ভণ্ডপীর দেওয়ানবাগী সম্পর্কে লোমহর্ষক ১৯টি তথ্য !

ভন্ডপীর দেওয়ানবাগীর স্বরুপ উন্মোচনের স্বার্থে তার বলা কিছু কথা, তার অপকর্ম এবং তার সম্পর্কে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফতোয়া নিচে তুলে ধরা হলো :
১. “‘দেওয়ানবাগী স্বপ্নে দেখেন ঢাকা এবং ফরিদপুরের মধ্যবর্তী স্থানে এক বিশাল বাগানে ময়লার স্তূপের উপর বিবস্ত্র অবস্থায় নবীজীর প্রাণহীন দেহ পড়ে আছে (নাওযুবিল্লাহ)। মাথা দণি দিকে, পা উত্তর দিকে প্রসারিত। বাম পা হাঁটুতে ভাঁজ হয়ে খাড়া আছে। আমি উদ্ধারের জন্য পেরেশান হয়ে গেলাম। তাঁর বাম পায়ের হাঁটুতে আমার ডান হাত দিয়ে স্পর্শ করার সাথে সাথে দেহে প্রাণ ফিরে এল। এবং তিনি আমাকে বললেন, ”হে ধর্মের পুনর্জীবনদানকারী, ইতিপূর্বে আমার ধর্ম পাঁচবার পুনর্জীবন লাভ করেছে।”
( সূত্র: রাসূল কি সত্যিই গরিব ছিলেন-দেওয়ানবাগ থেকে প্রকাশিত )
২. “একদিন ফজরের পর মোরাকাবারত অবস্থায় আমার তন্দ্রা এসে যায়। আমি তখন নিজেকে লুঙ্গি-গেঞ্জি পরিহিত অবস্থায় রওজা শরীফের নিকট দেখতে পাই। দেখি রওজা শরীফের উপর শুকনা পাতা এবং আগাছা জমে প্রায় এক ফুট পুরুহয়ে আছে। আমি আরো ল্য করলাম, রওজা শরীফে শায়িত মহামানবের মাথা মোবারক পূর্ব দিকে এবং মুখমণ্ডল দণি দিকে ফিরানো। এ অবস্থা দেখে আমি আফসোস করতে লাগলাম। এমন সময় পাতার নীচ থেকে উঠে এসে এ মহামানব বসলেন। তার বুক পর্যন্ত পাতার উপর বের হয়ে পড়ে। তিনি আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, আপনি দয়া করে আমার রওজা পরিষ্কার করে দেবেন না ? আমি বললাম, জী, দেব। তিনি বললেন, তাহলে দিন না। এভাবে বারবার তিনবার বলায় আমি এক একটা করেপাতা পরিষ্কার করে দেই। এরপর আমার তন্দ্রা ভেঙে যায়।”
( সূত্র: রাসূল কি সত্যিই গরিব ছিলেন-দেওয়ানবাগ থেকে প্রকাশিত )
৩. “দেওয়ানবাগী এবং তার মুরীদদের মাহফিলে স্বয়ং আল্লাহ্, সমস্ত নবী, রাসূল (সা), ফেরেস্তা, দেওয়ানবাগী ও তার মুর্শিদচন্দ্রপাড়ার মৃত আবুল ফজলসহ সমস্ত ওলি আওলিয়া, এক বিশাল ময়দানে সমবেত হয়ে সর্বসম্মতিক্রমে দেওয়ানবাগীকে মোহাম্মাদী ইসলামের প্রচারক নির্বাচিত করা হয়।
অত:পর আল্লাহ সবাইকে নিয়ে একমিছিল বের করে। মোহাম্মাদী ইসলামের চারটি পতাকা চারজনের_ যথাক্রমে আল্লাহ, রাসূল (সা), দেওয়ানবাগী এবং তার পীরের হাতে ছিল। আল্লাহ, দেওয়ানবাগী ও তার পীর প্রথম সারিতে ছিলেন। বাকিরা সবাই পিছনের সারিতে। আল্লাহ নিজেই স্লোগান দিয়েছিলেন_ ”মোহাম্মাদী ইসলামের আলো_ ঘরে ঘরে জ্বালো।”
(সূত্র: সাপ্তাহিক দেওয়ানবাগী পত্রিকা- ১২/০৩/৯৯ )
৪. দেওয়ানবাগীর এক পা-চাটা চাকর বলে (নাম মাওলানা আহমাদুল্লাহ যুক্তিবাদী,)
“আমি স্বপ্নে দেখলাম হযরত ইব্রাহীম (আ) নির্মিত মক্কারকাবা ঘর এবং স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা) বাবে রহমতে হাজির হয়েছেন। আমাকে উদ্দেশ্য করে নবী করীম (সা) বলছেন_”তুমি যে ধারণা করছ যে, শাহ্ দেওয়ানবাগী হজ্জ করেননি আসলে এটা ভুল। আমি স্বয়ং আল্লাহর নবী মোহাম্মাদ (সা) তার সাথে আছিএবং সর্বণ থাকি। আর কাবা ঘর ও তার সামনে উপস্থিত আছে। আমার মোহাম্মাদী ইসলাম শাহ্দেওয়ানবাগী প্রচার করতেছেন।
আমি যুক্তি খণ্ডনে যাবো না ।শুধু আপনাদের উপর বিষয়গুলো ছেড়ে দিলাম । কতো বড় ভণ্ড হলে এরকম বলতে পারে । একটা কথাও কোরআন হাদীস কিংবা ইজমা কিয়াসের ভিত্তিতে নয় । সব মনগড়া ।
৫) ভণ্ড পীরের কিছু লোমহর্ষক তথ্য :
“তথাকথিত ছুফী সম্রাট দেওয়ানবাগী পীর জাল দলিলের মাধ্যমে জোর পূর্বক কয়েক কোটি টাকার জমি দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জমির প্রকৃত মালিক আব্দুল গফুর। গত কয়েকমাস আগে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এই অভিযোগ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তার ছেলে মহিদুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের পিছনে ১৪২/১ দক্ষিণ কমলাপুরে ৮০ শতাংশ ভূমি ক্রয় করে। জমিটি ক্রয়ের পর থেকেই তথাকথিত পীর দেওয়ানবাগী তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে দখলের পাঁয়তারা করে আসছিল। ভন্ডপীর দেওয়ানবাগীর সন্ত্রাসী বাহিনী গত ২০০২ সালে রাতের অন্ধকারে বাড়ির ভাড়াটিয়াদের জোর পূর্বক বেরকরে জমিটি দখল করে নেয়। ভূমি অফিসের কিছু অসাধু অফিসারে সাথে অবৈধ লেনদেন করে তিনি কাগজপত্র তৈরি করেন। জমি দখলের বিরুদ্ধে জজ কোর্টে মামলা করলে কোর্ট গত ২০০৩ সালে স্থগিতাদেশ প্রদান করে। উল্লেখ্য যে দেয়ানবাগীও তার সন্ত্রাসীচক্র উক্ত বাড়িতে বর্তমানে উটের খামার করে। এখন নিয়মিত শতাধিক সন্ত্রাসী সেখানে অবস্থান করে। তার সন্ত্রাসী বাহিনী মামলা উঠিয়ে নেয়ার জন্য নিয়মিত মোবাইলে হুমকি দিয়ে আসছে। এ ব্যাপারে মতিঝিল থানায় একাধিক জিডি করা হয়েছে।
তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, উক্ত জমির উপর আদালতের স্থগিতাদেশ থাকার পরেও গত ১৪ সেপ্টেম্বর তার স্ত্রীকে সমাধি করা হয়। তার পালিত সন্ত্রাসীদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। তিনি মতিঝিল ও আরামবাগ এলাকায় একাধিক বাড়ি দখল করে নিয়েছেন। তাই জমি ফেরত পেতে জমির প্রকৃত মালিক আব্দুল গফুর প্রশাসনের সহায়তা কামনা করেন।” ( দৈনিক সংগ্রাম )
৭ , “আমার অসংখ্য মুরিদান স্বপ্ন ও কাশফের মাধ্যমে আল্লাহর দীদার লাভ করেছে। আমার স্ত্রী হামিদা বেগম ও আমার কন্যা তাহমিনা এ খোদা স্বপ্নের মাধ্যমে আল্লাহকে দাড়ী গোফ বিহীন যুবকের ন্যায় দেখতে পায়।” (নাউযুবিল্লাহ) –সুত্রঃআল্লাহ কোন পথেঃ২৩
৮ , সাংবাদিক সম্মেলনে সে বলে “শুধু আমি নই, আমার স্ত্রী কন্যা সহ লক্ষ্য লক্ষ্য মুরিদানও আল্লাহকে দেখেছেন” –সুত্রঃ সাপ্তাহিক দেওয়ানবাগ।
৯ , “দেওয়ানবাগে আল্লাহ ও সমস্ত নবী রাসূল, ফেরেস্তারা মিছিল করে এবং আল্লাহ নিজে শ্লোগান দেন।” –সুত্রঃ সাপ্তাহিক দেওয়ানবাগ, মার্চ ১৯৯৯ ইং।
১০ , “আমি এক ভিন্নধর্মের লোককে ওজীফা ও আমল বাতলে দিলাম। ক’দিন পর ঐ বিধর্মী স্বপ্নযোগে মদিনায় গেল। নবিজীর হাতে হাত মিলালো। নিজের সর্বাঙ্গে জিকির অনুভব করতে লাগলো। তারপর থেকে ওই বিধর্মী প্রত্যেক কাজেই অন্তরে আল্লাহর নির্দেশ পেয়ে থাকে।” (নাউযুবিল্লাহ) –সুত্রঃ মানতের নির্দেশিকাঃ২৩, সূফী ফাউন্ডেশন, ১৪৭ আরামবাগ, ঢাকা।
১১, “কোন লোক যখন নফসীর মাকামে গিয়ে পৌঁছে, তখন তাঁর আর কোন ইবাদাত লাগেনা।” –আল্লাহ কোন পথে,পৃঃ ৯০
১২ ,“জিব্রাইল বলতে আর কেও নন, স্বয়ং আল্লাহ-ই জিব্রাইল।”–সুত্রঃ মাসিক আত্মার বাণী, ৫ম বর্ষ, ১ম সঙ্খ্যাঃ২১
১৩ , “সূর্যোদয় পর্যন্ত সাহরী খাওয়ার সময়। সুভে সাদেক অর্থ প্রভাতকাল। হুজুরেরা ঘুমানোর জন্য তারাতারি আযান দিয়ে দেয়। আপনি কিন্তু খাওয়া বন্ধ করবেন না। আযান দিয়েছে নামাজের জন্য। খাবার বন্ধের জন্য আযান দেয়া হয়না।” (নাউযুবিল্লাহ) –সুত্রঃ মাসিকআত্মার বাণী, সংখ্যাঃ নভেম্বরঃ ৯৯, পৃঃ ৯

