হাটহাজারী মাদরাসার শাহি মসজিদের মাইক থেকে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সরকারের উদ্দেশ্যে ৫ দফা দাবি জানানো হয়েছে। সেগুলো হলো-
নাম্বার- ১. ঢাকার বাইতুল মোকাররমসহ সারাদেশে মুসুল্লিদের উপর হামলার প্রতিবাদে হাটহাজারী মাদরাসার বিক্ষোভরত ছাত্রদের উপরে পুলিশ কর্তৃক গুলিয়ে চালিয়ে যাদেরকে হত্যা করা হয়েছে, দ্রুত তাদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
নাম্বার- ২. ছাত্রজনতার উপর গুলি ও হামলা বন্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে আইন পাশ করতে হবে।
নাম্বার- ৩. হাটহাজারীতে নিহতদের ক্ষতিপূরণ ও আহতদের চিকিৎসার খরচ হাটহাজারী থানার প্রশাসনকে বহন করতে হবে এবং সারাদেশে নিহত ও আহদের ক্ষতিপূরণ সরকারকে বহন করতে হবে।
নাম্বার- ৪. চট্টগ্রাম মেডিকেলে আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসায় অবহেলাকারী ডাক্তারদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
নাম্বার- ৫. ওসি রবি (রবিউল ইসলাম)সহ হাটহাজারীতে হামলার ইন্ধনদাতাদের হাটহাজারী থানা থেকে বরখাস্ত করতে হবে এবং ওসি রবিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে।
ভিপি নুর ভাইয়ের সাথে আন্দোলনে গেলেই নাকি মাইর খাওয়া লাগে তাই আগামীকাল ২৫ মার্চ সকাল ১১টায়
পল্টনে মাইর খাওয়ার জন্য নুরু ভাইয়ের ডাকে মোদি বিরুধী আন্দোলনে শরীক হব আমাদের মাইরের বিনিময়েও যদি কসাই মোদি এদেশে না আসে তবে আমরা সফল!
আরেকটা বিষয় ব্যানারটা কে ধরে আছে..? নেতৃত্ব কে দিচ্ছে..? সেটা না দেখে ব্যানারে কি লিখা আছে সেটা ভেবে মুসলিমদের রক্তে রঞ্জিত মোদি বিরুধী এই ঈমানী আন্দোলনে সকলেই শরীক থাকবেন ইনশাআল্লাহ!
ময়দানে হুংকার দিলাম মোদিকে আসতে দেওয়া হবে না জুতা আর ঝাড়ু প্রস্তুত অথচ এখন বলব আমরা কি সরকারের সাথে যুদ্ধ করব..?
তবে কি সরকার অনুমতি দিলে আমরা বাঘ না দিলে……..
অনেকে যুক্তি দিচ্ছে ছাত্রদের পরীক্ষা এই সেই আরে ভাই কি বলতেছেন বুঝে বলতেছেন নাকি কাউকে খুশি করার জন্য অন্ধভক্তের মত হয়ে গেছেন..?
শুনেন আপনাদের কথায় ত বুঝা যায় আমরা যারা ময়দানে হুংকার দিয়েছিলাম মোদি আসলে জুতা ঝাড়ু
রেডি আছে এয়ারপোর্ট ঘেরাও করা হবে কেয়ামত হবে তার মানে আপনাদের কথা অনুযায়ী বলতে হয় আমরা মনে হয় জানতামই না ছাত্রদের পরীক্ষা আছে জানলে হয়তো বলতাম না,নাকি এটা শুধুই খালি মাঠে গোল দেওয়া..?জানি সরকার এই ইস্যুতে হার্ড লাইনে যাবে তবুও মোদিকে আনবেই!
সরকার হার্ডলাইনে যাবে প্রশাসন এয়ারপোর্ট অভিমুখে যেতে দিবে না,যেতে বাঁধা দিত!জাতি দেখত আমরা আমাদের কথা রেখেছি আমরাও ঘরে চলে আসতাম নিজেকে সান্ত্বনা দিতে পারতাম!
আচ্ছা সব বাদ দিলাম সংবাদ সম্মেলন করে মোদির বিরুদ্ধে কর্মসূচি নেই এই কথা বলে কি করে আমরা অগ্রিম ক্লিয়ারেন্স দিয়ে দিলাম.?এখন ত সরকার নিশ্চিন্ত মোদিও নিরাপদ,তাহলে এই কথিত সংবাদ সম্মেলন গুলোর কি খুব প্রয়োজন ছিল.?
আসলে আমরা কাকে খুশি করছি..?যাদের বিরুদ্ধে এতদিন হুংকার দিলাম তাদেরকেই নয়তো..?
