় সুযোগ-সুবিধা প্রদান করেছেন। এই সুযোগ-সুবিধার সমষ্টিকেই ইসলামে অধিকার বলা হয়।

১. যেসব সুযোগ সুবিধা একান্ত ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবনের সাথে কিংবা এক ব্যক্তির সঙ্গে অন্য ব্যক্তির সম্পর্কের সাথে সংশ্লিষ্ট সেগুলোকে বলা হয় হক্কুল ইবাদ।

২. এমন হক ও অধিকার যার সুফল কোন ব্যক্তি বা সম্প্রদায়ের জন্য নির্ধারিত নয়। বরং তার সুফল সমগ্র মুসলমান (তথা মানুষ) ভোগ করে কিংবা মানব সম্প্রদায়ের কোন একটি বিশেষ শ্রেণী ভোগ করে। আবার সকল মানুষের জন্যই তা প্রয়োজনীয় ও কাম্য। এ ধরণের অধিকারকে শরীয়াতের পরিভাষা হক্কুল্লাহ কিংবা আল্লহর হক বলা হয়ে থাকে। লক্ষ্যনীয় যে সমাজের সাথে সংশ্লিষ্ট সুযোগ সুবিধার গুরুত্বের প্রতি দৃষ্টি নিবন্ধ করার জন্য ইসলামে সেগুলোকে হক্কুল্লাহ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যাতে এগুলোর ক্ষেত্রে কেউ সীমা লঙ্ঘন করতে দুঃসাহসী না হয়ে উঠে।

(আধুনিক রাষ্ট্র বিজ্ঞান ও ইসলাম ৪৮৮) উপরোক্ত দৃষ্টিকোণ থেকে যিনার বিষয়টি বিবেচনা করলে বুঝা যায় যে, এ অপরাধটি যদিও বান্দার হকের সাথে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত নয় কিন্তু এ অপরাধটি এমন অনেক অপরাধ সঙ্গে নিয়ে আসে যার দ্বারা বান্দার হক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং হত্যা ও লুটতরাজের হাঙ্গামা সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ এ অপরাধটি যেমন জনক্ষতিকর কাজ তেমনি হিংস্র প্রকৃতির পাপ কাজ। একারেই ইসলাম এ অপরাধকে সব অপরাধের চেয়ে গুরতর বলে সাব্যস্ত করেছে এবং এর শাস্তিও সব অপরাধের শাস্তির চেয়ে কঠোর বিধান করেছে। কেননা এটি এমন একটি অপরাধ যা অন্যান্য শত শত অপরাধকে নিজের মধ্যে সন্নিবেশিত করেছে। নিজের কৃতকর্মের উপর লজ্জিত হয়ে ভবিষ্যতে যিনা না করার ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হয়ে আন্তারিকভাবে তওবা করতে হবে। গুণাহ যতই হোক না কেন নিয়মমত মত তওবা করিলে মাফ পাওয়া সম্ভব।

আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজীদে ইরশাদ করেন

-ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺍﻟﺘَّﻮْﺑَﺔُ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻟِﻠَّﺬِﻳﻦَ ﻳَﻌْﻤَﻠُﻮﻥَ ﺍﻟﺴُّﻮﺀَ ﺑِﺠَﻬَﺎﻟَﺔٍ ﺛُﻢَّ ﻳَﺘُﻮﺑُﻮﻥَ ﻣِﻦْ ﻗَﺮِﻳﺐٍ ﻓَﺄُﻭﻟَﺌِﻚَ ﻳَﺘُﻮﺏُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﻭَﻛَﺎﻥَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠِﻴﻤًﺎ ﺣَﻜِﻴﻤًﺎ (১৭)অবশ্যই আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করবেন, যারা ভুলবশত মন্দ কাজ করে অত:পর অনতিবিলম্বে তওবা করে এরাই সেসব লোক যাদেরকে আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী রহস্যবিদ। (সূরা নিসা-১৭)