“ ১৪ , মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত হায়াতে জিন্দেগী কে পুলসিরাত বলা হয়।” –সুত্রঃ আল্লাহ কোন পথে, তৃতীয় সংস্করনঃ ৬০
১৫ ,“ আল্লাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ফলে আত্মা এক বিচ্ছেদ যাতনা ভোগ করতে থাকে। প্রভূর পরিচয় নিজের মাঝে না পাওয়া অবস্থায় মৃত্যু হলে সে বেঈমান হয়ে কবরে যাবে। তখন তাঁর আত্মা এমন এক অবস্থায় আটকে পড়ে যে, পুনরায় আল্লাহর সাথে মিলনের পথ খুঁজে পায়না। আর তা আত্তার জন্য কঠিন যন্ত্রনাদায়ক। আত্মার এরূপ চিরস্থায়ী যন্ত্রনাদায়ক অবস্থাকেই জাহান্নাম বা দোযোখ বলা হয়।”(নাউযুবিল্লাহ) –আল্লাহ কোন পথেঃ ৪৪
১৬ ,দেওয়ানবাগী নিজেকে ইমাম মাহদী দাবী করেন। অতঃপর দরুদে মাহদী রচনা করে্ন ।
দরুদে মাহদীঃ (নাউযুবিল্লাহ) “আল্লাহুম্মা ছাল্লী আ’লা সাইয়্যিদিনা মুহাম্মাদিউ ওয়ালা আ’লা ইমাম মাহদী রাহমাতাল্লিল আলামীন ওয়ালিহী ওয়াছাল্লীম। ”
১৭ , ময়লার স্তূপে অর্ধমৃত ও বিবস্ত্র অবস্থায় রাসুল (সাঃ) কে দেখেছি। (নাউযুবিল্লাহ) মীন যালীক
১৮ , দেওয়ানবাগী ১৯৮৯ সালে নাকি একটি ব্যতিক্রমধর্মী স্বপ্ন দেখে ফেলেন। এ স্বপ্ন সম্পর্কে তিনি বলেন,
“ আমি দেখি ঢাকা ও ফরিদপুরের মধ্যবর্তী স্থানজুড়ে এক বিশাল বাগান ফুলে-ফলে সুশোভিত। ওই বাগানে আমি একা একা হেটে বেড়াচ্ছি। হঠাত বাগানের এক স্থানে একটি ময়লার স্তূপ আমার চোখে পড়ে। আমি দেখতে পাই ওই ময়লার স্তূপে রাসুল (সাঃ) এর প্রানহীন দেহ মোবারক পড়ে আছে। তাঁর মাথা মোবারক দক্ষিন দিকে আর পা মোবারক উত্তর দিকে প্রসারিত। বাম পা মোবারক হাটুতে ভাজ হয়ে খারা অবস্থায় রয়েছে। আমি তাকে উদ্ধার করার জন্য পেরেশান হয়ে গেলাম। আমি এগিয়ে গিয়ে তাঁর বাম পায়ের হাটুতে আমার ডান হাত দ্বারা স্পর্শ করলাম। সাথে সাথেই তাঁর দেহ মোবারকে প্রাণ ফিরে এল। তিনি চোখ মেলে আমার দিকে তাকালেন। মূহুর্তের মধ্যেই রাসূল (সাঃ) সুন্দর পোশাকে সুসজ্জিত হয়ে গেলেন। তিনি উঠে বসে হাসি মুখে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, হে ধর্ম পূনর্জীবন দানকারী! ইতমধ্যেই আমার ধর্ম আরও পাঁচবার পূনর্জীবন লাভ করেছে। একথা বলে রাসূল (সাঃ) উঠে দাঁড়িয়ে হেটে হেটে আমার সাথে চলে এলেন। এরপর আমার ঘুম ভেঙে গেল। ” (নাউযুবিল্লাহ)–সুত্রঃ দেওয়ানবাগীর স্বরচিত গ্রন্থ
১৯ , “রাসূল স. সত্যিই কি গরীব ছিলেন?” ১১-১২ প্রকাশকালঃ জুন ১৯৯৯।
ভন্ড দেওয়ানবাগী সম্পর্কে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফতোয়াঃ
ক. দেওয়ানবাগের পীর নিতান্তই গোমরাহ ও পথভ্রষ্ট।
খ. ধর্মীয় দীক্ষা গ্রহন করাতো দূরের কথা, এর সাহায্য সহযোগিতা করা, সান্নিধ্যে উঠা-বসা বরং তাঁর সাথে কোন রকম সংশ্রব রাখা হারাম।
গ. আর তাঁর অপপ্রচার প্রতিহত করা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য।
(১৭৬৭ ইসঃফাঃ সং ও দাওয়াহ/৩/৮৭/ ৫১২২ তাং ৫/৯/৯১ ইং। )
এত কুকর্মের পরেও বিনা বাধায় তাঁর কাজ সে করে চলেছে। সরকারের পক্ষ থেকে কোন রকম বাধার সম্মুখীন না হওয়ায় দিন দিন তাঁর অপশক্তি ক্রমবর্ধমান ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। একটু খোঁজ নিলে এ রকম আরও হাজার হাজার গাজাখুরী মতবাদ শুনতে পারবেন, যা সেয় প্রতিদিন বিনা দ্বিধায় বলে চলেছেন।

সকল মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব এ সকল ফেৎনা সম্পর্কে তাওহীদ বাদী ঈমানদার মুসলমানকে সজাগ ও সতর্ক করা। তাই ফেইসবুক টুইটারে শেয়ার করে এই ভন্ড সম্পর্কে আপনার আশপাশের মানুষদের সতর্ক হতে সহায়তা করুন।

দেওয়ানবাগী কাদিয়ানী অন্তঃমিল নয় ফডোকপি অবস্থা!

ভন্ড দেওয়ানবাগী নিজেকে রাসূল এমনকি খোদাও দাবী করে (নাউযুবিল্লাহ)

এটা নিয়ে অনেক লেখার দরকার নেই। প্রমাণিত সত্য যে এই ভন্ড এমন আরো অনেক জঘন্য কথাবার্তা বলে বলদ মার্কা মুরীদ পাইয়া গেছে।

আর এক ভন্ড মির্জা গোলাম আহমেদ কাদিয়ানী। এইডাও নিজেকে নবী, মাসীহ, ইমাম মাহদী দাবী করে। (নাউযুবিল্লাহ)

অথচ এই ভন্ডর মুরীদরা নিজেদের হক পথের দাবী করে। 
এমন জ্বলন্ত ভন্ডগুলো কিভাবে হক্বপথের দাবী করে,  আর মাথা ছাড়া মুরীদগুলো কিভাবে এমন পশুমার্কা ভন্ডগুলোর কথাও বিশ্বাস করে তাও হক্বের পথ হিসেবে।

মানুষকে আল্লাহ বার বার আকল দিয়ে চিন্তা ভাবনা করার তাগিদ দিয়েছেন। আমরা মানুষ  নেয়ামত আকলকে এই সকল ভন্ডদের কাছে বর্গা দিয়ে দিয়েছি।

ভাংগারী দোকান থেকে সদাই করলে ভাংগারী মার্কা সদাই্-ই পাওয়া যায়। আল্লাহ আমাদেরকে সকল প্রকারের ভন্ড থেকে রক্ষা করুন … আমিন।

”তোমাদের জন্যে পৃথিবীতে যেসব রং-বেরঙের বস্তু ছড়িয়ে দিয়েছেন, সেগুলোতে নিদর্শন রয়েছে তাদের জন্যে যারা চিন্তা-ভাবনা করে।” (সূরা নাহল, আয়াত ১৩)

ভন্ড পীরদের কবলে পড়ে ঈমান হারাচ্ছে বহু মুসলিম নারী পুরুষ!

আমাদের সমাজ আজ বিদায়াতে ভরপুর । সঠিক ইসলাম জানার মাধ্যমে আমাদের এই অবস্থা থেকে মুক্ত হতে হবে , যা এখন বাংলাদেশের মুসলিমদের জন্য অতীব প্রয়োজন । বাংলাদেশে এখন অনেক ভণ্ড এবং বিদা’তি পীর রয়েছে যারা আমাদের সঠিক ইসলাম থেকে শধুমাত্র দুরে সরিয়ে রাখছে না বরং আমাদের দেশের সহজ-সরল মানুসগুলোকে মাজারে-পীরের আসরে অনৈতিক কাজে প্রলুব্ধ করে বিদা’তি কর্মে লিপ্ত করছে।এখন তা সমাজে ভাইরাস আকার ধারন করেছে। কুরআন হাদিসের কোথাও রাসুল (সাঃ)ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তির নির্দেশ সর্বাবস্থায় বিনাপ্রশ্নে মেনে নেয়ার অনুমতি দেয়া হয়নি ।
আলেমগন-মুহাদ্দিস-ইমামগনকে মূল্যায়ন করতে হবে শুধুমাত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে । নিজের মন, আবেগ বা অন্য কারো মতামত দিয়ে নয়। আল্লাহ কুরআনে বলেন : “ না, তোমার মালিকের শপথ, এরা কিছুতেই ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের যাবতীয় মতবিরোধের ফয়সালায় তোমাকে (শর্তহীনভাবে) বিচারক মেনে নেবে, অতপর তুমি যা ফয়সালা করবে সে ব্যাপারে তাদের মনে আর কোন দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকবে না, বরং তোমার সিদ্ধান্ত তারা সর্বান্তকরণে মেনে নেবে।( সূরা নিসা:৬৫)
আল্লাহ পাক আরেক জায়গাতে বলেন,
”যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করবে,আল্লাহ তায়ালা তাকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন,যার নিম্নদেশে ঝর্ণা ধারাসমূহ প্রবাহমান থাকবে। আর যে মুখ ফিরিয়ে নেবে আল্লাহ তাকে মর্মান্তিক আযাব দেবেন। (সুরা ফাতহ:১৭)
এমন যদি হয় কেউ দীনের একটা মাসাআলা বুঝছে না তখন কোন আলেম থেকে তা জেনে নেওয়ার পর কুরান এবং হাদীস থেকে তার রেফেরেন্স মিলিয়ে নিতে হবে। কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ”তোমরা যদি না জেনে থাক তাহলে জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞাসা কর।”(সুরা নাহল:৪৩)
আলেমদের কাছ থেকে জানার পর রেফেরেন্স মিলিয়ে যখন দেখা যাবে তা সহীহ তখন তা আমল করবেন । আর যখন দেখা যাবে তা সহীহ নয় তখন তা আমল করা যাবে না। এভাবেই একজন ব্যক্তি বুঝতে পারবে কে সত্তিকার অর্থে “আলেম” এবং কে “ভণ্ড” ।অথচ আমরা তা না করে ভণ্ড পীর-মাজার পুজারীদের কথা শুনে নিজেকে বিদা’তি কর্মে লিপ্ত করি।
আমরা আমাদের বিবেগকে একটু খাটিয়ে ভাবলেই দেখি যে, রাসুল(সঃ) কে আল্লাহ দুনিয়ায় সর্বোচ্চ ক্ষমতা দিয়েছিলেন । অথচ সেই রাসুল(সঃ) এর জীবন ও কর্ম এর সাথে এই সমস্ত ভণ্ড পীরগুলোর চরিত্রের কোন মিল নেই। কখনও ভেবে দেখেছেন কি রাসুল(সঃ) পরিচালিত জীবন এবং এই সকল ভণ্ডপীরদের পরিচালিত জীবনের মধ্যে এত তফাৎ কেন?এদের বিলাসিতা জীবন পরিচালন কি আপানার মনে কোন প্রশ্নের জন্ম দেয় না ?
এরা কতোটুকু সহিহভাবে কুরআন-সুন্নাহ অনুসরণ করছে ? আপনি কখনও কুরআন-হাদীস দিয়ে তা মিলিয়ে দেখেছেন কি ? এইসকল পীর কি আপনাকে জান্নাত দিতে পারে,নাকি আল্লাহর দয়া ও রাসুল(সঃ)এর সহিহ সুন্নাত এবং পরিপূর্ণ জীবন বিধান ‘আল-কুরাআন” আপনাকে জান্নাত দিবে ? অবশ্যই পরিপূর্ণ জীবন বিধান ‘আল-কুরাআন” ই আপনাকে জান্নাত দিবে।
মাজারে সিজদা দেওয়া , গানের আসর জমিয়ে গাঁজাখানার আড্ডা এগুলো রাসুল(সঃ) এর সুন্নাহ’র মধ্যে পড়ে না।এগুলো করা শিরিক গুনাহ। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন,”সাবধান ! তোমাদের পূর্বের যুগের লোকেরা তাদের নবী ও নেককার লোকদের কবর সমূহ মসজিদ (সিজদার স্থান) হিসেবে গন্য করতো। তবে তোমরা কিন্তু কবর সমূহকে সিজদার স্থান বানাবে না। আমি এরূপ করতে তোমাদের নিষেধ করে যাচ্ছি” । [মুসলিম, ১০৭৭]
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেন,”তোমরা স্বীয় ঘরকে কবর বানিয়োনা। (অর্থাৎ কবরের ন্যায় ইবাদত-নামায, তেলাওয়াত ও যিকির ইত্যাদি বিহীন করনা।) এবং আমার কবরে উৎসব করোনা।(অর্থাৎ বার্ষিক, মাসিক বা সাপ্তাহিক কোন আসরের আয়োজন করনা। তবে হ্যাঁ আমার উপর দুরূদ পাঠ কর। নিশ্চয় তোমরা যেখানেই থাক না কেন তোমাদের দুরূদ আমার নিকট পৌঁছে থাকে।(আল্লাহ তায়ালার ফেরেশতারা পৌঁছিয়ে দেন।)”
(সুনানে আবু দাউদ: হাদিস নং-২০৪৪/৪০)
কবরের সামনে বাতি প্রজ্জ্বলন করাকে হারাম সাব্যস্ত করে রাসূলে কারীম সাঃ ইরশাদ করেন-“হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর নবী সাঃ অভিশপ্ত করেছেন (বেপর্দা) কবর যিয়ারতকারীনী মহিলাদের উপর, এবং সেসব লোকদের উপর যারা কবরকে মসজিদ বানায় (কবরকে সেজদা করে) এবং সেখানে বাতি প্রজ্জ্বলিত করে।(জামি তিরমীযী-২/১৩৬)
আল্লাহ ছাড়া কারো নামে মান্নত বা কুরবানী করা যায়না। কারণ মান্নত ও কুরবানী হচ্ছে এক মাত্র অাল্লাহর জন্য ৷

আটরশি পীর পরিচিতি ও আকীদা-বিশ্বাস

 আটরশির মূল পীর হলেন শাহসূফী হযরত হাশমত উল্লাহ। জামালপুর জিলার • অন্তর্গত শেরপুর থানাস্থ পুকুরিয়া নামক গ্রামে তার জন্ম। তার পিতার নাম শাহ আলীম উদ্দিন। তার আরবী, ফার্সীর প্রাথমিক শিক্ষা মাওলানা শরাফত আলী , নােয়াখালীর কাছেই অর্জন হয়। তার নিয়মতান্ত্রিক লেখাপড়ার ইতিহাস এতটুকুই পাওয়া যায়। তার পীর হলেন, শাহসূফী ইউনূস আলী এনায়েতপুরী। আটরশির পীর দীর্ঘ ত্রিশ বৎসর যাবৎ এনায়েতপুরীর সংস্রবে থাকেন এবং তার নিকট হতে খিলাফত লাভ করেন। তারপর এনায়েতপুরীর নির্দেশে বর্তমান ফরিদপুর শহরের নিকটস্থ আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিল স্থাপন করেন। আটরশির বর্তমান গদিনশিন পীরজাদার নাম মােস্তফা আমীর ফয়সাল মুজাদ্দেদী। তিনি নিয়মতান্ত্রিক লেখাপড়া করা কোন আলেম নন। বরং একজন কলেজ শিক্ষিত ব্যক্তি।