এ জন্যই আল্লাহর উপর ভরসা করে নুরু ভাইয়ের ব্যানারে হলেও এই আন্দোলনে আমি শরীক থাকব
আমি এটাও জানি ভিপি নুরের সাথে আন্দোলনে শরীক হয়ে মাইর খেয়ে জেলে গেলে হয়তোবা কেউ আমাদের ব্যাপারে কথা বলবে না,কেউ কথা না বললেও আমাদের কোন কিছু যায় আসে না!
কে আমার পক্ষ নিবে এগুলো চিন্তা করে কথা বলিনা আমি আমার আল্লাহকে রাজি খুশি করার জন্যই কথা বলতে চাই!
মুক্ত থেকে কসাই মোদিকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেখার চেয়ে জেলে চলে যাওয়া অনেক ভাল।
শব-ই বারাআত কি?
পবিত্র আল-কুরআনে শব-ই বারাআতঃ
ক. লাইলাতুম মুবারাকা।
খ. লাইলাতুল বারাআত।
গ. লাইলাতুছ্ ছাক এবং
ঘ. লাইলাতুন নিসফি মিন শা’বানউল্লেখযোগ্য কিতাবসমূহের নামঃ
হাদীসের আলোকে লাইলাতুল বারাআতের দলীলঃ
এই রাতের আমলঃ
হযরত আলা ইবনুল হারিস (রহঃ) থেকে বর্ণিত, হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে নামাযে দাঁড়ান এবং এত দীর্ঘ সেজদা করেন যে, আমার ধারণা হল তিনি হয়ত মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি তখন উঠে তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম। তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নড়ল। যখন তিনি সেজদা থেকে উঠলেন এবং নামায শেষ করলেন তখন আমাকে লক্ষ্য করে বললেনঃ ওহে আয়শা অথবা বলেছেন, ওও হুমাইরা! তোমার কি এই আশংকা হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার হক নষ্ট করবেন?” আমি উত্তরে বললাম, জ্বি না! ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম। আপনার দীর্ঘ সেজদা থেকে আমার এই আশংকা হয়েছিল, আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন কিনা। নবীজী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম জিঞ্চেস করলেনঃ “তুমি কি জান এটা কোন রাত?” আমি বললাম, আল্লাহ ও তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লামই ভাল জানেন! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম তখন ইরশাদ করলেনঃ
এই হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয়, এ রাতে দীর্ঘ নফল পড়া, যাতে সেজদাও দীর্ঘ হবে, শরীয়তের দৃষ্টিতে কাম্য। তবে মনে রাখতে হবে যে, অনেক অনির্ভরযোগ্য ওয়ীফার বই-পুস্তকে নামাযের যে নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন লেখা আছে অর্থাৎ এত রাকাআত হতে হবে, প্রতি রাকাআতে এই সূরা এতবার পড়তে হবে – এগুলো ঠিক নয়।
হাদীস শরীফে এসব নেই। এগুলো মানুষের মনগড়া পন্থা। সঠিক পদ্ধতি হল, নফল নামাযের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী দুই রাকআত করে যত রাকআত সম্ভব হয় পড়তে থাকা। কুরআন কারীম তেলওয়াত করা। দরূদ শরীফ পড়া। ইস্তেগফার করা। দুআ করা এবং কিছুটা ঘুমের প্রয়োজন হলে ঘুমানো। এমন যেন না হয় যে, সারা রাতের দীর্ঘ ইবাদতের ক্লান্তিতে ফজরের নামায জামাআতের সাথে পড়া সম্ভব হল না।পরদিন রোযা রাখাঃ
এ রাতের নফল আমলসমূহ সম্মিলিত নয়! বরং ব্যক্তিগতঃ
শব-ই বারাআতের হালুয়া-রুটিঃ
এ রাতে আমাদের করণীয়ঃ
বঙ্গবন্ধুর বাবা ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম ৷ মসজিদে আযান দিতেন ৷ মানুষকে নামাযের জন্য ডাকতেন ৷
কত বছর আগের কথা এটা?
বড় জোর সত্তুর বছর!
আর সত্তুর বছর পর তার পরবর্তি প্রজন্মের কী অবস্থা?
বঙ্গবন্ধুর চতুর্থ প্রজন্ম হচ্ছে খ্রীষ্টান ৷
জয়ের সন্তান হলে পিতৃপরিচয় সূত্রে মুসলিম বলে হয়ত গণ্য করা যাবে ৷
কিন্তু টিউলিপের পেটে জন্ম নেয়া খ্রীষ্টান পিতার সন্তানকে খ্রীষ্টান না বলে কী বলবেন?
মুসলিম বাংলাদেশ খ্রীষ্টরাজ্যে পরিণত হতে কত বছর লাগছে?
উপরোক্ত তথ্য আপনাকে সহজেই সে প্রশ্নের জবাব বলে দিবে ৷
এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ! জয় বাংলা!
