যেভাবে সময়ের মূল্য দিতেন হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী রহিমাহুল্লাহ্

শায়েখ ডা: আব্দুল হাই রহ. বলেন, আমি স্বয়ং হাকীমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. কে দেখেছি। তিনি যখন মৃত্যু শয্যায় শায়িত তখন চিকিৎসকরা তাকে কথা-বার্তা বলতে নিষেধ করে দিয়েছেন।
তখনকার কথা—একবার তিনি চক্ষু বন্ধ করে বিছানায় শুয়ে আছেন। হঠাৎ চোখ খুলে বললেন, মাওলানা শফী (রহ.)কে ডাক। তাকে ডাকা হল। থানভী রহ. তাকে বললেন, আপনি তাে আহকামুল কোরআন লিখছেন। আমার এক্ষুণি একটি কথা মনে পড়ল। এটি আপনি কিতাবের যথাস্থানে সংযােজন করে দিবেন। এরপর কথাটা বলে তিনি আবার চক্ষু বন্ধ করে ফেললেন। একটু পর আবার চক্ষু খুলে অন্য এক লােককে ডাকতে বললেন, তাকে উপস্থিত করা হল। তিনি তাকেও এভাবে একটি কাজ বুঝিয়ে দিলেন।
এরূপ তিনি বার বার করছিলেন। তখন মাওলানা শিব্বীর আলী হযরতকে ডাক্তার ও হাকিমগণের কথা না বলার পরামর্শের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন। প্রত্যোত্তরে থানবী রহ. বললেন, কথা তাে তোমরা ঠিকই বলেছ ; কিন্তু আমি তাে চিন্তা করি
وہ لمحات زندگی کس کام کے چوکسی کی خدمت میں خرچ نه هو
اگر کسی کی خدمت میں زندگی گزر جائے تويه الله تعالی کی نعمت هے
জীবনের সে মুহুর্তগুলাে কি কাজে আসবে যা কারাে খেদমত, এবং কল্যাণে ব্যয় হবে না। যদি কারাে খেদমতে জীবন অতিক্রান্ত হয় তবেই আমি ধন্য।
হযরত থানবী রহ. চব্বিশটি ঘন্টাকে রুটিন মাফিক ব্যয় করতেন একটি মুহুর্তও তার এদিক সেদিক হতনা। আরাে আশ্চর্যের বিষয় যে, তার দু’জন স্ত্রী ছিল। সুন্নাত অনুযায়ী তিনি আসরের নামাযের পর স্ত্রীদের সাক্ষাতে যেতেন। সেখানেও সময় ছিল একেবারে কাটায় কাটায়। যেমন- যদি এক স্ত্রীর নিকট পনের মিনিট বসতেন, তবে দ্বিতীয় স্ত্রীর নিকটও পনের মিনিটই বসতেন। তার অভ্যাস ছিল তিনি ঘড়ি দেখেই বের হতেন।
এমনটি হতনা যে, পনের মিনিটের স্থানে ষােল বা চৌদ্দ মিনিট অবস্থান করতেন। মেপে মেপে তিনি প্রতিটি মুহুর্ত অতিবাহন করতেন। সুধী, সময় নামক আল্লাহর এ নেয়ামতটিকে হেলায়-খেলায় কেটে দিবেন না। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ একটি নেয়ামত। এর প্রতিটি মুহুর্ত বড়ই দামী। এটি প্রতিনিয়তই বরফের ন্যায় শেষ হয়ে যাচ্ছে। জনৈক কবি যথার্থই বলেছেন,
هورهی هے عمر مثل برف کم * چپکے چپکے رفته رفته دم بدم
জীবনের মুহুর্তগুলো তুষার খন্ডের ন্যায় যাচ্ছে কমে, চুপে চুপে চলছে তা ক্ষণে ক্ষণে।
লিখেছেন: বর্তমান দুনিয়ার শাইখুল ইসলাম আল্লামা মুফতী তাকী উসমানী দা:বা:

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সরকারের উদ্দেশ্যে ৫ দফা দাবি

হাটহাজারী মাদরাসার শাহি মসজিদের মাইক থেকে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সরকারের উদ্দেশ্যে ৫ দফা দাবি জানানো হয়েছে। সেগুলো হলো-

নাম্বার- ১. ঢাকার বাইতুল মোকাররমসহ সারাদেশে মুসুল্লিদের উপর হামলার প্রতিবাদে হাটহাজারী মাদরাসার বিক্ষোভরত ছাত্রদের উপরে পুলিশ কর্তৃক গুলিয়ে চালিয়ে যাদেরকে হত্যা করা হয়েছে, দ্রুত তাদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

নাম্বার- ২. ছাত্রজনতার উপর গুলি ও হামলা বন্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে আইন পাশ করতে হবে।

নাম্বার- ৩. হাটহাজারীতে নিহতদের ক্ষতিপূরণ ও আহতদের চিকিৎসার খরচ হাটহাজারী থানার প্রশাসনকে বহন করতে হবে এবং সারাদেশে নিহত ও আহদের ক্ষতিপূরণ সরকারকে বহন করতে হবে।

নাম্বার- ৪. চট্টগ্রাম মেডিকেলে আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসায় অবহেলাকারী ডাক্তারদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

নাম্বার- ৫. ওসি রবি (রবিউল ইসলাম)সহ হাটহাজারীতে হামলার ইন্ধনদাতাদের হাটহাজারী থানা থেকে বরখাস্ত করতে হবে এবং ওসি রবিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে।

 

মোদি বিরুধী আন্দোলনে যোগ দিন দলে দলে: রফিকুল ইসলাম মাদানী

ভিপি নুর ভাইয়ের সাথে আন্দোলনে গেলেই নাকি মাইর খাওয়া লাগে তাই আগামীকাল ২৫ মার্চ সকাল ১১টায়
পল্টনে মাইর খাওয়ার জন্য নুরু ভাইয়ের ডাকে মোদি বিরুধী আন্দোলনে শরীক হব আমাদের মাইরের বিনিময়েও যদি কসাই মোদি এদেশে না আসে তবে আমরা সফল!

আরেকটা বিষয় ব্যানারটা কে ধরে আছে..? নেতৃত্ব কে দিচ্ছে..? সেটা না দেখে ব্যানারে কি লিখা আছে সেটা ভেবে মুসলিমদের রক্তে রঞ্জিত মোদি বিরুধী এই ঈমানী আন্দোলনে সকলেই শরীক থাকবেন ইনশাআল্লাহ!

ময়দানে হুংকার দিলাম মোদিকে আসতে দেওয়া হবে না জুতা আর ঝাড়ু প্রস্তুত অথচ এখন বলব আমরা কি সরকারের সাথে যুদ্ধ করব..?

তবে কি সরকার অনুমতি দিলে আমরা বাঘ না দিলে……..
অনেকে যুক্তি দিচ্ছে ছাত্রদের পরীক্ষা এই সেই আরে ভাই কি বলতেছেন বুঝে বলতেছেন নাকি কাউকে খুশি করার জন্য অন্ধভক্তের মত হয়ে গেছেন..?
শুনেন আপনাদের কথায় ত বুঝা যায় আমরা যারা ময়দানে হুংকার দিয়েছিলাম মোদি আসলে জুতা ঝাড়ু
রেডি আছে এয়ারপোর্ট ঘেরাও করা হবে কেয়ামত হবে তার মানে আপনাদের কথা অনুযায়ী বলতে হয় আমরা মনে হয় জানতামই না ছাত্রদের পরীক্ষা আছে জানলে হয়তো বলতাম না,নাকি এটা শুধুই খালি মাঠে গোল দেওয়া..?জানি সরকার এই ইস্যুতে হার্ড লাইনে যাবে তবুও মোদিকে আনবেই!

সরকার হার্ডলাইনে যাবে প্রশাসন এয়ারপোর্ট অভিমুখে যেতে দিবে না,যেতে বাঁধা দিত!জাতি দেখত আমরা আমাদের কথা রেখেছি আমরাও ঘরে চলে আসতাম নিজেকে সান্ত্বনা দিতে পারতাম!

আচ্ছা সব বাদ দিলাম সংবাদ সম্মেলন করে মোদির বিরুদ্ধে কর্মসূচি নেই এই কথা বলে কি করে আমরা অগ্রিম ক্লিয়ারেন্স দিয়ে দিলাম.?এখন ত সরকার নিশ্চিন্ত মোদিও নিরাপদ,তাহলে এই কথিত সংবাদ সম্মেলন গুলোর কি খুব প্রয়োজন ছিল.?
আসলে আমরা কাকে খুশি করছি..?যাদের বিরুদ্ধে এতদিন হুংকার দিলাম তাদেরকেই নয়তো..?