 আটরশির আকীদা-বিশ্বাস নং-১

 আল্লাহকে পেতে মুসলমান হওয়ার কোন প্রয়ােজন নেই। আটরশির গ্রন্থ “তাসাউফ ও ততুপর্যালােচনা’র” ১৪৭ নং পৃষ্ঠায় লিখেছে। “হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ প্রত্যেকেই নিজ নিজ ধর্ম থেকেই আল্লাহ্কে পেতে পারে। পীরের কাছে মুরীদ হলেই চলবে।” ‘আটরশির কাফেলা’ নামক গ্রন্থের ৮৯নং পৃষ্ঠায় আরও লিখেছে “হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খৃষ্টানগণ নিজ নিজ ধর্মের আলােকেই সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করতে পারে। এজন্য আটরশির পীর ওরশের সময় প্রায় ৪০ হাজার অমুসলিম জাকেরানের জন্য আলাদা একটি প্যান্ডেল তৈরি করে।(প্রমাণঃ আটরশির কাফেলা, পৃষ্ঠা- ৬২)।

 

তার বিপক্ষে দলিলঃ। আটরশির এই আকিদা সম্পূর্ণ কুরআন-সুন্নাহ পরিপন্থী ও কুফুরী আকিদা। কারণ, আল্লাহ রাব্বল আলামীন ইসলাম ধর্মকেই সর্বোত্তম গ্রহণযােগ্য দ্বীন হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং নিজের সকল বান্দাদের জন্য তা পছন্দ ও মনােনয়ন করেছেন। বিশ্বমানবের একমাত্র এটাই শান্তি ও মুক্তির ধর্ম। এটাই সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ট ধর্ম। কিয়ামত পর্যন্ত আর কোন নতুন দ্বীন প্রবর্তনের অবকাশ নেই। অতএব, কিয়ামত পর্যন্ত সকলের কাছে এই সুমহান দ্বীনই অনুসৃত ও প্রতিপালিত হবে। এ মর্মে কুরআন শরীফে ইরশাদ হচ্ছেঃ

ورضيت لكم الإسلام دينا

অর্থঃ আমি ইসলামকেই তােমাদের ধর্ম হিসেবে মনােনিত করলাম (সূরা মায়িদা, আয়াত: ৩) কুরআনে পাকের অন্যত্র বলা হচ্ছেঃ

ان الدین عبد الله الإسلام

অর্থঃ নিশ্চই আল্লাহর নিকট গ্রহণযােগ্য একমাত্র ধর্ম হচ্ছে ইসলাম। (সূরা আলে-ইমরান আয়াতঃ ১৯)। সুতরাং আল্লাহ তাআলার নিকট একমাত্র ইসলামই সত্য সঠিক ধর্ম হিসেবে মনােনীত। তাই তিনি বিশ্ববাসীকে সম্বােধন করে কুরআনে পাকে ইরশাদ করেছেন

وأنتم مسلمون ولا تموت

তােমরা মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করাে না। (সূরা আলে-ইমরান, আয়াত: ১০২)

আল্লাহ তাআলা আরাে বলেন

,

ومن يبتغ غير الإسلام دينا فلن يقبل منه وهو في الأخرة من الخيرون.

“যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতিত অন্য কোন ধর্ম সন্ধান করবে আল্লাহ্ তাআলার নিকট তাহার সেই ধর্ম কখনই গ্রাহ্য হবে না। আর সেই ব্যক্তি পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভূক্ত হবে।” (সূরা আলে-ইমরান, আয়াত: ৮৫) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন।

وتی کتبع ولو كان حيا و درک

অর্থঃ যদি তিনি (হযরত মুসা আঃ) জীবিত থাকতেন এবং আমার নবুওয়াতের সময় কাল পেতেন, তবে নিশ্চয় তিনি আমার অনুসরণ করতেন। (মিশকাত: ২৩) উপরােক্ত আলােচনায় বুঝা যায় যে, ইসলামই হচ্ছে সকল দ্বীন-ধর্মের মাঝে একমাত্র গ্রহণযােগ্য ও মুক্তির ধর্ম। ইসলামই হচ্ছে পূর্বেকার সকল ধর্ম ও মতবাদকে রহিতকারী। সুতরাং যদি কেউ বিশ্বাস করে যে, ইসলাম ব্যতিত অন্যান্য ধর্মের লােকেরাও নিজ নিজ ধর্মের আলােকে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারে এবং মুক্তি পেতে পারে। তাহলে সে এ সকল আয়াত অস্বীকারকারী গণ্য হয়ে কাফের হয়ে যাবে।

আটরশির আকীদা-বিশ্বাস নং- ২

 আমাদের নবী (সাঃ) অপরিপূর্ণ নবী ছিলেন। আটরশি পীরের নসীহত বই “খােদা প্রাপ্তি জ্ঞানের পথে”র ৩নং খন্ডের ৪১ নং পৃষ্ঠায় লিখেছে, আমাদের নবী (সাঃ) প্রথমে পরিপূর্ণ নবী ছিলেন না। পরবর্তিতে এক হাজার বছর পরে আল্লামা আহমদ ছিরহিন্দীর (রহ.) মাধ্যমে রুহানী, ফয়েজ বরকতে পূর্ণতা লাভ হয়েছে।

 

তার বিপক্ষে দলিলঃ  আটরশির এই মতবাদ সম্পূর্ণ কুরআন-হাদীস বিরােধী। কেননা, সহীহ্ আকীদা * হল, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) হলেন সর্বশ্রেষ্ট ও সর্বশেষ পরিপূর্ণ নবী। স্বয়ং আল্লাহপাক তাকে ‘খাতামুন নাবিয়্যীন’ সর্বশেষ পরিপূর্ণ নবী বলে আখ্যায়িত করেছেন। আল্লাহপাক বলেন,

ماکان محمد ابا احد من رجالكم ولكن رسول اللو وخاتم البين

অর্থঃ মুহাম্মদ (সাঃ) তােমাদের কোন পুরুষ লােকের পিতা নন বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী। (সূরা আহযাব, আয়াত: ৪০) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন,

انا خاتم التبين لا نبی بعدی

“আমিই শেষ নবী আমার পরে কোন নবী নেই।” (খাতমুন শব্দের এক অর্থ। সীলমােহর, উপসংহার, সমাপ্তি । কোন কিছুতে সীলমােহর তখনই অঙ্কিত করা হয়। যখন তা পরিপূর্ণ বা সমাপ্ত হয়ে যায়। অতএব, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে সর্বশেষ পরিপূর্ণ নবী বিশ্বাস করা ঈমানের অঙ্গ। নতুবা আল্লাহর কালাম এবং আল্লাহ। পাককেই অবিশ্বাস করা হবে। আল্লাহ তাআলা আরাে ইরশাদ করেন,

وما ارسلناک الا رحمة للعالمين

অর্থঃ আমি আপনাকে সারা বিশ্বের পরিপূর্ণ রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছি।(সূরা আম্বিয়া, আয়াত: ১০৭) রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেন

بعثت لأتمم مكارم الأخلاق

অর্থঃ উত্তম চারিত্রিক গুণাবলি পরিপূর্ণ করার উদ্দেশ্যে আমি প্রেরিত হয়েছি। সুতরাং উল্লিখিত কুরআন ও হাদীসের বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত হল, আমাদের নবী (সাঃ) পরিপূর্ণ নবী ছিলেন। অতএব, যারা নবী (সাঃ) কে অপরিপূর্ণ বলে উম্মতের একজন বুযুর্গের মুখাপেক্ষী করে তার পূর্ণতার আকিদা পােষণ করে, তারা মুসলমান থাকতে পারে না। পীর হওয়াতাে প্রশ্নই উঠে না।

আটরশির আকীদা-বিশ্বাস নং- ৩

 আটরশি পীর ধনী করার মালিক। আটরশি পীরের অনুসারী বা এজেন্টরা বলে বেড়ায় যে, আটরশির মুরীদ হলে অভাব-অনটল থাকে না ধনী হওয়া যায়। এজন্য অনেকে আটরশি পীরের ওরশে যায়। 

 

তার বিপক্ষে দলিলঃ। আল্লাহ ছাড়া কোন পীর, ওলী, বাবা যাকে ইচ্ছে ধনী বানাতে পারে যাকে ইচ্ছে গরীব বানাতে পারে এসব ধারণা ঈমান বিধ্বংসী শিরকী। কেননা, আল্লাহপাক স্পষ্ট ভাষায় কুরআনে বলেন, ,

قل ان ربی یبسط الرزق لمن يشاء من عباده ويقدره 

অর্থঃ হে নবী! আপনে বলে দিন, নিশ্চই আমার পালনকর্তা তার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা রিযিক বাড়িয়ে দেন এবং সীমিত পরিমাণে দেন। (সূরা সাবা, আয়াত: ৩৯)

অর্থঃ এবং তিনিই (আল্লাহ) ধনবান করেন ও সম্পদ দান করেন (সূরা নাজম, আয়াত: ৪৮)

وانه هو اغني واقني وترزق من تشاء بغير حساب

অর্থঃ তুমিই (আল্লাহ) যাকে ইচ্ছা বে-হিসাব রিযিক দান কর। (সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ২৭) সারাংশ কথা হচ্ছে, আল্লাহ তাআলা যাকে ইচ্ছে ধনী বানান, যাকে ইচ্ছে গরীব

বানান। এই ক্ষমতা আল্লাহ ছাড়া আর কারাে নেই। সুতরাং কেউ যদি পীরের, বাবার ক্ষমতা আছে বলে মনে করে সে মুশরীক হয়ে যাবে। আর মুশরীকের ঠিকানা জাহান্নাম। ।

আটরশির আকীদা-বিশ্বাস নং- ৪

পীর দুনিয়াতে যাবতীয় মসিবত থেকে রক্ষা করতে পারেন। “শাহসূফী হযরত ফরিদপুরী (মা.জি.আ) সাহেবের নসীহত নামক গ্রন্থের ৬ষ্ঠ খন্ড ৩৬ নং পৃষ্ঠায় লিখা হয়েছে, মুরীদ পৃথিবীর যে স্থানেই থাকুক না কেন সেই স্থানেই তাহাকে যাবতীয় বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করতে পারেন। মুর্শিদে কামেলকে আল্লাহ এইরূপ ক্ষমতা দান করেন। শুধু মুরীদকেই নয় মুরীদের আত্মীয়-স্বজন, মাল-সামানা, ঘর-বাড়ী যাহা কিছুই খেয়াল করুক, তাহার সব কিছুই আল্লাহর কুওতের কেল্লায় বন্দী করিয়া দেন।

তার বিপক্ষে দলিলঃ আটরশির এ ধারণা সম্পূর্ণ কুরআন-সুন্নাহ পরিপন্থী ও জঘন্য কুফুরী মতবাদ। কেননা, আল্লাহপাক কাহরাে বিপদ-আপদের ফয়সালা করলে কেউ তাকে তা থেকে বিরত রাখতে পারে না। এমনকি বিশ্বনবী (সাঃ)ও সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী নন; বরং তিনি তার নিজের ক্ষতি ও লাভের ক্ষমতাও রাখতেন না। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ রাব্বল আলামীন বিশ্বনবী (সাঃ) কে বলেন,

قل لن يصيبنا الا ما كتب الله لنا

অর্থঃ হে নবী আপনি বলে দিন, কখনাে আমাদের পৌছবে না, আল্লাহ তা’আলা আমাদের জন্য যা লিখে রেখেছেন তা ছাড়া। (সূরা তওবা আয়াত: ৫১)। কারাে কোন বিপদাপদ এলে আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ তা দূর করতে পারে না; একথা উল্লেখ করে আল্লাহপাক ইরশাদ করেন,

ان تمسك الله بضر فلا كاشف له الا هو

অর্থঃ আল্লাহ তাআলা যদি তােমাকে কোন ক্ষতি স্পর্শ করান, তাহলে তিনি। ব্যতিত তা দূর করার কেউ নেই। (সূরা ইউনুস, আয়াত: ১০৭) বিশুদ্ধ আকীদা হল, একমাত্র আল্লাহ তাআলাই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী, বিপদ-আপদ থেকে রক্ষাকারী। কোন নবী-রাসূল, পীর-আউলিয়া কোন মানুষের উপকার-অনুপকার, মসিবত দূর করার ক্ষমতা রাখে না। এ মর্মে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন

الا بشی بشي لم ينفع واعلم أن الأمة لو اجتمعت على ان ينفعو الا قد كتبه الله لك ولو اجتمعوا على أن يضروك بشئ لم يضرو بشئ قد كتبه الله عليت.