গতকাল রুপগঞ্জে শায়খ আবদুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ সাহেবের মাদরাসার কয়েকশো গজ দূরে যুবকদের উদ্যোগে মাহফিল ছিল৷ শায়খ লুৎফুর রহমান ফারায়েজি এবং আমি আলোচক হিসেবে সে মাহফিলে অংশগ্রহণ করি৷
এশার পর মাহফিলস্থলে উপস্থিত হয়ে পুরো থমথমে পরিবেশ দেখতে পাই৷ আহলে হাদিস ভাইরা কোনভাবে মাহফিল করতে দিবেন না৷ ফারায়েজি এবং আবরারকে তারা দেখে ছাড়বেন৷
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি প্রথমে আমার সাথে দেখা করে স্বাভাবিক কথা বলার অনুরোধ করেন৷ আমি বলেছি, যেহেতু আপনাদের এলাকায় কয়েকদিন পর পর কনফারেন্স করে আমাদের নামে অপপ্রচার ছড়ানো হয়৷ সেহেতু আমাদের জবাব দেওয়ার প্রয়োজন৷ অন্তত আমাদের আমলের দলিল মানুষের জানার প্রয়োজন আছে৷
ফারায়েজি সাহেব এবং আমি উভয়ে গাড়িভরে কিতাব নিয়ে গিয়েছিলাম৷ কিন্তু জনপ্রতিনিধির অনুরোধে কেউই কিতাব স্টেজে নিই নি৷
আমি রাত নয়টায় বয়ানে বসি৷ প্রথমে হায়াতুন নবি, তারপর শবে বরাত এবং শেষে মাজহাবের বাস্তবতা নিয়ে কিছু কথা বলি৷ শেষে একথাও বলে এসেছি যে, এ বিষয়গুলো নিয়ে যদি কেউ বিতর্ক করতে চান, তাহলে আমরা তাকে স্বাগত জানাব৷ নিরপেক্ষ যে কোন জায়গায় বসে আমরা সমাধান করে নিব৷ আপনারা এগুলো নিয়ে বাড়াবাড়ি করবেন না৷
ফারায়েজি সাহেব দশটার দিকে স্টেজে যান৷ আয়োজকরা আমাকে প্রশ্নোত্তর পর্ব করার অনুরোধ করেছিলেন৷ কিন্তু শায়খ চলে যাওয়ায় আমি বয়ান সংক্ষিপ্ত করে নেমে পড়ি৷
ফারায়েজি সাহেব স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা শুরু করেন৷ আমি দেরি না করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে পড়ি৷ স্থানীয় যুবকদের কাফেলা মটর সাইকেলে করে আমাকে এশিয়ান হাইওয়ে পর্যন্ত এগিয়ে দেয়৷
ঢাকার কাছাকাছি এসে খবর পাই মাহফিলে আহলে হাদিস ভাইরা তুমুল মারামারি করেছেন৷ ফারায়েজি সাহেবকে মারতে চেয়েছেন৷ স্থানীয় মসজিদের ইমাম আমিনুল ইসলাম সাহেবকে পিটিয়েছেন!
প্রিয় উগ্র সালাফি ভাইয়েরা! আপনাদের শক্তি ছিল৷ এজন্য ইমাম সাহেবকে পিটিয়েছেন এবং মাহফিল বন্ধ করে দিয়েছেন! আপনাদের মিথ্যাচার এবং জালিয়াতির মুখোশ তো ইতিমধ্যে খসে পড়েছে৷ অপেক্ষা করুন৷ সময় কথা বলবে৷
ফেসবুক টাইমলাইন: রেজাউল করিম আবরার
ছোট বেলা থেকে না জেনেই হানাফী মাজহাব পালন করে বড় হয়েছি। নামাজ শিক্ষার যে বই গুলি বাসায় ছিল – সব ছিল নিউজপ্রিন্টের। ভিতরে খালি মাসআলা ছিল। কুরআন হাদিসের কোন রেফারেন্স ছিলোনা। ছিল ব্র্যাকেটে ফতোয়ায়ে আলমগিরির রেফারেন্স। যা কি জিনিস জানতাম না।
বড় হলে আহলে হাদীস ও সালাফিদের বই পড়লাম। কুরআন ও হাদিসের প্রচুর রেফারেন্স দেয়াতে খুব ভালো লাগলো। তারা বললো: তুমি এসব মাজহাব ছাড়। সহীহ হাদিস মেনে ইবাদত করো। অন্ধ তাকলীদ করো না।
হানাফীরা ইমাম আবু হানিফা ও অন্যন্য মুকাল্লিদরা অন্যন্য ইমামদের ফিকহ মানে, এর চেয়ে সহীহ হাদিস মানো । একটু এক্সট্রিম কেউ কেউ তাকলীদকে শিরক বললো, বললো বুদ্ধি থাকলে তাকলীদ করতে হবে কেনো। এরকমই আরো কিছু কথা সুন্দর সুন্দর কথা ।