এ জন্যই আল্লাহর উপর ভরসা করে নুরু ভাইয়ের ব্যানারে হলেও এই আন্দোলনে আমি শরীক থাকব
আমি এটাও জানি ভিপি নুরের সাথে আন্দোলনে শরীক হয়ে মাইর খেয়ে জেলে গেলে হয়তোবা কেউ আমাদের ব্যাপারে কথা বলবে না,কেউ কথা না বললেও আমাদের কোন কিছু যায় আসে না!

কে আমার পক্ষ নিবে এগুলো চিন্তা করে কথা বলিনা আমি আমার আল্লাহকে রাজি খুশি করার জন্যই কথা বলতে চাই!
মুক্ত থেকে কসাই মোদিকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেখার চেয়ে জেলে চলে যাওয়া অনেক ভাল।

জেনে নিনঃ পবিত্র কুরআন এবং হাদীসের আলোকে পবিত্র শব-ই বারাআত! এস.এম সাইফুদ্দীন সালেহী

আরবী ১২ মাসের অষ্টম মাস শাবান। শা’বানের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাত্রটি কুরআনের ভাষায়- ليلة مباركة (লাইলাতুম মুবারাকা) বা বরকতময় রজনী! আর হাদীসের ভাষায়-ليلة النصف من شعبان (লাইলাতুন নিসফি মিন শা’বান) বা শা’বানের মধ্য রজনী।

শব-ই বারাআত কি?

“শব” শব্দটা ফার্সি। যার অর্থ হল-রাত। আর বরাআত এটি আরবী শব্দ। মূলত হল-براءت যার অর্থ হল “মুক্তি” তথা জাহান্নাম থেকে মুক্তির রাত হল শব-ই বারাআত। বরাত বলাটা ভুল। কারণ শবে বরাত (برات) মানে হল বিয়ের রাত। সুতরাং আমরা বলব-শব-ই বারাআত ( شب براءت)
● শব-ই বারাআতকে হাদিসের পরিভাষায় বলা হয়েছে “লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান”(ليلة النصف من شعبان) তথা শাবানের অর্ধ মাসের রাত।
● কেউ কেউ “শব-ই বারাআত” নামে হাদীসে শব্দ না থাকায় এ রাতকে অস্বিকার করার মত খোড়া যুক্তি দিয়ে থাকেন। তাদেরকে আমি বলিঃ “আমরা পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়া আবশ্যক বলি কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত নির্দেশের কারণে। কিন্তু কুরআন ও হাদীসের কোথাও কি নামায শব্দ আছে?”
● অনুরূপ ভাবে তাওহীদ কে আমরা ঈমানের শর্ত বলি। কিন্তু কুরআন ও হাদীসের কোথাও তাওহীদ শব্দ নেই। তাই বলে কি তাওহীদ কুরআন ও হাদীস দিয়ে প্রমাণিত নয়? আমরা যাকে নামায বলি সেই অর্থবোধক শব্দ কুরআন ও হাদীসের উদ্ধৃত শব্দ “সালাত”ই হল নামায। আমরা যাকে তাওহীদ বলি কুরআন ও হাদীসের একত্ববাদ প্রকাশক সকল শব্দই হল এ তাওহীদ।
● তেমনি আমরা যাকে “শব-ই বারাআত” বলি তথা শা’বানের পনের তারিখের রাত বলে থাকি, এই অর্থবোধক শব্দ হাদীসে পাওয়া গেলে তা’ই হবে শব-ই বারাআত। আর এই অর্থবোধক হাদীসে বর্ণিত শব্দ হল “লাইলাতুন নিসফি মিন শা’বান!” সুতরাং তাই হল শব-ই বারাআত।

পবিত্র আল-কুরআনে শব-ই বারাআতঃ

পবিত্র কুরআনে কারীম ও নির্ভরযোগ্য তাফসীরের কিতাবের ভাষ্য সলোঃ
● সূরা দুখানের ১-৪ নং আয়াতে আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ
حم-والكتاب المبين- إنا أنزلناه فى ليلة مباركة- إنا كنا منذرين- فيها يفرق كل أمر حكيم-
——-“হা-মীম, এ স্পষ্ট কিতাবের শপথ! নিশ্চয়ই আমি তা বরকতময় রাতে অবতীর্ণ করেছি। নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। এ রাতে বন্টন করে দেওয়া হয় প্রত্যেক হিকমতের কাজ।”
এ আয়াতের তাফসীর সম্পর্কে বিশ্ব বরেণ্য নির্ভরযোগ্য মুফাসসিরীন গণের মতামতঃ
০১. তাফসীরে জালালাইন শরীফে ৪১০ পৃষ্ঠায় বর্ণিত আছেঃ
ان انزلناه فى ليلة مباركة هى ليلة القدر او ليلة النصف من شعبان نزل فيها من ام الكتاب من السماء السابعة الى السماء الدنيا انا كنا منذرين-
——-“নিশ্চয়ই আমি তা বরকতময় রাতে অবতীর্ণ করেছি। আর বরকতময় রাত হল লাইলাতুল ক্বদর (ক্বদরের রাত)। অথবা লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান (শাবানের মধ্য রাত তথা শবে বরাত)। কেননা এই রাতে উম্মুল কিতাব (কোরআন শরীফ) ৭ম আসমান থেকে দুনিয়ার আসমানে (১ম আসমান) নাযিল হয়েছে। নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী!”
০২. তাফসীরে তাবারী শরীফ পৃষ্ঠা-২২, খন্ড ১০ -এ বর্ণিত আছেঃ
عن محمد بن سوفة, عن عكرمة فى قول الله تبارك وتعالى (فيها يفرق كل أمر حكيم) قال: فى ليلة النصف من شعبان يبرم فيها أمر السنة وتنسخ الأحياء من الأموات ويكتب الحاج فلا يزاد فيهم أحد, ولا ينقص منهم أحد.
كذا أخرج ابن جرير وابن منذر وابن أبى حاتم وكذا فى روح المعانى-
“আল্লাহ তা’আলার বাণী فيها يفرق كل أمر حكيم এর তাফসীরে বিশিষ্ট তাবেয়ী হযরত ইকরামা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মধ্য শাবানের রাত্রিতে বছরের সকল ব্যাপার চূড়ান্ত করা হয়, জীবিত ও মৃতদের তালিকা লেখা হয় এবং হাজীদের তালিকা তৈরি করা হয়। এ তালিকা থেকে একজনও কমবেশি হয় না।
অনুরূপ বর্ণনা করেছেন ইবনুল মুনজির ও ইবনু আবি হাতেম (রাঃ)। এরূপ রুহুল মায়ানীতেও আছে।”
০৩. তাফসীরে কুরতুবী পৃষ্ঠা-১২৬, খন্ড ১৬ এ বর্ণিত আছেঃ
ولها أربعة أسماء: الليلة المباركة, وليلة البراءة, وليلة الصك, وليلة النصف من شعبان-
■ ইমাম কুরতুবী(রা:) বলেনঃ এ রাতের ৪ টি নাম আছে। যথাঃ
▪ক. লাইলাতুম মুবারাকা।
▪খ. লাইলাতুল বারাআত।
▪গ. লাইলাতুছ্ ছাক এবং
▪ঘ. লাইলাতুন নিসফি মিন শা’বান
০৪. তাফসীরে বাগভী পৃষ্ঠা-২২৮, খন্ড ৭ -এ বর্ণিত আছেঃ
عن ابن عباس رضى الله عنهما أن الله يقضى الأقضية فى ليلة النصف من شعبان, ويسلمها إلى أربابها فى ليلة القدر-
“নিশ্চয়ই আল্লাহ সকল বিষয়ের চূড়ান্ত ফয়সালা করেন শবে বরাতের রাতে এবং তা সংশ্লিষ্ঠ দায়িত্ববান ফেরেস্তাদের কাছে ন্যস্ত করেন শবে ক্বদরের রাতে।
এ রকম ৬৫ টি তাফসীর গ্রন্থে লাইলাতুম মুবারাকা বলতে শব-ই ক্বদরের পাশাপাশি মধ্য শা’বান অর্থাৎ ১৪ শাবানের রাতের কথাও গুরুত্ব সহকারে বলা হয়েছে।