অর্থঃ জেনে রেখ! তােমার উপকার করার জন্য সমস্ত জাতি যদি একত্রিত হয়, তবে আল্লাহ্ তােমার জন্য যা লিখে রেখেছেন তা ছাড়া তারা তােমাকে কোন উপকার করতে পারবে না। আর তােমাকে কোন ক্ষতি করার জন্য যদি সমস্থ মানুষও একত্রিত হয়, তবে আল্লাহ যা তােমার উপর লিখে রেখেছেন তা ছাড়া তারা। তােমাকে কোন ক্ষতি করতে পারবে না। (মিশকাত, পৃষ্ঠা- ৪৫৩, তিরমিযী, খন্ড- ২, পৃষ্ঠা- ৭৮)। প্রিয় পাঠক! লক্ষ্য করুন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যেখানে মসিবত দূর করার বা , লাভ-ক্ষতির অধিকারী নন সেখানে আটরশির ভন্ডকে মসীবত থেকে রক্ষাকারী বলে বিশ্বাস করলে, আটরশির ভন্ডকে রাসূল (সাঃ) এর চেয়ে বড় মনে করা বৈ কিছু নয়। যা কুফুরের অন্তর্ভূক্ত।

মাইজভান্ডারী পীরের পরিচিতি ও আকিদা-বিশ্বাস

 মাইজভান্ডারের প্রথম পীর হলেন গাউসুল আজম হযরত মাওলানা শাহসূফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ আল হাসানী (ক.)। তিনি ১৮২৬ খ্রিস্টাব্দের ১৫ই জানুয়ারী বাংলা ১২৩৩ সালে ১লা মাঘ, রােজ বুধবার, চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি থানাধীন মাইজভান্ডার নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম শাহসূফী মাওলানা সৈয়দ মতিউল্লাহ আল-হাসানী (রহ.)। তার মাতার । নাম খাইরুন্নেসা। তিনি নিজ গ্রামের মক্তবে আরবী, বাংলার প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করার পর উচ্চ শিক্ষা লাভের উদ্দেশ্যে ১২৬০ হিজরী সালে সুদূর কলিকাতা আলিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন এবং ১২৬৮ হিজরী সালে কলিকাতা আলিয়া মাদ্রাসায় লেখা-পড়া সমাপ্ত করেন। তার পীর হলেন হযরত শাহসূফী সৈয়দ মােহাম্মদ সালেহ লাহােরী (রহ.)। মাইজভান্ডারী পীর ১৯০৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ই জানুয়ারী বাংলা ১৩১৩ সালের ১০ই মাঘ, রােজ সােমবার, ৮০ বসর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর একমাত্র পুত্র হযরত মাওলানা সৈয়দ ফয়জুল হক ফানায়ে ওয়াসেল (রহ.) এর পুত্র হযরত মাওলানা সৈয়দ দেলাওর হােসাইন (ক.) তার স্থলাভিষিক্ত হন।

মাইজভান্ডারী পীরের দাবিঃ

 মাইজভান্ডারী পীর সৈয়দ জিয়াউল হক দাবী করেনঃ

১. রহমাতুল্লিল আলামীন রাসূলের রহমতের সীমা জুড়ে আমার বেলায়তি কর্মক্ষমতা।

২. আমার দরবার আন্তর্জাতিক প্রশাসন অফিস; যেখান থেকে এই বিশ্ব পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত।

৩. এ বিশ্বের ৫০০ কোটি মানুষ আমিই তাে চালাই।

৫. এই বিশ্বের কোথায় কখন কি হয়েছে, হচ্ছে, হবে সব আমার জানা। 

৫. আকাশের উপরে বসে আমি সৃষ্টির কাজকর্ম দেখি; উপরের দিকে আল্লাহর সাথে কথা বলি।

৬. আমার দরবার আন্তর্জাতিক সামরিক আইন প্রসাশক অফিস। দুনিয়ার সবকিছু আমি ভেঙ্গেচুরে ঠিক করি।

৭. মাইজভান্ডার শরীফ হায়াতের ভান্ডার, রিজিকের ভান্ডার, দৌলতের ভান্ডার, ইজ্জতের ভান্ডার। (সূত্র ঃ শাহানশাহ্ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী (ক.) ফিতরাত ও সিফাত, নবম পরিমার্জিত সংস্করণ, পৃষ্ঠা-১১৫)

মাইজভান্ডারীর আকিদা-বিশ্বাস নং- ১ 

পীর দুনিয়াতে বিপদমুক্ত করতে পারেন। “শাহ ছুফি আলহাজ্ব মাওলানা ছৈয়দ শফিউল বশর আল-হাচানী আল মাইজভান্ডারী কেবলা কাবার জীবনী” নামক পুস্তকের ৩৪ নং পৃষ্ঠায় লিখেছে, “তিনি (বাবা শফিউল বশর) যে কোন অবস্থাতেই বিপদে ধৈর্যহারা না হয়ে । তাঁর অদ্ভুত প্রত্যুৎপন্নমতিতুের দ্বারা নিজেকে বিপদমুক্ত করতে পারেন।” একই পৃষ্ঠার ১২ লাইন পরে আরাে লিখেছে, “দুঃখে কষ্টে পড়ে মানুষ যখন। তার সান্নিধ্যে ছুটে আসতেন, তখন তিনি অতি নম্রতার মাধ্যমে ধৈর্য্যের সাথে তাদের কথা শ্রবণ করতেন এবং দুঃখ কষ্টের কারণ উদ্ভাবনে ব্রতী হয়ে দয়াল বাবা ভান্ডারীর (ক.) উছিলা তলবের মধ্য দিয়ে আগত ভক্তবৃন্দকে পরিপূর্ণ তৃপ্তি দানের জন্য নিরলস প্রচেষ্টায় রত থাকতেন।”

 তার বিপক্ষে দলিলঃ

 কোন পীর বা ওলী যত বড়ই হােক না কেন তারা কোন বিপদ-আপদ দূর করার বা কল্যাণ-অকল্যাণের মালিক নন। কেননা তারা সবাই মানব জাতির অন্তর্গত। আল্লাহ তাআলা তার সবচেয়ে প্রিয় রাসূল মুহাম্মদ (সাঃ) কে বলেন, .

قل لا أملك لنفسی نفعا ولا ضرا الأماشاء الله

অর্থঃ হে নবী আপনি বলুন, আমি আমার নিজের উপকার ও ক্ষতির মালিক না, আল্লাহ যা চান তা ছাড়া। (সূরা ইউনুস, আয়াত: ৪৯)। কারাে কোন বিপদাপদ আসলে আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ তা দূর করতে পারে ; একথা উল্লেখ করে আল্লাহ তাআলা ঘােষণা করেন

الله بضر فلا كاشف له إلا هو. وان يمشک بخير فهو وان يمس على كل شئ قدير

অর্থঃ আল্লাহ যদি তােমাকে কোন ক্ষতি স্পর্শ করান, তাহলে তিনি ব্যতিত উহা দূর করার কেউ নেই। আর তিনি যদি তােমার কল্যাণ করেন তবে তিনিই তাে সর্ববিষয় শক্তিমান। (সূরা আন’আম, আয়াত: ১৭)। সুতরাং কুরআনের বর্ণনা দ্বারা স্পষ্ট হলাে, নিজের বিপদ-আপদ দূর করার ক্ষমতা স্বয়ং রাসূল (সাঃ) এরও ছিল না। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারাে প্রতি এমন বিশ্বাস রাখা গােমরাহী ও শিরক। যা ঈমান বিধ্বংসকারী আকিদা।। মাইজভান্ডারীর আকীদা-বিশ্বাস নং- ২ পীর ইহ-পরকালে মুক্তির ব্যবস্থা করে দিবেন। তাদের গ্রন্থ রত্নভান্ডার এর ১ম খন্ড ১৭ নং পৃষ্টায় লিখেছে

 হীন দাস হাদী কয় হাশরেতে নাহি ভয়,

 পিছে পিছে দাসগণ ফিরাইবেন গাউছ ধন।

 

 ‘শাহানশাহ্ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী’ বইয়ের ৫৫ নং পৃষ্টায় লিখেছে “আমার মুরীদ ও প্রকৃত মাইজভান্ডারী আশেক ভক্তদের কোন ভয় নাই। ইহ-পরকালের সকল বিপদ সংকটে দোধারী তাওহীদি তলােয়ার নিয়ে আমি তাদের সামনে আছি। যে তরবারী যেতে আসতে উভয় ধারে কেটে তৈরি করবে তাদের মুক্তি মঙ্গল পথ।

 তার বিপক্ষে দলিলঃ

 ভান্ডারীর এই মতবাদ সম্পূর্ণ কুরআন বিরােধী। যা কুফুরীর অন্তর্ভূক্ত। কেননা, আহলে সুন্নাত ওয়াল-জামাতের আকীদা হচ্ছে, হাশরে আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে জীবনের সমস্ত কৃতকর্মের হিসাব দিতে হবে। যারা দুনিয়াতে আল্লাহ ও

তাদের ভীষণ আযাব হবে। তাদের কষ্টের সীমা থাকবে না। শুরু হবে বিচার; স্বয়ং আল্লাহ হবেন বিচারক। সেদিন কারাে ক্ষমতা থাকবে না যে, আল্লাহর বিচার থেকে তাকে রক্ষা করবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআ

ان يشتروا إلى ربهم ليس لهم من دونه ولئ ولا شفيع

অর্থঃ তাদেরকে স্বীয় প্রতিপালকের সমীপে সমবেত করা হবে এমন অবস্থায় যে, তিনি ব্যতিত তাদের কোন অভিভাবক বা সুপারিশকারী থাকবে না।

| (সূরা আনআম: ৫১),

مالهم من الله من عاصم

অর্থঃ আল্লাহ হতে তাদেরকে রক্ষা করার কেউ নাই। (সূরা ইউনুস, আয়াত: ২৭) আল্লাহপাক আরাে বলেন,

অর্থঃ (কাল হাশরে) কেউ অপরের পাপের বােঝা বহন করবে না। (সূরা ফাত্রি, আয়াত: ১৮)

ولاتزژوازره و آخری لكل امرئ منهم يوم شأن يغنيه

অর্থঃ সে দিন (হাশরে) প্রত্যেকেরই নিজের এক চিন্তা থাকবে, যা তাকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখবে। (সূরা আবাসা, আয়াত: ৩৭)। দুনিয়াতে যেসব আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে মানুষ একে অপরের জন্য জীবন পর্যন্ত বিসর্জন দিতে কুষ্ঠিত হয় না, হাশরে তারাই নিজ নিজ চিন্তায় এমন নিমগ্ন হবে যে, কেউ কারও খবর নিতে পারবে না। বরং সামনে দেখলেও মুখ লুকাবে। (সংক্ষিপ্ত বাংলা মারেফুল কোরআন- পৃ: ১৪৩৮)

সুতরাং উল্লিখিত কুরআনের বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত হল, হাশরে কোন পীরের ক্ষমতা নেই যে, আল্লাহর হাত থেকে মুরীদকে রক্ষা করবে, বরং পীর নিজের চিন্তায় হাবুডুবু খাবে কীভাবে মুক্তি পাওয়া যাবে। অতএব, সাব্যস্থ হল যে, উপরে বর্ণিত ভান্ডারীর অলিক ধারণা কুরআন বিরােধী ও কুফুরী। যারা কুফরী করে তারা পথভ্রষ্ট লােক।

 মাইজভান্ডারীর আকিদা-বিশ্বাস নং- ৩

 পীরের দরবারে গেলে খালি হাতে ফিরে যেতে হয় না এবং পীর কর্তৃক মনের বাসনা পূরণ হয়। মাইজভান্ডারীর বই ‘শফি বাবার জীবনীর (৪র্থ প্রকাশ) ৪১নং পৃষ্ঠায় লিখেছে“তার (শফি বাবার) দরবারে এসে কেউ খালি হাতে ফিরে যেতনা। কেউ কেউ শফি বাবার সাক্ষাতে ও আলােচনায় ফয়েজ প্রাপ্ত হয়ে নিজেদের ভাগ্যমান মনে করে তাঁর গুণ গ্রাহিতা ও মহত্তের আলােচনা করতেন। এ প্রসঙ্গে তাদের নিম্নোক্ত কবিতাটি আরাে স্পষ্ট “ভান্ডারীকে যে পাইল-খােদা রাসূল সে চিনিল। গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী পূর্ণ করেন বাসনা।” (রত্ন ভান্ডার, প্রথম খন্ড, পৃষ্ঠা- ৩৩)। 

তার বিপক্ষে দলিল

 মাইজভান্ডারী পীর সম্পর্কে তাদের এই বিশ্বাস ভ্রান্ত ও ঈমান হরণকারী। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারাে সম্পর্কে এরকম বিশ্বাস রাখা বড় শিরক। কেননা কামনা-বাসনা পূর্ণ করার মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলা। আল্লাহ ব্যতিত অন্য কারাে ভাল-মন্দ পৌছানাের ক্ষমতা নাই। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন

قل لن يصيبنا إلا ما كتب الله لنا

অর্থঃ হে নবী আপনি বলে দিন, কখনাে আমাদের পৌছবে না, আমাদের জন্য আল্লাহ তাআলা যা লিখে রেখেছেন তা ব্যতিত। (সূরা তওবা, আয়াত: ৫১) একমাত্র আল্লাহ তাআলাই খালি হাত পূর্ণ করার বা বাসনা পূর্ণ করার মালিক। সব কিছুর কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর হাতে। একথা উল্লেখ করে আল্লাহপাক বলেন