আমার কথা গুলো বেশ মনে ধরলো। হানাফী থেকে আহলে হাদীস ইচ্ছা জাগলো । মাজহাবের তাকলীদ বাদ দিয়ে সহীহ হাদিসের উপর আমল করার ইচ্ছা জাগলো। হাতে টাকা ছিল – জোগাড় করলাম সিহাহ সিত্তাহ, বাংলা-আরবী। আরবী স্কিপ করে বাংলায় সহীহ হাদিস পড়া শুরু করলাম।
কিন্তু ওযু ও গোসল অধ্যায়ই শেষ করতে পারলাম না। নামাজ তো আরো পরে।
রাসূলুল্লাহ (দঃ) এর ওযুর বিভিন্ন ধরণের বর্ণনা আছে। কোনটা মেনে ওযু করবো ? ছোট একটা জিনিসই ধরি। কিছু জায়গায় অঙ্গ দুবার করে ধোয়ার কথা বলা আছে , কিছু জায়গায় তিনবার, কিছু জায়গায় একবার। আমি যদি দুবার করে ধৌত করি তাহলে একটা সহীহ হাদিস আমি মান্য করছিনা, তিন বার ধুলে অন্য আরেকটি সহীহ হাদিস মান্য করছিনা ।
প্রশ্ন ১: আমি এই যে কিছু সহীহ হাদিস মানতে যেয়ে অন্য সহীহ হাদিস মান্য করছিনা, সেগুলো খুঁজে খুঁজে বের করে রেফারেন্স দিয়ে কেউ যদি বলে আমি সহীহ হাদিস মানিনা সেটা কি ঠিক হবে ? এর মানে কি আমি সহীহ হাদিস অমান্যকারী ?
এখন আমার কথা না হয় বাদই দিলাম। আমি পড়ালেখা করেছি, বই পড়ার উৎসাহ আছে, ইসলামের প্রতি ঝোক আছে। এদের কথা ধরেন : আমাদের বাসার বুয়া বা বিল্ডিং এর কেয়ারটেকার পড়াশোনা করতে পারেনা। আমার বন্ধু কয়েকজন যারা পড়ালেখা জানলেও ইসলামী বই অধ্যায়ন করেনা কারণ ইসলামের প্রতি আগ্রহ নেই । আমার ছেলে যার বয়স যখন ৭ হয়েছে। এদের কেউ ওযু পারেনা।
প্রশ্ন ২: তাদের কে শিখানোর জন্য যদি আমি যদি বুখারীর ও অন্যন্য হাদিস গ্রন্হের ওযু অধ্যায়ের সহীহ হাদিস গুলি সিরিয়ালি তাদের কাছে শুধু বাংলায় রিডিং পড়া শুরু করি, তারা কি সেগুলি বুঝে ঠিক মতো আমল করতে পারবে ?
প্রশ্ন ৩: যদি তারা না বুঝে তাহলে তো আমাকে তাদের দেখিয়ে দিতে হবে কিভাবে ওযু করতে হয় । তখন আমি বুখারীর ও অন্যন্য হাদিস গ্রন্হের ওযু অধ্যায়ে উল্লেখিত বাংলা সহীহ হাদিস গুলি সমন্বয় করে বা সেখান থেকে বেছে নিয়ে আমার বুঝ অনুযায়ী তাদের শিখাবো। এতে কি তারা সহীহ হাদিস মানলো নাকি আমার বুঝ ও ব্যাখ্যা মানলো ? এই ব্যাখ্যাই কি ফিকহ না ?
প্রশ্ন ৪: যখন আমি বুঝিয়ে দিচ্ছি, তখন আমার হাদিসের টেক্সট ও রেফারেন্স দেয়া কি আমার জন্য জরুরি হবে ? বাস্তবেই কি তারা প্রত্যেকটির শিক্ষার পিছনের হাদিসের রেফারেন্স চাবে ? নাকি বলবে শুধু ওযু শিখিয়ে দাও ? এটি কি আমার উপর বিশ্বাস করে অন্ধ তাকলীদ করা নয় কি ? যদি রেফারেন্স দিয়েও দি তাও কি তারা সহীহ থেকে জাল হাদিস পার্থক্য করতে পারবে ?
প্রশ্ন ৫:একটি হাদিস যে আমি সহীহ হাদিস কিভাবে বুঝছি ? ব্র্যাকেটে লেখা আছে বলে। আমার সামর্থ্য নাই হাদিস শাস্ত্র অধ্যয়ন করে সহীহ যঈফ আলাদা করার। কেউ তাহকীক করে লিখে দিয়েছে। সেটাই চোখ বন্ধ করে মেনে নিচ্ছি। কেউ বুখারী অনুবাদ করে দিয়েছে, আমিও মেনে নিচ্ছি সেটা সঠিক অনুবাদ, কারণ আমার পক্ষে আরবি বুঝে অনুবাদের ত্রুটি ধরা সম্ভব না । এই তাহকীক ও অনুবাদ যে সঠিক মেনে নেয়া হচ্ছে সেটা কি অন্ধ তাকলীদ নয় ?