 উল্লেখযোগ্য কিতাবসমূহের নামঃ

(১).তাফসীরে ইবনু আবি হাতেম, খণ্ড-১২, পৃষ্ঠা-২১৪।
(২).তাফসীরে রুহুল মায়ানী, খণ্ড-২৫, পৃষ্ঠা-১১০।
(৩).তাফসীরে বাহরুল মুহীত, খণ্ড-৮, পৃষ্ঠা-২৪।
(৪).তাফসীরে ফাতহুল কাদীর, খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা-৫৭০।
(৫).তাফসীরে যাদুল মাছির, খণ্ড-৭, পৃষ্ঠা-১২২।
(৬).তাফসীরে নাসাফী, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-৩০২।
(৭). তাফসীরে নিসাপুরী, খণ্ড-৬, পৃষ্ঠা-৪৯০।
(৮). তাফসীরে কাশ্শাফ, খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা-২৭২।
(৯).তাফসীরে নুকুত ওয়াল উয়ূন, খণ্ড-৬, পৃষ্ঠা-৪৯০।
(১০).তাফসীরে দুররে মানসূর, খণ্ড-১২, পৃষ্ঠা-৬৯।
(১১).তাফসীরে খাজেন, খণ্ড-৬, পৃষ্ঠা-১৪৩।
(১২).তাফসীরে আল বোরহান, খণ্ড-২৩, পৃষ্ঠা-১১৬।
(১৩).তাফসীরে রাযী, খণ্ড-১৭, পৃষ্ঠা-১৩৩।
(১৪).তাফসীরে আলুসী, খণ্ড-১৮, পৃষ্ঠা-৪২৪।
(১৫).তাফসীরে হাক্কী, খণ্ড-৫, পৃষ্ঠা-৬।
(১৬).তাফসীরে কুরতুবী, খণ্ড-১৬, পৃষ্ঠা-১২৭।
(১৭).তাফসীরে সাভী, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-৩০২।
(১৮).তাফসীরে ইবনে কাসীর, খণ্ড-৭, পৃষ্ঠা-২৪৬।
(১৯).তাফসীরে জামিউল বায়ান, খণ্ড-২০, পৃষ্ঠা-১৫১।
(২০).তাফসীরে নুসূকী, খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা-১২০।
(২১).তাফসীরে কাদের, খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা-১৬৬।
(২২).তাফসীরে মাযহারী, খণ্ড-৮, পৃষ্ঠা-৩৬৮।
(২৩).তাফসীরে কাসেমী, খণ্ড-৮, পৃষ্ঠা-৩৬৮।
(২৪).তাফসীরে কোশাইরী, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-১৯০,।
(২৫).তাফসীরে আবু সাউদ, খণ্ড-৬, পৃষ্ঠা-১৩০।
(২৬).তাফসীরে আয়াতুল আহকাম, খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা-১৬৬।
(২৭).তাফসীরে রুহুল বয়ান, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-৫৯৮।
(২৮).তাফসীরে কাশেফুল আসরার, খণ্ড-৯, পৃষ্ঠা-৯৪-৯৮।
(২৯).তাফসীরে মাওয়ারদী, খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা-১০২।
(৩০).তাফসীরে সিরাজুম মুনির, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-৪৫৮।
● তাফসিরে রুহুল বয়ান ৩য় খন্ড ৫৯৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছেঃ আল্লাহ তা’আলা জাল্লা শানুহু কর্তৃক রুজি রোজগার ও রিজিক বন্টনের আনুষ্ঠানিক দায়িত্বভার হযরত মিকাঈল (আঃ) এর উপর, কার্যসমূহ ও বন্দেগীর দায়িত্ব ভার ১ম আসমানের ফেরেস্তা হযরত ইসরাইল (আঃ) এর উপর, বিপদাপদ ও দুঃখ দুর্দশায় দূরীকরনের দায়িত্বভার হযরত আযরাইল (আঃ) এর উপর অর্পণ করেন।
● শব-ই বারাআত যে মুসলিম উম্মার জন্য একটি বরকতময় ও ফযীলতপূর্ণ রাত্রি এতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। সমস্ত মুফাসসিরীন ও মুহাদ্দিসীনে কেরাম এ রাতকে একবাক্যে স্বীকার করে নিয়েছেন।
বড় পীর শেখ সৈয়্যদ আবূ মুহাম্মদ আবদুল কাদের জিলানী (র:) তদ্বীয় কিতাব “গুনিয়াতুত্ত্বালেবীন” এর ১ম খন্ডে-এ ৬৮৪ পৃষ্টায় উল্লেখ করেনঃ
قال الله عز وجل حم والكتاب المبين انا انزلناه فى ليلة مباركة قال ابن عباس رضى الله عنهما حم قضى الله ما هو كائن الى يوم القيمة والكتاب المبين يعنى القران- انا انزلناه يعنى القران فى ليلة مباركة هى ليلة النصف من شعبان وهى ليلة البرأة وقال ذالك اكثر المفسرين-
অর্থাৎঃ “আল্লাহ পাক এরশাদ করেন- হা-মী-ম প্রকাশ্য মহাগ্রন্থ আল কোরআনের শপথ- যে কোরআনকে আমি মুবারক (বরকতময়) রাতে নাযিল করেছি। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা:) এর তাফসীর প্রসংগে বলেন- কিয়ামত পর্যন্ত যা হওয়ার আছে- তা আল্লাহ পাক ফয়সালা করে দিয়েছেন। শপথ উজ্জল প্রকাশ্য গ্রন্থ তথা কোরআনের যাকে আমি বরকতময় রাতে অর্থাৎ শাবান মাসের মধ্যবর্তী রজনীতে নাযিল করেছি- ঐ ১৫ শাবানের রাতটি হচ্ছে লাইলাতুল বরাআত- এবং অধিকাংশ মোফাসসিরীনে কেরাম এ মত পোষন করেছেন।”