فسبحان الذي بيده ملكوت كل شي

অর্থঃ অতএব, পবিত্র তিনি, যার হাতে সবকিছুর কর্তৃত্ব। (সূরা ইয়াসীন, আয়াত: ৮৩) আল্লাহ তাআলাই যে কামনা-বাসনা পূর্ণকারী এবং তিনিই যে সর্বময় ক্ষমতার

অধিকারী আর কোন নবী, কোন পীর, কোন বাবা, কোন খাজা কোন মানুষের কামনা-বাসনা পূর্ণ করার এবং লাভ-ক্ষতির ক্ষমতা রাখে না একথা উল্লেখ করে রাসূল (সাঃ) বলেন, এ

واعلم أن الأمة لو اجتمت على ا ينفعوك إلا بشئ قد كتبه لك ولواجتمعوا على أن يضروك بشئ لم يضروگ الآ بئى قد كتبه الله

অর্থঃ জেনে রেখ! তােমার উপকারের জন্য সমস্ত জাতি যদি একত্রিত হয়, তবে আল্লাহ তােমার জন্য যা লিখে রেখেছেন তা ছাড়া তারা তােমাকে কোন উপকার করতে পারবে না। আর তােমাকে কোন ক্ষতি করার জন্য যদি সমস্ত মানুষও একত্রিত হয়, তবে আল্লাহ যা তােমার উপর লিখে রেখেছেন তা ছাড়া তারা তােমাকে কোন ক্ষতি করতে পারবে না। (মেশকাত, ৪৫৩ পৃষ্ঠা, তিরমিযী ২য় খন্ড, ৭৮ পৃষ্ঠা)

 মাইজভান্ডারীর আকিদা-বিশ্বাস নং- ৪

 বাবা ভান্ডারী সন্তান দিতে পারেন। ভান্ডারী ভক্তদের দৃঢ় বিশ্বাস, বাবা ভান্ডারী সন্তান দিতে পারেন। এমনই এক ভক্তের ঘটনা এখানে উল্লেখ করা হল। ১৯৭৩ সালের ফেব্রুয়ারী ৪ তারিখে আমার বিয়ে হয়। সুদীর্ঘ ১৪ বৎসর আমাদের কোন সন্তান হয় নাই। বাবাজানের কাছে অনেকবার সামনা-সামনি আর্জি করেছি। সবসময় বলতেন, হবে, দেব’। (ঘটনার শেষাংশে লিখে) ১৪ বৎসর ৭মাস পর ১৯৮৮ইং সেপ্টেম্বর মাসে, বাবাজানের অশেষ মেহেরবানীতে আমাদের প্রথম মেয়ে জন্মগ্রহণ করে। বাবাজানের ওফাতের সপ্তাহ পূর্বে জিজ্ঞেস করলাম- আপনি যে মেয়েটি দিয়েছেন তার একটা নাম দিলে ভাল হয়। বাবাজান কালাম করলেন, ‘নীহার রাখেন, নীহার’ মেয়ের নাম রাখলাম নীহার আখতার। তাঁর মেহেরবানীতে আমাদের ২ মেয়ে ১ ছেলে হয়েছে। বর্ণক: কামাল উদ্দিন | আহম্মদ, চট্টগ্রাম। (তথ্যসুত্রঃ শাহানশাহ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী (ক) (নবম পরিমার্জিত সংস্করণ, পৃষ্ঠা ২২৬-২৭)

 তার বিপক্ষে দলিলঃ

 ভান্ডারীর এই বিশ্বাস ঈমান বিধ্বংসী শিরিকী। এরকম বিশ্বাসকারী ব্যক্তিকে মুসলমান বলা যায় না। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন,

يخلق ما يشاء يهب لمن يشاء اناثا ويهب لمن يشاء الذكور او يزوجهم ذكرانا وانائا ويجعل من يشاء عقيما

অর্থঃ তিনি (আল্লাহ) যা ইচ্ছা, সৃষ্টি করেন, যাকে ইচ্ছা কন্যা-সন্তান এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র-সন্তান দান করেন; অথবা তাদেরকে দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন। (সূরা শূরা; আয়াত: ৪৯-৫০)। সুতরাং উল্লিখিত কুরআনের বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, সন্তান দেওয়ার “লক একমাত্র আল্লাহ তাআলা। গাইরুল্লাহ তথা পীর বা মাজারের কাছে। স্তান চাওয়া এবং পীর সন্তান দিতে পারে এমন আকিদা পােষণ করা শিরিকের নামান্তর। আর আল্লাহর সাথে যারা শিরিক করে, তারা মুশরীক। মুশরীকের জন্য জান্নাত হারাম।

 মাইজভান্ডারীর আকিদা-বিশ্বাস নং- ৫

দ্যি, নৃত্যর দ্বারা খােদাপ্রেমে হৃদয় উজ্জীবিত হয়। এ প্রসঙ্গে তারা লিখেছে “মাইজভান্ডারী গানের কথা ও সুরে বাদ্যের তালে তালে অন্য সবকিছু ভুলে খােদাপ্রেমে হৃদয় মন উজ্জীবিত হয়। সামা’ বা এই সংগীতময় জিকির স্মরণ অনুষ্ঠানে ভক্তদেরকে ‘হালকা বা হেলে দুলে নৃত্য করতে দেখা যায়। ফলে শরীরের সমস্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গ জাগ্রত হয়ে জিকিরে রত হয়।

(শাহানশাহ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী (ক.), পৃষ্ঠা ৪৩)

তার বিপক্ষে দলিলঃ

 তাদের এই মতবাদ মারাত্মক ঈমান হরণকারী। যা সম্পূর্ণ কুরআন-সুন্নাহ পরিপন্থী। এখানে ভান্ডারী বলে, তার গানের কথা ও সুরে বাদ্যের তালে তালে অন্য সব কিছু ভুলে খােদাপ্রেমিক হয়। পক্ষান্তরে আল্লাহ তাআলা বলেন, গান-বাদ্যের দ্বারা শয়তান প্রেমিক হয়। এ প্রসঙ্গে কুরআনে বলা হয়েছে।

واستفز من استطعت منه بصوتك

অর্থঃ আল্লাহপাক শয়তানকে লক্ষ্য করে বলেন, তুই তাদের মধ্য থেকে যাকে পারিস, সত্যচ্যুত (পথভ্রষ্ট) কর স্বীয় আওয়াজ (গান-বাদ্য) দ্বারা। (সূরা বনী ইস্রাঈল আয়াত: ৬৪) হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, গান-বাদ্যযন্ত্র ও রং তামাশার আওয়াজই শয়তানের আওয়াজ। হাফেজ ইবনে কাইয়ুম (রহ.) বলেন, গুনাহর দিকে আহবানকারী সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হচ্ছে গান-বাদ্য। তাই শয়তানের আওয়াজের ব্যাখ্যা গান-বাদ্য দ্বারা করা হয়েছে। (এগাছাতুল লহফান, খন্ড ১ পৃষ্ঠা ২৫৫, আহছানুল ফতওয়া ৮/৩৮১) ভান্ডারীর দাবি গান-বাদ্যে অন্তর খােদাপ্রেমে উজ্জীবিত হয়। পক্ষান্তরে রাসূল (সাঃ) বলেন, অন্তরে মুনাফেকী সৃষ্টি হয়। এ মর্মে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে

عن جابر قال قال رسول الله علم الغناء ينبت النفاق في القلب گما ينبت الماء الزرع

 

অর্থঃ হযরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সাঃ) ইরশাদ করেন, গান-বাজনা মানুষের অন্তরে এইভাবে মুনাফেকী বা কপটতা জন্ম দেয়, যেমনভাবে পানি শস্য উৎপাদন করে। (মিশকাত শরীফ, পৃষ্ঠা ৪১১) 

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আরাে বলেন,

روی ابوامامة عنه عدم انه قال ما رفع احد صوته لغناء الأبعث الله شيطانين على منكبيه يضربان باعقابهما على صدره حتی یمسک

” অর্থঃ কোন ব্যক্তি গান শুরু করার সাথে সাথে আল্লাহপাক তার জন্য দুটি

শয়তান নিযুক্ত করে দেন। যারা তার কাঁধে বসে বক্ষে পা দ্বারা আঘাত করতে থাকে যতক্ষণ না সে গান বন্ধ করে। (ইহয়াউল উলুম, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ২৫১) 

নবী করীম (সাঃ) আরাে বলেন,

انه الله قال ان الي اول متاح أول من تغني

অর্থঃ সর্বপ্রথম বিলাপকারী ও সর্বপ্রথম গায়ক হচ্ছে অভিশপ্ত শয়তান।

| (ইহয়াউল উলূম, খন্ড ২ পৃষ্ঠা ২৫১) সুতরাং গান-বাদ্য যে কত জঘণ্য, তা উল্লিখিত বর্ণনা দ্বারা সহজেই বুঝে আসে। গান-বাদ্য হারাম জেনেও করা ফাসেকী, আর হালাল মনে করা কুফুরী। তাতে ঈমান চলে যাওয়ার আশংকা আছে। মাসআলাঃ সকল প্রকার বাদ্য-বাজনা বিশিষ্ট মারফতী গান, মুর্শিদী গান, বাউল গান, ছেমা, উপদেশ মূলক গান, আল্লাহ ও রাসূলের নাম নিয়ে গান গাওয়া, শ্রবণ করা, শিক্ষা দেওয়া এবং এগুলােকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করা সবই কবীরা গুনাহ ও হারাম। (প্রমাণঃ তাফসীরে মাযাহিরী ৭ম খন্ড পৃষ্ঠা ২৪৭-৪৮, রুহুল মাআনী ২১/৬৯, ফাতহুল কাদীর ৮ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৪৫০, আলমগিরি ৫ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৫১, রদুল মুখতার, ৫ম খন্ড, পৃষ্ঠা ২৩০)

 

দেওয়ানবাগী পীর পরিচিতি ও কুফুরী আকিদা-বিশ্বাস

দেওয়ানবাগী পীরের নাম মাহবুবে খােদা।। ১৯৪৯ সালে ১৪ই ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার আশুগঞ্জ থানার বাহাদুরপুর নামক গ্রামে তার জন্ম। তিনি প্রাথমিক স্কুল শিক্ষার পর তালশহর করিমিয়া আলীয়া মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেন। (তার পীর এবং শশুর হল ফরিদপুরস্থ চন্দ্রপাড়া দরবারের প্রতিষ্ঠাতা মৃত আবুল ফজল সুলতান আহমদ) বর্তমানে সে ঢাকার অদূরে দেওয়ানবাগ নামক স্থানে একটি এবং ঢাকার আরামবাগে বাবে রহমত (রহমতের দরজা) নামে আরেকটি আস্তানা স্থাপন করেছেন। এই ভন্ড পীর সূফীবাদ ও তরীকত-মারিফাতের ভাওতা দিয়ে মুহাম্মদী ইসলাম নামে এক কুফুরী মতবাদ প্রচার করে চলছে। লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে সারা দেশে দেওয়ালে দেওয়ালে ‘আশেকে রাসূল সম্মেলন’ নামের বিজ্ঞাপন দিয়ে সে তার দরবারে ঈমান ধ্বংসের সম্মেলন সারা বছর অব্যাহত রেখেছে। কুফরী, শিরকী মতবাদে ভরপুর বই-পুস্তক, সাপ্তাহিক, মাসিক পত্রিকা ও বয়ানের ক্যাসেট এবং লিফলেট, হ্যান্ডবিল প্রচার করছে। হাজার হাজার অশিক্ষিত, জেনারেল শিক্ষিত সরলপ্রাণ মুসলমান তার এই কুফুরী, শিরকী মতবাদের ইন্দ্রজালে আটকা পড়ে চিরতরে নিজেদের ঈমান রত্ন হারাতে বসেছে।

 দেওয়ানবাগী পীরের দাবিঃ 

১. তিনি আল্লাহর তরফ থেকে প্রেরিত প্রতিশ্রুত মহামানব। আল্লাহই তাকে গােটা বিশ্বে খাঁটি মুহাম্মদী ইসলাম প্রচারের দায়িত্ব দিয়ে নূরে মুহাম্মদীর ধারক-বাহক রূপে পাঠিয়েছেন। 

২. সে বর্তমান যামানার মােজাদ্দেদ, মহান সংস্কারক শ্রেষ্ঠতম অলীআল্লাহ। 

৩ মহাম্মাদী ইসলামের বাইরে সারা বিশে, যে ইসলাম চালু রয়েছে এটা আসল ইসলাম নয়। এজিদী ইসলাম। এজেদী চক্রান্তের ফসল। এজিদের সৈন্যরা নাকি সাহবাদের পরিবারে এক হাজার জারজ সন্তানের জন্ম দিয়েছিল। 

৪. কুরআন, কিতাব, হাদীস, তাফসীর পড়ে আল্লাহকে পাওয়া যায় না। একমাত্র মুর্শিদের সাহায্য নিয়ে আধ্যাত্মিক সাধনা করেই আল্লাহকে পাওয়া সম্ভব, এমনকি দুনিয়াতেই আল্লাহকে স্বচক্ষে দেখা যায়।