প্রশ্ন ৬: ওযুর মতো অতি সহজ ব্যাপারে আমার যদি এই অবস্থা হয়, নামাজের মতো অতি জটিল ব্যাপারে কি আমার পক্ষে সহীহ হাদিস পড়ে নামাজ শিক্ষা করা কিভাবে সম্ভব ? যদি আমার পক্ষেই সম্ভব না হয় আমার ৭ বছরের ছেলে কিংবা পড়ালেখা না জানা বুয়ার পক্ষে কিভাবে সম্ভব ?
প্রশ্ন ৭: যদি সম্ভব না হয় তাহলে আমাকে এমন একজনের আলিমের দারস্ত হতে হবে যিনি সব হাদিস পড়ে বুঝে আমাকে নামাজের নিয়ম কানুন বুঝিয়ে দিবেন,তাইনা ? হাদিস গুলির সমন্বয় করে যদি উনি ব্যাখ্যাই করেন তাহলে ফিকহ তো ফিকহই হয়ে গেলো । এই ক্ষেত্রে আমি কি সহীহ হাদিস মানছি নাকি ফিকহ ? এই ফিকহ মানার মাধ্যমে আমি কি বাস্তবে আমি সমন্বয়কৃত সহীহ হাদিসই মানছি না ?
প্রশ্ন ৮: আমি যদি আরেকজন আলিমের কাছে যাই এবং একই অনুরোধ করি হাদিস ঘেটে নিয়ম কানুন বানিয়ে দেয়ার জন্য । উনিও সব হাদিস ঘেটে আমাকে নিয়ম বানিয়ে দিলেন। প্রথম আলিমের নিয়ম গুলি আর দ্বিতীয় আলিমের নিয়ম গুলি কি হুবুহু একই হবে ? নাকি তাদের দুজনের সমন্বয় পদ্ধতি আলাদা হতে পারে ?
একজনের কাছে এক হাদিস বেশি সহীহ অন্য জনের কাছে কম সহীহ লাগতে পারে না ? দুজন একই হাদিসের অর্থ কে দুই ভাবে নিতে পারে ? তারা কি আরবি ইবারত ভিন্ন ভাবে পড়তে পারেনা ? হাদিসের শত শত কিতাবের উনি হয়তো কিছু পড়েছেন অন্যজন কিছু ? রাবী দুর্বল কিনা এই নিয়ে ইখতেলাফ আছেনা ? কারো কারো মতে বুখারী সব চেয়ে সহীহ, কারো মতে মুয়াত্তা ইমাম মালিক, এরকম অচেনা ?
আরো কত কারণ আছে, হাদিস শাস্ত্র কি অংকের মতো যে রেজাল্ট একটাই হবে ? তাহলে দুজনেরই সহীহ হাদিস মানা সত্ত্বেও দুজনের নামাজের নিয়ম দুই ধরণের হতে পারেনা ? আমার কি সেই যোগ্যতা আছে যে আমি বলতে পারবো প্রথম জন বেশি ঠিক না দ্বিতীয় জন ?
প্রশ্ন ৯: ধরেন আমি প্রথম আলিমের কাছে যাওয়ার পর উনি আমার অনুরোধে সকল হাদিস ঘেটে আমার জন্য নামাজের নিয়ম বানিয়ে দিয়েছেন। এখন আমার ভাই যদি তার কাছে যেয়ে একই অনুরোধ করে তাহলে কি তিনি এই কাজটি হাদিস ঘাটার কাজটি কি আবার করবেন ? নাকি আমাকে যে নিয়ম গুলি উনি দিয়েছেন সেগুলিই আমার ভাইকেও দিয়ে দিবেন ? আমার ভাই আজ থেকে ১০ বছর পর গেলে একই নিয়মি তো পাবেন ওই আলিম থেকে তাইনা (কারণ যে হাদিস দেখে নিয়ম তৈরী করেছেন সেই হাদিস তো আর ১০ বছরে পরিবর্তন হয়নি) ? ৫০ বছর পর কেউ গেলে ? এখানে কি নামাজের নিয়ম পরিবর্তন হওয়ার খুব বেশি সুযোগ আছে ? ১৩০০ বছর পর ? নাকি প্রত্যেকবার শুরু থেকে হাদিস ঘাটতে হবে ?
যদি পরে আমরা প্রথম আলিমের বের করা নিয়ম কে মাজহাব বা ফিকহে X ও দ্বিতীয় আলিমের বের করা নিয়ম কে মাজহাব বা ফিকহে Y নাম দি , তাহলে X ও Y ফলো করা কি ১৩০০ বছর পর হারাম হয়ে যাবে, যেখানে এটি ১৩০০ বছর আগে সহীহ ছিল ?