হাদীসের আলোকে লাইলাতুল বারাআতের দলীলঃ

 দলীল নং ০১
عن معاذ بن جبل عن النبي صلى الله عليه و سلم قال ( يطلع الله إلى خلقه في ليلة النصف من شعبان فيغفر لجميع خلقه إلا لمشرك أو مشاحن
অনুবাদঃ হযরত মুয়াজ বিন জাবাল(রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “অর্ধ শাবানের রাতে [শবে বরাতে]আল্লাহ তা’আলা তাঁর সমস্ত মাখলুকের প্রতি মনযোগ আরোপ করেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ ভাবাপন্ন ব্যক্তি ছাড়া সকলকে ক্ষমা করে দেন।”
০১.সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৫৬৬৫।
০২.মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-২৭৫৪।
০৩.মুসনাদে ইসহাক বিন রাহওয়াই, হাদীস নং-১৭০২।
০৪.আল মুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৬৭৭৬।
০৫. আল মুজামুল কাবীর, হাদীস নং-২১৫।
০৬. সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নং-১৩৯০।
০৭. মুসনাদুশ শামীন, হাদীস নং-২০৩।
০৮. মুসন্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৩০৪৭৯।
০৯. শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৬২০৪।
দলীল নং ০২
عن علي بن أبي طالب قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم ( إذا كانت ليلة النصف من شعبان فقوموا ليلها وصوموا نهارها . فإن الله ينزل فيها لغروب الشمس إلى سماء الدنيا . فيقول ألا من مستغفر لي فأغفر له ألا من مسترزق فأرزقه ألا مبتلى فأعافيه ألا كذا ألا كذا حتى يطلع الفجر )
হযরত আলী বিন আবু তালীব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ “যখন শাবান মাসের অর্ধেকের রজনী আসে [শবে বরাত] তখন তোমরা রাতে নামায পড়, আর দিনের বেলা রোযা রাখ। নিশ্চয় আল্লাহ এ রাতে সূর্য ডুবার সাথে সাথে পৃথিবীর আসমানে এসে বলেন-কোন গোনাহ ক্ষমাপ্রার্থী আছে কি আমার কাছে? আমি তাকে ক্ষমা করে দিব। কোন রিজিকপ্রার্থী আছে কি? আমি তাকে রিজিক দিব। কোন বিপদগ্স্থ মুক্তি পেতে চায় কি? আমি তাকে বিপদমুক্ত করে দিব। আছে কি এমন, আছে কি তেমন? এমন বলতে থাকেন ফযর পর্যন্ত।”
০১.সূনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৩৮৮।
০২.শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৩৮২২।
● দলীল নং ০৩
عن عائشة : قالت فقدت رسول الله صلى الله عليه و سلم ليلة فخرجت فإذا هو بالبقيع فقال أكنت تخافين أن يحيف الله عليك ورسوله ؟ قلت يا رسول الله إني ظننت أنك أتيت بعض نساءك فقال إن الله عز و جل ينزل ليلة النصف من شعبان إلى السماء الدنيا فيفغر لأكثر من عدد شعر غنم كلب
অনুবাদঃ হযরত আয়শা (রাঃ) বলেন-এক রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লামকে না পেয়ে খুঁজতে বের হলাম। খুঁজতে খুঁজতে জান্নাতুল বাকীতে [মদীনার কবরস্থান] গিয়ে আমি তাঁকে দেখতে পেলাম। তিনি বললেনঃ “কি ব্যাপার আয়শা? [তুমি যে তালাশে বের হলে?] তোমার কি মনে হয় আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল তোমার উপর কোন অবিচার করবেন? [তোমার পাওনা রাতে অন্য কোন বিবির ঘরে গিয়ে রাত্রিযাপন করবেন?]” হযরত আয়শা(রাঃ) বললেনঃ আমার ধারণা হয়েছিল আপনি অন্য কোন বিবির ঘরে গিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেনঃ “যখন শাবান মাসের ১৫ই রাত আসে অর্থাৎ যখন শবে বরাত হয়, তখন আল্লাহ পাক এ রাতে প্রথম আসমানে নেমে আসেন। তারপর বনু কালব গোত্রের বকরীর পশমের চেয়ে বেশী সংখ্যক বান্দাদেরকে ক্ষমা করে দেন।”
০১.সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং-৭৩৯।
০২. মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২৬০২৮।
০৩.মুসনাদে আব্দ বিন হুমাইদ, হাদীস নং-১৫০৯।
দলীল নং ০৪
ﻋﻦ ﺍﺑﻰ ﻣﻮﺳﻰ ﺍﻻﺷﻌﺎﺭﻯ ﻋﻦ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ ﺍﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻟﻴﻄﻠﻊ ﻓﻰ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﻓﻴﻐﻔﺮ ﻟﺠﻤﻴﻊ
ﺧﻠﻘﻪ ﺍﻻ ﻟﻤﺸﺮﻙ ﺍﻭ ﻣﺸﺎﺣﻦ ) ﺭﻭﺍﻩ ﺍﺑﻦ ﻣﺎﺟﻪ )
অর্থ হহযরত আবূ মূসা আশয়ারী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম)ম হতে বর্ণনা করেন। রাসূলে পাক (মসাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ ফরমানঃ “মধ্য শাবানের রাত্রিতে আল্লাহ পাক রহমতের তাজাল্লী বষর্ণ করেনএবং তার সমস্ত বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। কিন্তু মুশরিক বা শত্রুতাপোষণকারী ব্যক্তিকে ক্ষমা করেন না।”
১).ইবনে মাজাহ শরীফ, পৃষ্ঠা-১০০, হাদীস নং-১৩৮৯।
(২)মিশকাত শরীফ, পৃষ্ঠা-১১৫।
(৩). ইমাম বায়হাকী,শুয়াবুল ঈমান, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা- ৩৮২।
(৪).ফাজায়েলুল আওকাত, পৃষ্ঠা-১৩৩, হাদীস নং-২৯।
(৫).মিসবাহুজ জুজাযাহ, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-৪৪২, হাদীস নং-৪৮৭।
(৬).আত তারগীব ওয়াত তারহীব, খণ্ড-৩য়, হাদীস নং-২৭১৮।
(৭).আহলে হাদীস তথা লা- মাযহাবীদের নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি নাসির উদ্দীন আলবানীর “সিলসিলাতুল আহাদিছে ছহিহা” এর খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-১৩১ আরো ৫ টি হাদীস রয়েছে।
● দলীল নং ০৫
সিহাহ্ সিত্তার অন্যতম হাদীসগ্রন্থ ইবনে মাজাহ শরীফের ১০০ পৃ: এবং মিশকাত শরীফের ১১৫ পৃষ্ঠায় আমীরুল মোমেনীন, শেরে খোদা, মুশকিল কোশা হযরত আলী (রাঃ) হতে মারফু মুত্তাছিল সনদে রেওয়ায়েত করেন- যে, আল্লাহর হাবীব নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ ফরমানঃ
اذا كانت ليلة النصف من شعبان- فقوموا ليلها وصوموا يومها فان الله تعالى ينزل فيها لغروب الشمس الى السماء الدنيا- فيقول الا من مستغفرلى فاغفرله الا مسترزق فارزقه الا مبتلى فاعافيه الا كذا كذا حتى يطلع الفجر-
“যখন শাবানের ১৫ তারিখের রাত্র আগমন করে তখন তোমরা রাত্র জাগরণ করতঃ মহান আল্লাহ তায়ালার এবাদত বন্দেগী কর এবং এর পূর্ববর্তী দিনে (১৫ তারিখে) রোজা পালন কর। কেননা চৌদ্দ তারিখের সূর্য অস্থ যাওয়া তথা ১৫ তারিখের রাত্র আরম্ভ হওয়ায় সাথে সাথে মহান আল্লাহ তা’আলা দুনিয়ার আসমানে স্বীয় তাজাল্লী প্রকাশ ফরমান। অর্থাৎ দুনিয়া বাসীর প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দান করতঃ দয়াপূর্ণ কুদরতী আওয়াজে আহ্বান করে থাকেন। আমার বান্দাদের মধ্যে কেউ আজকের এ পবিত্র রাত্রে আমি আল্লাহর দরবারে নিজের কৃত পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছ কি? আমি তোমাদের ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছি। রুজি-রিজিক চাওয়ার আছ কি? আমি তোমাদের চাহিদা অনুপাতে রিজিক দানের ফয়সালা করে দিব। কোন বিপদগ্রস্থ লোক বিপদ মুক্তির জন্য প্রার্থনাকারী আছ কি? আমি তোমাদের বিপদ দূরীভূত করে দিব। এমন আরো বিষয়ে কেউ প্রার্থনাকারী আছ কি? আমি তা সবই তোমাদেরকে দান করব। মহান আল্লাহ তা’আলার এরূপ করুনাপূর্ণ ঘোষনা সুবহে সাদিক পর্যন্ত চলতে থাকে।”
এছাড়াও হাদীসটি যেসব গ্রন্থে বর্ণিত আছেঃ
১.শুয়াবুল ঈমান” ৩য় খন্ড পৃ. -৩৭৯ হাদীস নং-৩৮২২।
২.মিসবাহুয যুযায” ১ম খন্ড পৃ,-৪৪ হদীস নং-৪৮৬।
৩.মুসনাদে আহমদ” ৬ষ্ঠ খন্ড, ২৩৮ পৃষ্ঠা।

এই রাতের আমলঃ

উল্লেখিত হাদীস শরীফে এ রাতের কী কী আমলের নির্দেশনা-ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তা আমি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। নিম্নে এ বিষয়ে আরেকটি হাদীস পেশ করছি।
▪হযরত আলা ইবনুল হারিস (রহঃ) থেকে বর্ণিত, হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে নামাযে দাঁড়ান এবং এত দীর্ঘ সেজদা করেন যে, আমার ধারণা হল তিনি হয়ত মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি তখন উঠে তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম। তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নড়ল। যখন তিনি সেজদা থেকে উঠলেন এবং নামায শেষ করলেন তখন আমাকে লক্ষ্য করে বললেনঃ ওহে আয়শা অথবা বলেছেন, ওও হুমাইরা! তোমার কি এই আশংকা হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার হক নষ্ট করবেন?” আমি উত্তরে বললাম, জ্বি না! ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম। আপনার দীর্ঘ সেজদা থেকে আমার এই আশংকা হয়েছিল, আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন কিনা। নবীজী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম জিঞ্চেস করলেনঃ “তুমি কি জান এটা কোন রাত?” আমি বললাম, আল্লাহ ও তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লামই ভাল জানেন! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম তখন ইরশাদ করলেনঃ
هذه ليلة النصف من شعبان ان الله عزو جل يطلع على عباده فى ليلة النصف من شعبان فيغفر للمستغفرين ويرحم المشترحمين ويؤخر اهل الحقد كماهم
“এটা হল অর্ধ শাবানের রাত (শাবানের চৌদ্দ তারিখের দিবাগত রাত)। আল্লাহ তাআলা অর্ধ-শাবানের রাতে তার বান্দার প্রতি মনযোগ দেন এবং ক্ষমাপ্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন এবং অনুগ্রহ প্রার্থীদের অনুগ্রহ করেন আর বিদ্বেষ পোষণকারীদের ছেড়ে দেন তাদের অবস্থাতেই।” [শুআবুল ঈমান, বাইহাকী ৩/৩৮২-৩৬৮]
●ইমাম বাইহাকী (রহঃ) এই হাদীসটি বর্ণনার পর এর সনদের ব্যাপারে বলেছেনঃ
هذا مرسل جيد
▪এই হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয়, এ রাতে দীর্ঘ নফল পড়া, যাতে সেজদাও দীর্ঘ হবে, শরীয়তের দৃষ্টিতে কাম্য। তবে মনে রাখতে হবে যে, অনেক অনির্ভরযোগ্য ওয়ীফার বই-পুস্তকে নামাযের যে নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন লেখা আছে অর্থাৎ এত রাকাআত হতে হবে, প্রতি রাকাআতে এই সূরা এতবার পড়তে হবে – এগুলো ঠিক নয়।
▪হাদীস শরীফে এসব নেই। এগুলো মানুষের মনগড়া পন্থা। সঠিক পদ্ধতি হল, নফল নামাযের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী দুই রাকআত করে যত রাকআত সম্ভব হয় পড়তে থাকা। কুরআন কারীম তেলওয়াত করা। দরূদ শরীফ পড়া। ইস্‌তেগফার করা। দুআ করা এবং কিছুটা ঘুমের প্রয়োজন হলে ঘুমানো। এমন যেন না হয় যে, সারা রাতের দীর্ঘ ইবাদতের ক্লান্তিতে ফজরের নামায জামাআতের সাথে পড়া সম্ভব হল না।