৫ দেওয়ানবাগী ও তার মুরীদদের মীলাদ-মাহফিলে স্বয়ং আল্লাহ, ফেরেশতা, শেষ নবীসহ সমস্থ নবী-রাসূল ও ওলী-আউলিয়াগণ হাজির হন। সবাই দাঁড়িয়ে মীলাদ পড়েন, কাঠের খাট নূরের খাটে পরিণত হয়। 

৬. আল্লাহ, রাসূল (সাঃ) সহ সমগ্র নবী-রাসূল ফেরেশতা এবং দেওয়ানবাগী ও তার মুর্শেদ চন্দ্রপাড়ার মৃত আবুল ফজলের উপস্থিতিতে সমস্ত ওলী-আউলিয়াগণ এক বিশাল ময়দানে সমবেত হয়ে সর্বসম্মতিক্রমে দেওয়ানবাগীকে মুহাম্মদী ইসলামের প্রচারক নির্বাচিত করেন। অতঃপর সবাইকে নিয়ে আল্লাহ এক বিশাল মিছিল বের করেন। আল্লাহ, রাসূল দেওয়ানবাগী ও তার পীর এ চার জনের হাতে চারটি মুহাম্মদী ইসলামের পতাকা। আল্লাহ, দেওয়ানবাগী ও তার পীর এই তিনজন সামনের সারিতে। সমস্ত নবী-রাসূলসহ বাকীরা পিছনে। মিছিলে আল্লাহ নিজেই শ্লোগান দিচ্ছিলেন, মুহাম্মদী ইসলামের আলাে, ঘরে ঘরে জ্বালাে’। (নাউজুবিল্লাহ)। 

১. এই অভিশপ্ত শয়তান নাকি স্বপ্নে দেখেছে যে, ঢাকা হতে ফরিদপুর পর্যন্ত বিস্তৃত ফলেফুলে সজ্জিত এক বিশাল মনােরম বাগান। ঐ বাগানে একটি ময়লা-আবর্জনার স্তুপের উপর নবীজির বিবস্ত্র (উলঙ্গ) লাশ অত্যন্ত করুন অবস্থায় পড়ে আছে। দেওয়ানবাগী উক্ত লাশের হাঁটুতে তার হাত লাগানাে মাত্রই ঐ লাশে প্রাণ ফিরে এলাে। সুন্দর পােশাকে সুসজ্জিত ও উজ্জ্বল চেহারা বিশিষ্ট হয়ে গেলেন নবীজি। হাসিমুখে তাকে বললেন, হে ধর্মের পুনর্জীবনদানকারী! আমার ইসলামকে এর আগে আরাে পাঁচ বার জীবিত করা হয়েছিল। (নাউজুবিল্লাহ) (সুত্র: রাসূল কি সত্যিই গরীব ছিলেন?, আল্লাহকে সত্যিই কি দেখা যায় না? ইত্যাদি)

 আল্লাহ সম্পর্কে তার কুফুরী আকিদা 

১. আল্লাহর সাথে যােগাযােগ আপন কূলবেই হয়ে থাকে। অন্যভাবে হাজার ইবাদত করেও আল্লাহকে পাওয়া যাবে না। 

২. আল্লাহ ও রাসূলকে স্বচক্ষে না দেখে কালেমা পড়ে সাক্ষ্য দেওয়ার ও বিশ্বাস করার কোন অর্থ হয় না। 

৩. মানুষ ও আল্লাহর সত্তা বা মূল অস্তিত্ব আলাদা নয়; বরং এক প্রত্যেক, মানুষের আত্মা আল্লাহর মূল সত্তার মধ্যে বিলীন ও মিশ্রিত ছিল। প্রত্যেক মানুষের দিলে আল্লাহর মূল সত্তার এক টুকরা নূর আছে। 

৪. জিব্রাইল বলিতে অন্য কেহ নন, স্বয়ং হাকিকতে আল্লাহই। যিনি রাসূল তিনিই আল্লাহ। (নাউজুবিল্লাহ) 

৫. আল্লাহ নিরাকার নন, তাঁর আকার আকৃতি, হাত-পা, চোখ-কান, জবান সবই আছে।

 দেওয়ানবাগী আকিদা-বিশ্বাস নং-১

 দেওয়ানবাগী পীরের হজ্জ করার প্রয়ােজন নেই। তার ‘আল্লাহ কোন পথে? বইয়ের ২য় সংস্করণ মে১৯৯৭ইং,১৯২-১৯৩ পৃষ্ঠায় লিখেছে: তার জৈনক ভক্ত আহমদ উল্লাহ যুক্তিবাদী দেওয়ানবাগী সাহেব কেন হজ্জ করেননি এটা চিন্তা করতে করতে ঘুমিয়ে যান। স্বপ্নে দেখেন হযরত ইবরাহীম (আঃ) নির্মিত মক্কার কা’বা ঘর এবং স্বয়ং রাসূল (সাঃ) বাবে রহমতে হাজির হয়েছেন। (বাবে রহমত পবিত্র মদীনার মসজিদের একটি বিখ্যাত দরজার নাম। নবীজীর (সাঃ) রওযা শরীফের সােজা উপরে নির্মিত সবুজ গম্বুজের মত একটি সবুজ গম্বুজও দেওয়ানবাগী তার আরামবাগের আস্থানার উপর নির্মাণ করেছে) রাসূল (সাঃ) তাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: তুমি যে ধারণা করতেছ যে, শাহ দেওয়ানবাগী হজ্জ করেননি, আসলে এটা ভুল। আমি স্বয়ং আল্লাহর নবী মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর সাথে আছি এবং সর্বক্ষণ থাকি। আর কা’বা ঘরও তার সম্মুখে উপস্থিত আছে। আমার ‘মুহাম্মাদী ইসলাম শাহ দেওয়ানবাগী প্রচার করতেছেন। তার হজ্জ করার কোন প্রয়ােজন নেই।

তার বিপক্ষে দলিলঃ 

 দেওয়ানবাগীর এই উক্তি সম্পূর্ণ কুরআন-হাদিস পরিপন্থী। পবিত্র কুরআনে হজ্জ সম্পর্কিত একটি পূর্ণ সূরাই নাযিল হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন,

ولله على الناس حج البيت من استطاع اليه سبيلا

অর্থঃ আল্লাহর উদ্দেশ্যে বায়তুল্লাহ শরীফে হজ্জ পালন করা মানুষের উপর অবশ্য কর্তব্য (ফরজ) মানুষের মধ্যে যাদের সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে। (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৯৭) এখানে বলা হয়েছে, মক্কা স্থিত বায়তুল্লাহ শরীফ গিয়ে হজ্জ পালন করার কথা।

সে ফরযিয়াতকে দেওয়ানবাগী অস্বীকার করেন। যা পবিত্র কুরআনের | বিরুদ্ধাচরণকারী। যে ব্যক্তি আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ করে সে তাে মুসলমানই নয়, তার পীর হওয়ার প্রশ্নই উঠে না।

 দেওয়ানবাগী আকিদা-বিশ্বাস নং- ২

 যিনি রাসূল তিনিই আল্লাহ।।

দেওয়ানবাগ হতে প্রকাশিত আত্মার বাণী ৭ম বর্ষ ৭ম সংখ্যার ১৩নং পৃষ্ঠায়। | দেওয়ানবাগীর কথা লিখেছেন। হাদীসে আছে “মান রায়ানী ফাকাদ রায়াল হক’ মানে যে রাসূলকে দেখেছে সে মূলে আল্লাহ তায়ালাকে দেখেছে। তার ৩ একথা মতে যিনি রাসূল তিনিই আল্লাহ। (বাতিল পীরের পরিচয়, পৃ: ৩১)

তার বিপক্ষে দলিলঃ

 হাদীসটি মিশকাত শরীফে এভাবে বর্ণিত হয়েছে।

من رانی قد رای الحق

হাদীসটির সহীহ অর্থ এই, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আমাকে স্বপ্নে দেখবে সে সত্যিই আমাকে দেখবে, কারণ শয়তান আমার আকার ধারণ করতে পারে না। (মিশকাত, পৃ: ১১১) দেওয়ানবাগীর কথা হল- যে রাসূলকে দেখেছে সে আল্লাহকে দেখেছে অর্থাৎ = রাসূলই আল্লাহ। দেওয়ানবাগীর এই ধারণা ঈমান বিধ্বংসী কুফরী। যে ধারণা | পােষণকারীকে মুসলমান বলা যায় না। কেননা, রাসূল সম্বন্ধে সহীহ ঈমান হল, আল্লাহ তাআলা খালিক (সৃষ্টিকর্তা) রাসূল (সাঃ) মাখলুক ও আল্লাহর বান্দা। আল্লাহর জাত বা সত্তা কারও জাত বা সত্তার মধ্যে মিশ্রিত বা দ্রবীভূত হন না। এবং তাঁর জাত বা সত্তার মধ্যেও কেউ মিশ্রিত বা দ্রবীভূত হয় না। অতএব, খালিক (আল্লাহর) সাথে মাখলুক ‘রাসূল’ এর অভিন্নতা প্রকাশ করা কুফরীর অন্তর্ভূক্ত। যা পরিপূর্ণ কুরআন বিরােধী। কেননা, কুরআনে ঘােষুিত হয়েছে

وما محمدا رسول”

| অর্থঃ মুহাম্মদ (সাঃ) একজন রাসূল বৈ কিছুই নয়। (সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ১৪৪),

অর্থঃ মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহ তাআলার রাসূল। (সূরা ফাতহ, আয়াত: ২৯),,,,

محمد رسول الله ماکان محمد ابا اكبر من رجالکم ولکن رسول الله وخاتم البين

অর্থঃ হে মানবজাতি! মুহাম্মদ (সাঃ) তােমাদের পুরুষদের মধ্যে কারাে পিতা নয়, বরং আল্লাহর রাসূল ও সর্বশেষ নবী। (সূরা আহযাব, আয়াত: ৪০) উল্লিখিত কুরআনের বর্ণনায় নবী করীম (সাঃ) কে আল্লাহর রাসূল বলা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে যাকে রাসূল বলা হয়েছে তিনি কখনও আল্লাহ হতে পারেনা। সুতরাং আল্লাহ এবং রাসূলের মধ্যে পার্থক্য এবং বৈপরিত্য রয়েছে

 দেওয়ানবাগীর আকিদা-বিশ্বাস নং- ৩

 মৃত্যুর পর জীবিত করা হবে না। “আল্লাহ কোন পথে গ্রন্থের” ৫৮নং পৃষ্ঠায় লিখেছে, আর এ আত্মাকে পরিত্যক্ত • দেহে আর কখনও প্রবেশ করানাে হয় না। | দেওয়ানবাগীর মতে মৃত্যুর পর মানুষের দেহ ধ্বংস হয়ে যায়। আর কোন দিন . এ দেহ বানানাে হবে না। রুহ ঢুকায়ে এ দেহকে জীবিত করা হবে না। 

 

তার বিপক্ষে দলিলঃ দেওয়ানবাগীর এ মতবাদ ঈমান বিধ্বংসী কুফুরী। যা সম্পূর্ণ কুরআন-সুন্নাহ পরিপন্থি। কেননা, কুরআনে বলা হয়েছে।

                                                                                                                و الموتی يبعثهم الله ثم الي يرجعون  

অর্থঃ আর মৃতকে আল্লাহ পুনর্জীবিত করবেন; অতঃপর তার প্রতিই তারা প্রত্যাবর্তিত হবে। (সূরা আনয়াম, আয়াত: ৩৬)

وبعدها علينا اناگا فعلين

অথঃ মৃত্যুর পর তােমাদেরকে পুনর্জীবিত করবাে যাতে তােমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর। (সূরা বাকারা, আয়াত: ৫৬) 

 

অর্থঃ যেভাবে আমি প্রথমে সৃষ্টি করছিলাম, সেভাবে পুনরায় (হাশরে) সৃষ্টি করবাে । আমার প্রতিশ্রুতি সত্য। নিশ্চয়ই আমি তা পূর্ণ করবােই। (সূরা আম্বিয়া, আয়াত: ১০৪) 

উল্লিখিত কুরআনের বর্ণনা দ্বারা স্পষ্ট হল- মৃত্যুর পর আল্লাহ তাআলা পুনর্জীবিত করবেন। সুতরাং দেওয়ানবাগীর এ মতবাদ ভ্রান্ত ও গােমরাহী। যারা এমন মতবাদ পােষণ করে তারা এ সকল কুরআনের আয়াত অস্বীকারকারী গণ্য হয়ে কাফের হয়ে যাবে।। 

দেওয়ানবাগী আকিদা-বিশ্বাস নং- ৪

 জান্নাতের অস্তীত্বকে অস্বীকার। আল্লাহ কোন পথে? (৩য় সংস্করণ) বইয়ের ৪০ পৃষ্ঠায় লিখেছে, “প্রভুর সাথে। পুনরায় মিলনে আত্মার যে প্রশান্তি ও আনন্দ লাভ হয় উহাই শ্রেষ্ঠ সুখ। এ মহামিলনের নামই প্রকৃত জান্নাত।

 তার বিপক্ষে দলিলঃ

দেওয়ানবাগী এখানে জান্নাতের স্বতন্ত্র অস্তিত্বকে অস্বীকার করেছে এবং জান্নাত বলতে আত্মিক সুখকে বুঝিয়েছে। এতে জান্নাত সম্পর্কিত কুরআনের আয়াত সমূহ এবং হাদীস সমূহকে অস্বীকার করল। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা হল, জান্নাত শব্দের অভিধানিক অর্থউদ্যান, বাগান, সুখময় স্থান ইত্যাদি। ইসলামী পরিভাষায়- পার্থীব ক্ষণস্থায়ী জীবনের অবসানের পর মু’মিনের অনন্ত সুখময়, চিরস্থায়ী জীবনের জন্য মহান আল্লাহ তাআলার যে সুসজ্জিত আবাস প্রস্তুত করে রেখেছেন, তাকে জান্নাত বলে। জান্নাত সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে- ১) ,

ان الذین امنوا الصليخت كانت لهم جنت الفردوس نز. خلدين فيها  يبغون عنها حولا.