হযরত আনাস রা. বর্ণনা করেছেন যে,

ﺳﻤﻌﺖ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻳﻘﻮﻝ ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻳﺎ ﺍﺑﻦ ﺁﺩﻡ ﺇﻧﻚ ﻣﺎ ﺩﻋﻮﺗﻨﻲ ﻭﺭﺟﻮﺗﻨﻲ ﻏﻔﺮﺕ ﻟﻚ ﻋﻠﻰ ﻣﺎ ﻛﺎﻥ ﻓﻴﻚ ﻭﻻ ﺃﺑﺎﻟﻲ ﻳﺎ ﺍﺑﻦ ﺁﺩﻡ ﻟﻮ ﺑﻠﻐﺖ ﺫﻧﻮﺑﻚ ﻋﻨﺎﻥ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ ﺛﻢ ﺍﺳﺘﻐﻔﺮﺗﻨﻲ ﻏﻔﺮﺕ ﻟﻚ ﻭﻻ ﺃﺑﺎﻟﻲ ﻳﺎ ﺍﺑﻦ ﺁﺩﻡ ﺇﻧﻚ ﻟﻮ ﺃﺗﻴﺘﻨﻲ ﺑﻘﺮﺍﺏ ﺍﻷﺭﺽ ﺧﻄﺎﻳﺎ ﺛﻢ ﻟﻘﻴﺘﻨﻲ ﻻ ﺗﺸﺮﻙ ﺑﻲ ﺷﻴﺌﺎ ﻷﺗﻴﻚ ﺑﻘﺮﺍﺑﻬﺎ ﻣﻐﻔﺮﺓআমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ামকে বলতে শুনেছি তিনি বলেন- হে আদম-সন্তান, যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি আমার নিকট দোআ করতে থাকবে এবং আমার নিকট আশা করতে থাকবে তোমার যত গুণাহই হোক না কেন, আমি তা মাফ করে দিব এবং আমি কারো পরোয়া করি না। হে আদম-সন্তান, তোমার গুণাহ যদি আকাশের মেঘমালা পর্যন্ত পৌছে যায়, অতঃপর তুমি আমার নিকট ক্ষমা চাও , তবে আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিব। এবং আমি কারো পরোয়া করি না। হে আদম-সন্তান, তুমি যদি আমার নিকট এই পরিমাণ গুণাহ নিয়ে হাযির হও যা দ্বারা সমস্ত পৃথিবী ভরে যায়, কিন্তু তুমি আমার নিকট এই অবস্থায় আস যে, কউকেই আমার সাথে শরীক করো নাই, তবে আমি তোমাকে এই পরিমাণ ক্ষমা দান করব যা দ্বারা সমস্ত পৃথিবী ভরে যায়। (তিরমিযী শরীফ- হাদীস নং ৩৫৪০)

হযরত আয়শা রা. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন – ﺇﻥ ﺍﻟﻌﺒﺪ ﺇﺫﺍ ﺍﻋﺘﺮﻑ ﺛﻢ ﺗﺎﺏ ﺗﺎﺏ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪবান্দা নিজ কৃত গুনাহের কথা স্বীকার করে যদি তওবা করে তাহলে আল্লাহও তার তওবা কবুল করেন। (বুখারী ও মুসলিম)

এতএব প্রশ্নে উল্লেখিত ব্যক্তিদ্বয়ের কৃত কর্মের জন্য অনতিবিলম্বে তওবা করা ও বেশি বেশি ইস্তেগফার পাঠ করা আবশ্যক। কোন আহলে দিল আল্লাহ ওয়ালা বুযুর্গ ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলবে তাহলে সব রকমের গুনাহ থেকে বাচা সহজ হবে ইনশাআল্লাহ। এছাড়া আরেফ বিল্লাহ হাকীম আখতার রহ. লিখিত ‘আতœার ব্যাধি ও তার প্রতিকার’ এবং গবেষক আলেমে দ্বীন মাওলানা আবুল ফাতাহ মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া লিখিত ‘ইসলাম ও যৌনবিধান’ গ্রন্থ দুটির অধ্যায়ন অনেক ফলোদয় হবে বলে আশা রাখি। উল্লেখ্য যে, উক্ত নারীর সাথে বৈধভাবে বসবাস করতে চাইলে শরয়ী পদ্ধতিতে তাকে বিবাহ করে ঘর সংসার করার ও সুযোগ রয়েছে।

একটি ভুল প্রচারের নিরসনঃ-গিরিশ চন্দ্র সেন বাংলা ভাষায় কোরআন শরীফের অনুবাদক নয়

সর্বপ্রথম ১৮০৮ সালে বাংলা ভাষায় কুরআন শরীফের আংশিক অনুবাদ করেন মাওলানা আমীরুদ্দীন বসুনিয়া