পরদিন রোযা রাখাঃ

সুনানে ইবনে মাজায় বর্ণিত হয়েছেঃ
عن على بن ابى طالب رضى الله عنه قال : قال رسول الله (() : إذا كانت ليلة النصف من شعبان فقوموا ليلها وصوموا نهارها, فإن الله ينزل فيهالغروب الشمس الى سماء الدنيا, فيقول : ألا من مستغفر فاغفر له على مستزرق فأرزقه, ألا مبتلى فأعافيه , ألا كذا, ألا كذا, حتى يطلع الفجر
হযরত আলী ইবনে আবু তালেব(রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “পনের শাবানের রাত (চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাত) যখন আসে তখন তোমরা এ রাতটি ইবাদত-বন্দেগীতে কাটাও এবং দিনের বেলা রোযা রাখ। কেননা, এ রাতে সূর্যাস্তের পর আল্লাহ তাআলা প্রথম আসমানে আসেন এবং বলেন, কোন ক্ষমাপ্রার্থী আছে কি? আমি তাকে ক্ষমা করব। আছে কি কোন রিযিক প্রার্থী? আমি তাকে রিযিক দেব। এভাবে সুব্‌হে সাদিক পর্যন্ত আল্লাহ তাঞ্চআলা মানুষের প্রয়োজনের কথা বলে তাদের ডাকতে থাকেন।” [সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১৩৮৪]
●এই বর্ণনাটির সনদ যয়ীফ। কিন্তু মহাদ্দিসীন কেরামের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হল, ফাযায়েলের ক্ষেত্রে যয়ীফ হাদীস গ্রহণযোগ্য। তাছাড়া শাবান মাসে বেশি বেশি নফল রোযা রাখার কথা সহীহ হাদীসে এসেছে এবং আইয়ামে বীয অর্থাৎ প্রতি চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোযা রাখার বিষয়টিও সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।
●বলাবাহুল্য, পনের শা’বানের দিনটি শা’বান মাসেরই একটি দিন এবং তা আয়্যামে বীযের অন্তর্ভূক্ত। এজন্য ফিক্‌হের একাধিক কিতাবেই এদিনের রোযাকে মুস্তাহাব বা মাসনূন লেখা হয়েছে। আবার অনেকে বিশেষভাবে এ দিনের রোযাকে মুস্তাহাব বা মাসনুন বলতে অস্বীকার করেছেন। এ প্রসঙ্গে হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ ত্বাকী উসমানী (দাঃবাঃ) তার ইসলাহী খুতুবাতে বলেনঃ “আরো একটি বিষয় হচ্ছে শব-ই বারাআতের পরবর্তী দিনে অর্থাৎ শা’বানের পনের তারিখে রোযা রাখা। গভীরভাবে বিষয়টি উপলব্ধি করা প্রয়োজন। হাদীসে রাসুলের বিশাল ভান্ডার হতে একটি মাত্র হাদীস এর সমর্থনে পাওয়া যায়। তাতে বলা হয়েছে, শব-ই বারাআতের পরবর্তী দিনটিতে রোযা রাখ।‘ সনদ বর্ণনার সূত্রের দিক থেকে হাদীসটি দুর্বল। তাই এ দিনের রোযাকে এই একটি মাত্র দুর্বল হাদীসের দিকে তাকিয়ে সুন্নাত বা মুস্তাহাব বলে দেওয়া অনেক আলেমের দৃষ্টিতে অনুচিত।’
● তবে হ্যাঁ, শাবানের গোটা মাসে রোযা রাখার কথা বহু হাদীসে পাওয়া যায়। অর্থাৎ ১ শাবান থেকে ২৭ শাবান পর্যন্ত রোযা রাখার যথেষ্ট ফযীলত রয়েছে। কিন্তু ২৮ ও ২৯ তারিখে রোযা রাখতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই বারণ করেছেন। ইরশাদ করেনঃ “রমযানের দু’একদিন পূর্বে রোযা রেখো না। যাতে রমযানের পূর্ণ স্বস্তির সাথে স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রস্তুতি নেওয়া যায়। কিন্তু ২৭ তারিখ পর্যন্ত প্রতিদিনের রোযাই অত্যন্ত বরকতপূর্ণ।”
● একটি লক্ষ্যণীয় ব্যাপার হচ্ছে যে, শা’বানের এই ১৫ তারিখটি তো ‘আইয়ামে বীয’ এর অন্তর্ভূক্ত। আর নবীজী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি মাসের আইয়ামে বীয এর রোযা রাখতেন। সুতরাং যদি কোন ব্যক্তি এই দুটি কারণকে সামনে রেখে শা’বানের ১৫ তারিখের দিনে রোযা রাখে যা আইয়ামে বীয এর অন্তর্ভূক্ত, পাশাপাশি শা’বানেরও একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন, তবে ইন শা আল্লাহ নিশ্চয়ই সে প্রতিদান লাভ করবে। তবে শুধু ১৫ মাবানের কারণে এ রোযাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে সূন্নাত বলে দেওয়া অনেক আলেমের মতেই সঠিক নয়। আর সে কারণেই অধিকাংশ ফুকাহায়ে কেরাম মুস্তাহাব রোযার তালিকায় মুহাররমের ১০ তারিখ ও আইয়ামে আরাফা (যিলহজ্জের ৯ তারিখ) এর কথা উল্লেখ করেছেন। অথচ শা’বানের ১৫ তারিখের কথা পৃথকভাবে কেউই উল্লেখ করেননি। বরং তারা বলেছেন, শা’বানের যে কোন দিনই রোযা রাখা উত্তম। সুতরাং এ সকল বিষয়ের দিকে দৃষ্টি রেখে যদি কেউ রোযা রাখেন তবে ইন শা আল্লাহ সে সওয়াব পাবেন। তবে মনে রাখতে হবে যে, এ মাসের নির্দিষ্ট কোন দিনের পৃথক কোন বৈশিষ্ট নেই!”