অর্থঃ যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে তাদের আপ্যায়নের জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফিরদাউস। সেথায় তারা চিরস্থায়ী হবে, সেখান হতে তারা। স্থানান্তর কামনা করবে না। (সূরা কাহফ, আয়াত: ১০৭-১০৮)।

জান্নাতের মােট আটটি স্তর রয়েছে

 ১. জান্নাতুল ফিরদাউস, ২. দারুল মাকান, ৩. দারুল কারার, ৪. দারুস সালাম, ৫. জান্নাতুল মাওয়া, ৬. দারুন নাঈম, ৭. দারুল খুদ, ৮. জান্নাতুল আদন।

إن الذين امنوا وعملوا الصيحتي لهم جي التعيم

অর্থঃ যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করেন তাদের জন্য আছে নেয়ামতে ভরা জান্নাত। (সূরা লুকমান, আয়াত: ৮) ,

.

.أما الذين آمنوا وعملوا البخت فلهجنت الماوی نزلا بما كانوا يعملون

অর্থঃ যারা ঈমান আনে, সৎকর্ম করে, তাদের কৃত কর্মের ফল স্বরূপ তাদের আপ্যায়নের জন্য জান্নাতুল মাওয়া হবে বাসস্থান। (সূরা সাজদাহ, আয়াত: ১৯) এখানে লক্ষ্যণীয় বিষয় হলাে, দেওয়ানবাগী জান্নাতের যে মনগড়া অর্থ করেছে। তাতে কুরআনে বর্ণিত জান্নাতের স্থরের আয়াত সমূহকে অস্বীকার করে একজন গােমরাহ পীর বলে সাব্যস্থ হল। এহেন স্বভাবের মানুষ পীর হওয়া তাে দূরের কথা, ঈমান আছে কি-না চিন্তা করে দেখুন?

দেওয়ানবাগী আকিদা-বিশ্বাস নং- ৫

 মিযান অর্থ দাড়িপাল্লা নয়। ‘আল্লাহ কোন পথে? বইয়ের ৫৬নং পৃষ্ঠায় লিখেছে “মিযান বলতে মানুষের ষড়রিপুমুক্ত পরিশুদ্ধ বিবেককে বুঝায়। মিযান অর্থ দাড়িপাল্লা নয়।” উক্ত বইয়ে আরাে লিখা আছে “উপসংহারে বলা যায় যে, জাগতিক বিচারে যেহেতু বিচারকের কোন দাড়িপাল্লার প্রয়ােজন হয় না, দাড়িপাল্লা দ্বারা বিচার করার বিষয়টি উপমা স্বরূপ ব্যবহার করা হয়েছে।”

তার বিপক্ষে দলিলঃ 

এখানে দেওয়ানবাগী মিযানের মূল অর্থঃ দাড়িপাল্লা বাদ দিয়ে মনগড়া অর্থ করে মিযানকে অস্বীকার করল। যে ব্যক্তি কুরআনের মনগড়া অর্থ বা ব্যাখ্যা করবে তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম। এ প্রসঙ্গে হাদীসে বর্ণিত আছে,

قال رسول الله غالبة من قال في القران برأيه فليتبواء مقعده من النار وفي رواية من قال في القران بغير علم فليتبوأ مقعده من التار

অর্থঃ নবী করীম (সাঃ) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কুরআনের মনগড়া ব্যাখ্যা বলবে সে নিশ্চিতভাবে জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নিল। অন্য বর্ণনায় আছে, যে ব্যক্তি কুরআনের (মর্ম উদঘাটনের) ব্যাপারে ইলম ছাড়া (মনগড়া) কথা বলল, সে নিশ্চই জাহান্নামে নিজের ঠিকানা বানিয়ে নিল।

| (তিরমিযী, মিশকাত: ৩৫) মিয়ান সম্পর্কে সহীহ আকিদা হল, মিযান শব্দের অর্থ দাড়িপাল্লা। হাশরের ময়দানে মিযান স্থাপন করা হবে। নেক আমল বদ আমলের ওজন করা হবে। মিযান অর্থ যে দাড়িপাল্লা বা তুলাদন্ড তা কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াত থেকে প্রমাণিত।

والماء رفعها ووضع الميزان

অথঃ তিনি (আল্লাহ) আকাশকে করেছেন সমুন্নত এবং স্থাপন করেছেন দাড়িপাল্লা ।(সূরা আর-রহমান আয়াত: ৭) ..

موازينه فامهاوية فاما من ثقل موازينه فهو في عيشة الراضية. وأما من

অর্থঃ যখন যার পাল্লা ভারী হবে, সে তাে লাভ করবে সন্তোষজনক জীবন। কিন্তু যার পাল্লা হালকা হবে তার স্থান হবে হাবিয়া’ (জাহান্নাম)। (সূরা কারিয়া আয়াত: ৬-৯)।

الله الذي انزل الكتب بالحق والميزان

অর্থঃ আল্লাহই অবতীর্ণ করেছেন সত্যসহ কিতাব এবং তুলাদণ্ড। (সূরা শূরা আয়াত: ১৭) সুতরাং ভন্ড দেওয়ানবাগী মিযানের মনগড়া অর্থ করে মিযানের সঠিক অর্থকে অস্বীকার করে উপরােক্ত কুরআনের বর্ণনা অস্বীকারকারী সাব্যস্থ হল।

এনায়েতপুরী পীর পরিচিতি ও আকিদা-বিশ্বাস

 এনায়েতপুরের পীরের নাম মাওলানা শাহ্ সূফী মােহাম্মদ ইউনুছ আলী। তার পিতার নাম মাওলানানা শাহ সূফী আঃ করীম। তিনি বাংলা ১২৯৩ সালের ২১ শে কার্তিক, সিরাজগঞ্জ জেলা অন্তর্গত চৌহালী থানাস্থ এনায়েতপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। গ্রামের নিসবতে তাকে এনায়েতপুরী পীর বলা হয়। তিনি সৈয়দ উয়াজেদ আলী (কলকাতা) এর নিকট বাইআত গ্রহণ করেন এবং তার থেকে খিলাফত লাভ করেন। তিনি ১৮ই ফাল্গুন ১৩৫৮ সালে ইন্তেকাল করেন।

এনায়েতপুরীর আকিদা-বিশ্বাস  নং- ১

আল্লাহ ও রাসূলের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। আল্লাহ হলেন “আহাদ” আর রাসূল হলে “আহমদ” এই দুয়ের মধ্যে পার্থক্য শুধু একটা “মীম” হরফের তার প্রমাণ তাদের রচিত পুস্পহার বইয়ের ১২তম সংস্করণ ৩৬নং পৃষ্ঠার নিম্নোক্ত কবিতাঃ    

বানাইয়া নূর নবী দেখাইলেন আপনা ছবি

সেই নবীজীর চরণ বিনে নাইগাে পরিত্রাণ ।

আহাদে আহম্মদ বানাইয়ে, মিমকা পদ মাঝে দিয়ে

খেলতিয়াছেন পাক বারি হইয়া বে-নিশান।

তার বিপক্ষে দলিলঃ এনায়েতপুরীর এই আকিদা ঈমান বিধ্বংসী কুফরী। রাসূল সম্বন্ধে আহলে-হকের ।

তা) রাসূল মাখলুক ও আল্লাহর বান্দা। আল্লাহর জাত বা সত্তা কারও জাত বা সত্তার মধ্যে মিশ্রিত বা দ্রবীভূত হন না এবং তাঁর জাত বা সত্তার মধ্যেও কেউ মিশ্রিত বা দ্রবীভূত হয় না। অতএব, খালিক (আল্লাহর) সাথে মাখলুক রাসূল এর অভিন্নতা প্রকাশ করা কুফরীর অন্তর্ভূক্ত। যা সম্পূর্ণ কুরআন পরিপন্থী। কেননা কুরআনে বলা হয়েছে

وما محمد الا رسول

অর্থঃ মুহাম্মদ (সাঃ) একজন রাসূল বৈ কিছুই নয়। (সূরা আল-ইমরান, আয়াতঃ ১৪৪)।

محمد رسول الله

অর্থঃ মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহ তাআলার রাসূল। (সূরা ফাতহ, আয়াত: ২৯)। উল্লিখিত কুরআনের বর্ণনায় রাসূল (সাঃ) কে আল্লাহর রাসূল বলা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে যাকে রাসূল বলা হয়েছে তিনি কখনও আল্লাহ হতে পারেন না। সুতরাং আল্লাহ এবং রাসূলের মধ্যে পার্থক্য এবং বৈপরিত্য রয়েছে।

 

 এনায়েতপুরীর আকিদা-বিশ্বাস নং-২

 পীর মনের আশা পূর্ণ করেন। ‘পুষ্পদ্যান’ বইয়ের ৭৬ নং পৃষ্ঠায় লিখেছে,

খাজা তােমার দরবারে কেউ ফিরে না খালি হাতে, খাজা তােমার পাক রওজায় এসে যদি কেউ কিছু চায়,

| চাইতে জানলে রয়না কাঙ্গাল অফুরন্ত ভান্ডারে।

 

তার বিপক্ষে দলিলঃ

 তাদের এই মতবাদ সম্পূর্ণ শিরিকী মতবাদ। কেননা, আল্লাহ ছাড়া কোন পীর-মাশায়েখ, বুযুর্গ-ওলী মনের আশা পূর্ণ করার ক্ষমতা রাখে না। এ মর্মে আল্লাহপাক ঘােষণা করেন,

فل كن يصيبنا الا ما كتب الله لنا

অর্থঃ হে নবী আপনি বলে দিন, কখনাে আমাদের পৌঁছবে না আল্লাহ তাআলা আমাদের জন্য যা লিখে রেখেছেন তা ছাড়া, (সূরা তওবা আয়াতঃ৫১) 

قل كل من عند الله فمال هؤلاء القوم لا يكادون يفقهون حديثا

অর্থঃ হে নবী আপনি বলে দিন, সবকিছুই আল্লাহর তরফ থেকে। এই সম্প্রদায়ের কী হল যে, এরা একেবারেই কোন কথা বুঝে না। (সূরা নিসা, আয়াতঃ ৭৮)।

 

সুতরাং আল্লাহ ছাড়া কাউকে মনের আশা পূর্ণকারী বিশ্বাস করলে তা হবে শিরক।

এনায়েতপুরীর আকিদা-বিশ্বাস নং-৩

 পীর ধরা ফরজ তরিকতের ওজিফা শিক্ষা ২৬ নং পৃষ্ঠায় লিখেছে “পীর ধরা সবার জন্য ফরজ।” 

 

তার বিপক্ষে দলিলঃ এনায়েতপুরীর পীরের এ মতবাদ সম্পূর্ণ বাতিল ও ভিত্তিহীন। কুরআন ও বিশুদ্ধ হাদীসে

লল বা প্রমাণ নেই। কেননা, ফরজ বলা হয় যে সকল কাজ কুরআন-সুন্নাহর অকাট্য দলিল দ্বারা অবশ্য পালনীয় ও অলঙ্গনীয় বলে প্রমাণিত। আর পীর ধরা কুরআন-সুন্নাহর মধ্যে অবশ্য পালনীয় ও অলঙ্গনীয় বলে প্রমাণিত নয়। কোন কিছুকে ফরজ সাব্যস্ত করতে হলে কে অর্থাৎ কুরআনের স্পষ্ট বর্ণনা থাকা জরুরী। যা এখানে মওজুদ নেই। সুতরাং শরীয়তের কোন দলিল ছাড়া পীর ধরাকে ফরজ বলা বাড়াবাড়ি ছাড়া কিছু নয়। এগুলি শরিয়ত বিকৃত করার মত জঘণ্য অপরাধ। মুক্তিপ্রাপ্তি ও বেহেশত লাভের জন্য শর্ত হচ্ছে শরীয়তের অনুসরণ। যে ব্যক্তি শরীয়তকে মান্য করবে এবং তদানুযায়ী আমল করবে, সে মুক্তি পাবে ও বেহেশতে প্রবেশ করবে। যদি কারও নিকট সে মুরীদ না হয়। তার প্রমাণ,

والذين امنوا وعملوا الصلحت او لائک أصحاب الجنة هم فيها خالدون.