এরপর বাংলা ভাষায় কুরআন শরীফের পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ করেন মৌলভী নাঈমুদ্দীন ১৮৩৬ সালে।গিরিশ চন্দ্র সেন শুধু উক্ত অনুবাদকে পুস্তক আকারে সন্নিবেশ করেছেন, গিরিশ চন্দ্র হচ্ছেন প্রকাশক। তাও অনেক পরে, ১৮৮৬ সালে।সুতরাং কুরআন শরীফের প্রথম বাংলা অনুবাদক গিরিশ চন্দ্র নন, বরং মৌলভী নাঈমুদ্দীনই পূর্ণাঙ্গ কুরআন শরীফের প্রথম বাংলা অনুবাদক।আর মাওলানা আমীরুদ্দীন বসুনিয়া হলেন বাংলা ভাষায় প্রথম কুরআন মাজীদের আংশিক অনুবাদক।গিরিশ চন্দ্র সেনের জন্ম ১৮৩৫ সালে এবং মৃত্যু ১৯১০ সালে।

গিরিশ চন্দ্রের জন্মেরও আগে অর্থাৎ ১৮০৮ সালে কুরআন মাজীদের বাংলায় অনুবাদের কাজ শুরু করেন মাওলানা আমীর উদ্দীন বসুনিয়া

এরপর গিরিশ চন্দ্র সেনের জন্মের একবছর পরই অর্থাৎ ১৮৩৬ সনে মৌলভী নাঈমুদ্দীন পূর্ণাঙ্গ কুরআন মাজীদের বাংলা অনুবাদ সম্পন্ন করেন।আরবি জানেন না, আরবি ব্যাকরণ জানেন না-এমন ব্যাক্তি কুরআন অনুবাদ করেছে এমন প্রচার মুর্খতা।বাংলা ভাষাভাষীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচলিত আছে যে, ভাই গিরীশ চন্দ্র সেন আল কুরআনের প্রথম বাংলা অনুবাদক। এ প্রচারণার কিছু কারণ ছিল। বৃটিশ আমলে এদেশে ব্রাহ্মধর্মের একটা জোয়ার এসেছিল।গোঁড়া হিন্দু গিরীশ চন্দ্র সেন এক সময় হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করেন। ব্রাহ্মধর্ম এ দেশে ছিল একটি নতুন ধর্মমত।

তাই এ ধর্মমত আপামর জনসাধারণের মধ্যে প্রচারের জন্য গিরীশ চন্দ্র নিজে উদ্যোগী হলেন।কিন্তু অর্থকড়ির তো প্রয়োজন। সেটা আসবে কোথা থেকে! তিনি ফারসী ভাষায় পন্ডিত ছিলেন।মুসলমানদের পকেট থেকে টাকা বের করার জন্য বেশকিছু ইসলামী বই রচনা করলেন এবং সেই সাথে পবিত্র আল কুরআনের প্রকাশ করলেন প্রকাশক হয়ে। মুসলমানরা এ বই কিনলোও প্রচুর। ফলে বাংলা ভাষাভাষী যারাই কুরআন মাজীদের বঙ্গানুবাদ হাতে পেতে চাইলো তাদের হাতে পৌঁছে গেল তার প্রকাশিত কুরআন মাজীদ।এ ব্যাপারে তাঁকে ব্রাহ্মসমাজ হিন্দু ব্যক্তিবর্গ এমন কি বৃটিশরাও যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে। ফলে মানুষ মনে করেছে পবিত্র কুরআন মাজীদের প্রথম বঙ্গানুবাদকারী হচ্ছেন গিরীশ চন্দ্র সেন।আসলে পবিত্র কুরআনের প্রথম বঙ্গানুবাদকারী যে মৌলভী মোহাম্মদ নঈমউদ্দীন সে কথা অল্প কিছু লোক জানলেও ব্যাপকভাবে প্রচার করার সুযোগ আসেনি।গিরীশ চন্দ্র কুরআনের অনুবাদ বিক্রি করে যে অর্থ লাভ করতেন তা ব্যয় করতেন ব্রাহ্মধর্ম প্রচার কাজে।

ফলে ব্রাহ্মধর্ম প্রচারের মিশনের সাথে কুরআন বিক্রয়ের একটা গভীর সম্পর্ক ছিল।মৌলভী মোহাম্মদ নঈমউদ্দীন ছিলেন একজন মুসলমান। তিনি স্বত:প্রণোদিত হয়ে আল কুরআনের বঙ্গানুবাদ করেছিলেন। তা প্রচারের জন্য গিরীশ চন্দ্র সেনের মতো কোনো মিশন ছিল না। যার কারণে তার প্রচার প্রসার ছিল সীমিত।এমনি করেই আল কুরআনের প্রথম বঙ্গানুবাদকারী হয়েও মৌলভী মোহাম্মদ নঈমউদ্দীন গিরীশ চন্দ্র সেনের মতো প্রচার পেতে পারেন নি॥