 এ রাতের নফল আমলসমূহ সম্মিলিত নয়! বরং ব্যক্তিগতঃ

এ বিষয়টিও মনে রাখতে হবে যে, এ রাতের নফল আমলসমূহ, বিশুদ্ধ মতানুসারে একাকীভাবে করণীয়। ফরয নামাযতো অবশ্যই মসজিদে জামা’আত সহকারে আদায় করতে হবে। এরপর যা কিছু নফল পড়ার তা নিজ নিজ ঘরে একাকী পড়বে। এসব নফল আমলের জন্য দলে দলে মসজিদে এসে সমবেত হওয়ার কোন প্রমাণ হাদীস শরীফেও নেই। আর সাহাবায়ে কেরামরে যুগেও এর রেওয়াজ ছিল না। [ইক্‌তিযাউস সিরাতিল মুসতাকীম ২/৬৩১-৬৪১; মারাকিল ফালাহ ২১৯]
তবে কোন আহবান ও ঘোষণা ছাড়া এমনিই কিছু লোক যদি মসজিদে এসে যায়, তাহলে প্রত্যেকে নিজ নিজ আমলে মশগুল থাকবে এবং একে অন্যের আমলের ব্যাঘাত সৃষ্টির কারণ হবে না।

শব-ই বারাআতের হালুয়া-রুটিঃ

রাতে হালুয়া-রুটি ও অন্যান্য উন্নত খাবার তৈরী করা শরীয়তের দৃষ্টিতে বৈধ। কারণ ইহা এক ধরণের উন্নত হালাল খাবার। আর প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিষ্টি অধিক ভালবাসতেন। (বুখারী শরীফ ২য় খন্ড ৮১৭ পৃষ্ঠা সহ আরো বিভিন্ন পৃষ্ঠায় ১১টি হাদীস রয়েছে হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা:) থেকে বর্ণিত, মিশকাত শরীফ ৩৬৪পৃষ্ঠা )
●এছাড়া তিরমিযী শরীফে উল্লেখ আছে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ “হে লোক সকল! তোমরা সালামের প্রচলন কর, মানুষকে অন্য দাও, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করো এবং লোকজন যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন নামাজে দন্ডায়মান হও, তবেই তো শান্তিতে বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে।”
● এতে বুঝা গেল যে, লোকদের খাওয়ানোও বেহেস্ত লাভের একটি উছিলা! পবিত্র শব-ই বারাআতে উপরোক্ত হাদীসের উপর আমল করার সুযোগ হয়।
 প্রথমতঃ মুসলমানগণ নামাজে যাবে একে অপরের সাথে সাক্ষাত হবে এবং একে অপরের সাথে সালাম আদান-প্রদান করবে। আর নবীজি সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন সালাম আদান-প্রদান একটি উত্তম আমল!
দ্বিতীয়তঃ শব-ই বারাআতে ভাল খাবার বন্টনের মাধ্যমে মানুষকে খাবার খাওয়ানো হলো। পাশাপাশি গরিব-মিসকিনরা অন্ততঃ একদিন ভাল খাবার খাওয়ার সুযোগ পেল! তবে এটা সাধ্যানুযায়ী সব সময়ই করা উত্তম।
তৃতীয়তঃ আত্বীয়-স্বজন একে-অপরের বাসা/বাড়িতে খাবার বিতরণের মাধ্যমে তাদের সম্পর্ক আরো মজবুত হবে।
সুতরাং হালুয়া রুটিসহ উন্নত খাবার পাকানো ও লোকজনকে খাওয়ানো কোন অবস্থায় নাজায়েজ নয়! তবে আবশ্যক মনে করা যাবে না যে, হালুয়া রুটি বানাতেই হবে! না বানালে শব-ই বারাআত পালন হবে না! এমনটি নয়!!

 এ রাতে আমাদের করণীয়ঃ

১. ফরজ নামাজ সমূহ জামা’আত সহকারে আদায় করা।
২. কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করা।
৩. প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর বেশী বেশী দরুদ শরীফ পড়া।
৪. বেশী বেশী নফল নামাজ আদায় করা।
৫. সালাতুত তাসবীহ ও তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করা।
৬. মৃত মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন এবং আওলিয়ায়ে কেরামসহ নিকটবর্তী কবর জিয়ারত করা।
৭. তাওবা করা, জিকির ও তাসবীহ-তাহলীল পড়া।
৮.বেশি বেশি দু’আ করা! দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ ও কামিয়াবীর জন্য এবং সকল প্রকার কামনা, বাসনা, আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য, ঋণ পরিশোধ করার জন্য, সকল প্রকার বালা,মছিবত, দুঃখ, দুর্দশা, পেরেশানি সহ সকল প্রকার প্রার্থনা নিজের জন্য, পরিবার পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পারা-প্রতিবেশি এবং জীবিত-মৃত সকল মুমিন মুসলমানের জন্য দু’আ করা!
■ মহান আল্লাহ তা’আলা আমাদের সবাইকে সঠিক এবং পরিপূর্ণ ভাবে জানার, বোঝার এবং মেনে চলার এবং যথাযথ মর্যাদার সাথে প্রতিটি মহিমান্বিত রাত ও দিবস গুলোর আমল করার তাওফীক দান করুন এবং আমাদের সবাইকে ক্ষমা, কবুল এবং হিফাযত করুন
(আ-মীন)।।

একটি মুসলিম সমাজ ধ্বংস হতে কত দিন লাগে? আল্লামা মামুনুল হক

বঙ্গবন্ধুর বাবা ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম ৷ মসজিদে আযান দিতেন ৷ মানুষকে নামাযের জন্য ডাকতেন ৷

কত বছর আগের কথা এটা?

বড় জোর সত্তুর বছর!

আর সত্তুর বছর পর তার পরবর্তি প্রজন্মের কী অবস্থা?

বঙ্গবন্ধুর চতুর্থ প্রজন্ম হচ্ছে খ্রীষ্টান ৷

জয়ের সন্তান হলে পিতৃপরিচয় সূত্রে মুসলিম বলে হয়ত গণ্য করা যাবে ৷

কিন্তু টিউলিপের পেটে জন্ম নেয়া খ্রীষ্টান পিতার সন্তানকে খ্রীষ্টান না বলে কী বলবেন?

মুসলিম বাংলাদেশ খ্রীষ্টরাজ্যে পরিণত হতে কত বছর লাগছে?

উপরোক্ত তথ্য আপনাকে সহজেই সে প্রশ্নের জবাব বলে দিবে ৷

 

এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ! জয় বাংলা!

আবদুর রাজ্জাক বিন ইউসুফের এলাকায় রেজাউল করিম আবরার ও লুৎফর রহমান ফরায়েজী

গতকাল রুপগঞ্জে শায়খ আবদুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ সাহেবের মাদরাসার কয়েকশো গজ দূরে যুবকদের উদ্যোগে মাহফিল ছিল৷ শায়খ লুৎফুর রহমান ফারায়েজি এবং আমি আলোচক হিসেবে সে মাহফিলে অংশগ্রহণ করি৷

এশার পর মাহফিলস্থলে উপস্থিত হয়ে পুরো থমথমে পরিবেশ দেখতে পাই৷ আহলে হাদিস ভাইরা কোনভাবে মাহফিল করতে দিবেন না৷ ফারায়েজি এবং আবরারকে তারা দেখে ছাড়বেন৷

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি প্রথমে আমার সাথে দেখা করে স্বাভাবিক কথা বলার অনুরোধ করেন৷ আমি বলেছি, যেহেতু আপনাদের এলাকায় কয়েকদিন পর পর কনফারেন্স করে আমাদের নামে অপপ্রচার ছড়ানো হয়৷ সেহেতু আমাদের জবাব দেওয়ার প্রয়োজন৷ অন্তত আমাদের আমলের দলিল মানুষের জানার প্রয়োজন আছে৷

ফারায়েজি সাহেব এবং আমি উভয়ে গাড়িভরে কিতাব নিয়ে গিয়েছিলাম৷ কিন্তু জনপ্রতিনিধির অনুরোধে কেউই কিতাব স্টেজে নিই নি৷

আমি রাত নয়টায় বয়ানে বসি৷ প্রথমে হায়াতুন নবি, তারপর শবে বরাত এবং শেষে মাজহাবের বাস্তবতা নিয়ে কিছু কথা বলি৷ শেষে একথাও বলে এসেছি যে, এ বিষয়গুলো নিয়ে যদি কেউ বিতর্ক করতে চান, তাহলে আমরা তাকে স্বাগত জানাব৷ নিরপেক্ষ যে কোন জায়গায় বসে আমরা সমাধান করে নিব৷ আপনারা এগুলো নিয়ে বাড়াবাড়ি করবেন না৷

ফারায়েজি সাহেব দশটার দিকে স্টেজে যান৷ আয়োজকরা আমাকে প্রশ্নোত্তর পর্ব করার অনুরোধ করেছিলেন৷ কিন্তু শায়খ চলে যাওয়ায় আমি বয়ান সংক্ষিপ্ত করে নেমে পড়ি৷

ফারায়েজি সাহেব স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা শুরু করেন৷ আমি দেরি না করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে পড়ি৷ স্থানীয় যুবকদের কাফেলা মটর সাইকেলে করে আমাকে এশিয়ান হাইওয়ে পর্যন্ত এগিয়ে দেয়৷

ঢাকার কাছাকাছি এসে খবর পাই মাহফিলে আহলে হাদিস ভাইরা তুমুল মারামারি করেছেন৷ ফারায়েজি সাহেবকে মারতে চেয়েছেন৷ স্থানীয় মসজিদের ইমাম আমিনুল ইসলাম সাহেবকে পিটিয়েছেন!