অর্থঃ যারা ঈমান এনেছে এবং সকাজ করেছে তারাই জান্নাতের অধিবাসী। তারা সেখানেই চিরকাল থাকবে। (সূরা বাকারা, আয়াত: ৮২) আর যদি কেউ কারাে নিকট মুরীদ হয়, কিন্তু শরীয়তের পাবন্দী না করে, তবে তার বেহেশতে প্রবেশ হওয়া সম্ভব নয়। একথার অগণিত প্রমাণ কুরআন ও হাদীসে বিদ্যমান রয়েছে। যার কোন পীর নেই, তার পীর শয়তান” পীর সাহেবের এ মতবাদও সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ও ভিত্তিহীন। কুরআন ও হাদীসে এর কোন দলিল বা প্রমাণ নেই। আহলে হক উলামা-মাশায়েখগণ বাইআত বা মুরীদ হওয়াকে সুন্নাত প্রমাণ। করেছেন। তবে ইসলাহে নফস বা আত্মশুদ্ধি ফরজ। তা ভিন্ন কথা।

বসুমতী পীর পরিচিতি ও কুফুরী আকীদা-বিশ্বাস 

 বসুমতী পীর বলতে বসুমতী আবাসিক প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সৈয়দ মােঃ নাসির উদ্দিন কে বােঝানাে হয়েছে। তার পূর্ণ ঠিকানা: দরবারে আশেকীন, সােলমাইদ দরবার শরীফ। বসুমতী আবাসিক প্রকল্প, ব্লক আই, বাড্ডা, ঢাকা- ১২১২। 

বসুমতী পীরের খেতাবঃ

 নূরে নুরানী, চেরাগে রুহানী, কুতুবে রব্বানী, শরীয়ত, মারফত, দকিকত, হাকিকত ও তাসাওয়াফের জ্ঞানে ওলিয়ে কামেল, কামেলে মােকাম্মেল। কোরআনে মুফাচ্ছেরীন, রহমতে রাহীম, তরিকতে শাহেনশাহ্, শরীয়তে মাওলানা, পীরে কামেল, গােপন দরবেশ না প্রকাশিত দরবেশ, নায়েবে রসুল, হেদায়েতকারী আউলিয়া। (দৈনিক আমাদের সময়, ৮ই মে ২০১১ইং) 

এসব খেতাবের একটিরও তার কাছে কণা পরিমাণ যােগ্যতা নেই। বিশ্বের বড়। বড় আউলিয়া ও সাহাবাগণ এমনকি নবী-রাসূলগণ পর্যন্ত নিজেদের নামের সঙ্গে নিজেরা কোন খেতাব ব্যবহার করেন নি। 

বসুমতীর কুফুরী আকীদা-বিশ্বাস 

১. আল্লাহ অসহায় ও বসুমতীর মুখাপেক্ষী। 

২. বসুমতী আল্লাহর ইজ্জত-সম্মান রক্ষাকারী। 

৩. তার কালবের মােবাইলে আল্লাহ টেলিফোন করেন। 

৪. আল্লাহ তাকে টিভির চ্যানেল খুলে দেখার আদেশ করেন। 

৫. স্বয়ং আল্লাহ তাকে কুরআন ও রাজনৈতিক শিক্ষা দেন। 

৬. সব সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূল তাকে দিয়েছে। 

৭. ব্রিাইল তার মুরীদ ও অনুগত। (সূত্র: দৈনিক আমাদের সময়, ৮ই মে ২০১১ইং)।

বসুমতী পীরের আকীদা-বিশ্বাস নং-১

 ভাল-মন্দ সব সিদ্ধান্ত পীরের হাতে। বসুমতী পীর দৈনিক আমাদের সময়, ৮ই মে ২০১১ ইংরেজী তারিখের এ পত্রিকার ১৮তম পর্বে লিখেছে, 

প্রশ্নঃ হুজুর বাংলাদেশে যানজট, গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের মারাত্মক সমস্যা। এ বিষয়ে আপনি কোন সিদ্ধান্ত দিবেন কি?

 উত্তরঃ সব সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূল আমাকে দিয়েছেন। যানজট গজবে বাংলাদেশের সরকার ও ব্যবসায়ীদের প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয় অর্থনীতিবিদরা বলেছেন যা আমি টিভিতে দেখেছি। আমার মুরীদরা ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত আমি আল্লাহর কাছে সুপারিশ করতে পারি না। মুরিদ ছাড়া আমি সুপারিশ করলে আল্লাহ আমার মন্ত্ৰীন্ত বাতিল করে দিবে…………..। 

 তার বিপক্ষে দলিলঃ

 বসুমতীর এই আকীদা সম্পূর্ণ কুরআন-হাদীস পরিপন্থী। এমন আকীদা পােষণকারীকে মুসলমানই বলা যায় না, পীর হওয়া দূরের কথা। পীর সাহেব দাবী করলেন, সব (ভালমন্দ) সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূল তাকে দিয়েছে। অথচ আল্লাহ তাআলা তার সবচেয়ে প্রিয় রাসূল (সাঃ) কে বলেন,

قل لا املك لنفتی نفعا ولا ضرا الا ما شاء الله

অর্থঃ হে নবী আপনি বলুন, আমি আমার লাভ ও ক্ষতির মালিক না, আল্লাহ যা চান তা ছাড়া। (সূরা ইউনুস, আয়াত: ৪৯) ,

وان يمسسك الله بضر فلا كاشف له الا هو وان يمسسك بخير فهو

” على كل شئ قدير.

অর্থঃ আল্লাহ যদি তােমাকে কোন ক্ষতি স্পর্শ করান, তাহলে তিনি ব্যতিত উহা দূর করার কেউ নেই। আর যদি তিনি তােমার কল্যাণ করলে তবে তিনিই তাে সর্ববিষয়ে শক্তিমান। (সূরা আনআম, আয়াত: ১৭)।

হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে:

والخيال لیدی

অর্থঃ ভাল-মন্দ সবই তােমার (আল্লাহর) হাতে। সুতরাং কুরআন হাদীসের বর্ণনা দ্বারা স্পষ্ট হলাে ভাল-মন্দ সব সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এরও ছিল না। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারাে প্রতি এমন বিশ্বাস রাখা গােমরাহী ও শিরক।

 বসুমতীর আকীদা বিশ্বাস নং-২

 কালিমা পরিবর্তনঃ বসুমতী পীর নাসির উদ্দিন লিখেছে “হুজুর (বসুমতী পীর) বলেন, আমি জিব্রাইকে বললাম, আল্লাহ আমাকে যখন রাসূল (সাঃ) এর প্রতিনিধি ও হেদায়েতকারী আউলিয়া হিসাবে নিয়ােগ দিয়েছিলাে তখন আল্লাহ তােমাকেসহ সকল বিশ্ব সৃষ্টিকে নির্দেশ দিয়েছিল এই বলে যে, তােমরা বল: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মান তাজিদা লাহু আউলিয়া মুর্শেদা। আল্লাহর নির্দেশ পেয়ে সকল সৃষ্টি এই স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়েছিল। শুধু বাকী ছিল জ্বিন এবং ইনছান। তারপর আমি জিব্রাইলকে বললাম, তুমি কি আমাকে এই স্বীকৃতি দিয়েছিলে? জিব্রাইল বলল, জ্বি হুজুর, আল্লাহর নির্দেশ পেয়ে অবশ্যই আমি আপনাকে এই স্বীকৃতি দিয়েছিলাম।

তার বিপক্ষে দলিলঃ

 কালিমা সম্বন্ধে আহলে হকের আকীদা হল, কালিমা তায়্যিবা তাওহীদের মূলভিত্তি এবং এতে রিসালাতের স্বীকৃতি ও ঘােষণা দেওয়া হয়। এই কালিমাটি বিশ্লেষণ করলে তুিনটি অংশ পাওয়া যায়। প্রথম অংশ لا اله । দ্বিতীয় الا الله অংশ। তৃতীয় অংশ محمد رسول الله অর্থাৎ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর রাসূল। কালিমার এই তিনটি অংশের একটি অংশকেও অস্বীকারকারীকে মু’মিন বলা যায় না। কেননা, আল্লাহকে বিশ্বাস করা যেমন জরুরী, আল্লাহর রাসূলকে বিশ্বাস করাও তেমন জরুরী। তৃতীয় অংশ অর্থাৎ রাসূলকে বিশ্বাস না করলে আল্লাহকেও বিশ্বাস করা হয় না। কারণ, রাসূলের কাছেই আল্লাহর বাণী এসেছে। বসুমতী পীর কালিমার তৃতীয় অংশ অর্থাৎ محمد رسول الله এর স্থানে ‘মান তাজিদা লাহু আউলিয়া মাের্শেদা’ আনার অর্থ হল কালিমার তৃতীয় অংশ অবিশ্বাস করা। অতএব, প্রমাণ হল, সে কালিমার তৃতীয় অংশ অবিশ্বাসকারী। আর যে তা। অবিশ্বাস করে সে মুসলমানই নয়, পীর হওয়া তাে দূরের কথা।

 বসুমতী পীরের আকীদা-বিশ্বাস নং- ৩

 আল্লাহ রাজনীতির কারণে অসহায়। বসুমতী পীর লিখেছে, তাকে আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি আল্লাহ সর্ব শক্তিমান এটা সত্য, তবে আমি যে আমার রাজনীতির কারণে অসহায়। যে কারণে আমি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছি না। আমি প্রতিশ্রুতিভঙ্গ করতে পারছি না। আমি নিরুপায় তুমিই ব্যবস্থা গ্রহণ কর। (সূত্র: দৈনিক আমাদের সময়, ৮ই মে ২০১১ইং)

তার বিপক্ষে দলিলঃ

বসুমতীর এ আকীদা সম্পূর্ণ কুরআন পরিপন্থী কুফরী আকিদা। কেননা, কুরআনে বলা হয়েছে,

پایها الناس انتم الفقراء إلى الله والله هو الغنى الحميد”

অর্থঃ হে মানবগণ! তােমরা আল্লাহ তাআলার মুখাপেক্ষী এবং আল্লাহ হলেন। বেনিয়াজ, সর্বগুণে গুণান্বিত। (সূরা আল-ফাতির, আয়াত: ১৫)

 

الله الصمد   অর্থঃ আল্লাহ অমুখাপেক্ষী (সূরা ইখলাস, আয়াত: ২)

تبرک الذي بيده الملك وهو على كل شئ قدير .

অর্থঃ বরকতময় তিনি, যার হাতে সর্বময় কর্তৃতু। আর তিনি সব কিছুর উপর। সর্বশক্তিমান। (সূরা মূলক, আয়াত: ১) সুতরাং কুরআনের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দ্বারা এ কথা প্রমাণিত হল যে, বসুমতীর এই আকীদা ঈমান বিধ্বংসী। এমন আকীদা পােষণকারীকে মুসলমান বলা যায় না, পীর হওয়ার প্রশ্নই উঠে না। 

 

বসুমতী পীরের আকীদা-বিশ্বাস নং- ৪ 

বসুমতী পীর আল্লাহর সম্মান রক্ষাকারী। বসুমতী পীর লিখেছে, আল্লাহ নাকি তাকে বলেন, “অতি সত্বর ব্যবস্থা গ্রহণ কর, না হলে লেবাননের এই মহিলার বক্তব্যে আমার ইজ্জত সম্মান কিছুই থাকছে না। আমি লজ্জায় মরে যাচ্ছি। উত্তরে আমি আল্লাহকে বললাম, তুমি ধৈৰ্য্য ধর এবং শান্ত হও। আমি অতি সতুর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।” (সূত্র, আমাদের সময়, ৮ই মে ২০১১ইং) 

 

তার বিপক্ষে দলিলঃ।

 আল্লাহ সম্বন্ধে এমন গাঁজাখুরী কথা শয়তানও বলতে সাহস পায় না। কিন্তু বসুমতী ইবলিস তা বলতে একটু সংকোচও করে নাই। মূলত: সে এ যুগের দাজ্জাল বৈ কিছু নয়। আল্লাহ সম্বন্ধে সহীহ আকীদা হল, আল্লাহ সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল, সম্মান, অসম্মান সব তার হাতে। বান্দা ইবাদত করলে আল্লাহর এ সম্মান বাড়ে না, নাফরমানী করলেও তার সম্মান কিঞ্চিৎ কমে না। তিনি যাকে ইচ্ছা সম্মানিত করেন, যাকে ইচ্ছা অপমানিত করেন। এ সম্বন্ধে কুরআনে বলা , হয়েছে ,               وتعز من تشاء وتذل من تشاء بيدك الخير انك على كل شئ قدير

অর্থঃ (আল্লাহ) যাকে ইচ্ছা সম্মান দান করেন আর যাকে ইচ্ছা অপমানে পতিত করেন। তােমারই (আল্লাহর) হাতে রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ। নিশ্চয়ই তুমি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাশীল। (সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ২৬) অন্যত্র বলা হয়েছে,

ان الفضل بيد الله يؤتيه من يشاء والله واس عليه

অথঃ আপনি বলুন, অবশ্যই মর্যাদা ও সম্মান আল্লাহর হাতে, তিনি তা যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। আর আল্লাহ প্রশস্ত, সর্বজ্ঞ। (সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ৭৩)। সুতরাং বসুমতী আউলিয়া কুরআনের এসব আয়াতের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বেঈমান বলে সাব্যস্ত হল। এতে সন্দেহের অবকাশ নাই।