প্রশ্ন ১০: নামাজ তো আর নতুন জিনিস না। এটি ইসলামের শুরু থেকে চলছে। তাহলে এই হাদিস ঘাটাঘাটি করে নামাজের নিয়ম বের করার কাজও তখন থেকেই হওয়ার কথা। তখন থেকেই যদি ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) বা ইমাম মালিক (রহঃ) বা ইমাম শাফেঈ (রহঃ) বা ইমাম আহমদ (রহঃ) যদি এই হাদিস ঘাটাঘাটি করে নামাজের নিয়ম বের করার কাজটি করে গিয়ে থাকেন, নামাজের নিয়ম তো আর পরিবর্তন হয়নি, তাহলে এখন সেগুলি মানতে সমস্যা কোথায় ?
ইমাম নাসিরুদ্দিন আলবানী সাহেব এই যুগে এসে হাদিস ঘাটাঘাটি করে যে নিয়ম বের করেছেন তা ওগুলোর উপর প্রাধান্য পাবে কেন ? ওই চার ইমামের কারো যোগ্যতা কি ইমাম নাসিরুদ্দিন আলবানী সাহেবের চেয়ে কম ছিল ?
প্রশ্ন ১১: এখন যদি কেউ বলেন যে সাহাবীরা রাসূলুল্লাহ (দঃ) এর ওফাতের পর সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েন। এক্ষেত্রে দুটি বিষয় হতে পারে।
হয়তো প্রধান সাহাবীরা যেসব এলাকায় গিয়েছিলেন বা ছিলেন সেসব জায়গায় নামাজ সম্পর্কিত সব হাদিস ছিল। এই ক্ষেত্রে ইমাম আবু হানিফার কাছে কুফায় বা ইমাম মালিকের কাছে মদিনায় নামাজ সংক্রান্ত সব হাদিস ছিল। এই ক্ষেত্রে তারা এসব বেছেই নামাজের নিয়ম বানিয়েছেন। ওই নিয়ম ফলো করতে আপত্তি কোথায় ?
অথবা . সাহাবীরা যেসব এলাকায় গিয়েছিলেন সেখানে নামাজ সম্পর্কিত সব হাদিস ছিলোনা, কিছু হাদিস ছিল।
তাই কোনো এক এলাকায় যেমন ইমাম আবু হানিফার কুফায় কিংবা ইমাম মালিকের মদিনায় সব হাদিস ছিলোনা। পরে সব হাদিস একত্রিত হয়েছে। তাই সব হাদিস বাছাই করে বানানো ল্যাটেস্ট ইমাম আলবানী সাহেবের নামাজের নিয়ম বেশি শুদ্ধ।
আমার প্রশ্ন হচ্ছে ওই সব এলাকায় আংশিক হাদিস থেকে বানানো আংশিক নামাজের নিয়ম পালন করে যদি সালাফ তথা তাবেঈ ও তাবে-তাবেঈনরা শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম হয় তাহলে ওই আংশিক নিয়ম পালন করলে আমরা কেন ধরা খাব কিংবা সাওয়াব কম পাবো ?
প্রশ্ন ১২: সুন্নাহর বিস্তার এর একমাত্র মাধ্যম কি হাদিস ? এছাড়া কোন মাধ্যম নেই ? ওযুর কথাই ধরুন না। যখন সাহাবীরা তাদের সন্তান বা তাবেঈদের ওযু শিক্ষা দিতেন তখন কি শুধু হাদিস বর্ণনা করতেন ?
নাকি হাতে কলমে নবীজির (দঃ) এর কাছ থেকে শেখা ওযুর মতো করে ওযু করে অন্যদের শিক্ষা দিতেন ?
তাহলে তাবেঈ বা তাবেঈ-তাবেঈনদের সংস্পর্শে এসে প্র্যাকটিকাল নামাজ শিক্ষার পদ্ধতি ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) কিংবা ইমাম মালিকের (রহঃ) বেশি জানার কথা নাকি ইমাম নাসিরুদ্দিন আলবানী সাহেবের।
ইমাম আলবানীর কাছে তো শুধু হাদিস আছে , কিন্তু ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মালিকের কাছে হাদিসের সাথে সাথে প্র্যাকটিকাল শিক্ষাও তো ছিল। কার নামাজের নিয়ম বেশি শুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি ?