প্রিয় উগ্র সালাফি ভাইয়েরা! আপনাদের শক্তি ছিল৷ এজন্য ইমাম সাহেবকে পিটিয়েছেন এবং মাহফিল বন্ধ করে দিয়েছেন! আপনাদের মিথ্যাচার এবং জালিয়াতির মুখোশ তো ইতিমধ্যে খসে পড়েছে৷ অপেক্ষা করুন৷ সময় কথা বলবে৷

ফেসবুক টাইমলাইন: রেজাউল করিম আবরার

 

যে কারণে হানাফিই রয়ে গেলাম ! জাগ্রত কবি মুহিব খান

ছোট বেলা থেকে না জেনেই হানাফী মাজহাব পালন করে বড় হয়েছি। নামাজ শিক্ষার যে বই গুলি বাসায় ছিল – সব ছিল নিউজপ্রিন্টের। ভিতরে খালি মাসআলা ছিল। কুরআন হাদিসের কোন রেফারেন্স ছিলোনা। ছিল ব্র্যাকেটে ফতোয়ায়ে আলমগিরির রেফারেন্স। যা কি জিনিস জানতাম না।

বড় হলে আহলে হাদীস ও সালাফিদের বই পড়লাম। কুরআন ও হাদিসের প্রচুর রেফারেন্স দেয়াতে খুব ভালো লাগলো। তারা বললো: তুমি এসব মাজহাব ছাড়। সহীহ হাদিস মেনে ইবাদত করো। অন্ধ তাকলীদ করো না।

হানাফীরা ইমাম আবু হানিফা ও অন্যন্য মুকাল্লিদরা অন্যন্য ইমামদের ফিকহ মানে, এর চেয়ে সহীহ হাদিস মানো । একটু এক্সট্রিম কেউ কেউ তাকলীদকে শিরক বললো, বললো বুদ্ধি থাকলে তাকলীদ করতে হবে কেনো। এরকমই আরো কিছু কথা সুন্দর সুন্দর কথা ।

আমার কথা গুলো বেশ মনে ধরলো। হানাফী থেকে আহলে হাদীস ইচ্ছা জাগলো । মাজহাবের তাকলীদ বাদ দিয়ে সহীহ হাদিসের উপর আমল করার ইচ্ছা জাগলো। হাতে টাকা ছিল – জোগাড় করলাম সিহাহ সিত্তাহ, বাংলা-আরবী। আরবী স্কিপ করে বাংলায় সহীহ হাদিস পড়া শুরু করলাম।

কিন্তু ওযু ও গোসল অধ্যায়ই শেষ করতে পারলাম না। নামাজ তো আরো পরে।
রাসূলুল্লাহ (দঃ) এর ওযুর বিভিন্ন ধরণের বর্ণনা আছে। কোনটা মেনে ওযু করবো ? ছোট একটা জিনিসই ধরি। কিছু জায়গায় অঙ্গ দুবার করে ধোয়ার কথা বলা আছে , কিছু জায়গায় তিনবার, কিছু জায়গায় একবার। আমি যদি দুবার করে ধৌত করি তাহলে একটা সহীহ হাদিস আমি মান্য করছিনা, তিন বার ধুলে অন্য আরেকটি সহীহ হাদিস মান্য করছিনা ।

প্রশ্ন ১: আমি এই যে কিছু সহীহ হাদিস মানতে যেয়ে অন্য সহীহ হাদিস মান্য করছিনা, সেগুলো খুঁজে খুঁজে বের করে রেফারেন্স দিয়ে কেউ যদি বলে আমি সহীহ হাদিস মানিনা সেটা কি ঠিক হবে ? এর মানে কি আমি সহীহ হাদিস অমান্যকারী ?

এখন আমার কথা না হয় বাদই দিলাম। আমি পড়ালেখা করেছি, বই পড়ার উৎসাহ আছে, ইসলামের প্রতি ঝোক আছে। এদের কথা ধরেন : আমাদের বাসার বুয়া বা বিল্ডিং এর কেয়ারটেকার পড়াশোনা করতে পারেনা। আমার বন্ধু কয়েকজন যারা পড়ালেখা জানলেও ইসলামী বই অধ্যায়ন করেনা কারণ ইসলামের প্রতি আগ্রহ নেই । আমার ছেলে যার বয়স যখন ৭ হয়েছে। এদের কেউ ওযু পারেনা।

প্রশ্ন ২: তাদের কে শিখানোর জন্য যদি আমি যদি বুখারীর ও অন্যন্য হাদিস গ্রন্হের ওযু অধ্যায়ের সহীহ হাদিস গুলি সিরিয়ালি তাদের কাছে শুধু বাংলায় রিডিং পড়া শুরু করি, তারা কি সেগুলি বুঝে ঠিক মতো আমল করতে পারবে ?

প্রশ্ন ৩: যদি তারা না বুঝে তাহলে তো আমাকে তাদের দেখিয়ে দিতে হবে কিভাবে ওযু করতে হয় । তখন আমি বুখারীর ও অন্যন্য হাদিস গ্রন্হের ওযু অধ্যায়ে উল্লেখিত বাংলা সহীহ হাদিস গুলি সমন্বয় করে বা সেখান থেকে বেছে নিয়ে আমার বুঝ অনুযায়ী তাদের শিখাবো। এতে কি তারা সহীহ হাদিস মানলো নাকি আমার বুঝ ও ব্যাখ্যা মানলো ? এই ব্যাখ্যাই কি ফিকহ না ?

প্রশ্ন ৪: যখন আমি বুঝিয়ে দিচ্ছি, তখন আমার হাদিসের টেক্সট ও রেফারেন্স দেয়া কি আমার জন্য জরুরি হবে ? বাস্তবেই কি তারা প্রত্যেকটির শিক্ষার পিছনের হাদিসের রেফারেন্স চাবে ? নাকি বলবে শুধু ওযু শিখিয়ে দাও ? এটি কি আমার উপর বিশ্বাস করে অন্ধ তাকলীদ করা নয় কি ? যদি রেফারেন্স দিয়েও দি তাও কি তারা সহীহ থেকে জাল হাদিস পার্থক্য করতে পারবে ?

প্রশ্ন ৫:একটি হাদিস যে আমি সহীহ হাদিস কিভাবে বুঝছি ? ব্র্যাকেটে লেখা আছে বলে। আমার সামর্থ্য নাই হাদিস শাস্ত্র অধ্যয়ন করে সহীহ যঈফ আলাদা করার। কেউ তাহকীক করে লিখে দিয়েছে। সেটাই চোখ বন্ধ করে মেনে নিচ্ছি। কেউ বুখারী অনুবাদ করে দিয়েছে, আমিও মেনে নিচ্ছি সেটা সঠিক অনুবাদ, কারণ আমার পক্ষে আরবি বুঝে অনুবাদের ত্রুটি ধরা সম্ভব না । এই তাহকীক ও অনুবাদ যে সঠিক মেনে নেয়া হচ্ছে সেটা কি অন্ধ তাকলীদ নয় ?

প্রশ্ন ৬: ওযুর মতো অতি সহজ ব্যাপারে আমার যদি এই অবস্থা হয়, নামাজের মতো অতি জটিল ব্যাপারে কি আমার পক্ষে সহীহ হাদিস পড়ে নামাজ শিক্ষা করা কিভাবে সম্ভব ? যদি আমার পক্ষেই সম্ভব না হয় আমার ৭ বছরের ছেলে কিংবা পড়ালেখা না জানা বুয়ার পক্ষে কিভাবে সম্ভব ?

প্রশ্ন ৭: যদি সম্ভব না হয় তাহলে আমাকে এমন একজনের আলিমের দারস্ত হতে হবে যিনি সব হাদিস পড়ে বুঝে আমাকে নামাজের নিয়ম কানুন বুঝিয়ে দিবেন,তাইনা ? হাদিস গুলির সমন্বয় করে যদি উনি ব্যাখ্যাই করেন তাহলে ফিকহ তো ফিকহই হয়ে গেলো । এই ক্ষেত্রে আমি কি সহীহ হাদিস মানছি নাকি ফিকহ ? এই ফিকহ মানার মাধ্যমে আমি কি বাস্তবে আমি সমন্বয়কৃত সহীহ হাদিসই মানছি না ?

প্রশ্ন ৮: আমি যদি আরেকজন আলিমের কাছে যাই এবং একই অনুরোধ করি হাদিস ঘেটে নিয়ম কানুন বানিয়ে দেয়ার জন্য । উনিও সব হাদিস ঘেটে আমাকে নিয়ম বানিয়ে দিলেন। প্রথম আলিমের নিয়ম গুলি আর দ্বিতীয় আলিমের নিয়ম গুলি কি হুবুহু একই হবে ? নাকি তাদের দুজনের সমন্বয় পদ্ধতি আলাদা হতে পারে ?

