শুক্রবার সূরা কাহাফ তিলাওয়াতের ফযিলত ও আল্লামা বাবুনগরী হাফিযাহুল্লাহুর আমাল

শুক্রবারে সূরা কাহাফ তিলাওয়াতের অনেক ফযিলত রয়েছে। সূরা কাহাফ পবিত্র কোরআনের অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি সূরা, যা মক্কায় অবতীর্ণ হয়। এর মোট আয়াত সংখ্যা ১১০। নিয়মিত সূরাটি তিলাওয়াতে অসংখ্য সওয়াবের কথা বিভিন্ন হাদিসে বর্ণিত হলেও বিশেষত জুমার দিনে এ সূরা তিলাওয়াতের অনেক সওয়াব ও ফজিলত রয়েছে।

হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহাফ তিলাওয়াত করবে তার জন্য এক জুমা থেকে অপর জুমা পর্যন্ত নূর হবে।

আমীরে হেফাজত আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হাফিযাহুল্লাহু একজন বয়োবৃদ্ধ শায়খুল হাদীস। শারীরিক অসুস্থতা ও দ্বীনি প্রোগ্রাম সহ নানা ব্যস্ততার মাঝেও প্রতি শুক্রবারে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সূরা কাহাফ তিলাওয়াতের আমাল করেন ।

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী দা.বা. হাফেজে কুরআন। শুধু হাফেজ নন বরং তুখোড় হাফেজ। এই বয়োবৃদ্ধ বয়সেও হযরতের কুরআন শরীফের ইয়াদ (মুখস্থ) আশ্চর্যজনক। এরপরও মাদরাসায় থাকা অবস্থায় কুরআন শরীফ হাতে নিয়ে সূরা কাহাফ তিলাওয়াত করেন তিনি।

কিছুদিন আগে শায়খের সাথে এক মাহফিলের সফরে ছিলাম। আমাদের রাত্রিযাপন হয়েছিল হোটেল উজান ভাটিতে। সকালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের উদ্দেশ্যে শায়েখের সাথে রওয়ানা হলাম। গাড়ি ছাড়ার কিছুক্ষণ পর শায়েখ তিলাওয়াত শুরু করলেন। গাড়িতে আমরা যারা শায়খের রফিকে সফর ছিলাম,মনোযোগ সহকারে শায়খের তিলাওয়াত শুনছিলাম। আহ! কি মায়াভরা সুন্দর কন্ঠের তিলাওয়াত!!

শায়েখ আল্লামা বাবুনগরী হাফিযাহুল্লাহুর কুওয়্যাতে হাফেজা বা মুখস্থশক্তি অনেক বেশি। এখন পর্যন্ত কুরআন শরীফ যেই ইয়াদ সদ্য হিফজ সমাপ্ত করা অনেক হাফেজেরও এতো ইয়াদ আর মুখস্থ থাকে না। শায়েখ বিনয় প্রদর্শন করে আমাকে বললেন,জুনাইদ! তুমি খেয়াল করিও তো তিলাওয়াতের মধ্যে আমার কোন আয়াত ছুটে যায় কিনা। শায়েখ বলার পর আমি আরো মনযোগ সহকারে তিলাওয়াত শুনতে লাগলাম। শায়খের তিলাওয়াত যতই শুনতে ছিলাম ততই যেন তৃপ্তিবোধ করছিলাম। কোন কৃত্তিমতা, কোন লৌকিকতা নেই শায়েখের তিলাওয়াতে। অর্থের দিক খেয়াল করে,দরদমাখা ভাঙ্গা কন্ঠে শায়েখের তিলাওয়াত আমার কাছে এতো সুমধুর ও মজা লাগছিল যা ভাষা আমার শৈলীতে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

আল্লামা বাবুনগরী হাফিযাহুল্লাহু এই বয়োবৃদ্ধ বয়সেও জুমাবারে সূরা কাহাফ তিলাওয়াতের আমাল করেন তিনি৷ অথচ আমরা অনেকে নবীনরাও এই ফযিলতপূর্ণ আমাল সম্পর্কে উদাসীন থাকি।

সূরা কাহাফের ফযিলত সম্পর্কে হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, এ পুর্ণাঙ্গ সূরাটি এক সঙ্গে নাজিল হয়েছে এবং এর সঙ্গে ৭০ হাজার ফিরিস্তা দুনিয়াতে আগমন করেছেন।

আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যেমনভাবে নাজিল করা হয়েছে, সেভাবে যে ব্যক্তি সূরা কাহাফ পড়বে, তার জন্য সেটা নিজের স্থান থেকে মক্কা পর্যন্ত আলো হবে এবং যে শেষ দশ আয়াত পড়বে, সে দাজ্জালের গণ্ডির বাইরে থাকবে এবং দাজ্জাল তার ওপর কোনোরূপ প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। (সুনানে নাসাঈ, হাদিস নং : ১০৭২২)

আল্লাহ তায়া’লা আমাদেরকে শুক্রবারে সূরা কাহাফ তিলাওয়াতের আমাল করার তাওফিক দান করুন,আমিন।

লেখা:
H.M.Zunaid
শিক্ষার্থী : দারুল উলুম হাটহাজারী।
সভাপতি : জাতীয় লেখক পরিষদ
(হাটহাজারী শাখা)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shopping Cart
Scroll to Top