প্রশ্ন ১৩ঃ- ইমাম চতুষ্টয়ের বানানো নামাজের নিয়ম প্রায় ১৩০০ বছর ধরে মুসলিম উম্মাহ ফলো করে আসছে। উম্মাহর ইতিহাসের বাঘা বাঘা আলিম এগুলি মেনে নামাজ পড়েছেন । এমন সময় যখন ইসলাম দুনিয়াতে বিজয়ী ছিল, যখন মুসলিমদের ঈমান আমল ও ইখলাস বর্তমান মুসলিমদের চেয়ে বেশি ছিল। আর ইমাম নাসিরুদ্দিন আলবানীর তৈরী নামাজের নিয়ম অপেক্ষাকৃত অনেক কম মানুষ অনেক কম দিনের জন্য ফলো করছে, যখন মুসলিমদের ঈমান, আমল ও আখলাক সব চেয়ে নিচে। প্রথমোক্ত গ্রূপের বহু মুসলিমদের ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি নাকি দ্বিতীয় গ্রূপের কম মুসলিমদের ?
প্রশ্ন ১৪: কুরআনে বলা আছে শুধু মাত্র বাপ্ দাদারা করতো বলে কোন কিছু করা উচিত না। কিন্তু তা কি মুশরিক বাপ্ দাদাদের ব্যাপারে বলা হয়নি ? বাপ্ দাদা যদি মুসলিম হয় তাহলে তো তাদের মান্য করতে কোনো দোষ আছে ?
যেমন নবী ইয়াকুব (আঃ) মৃত্যুর সময় তার পুত্রদের জিজ্ঞাসা করেছিলেন তারা তার পরে কার ইবাদত করবে । তার ছেলেরা উত্তর দিয়েছিলেন তাদের বাপ্ দাদাদের উপাস্যের। বাপ্ দাদা সঠিক রাস্তায় থাকলে সেই রাস্তা দিয়ে হাটা যাবেনা এমন কথা কি বলা আছে ? নূহ (আঃ) এর ছেলে যদি এই যুক্তি দিত যে বাপ্ দাদা মেনে আসছে বলে আমরা মানবোনা এটা কি সঠিক হতো ?
এসব প্রশ্নের উত্তর আমাকে সালাফী হতে দিলোনা।
আমি হানাফীই থাকলাম। এবং মন ভরে দুআ করলাম সেই সব আলিমদের যারা আমাদের জন্য নিজেদের সারা জীবন বিলিয়ে দিয়ে সহজ ফিকহের কিতাব লিখে গিয়েছেন, যা মাত্র ১০০/২০০ টাকা দিয়ে কিনে কিংবা আলিমের সোহবতে শিখে আমল করে আমরা অমূল্য অফুরন্ত অনিঃশেষ জান্নাতের জন্য কাজ করতে পারি।
বিশেষ দ্রঃ ইমামে আজম আবু হানীফা রহ.একজন তাবেয়ী ছিলেন।
প্রিয় বন্ধুগণ,
দীর্ঘদিন আপনাদের সাথে এই ফেসবুক জগতে ছিলাম। যতটুকু পেরেছি ফেরাকে বাতেলার মুখোশউম্মোচনে কাজ করেছি। ইসলামের অপব্যখ্যাকারীদের প্রত্যেকটি বিভ্রান্তির জবাব দেয়ার চেষ্টা করেছি। অহেতুক পোষ্ট খুব কমই দিয়েছি। কারণ সকলের সময়ের দাম অনেক বেশী।
কিন্তু বর্তমান সময়ে আমাদের নিজেদের কামড়াকামড়ি ও কাদা ছোড়াছুড়ি, ইসলামী রাজনীতির নামে নিজস্ব ব্যানারের চিন্তা, ভালোবাসার আড়ালে অতি বাড়াবাড়ি আর তেলের ঘষাঘষি, ভক্তির নামে অন্ধপুজারী, ইসলামী বিপ্লবের চেয়ে দলের বিপ্লবের চিন্তা অনেক বেশী। কেউ এখন আর সামষ্টিক চেতনা লালন করেন না।
উপরন্তু আমরা যারা আহলে হকের সকলকে নিয়ে সামনে এগোতে চাই, আমাদেরকেই বরং বলা হয় আমরা নাকি গোলআলু! আমরা নাকি মাহফিল পাওয়ার ধান্ধায় সকলের কাছে ঘুরি। ভিন্ন দলের কারো সাথে সাক্ষাত করলেই সে দলের ট্যাগ লাগিয়ে দেয়া হয় আমাদেরকে। যা মেনে নেয়া খুব কষ্টের।
প্রিয় বন্ধু,
এখন সবাই বাঁশ বাগানে ঘোরে, ফুল বাগানে ঘোরার মানুষ খুবই কম। এ জগতে অনেক মানুষকে দেখেছি, যারা উপরে দেখতে অনেক নুরাণী বাট ভেতরে হিংসার ডিব্বা। কে কাকে থামাবে, কে কাকে বাঁশ দেবে সে চিন্তায় তাদের মাথার চুলে পাক ধরেছে। কারো কাছে ভিড়লেই তারা আমাদেরকে তাদের নিজস্ব স্বার্থে ব্যবহার করতে চান, মানে তারা আমাদেরকে তেলের সেলসম্যান বানাতে বদ্ধপরিকর। কিন্তু আমরা তো একমাত্র রবের দালাল।
আমি সব সময় হেফাযত,খেলাফত,চরমোনাই,জমিয়ত,তবলীগ দেওবন্দী সকল ধারাকে এক নজরেই দেখেছি,আজও দেখি। যতদিন আকীদা নষ্ট না হচ্ছে ততদিন একই নজরে দেখবো। কাউকে জোর করে বাতিল বানানো আমার চেতনা নয়। আমি আহলে হকের সকল দলকে এক হাতের পাঁচটি আঙ্গুল মনে করি। যখন ইসলাম বিদ্বেষীদের ধরবো, তখন মজবুতির জন্য পাঁচটি আঙ্গুলই তো আমার লাগবে। তাই নয় কি?
কখনও উস্তাযে মুহতারাম মামুনুল হক সাহেবের দোষচর্চা, কখনও মুফতী ফয়জুল করীম সাহেবকে অশ্রাব্য ভাষায় কটুক্তি, কখনও সমালোচনার তীর মুহতারাম আইয়ুবী সাহেবের দিকে, আবার কখনও মুহতারাম হাফিজ ভাই সমালোচকদের টার্গেটে পরিনত হচ্ছেন। অথচ তথাকথিত এ বিপ্লবী প্রতিবাদীরা এক কলম পন্নীকে নিয়ে লেখেনি, লেখেনি কাদিয়ানীকে নিয়েও। ওদের টার্গেটের স্বীকার কখনও হয়নি সাহাবাবিদ্বেষী মওদুদী।
এ দেশে খ্রীষ্টান মিশনারীর কাজ ধুমছে চলছে উত্তরবঙ্গে। এরা কখনও ওদেরকে নিয়ে ভাবতেও শেখেনি, কারণ সব মুসলিম বেঈমান হয়ে যাক এতে ওদের কি? এগুলো কোনো সমস্যাই না। সমস্যা শুধু নিজ দলের আলাদা শক্তি। এমন হাজারে ব্যাথা এ বুকে চেপে রাখি, স্বপ্ন দেখি একদিন সবাই এক হয়ে সকল বাতিলের জন্য মহাহুমকি হয়ে দাঁড়াবে। অবশ্য আমার এ চেতনা নিয়ে সারা দেশে আমার কার্যক্রম চলছে, একদিন একটা শক্তিশালী রেঁনেসা তৈরি করবো। ইনশাআল্লাহ। সেদিন আমরা সম্মিলিতভাবে সকল বাতিলের বিরুদ্ধে এক সাথে কথা বলবো। ইসলামী আকীদা সংরক্ষণ পরিষদ সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। আলহামদুলিল্লাহ।
প্রিয় ভাই,
আজ থেকে আপনাদের এ জগত থেকে বিদায় নিচ্ছি। অবশ্য আমার কার্যক্রম থেমে যাবে না। আমার নিয়মত লেখাগুলো পড়তে চাইলে আমার ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট rijwanrafiqi এ নজর রাখবেন। অবশ্য যদি কোনোদিন মন চায়, পরিবেশ ভালো হয় সেদিন আবার ফিরে আসবো। ইনশাআল্লাহ। সকলে আমার সব ভুল, অপরাধ মাফ করে দেবেন। জাযাকুমুল্লাহ।
মুসলমানরা মৃত্যু পরবর্তী জীবন এবং সেখানের সুখ শাস্তিকে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। পবিত্র হাদিসের ভাষ্যমতে, মানুষ যখন মারা যায় তখন তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়। সে পানিতে হাবুডুবু খেতে থাকা ব্যক্তির মতো বিপদসঙ্কুল অবস্থায় জীবিতদের থেকে সওয়াব প্রাপ্তির অপেক্ষায় থাকে। জীবিতরা যদি তার জন্য দোয়া, ক্ষমা প্রার্থনা ও দান-সদকা করে- তবে তাঁর বিদেহী আত্মার উপকার হয়।
ইসলামী বিধান অনুসারে শহীদদের জন্য আমরা নিম্নোক্ত কাজগুলো করতে পারি—
১) তাঁদের জন্য দু’আ করা।
২) তাঁদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা।
৩) তাঁদের নামে দান-সদকা করা।
৪) তাঁদের আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ খবর নেওয়া।
৫) তাদের স্মরণে মসজিদ, মাদরাসা, হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, বৃহৎ সেতু ও ওভার ব্রিজসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী স্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা।
ইসলামের দৃষ্টিতে এগুলো ছাড়া অন্য কিছু দ্বারা মৃত ব্যক্তির আত্মার উপকার হয় না। তাই এমন কোনো কাজ না করা, যা দ্বারা তাদের পরকালীন জীবনের জন্য কোনো উপকার হবে না এবং উল্টো গোনাহের কারণ হবে।
লিখনে,তরুণ লেখক: আবু জোবায়ের (দারুল উলুম হাটহাজারী )