একজনের কাছে এক হাদিস বেশি সহীহ অন্য জনের কাছে কম সহীহ লাগতে পারে না ? দুজন একই হাদিসের অর্থ কে দুই ভাবে নিতে পারে ? তারা কি আরবি ইবারত ভিন্ন ভাবে পড়তে পারেনা ? হাদিসের শত শত কিতাবের উনি হয়তো কিছু পড়েছেন অন্যজন কিছু ? রাবী দুর্বল কিনা এই নিয়ে ইখতেলাফ আছেনা ? কারো কারো মতে বুখারী সব চেয়ে সহীহ, কারো মতে মুয়াত্তা ইমাম মালিক, এরকম অচেনা ?

আরো কত কারণ আছে, হাদিস শাস্ত্র কি অংকের মতো যে রেজাল্ট একটাই হবে ? তাহলে দুজনেরই সহীহ হাদিস মানা সত্ত্বেও দুজনের নামাজের নিয়ম দুই ধরণের হতে পারেনা ? আমার কি সেই যোগ্যতা আছে যে আমি বলতে পারবো প্রথম জন বেশি ঠিক না দ্বিতীয় জন ?

প্রশ্ন ৯: ধরেন আমি প্রথম আলিমের কাছে যাওয়ার পর উনি আমার অনুরোধে সকল হাদিস ঘেটে আমার জন্য নামাজের নিয়ম বানিয়ে দিয়েছেন। এখন আমার ভাই যদি তার কাছে যেয়ে একই অনুরোধ করে তাহলে কি তিনি এই কাজটি হাদিস ঘাটার কাজটি কি আবার করবেন ? নাকি আমাকে যে নিয়ম গুলি উনি দিয়েছেন সেগুলিই আমার ভাইকেও দিয়ে দিবেন ? আমার ভাই আজ থেকে ১০ বছর পর গেলে একই নিয়মি তো পাবেন ওই আলিম থেকে তাইনা (কারণ যে হাদিস দেখে নিয়ম তৈরী করেছেন সেই হাদিস তো আর ১০ বছরে পরিবর্তন হয়নি) ? ৫০ বছর পর কেউ গেলে ? এখানে কি নামাজের নিয়ম পরিবর্তন হওয়ার খুব বেশি সুযোগ আছে ? ১৩০০ বছর পর ? নাকি প্রত্যেকবার শুরু থেকে হাদিস ঘাটতে হবে ?

যদি পরে আমরা প্রথম আলিমের বের করা নিয়ম কে মাজহাব বা ফিকহে X ও দ্বিতীয় আলিমের বের করা নিয়ম কে মাজহাব বা ফিকহে Y নাম দি , তাহলে X ও Y ফলো করা কি ১৩০০ বছর পর হারাম হয়ে যাবে, যেখানে এটি ১৩০০ বছর আগে সহীহ ছিল ?

প্রশ্ন ১০: নামাজ তো আর নতুন জিনিস না। এটি ইসলামের শুরু থেকে চলছে। তাহলে এই হাদিস ঘাটাঘাটি করে নামাজের নিয়ম বের করার কাজও তখন থেকেই হওয়ার কথা। তখন থেকেই যদি ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) বা ইমাম মালিক (রহঃ) বা ইমাম শাফেঈ (রহঃ) বা ইমাম আহমদ (রহঃ) যদি এই হাদিস ঘাটাঘাটি করে নামাজের নিয়ম বের করার কাজটি করে গিয়ে থাকেন, নামাজের নিয়ম তো আর পরিবর্তন হয়নি, তাহলে এখন সেগুলি মানতে সমস্যা কোথায় ?

ইমাম নাসিরুদ্দিন আলবানী সাহেব এই যুগে এসে হাদিস ঘাটাঘাটি করে যে নিয়ম বের করেছেন তা ওগুলোর উপর প্রাধান্য পাবে কেন ? ওই চার ইমামের কারো যোগ্যতা কি ইমাম নাসিরুদ্দিন আলবানী সাহেবের চেয়ে কম ছিল ?

প্রশ্ন ১১: এখন যদি কেউ বলেন যে সাহাবীরা রাসূলুল্লাহ (দঃ) এর ওফাতের পর সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েন। এক্ষেত্রে দুটি বিষয় হতে পারে।
হয়তো প্রধান সাহাবীরা যেসব এলাকায় গিয়েছিলেন বা ছিলেন সেসব জায়গায় নামাজ সম্পর্কিত সব হাদিস ছিল। এই ক্ষেত্রে ইমাম আবু হানিফার কাছে কুফায় বা ইমাম মালিকের কাছে মদিনায় নামাজ সংক্রান্ত সব হাদিস ছিল। এই ক্ষেত্রে তারা এসব বেছেই নামাজের নিয়ম বানিয়েছেন। ওই নিয়ম ফলো করতে আপত্তি কোথায় ?

অথবা . সাহাবীরা যেসব এলাকায় গিয়েছিলেন সেখানে নামাজ সম্পর্কিত সব হাদিস ছিলোনা, কিছু হাদিস ছিল।
তাই কোনো এক এলাকায় যেমন ইমাম আবু হানিফার কুফায় কিংবা ইমাম মালিকের মদিনায় সব হাদিস ছিলোনা। পরে সব হাদিস একত্রিত হয়েছে। তাই সব হাদিস বাছাই করে বানানো ল্যাটেস্ট ইমাম আলবানী সাহেবের নামাজের নিয়ম বেশি শুদ্ধ।

আমার প্রশ্ন হচ্ছে ওই সব এলাকায় আংশিক হাদিস থেকে বানানো আংশিক নামাজের নিয়ম পালন করে যদি সালাফ তথা তাবেঈ ও তাবে-তাবেঈনরা শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম হয় তাহলে ওই আংশিক নিয়ম পালন করলে আমরা কেন ধরা খাব কিংবা সাওয়াব কম পাবো ?

প্রশ্ন ১২: সুন্নাহর বিস্তার এর একমাত্র মাধ্যম কি হাদিস ? এছাড়া কোন মাধ্যম নেই ? ওযুর কথাই ধরুন না। যখন সাহাবীরা তাদের সন্তান বা তাবেঈদের ওযু শিক্ষা দিতেন তখন কি শুধু হাদিস বর্ণনা করতেন ?

নাকি হাতে কলমে নবীজির (দঃ) এর কাছ থেকে শেখা ওযুর মতো করে ওযু করে অন্যদের শিক্ষা দিতেন ?

তাহলে তাবেঈ বা তাবেঈ-তাবেঈনদের সংস্পর্শে এসে প্র্যাকটিকাল নামাজ শিক্ষার পদ্ধতি ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) কিংবা ইমাম মালিকের (রহঃ) বেশি জানার কথা নাকি ইমাম নাসিরুদ্দিন আলবানী সাহেবের।

ইমাম আলবানীর কাছে তো শুধু হাদিস আছে , কিন্তু ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মালিকের কাছে হাদিসের সাথে সাথে প্র্যাকটিকাল শিক্ষাও তো ছিল। কার নামাজের নিয়ম বেশি শুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি ?

প্রশ্ন ১৩ঃ- ইমাম চতুষ্টয়ের বানানো নামাজের নিয়ম প্রায় ১৩০০ বছর ধরে মুসলিম উম্মাহ ফলো করে আসছে। উম্মাহর ইতিহাসের বাঘা বাঘা আলিম এগুলি মেনে নামাজ পড়েছেন । এমন সময় যখন ইসলাম দুনিয়াতে বিজয়ী ছিল, যখন মুসলিমদের ঈমান আমল ও ইখলাস বর্তমান মুসলিমদের চেয়ে বেশি ছিল। আর ইমাম নাসিরুদ্দিন আলবানীর তৈরী নামাজের নিয়ম অপেক্ষাকৃত অনেক কম মানুষ অনেক কম দিনের জন্য ফলো করছে, যখন মুসলিমদের ঈমান, আমল ও আখলাক সব চেয়ে নিচে। প্রথমোক্ত গ্রূপের বহু মুসলিমদের ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি নাকি দ্বিতীয় গ্রূপের কম মুসলিমদের ?

প্রশ্ন ১৪: কুরআনে বলা আছে শুধু মাত্র বাপ্ দাদারা করতো বলে কোন কিছু করা উচিত না। কিন্তু তা কি মুশরিক বাপ্ দাদাদের ব্যাপারে বলা হয়নি ? বাপ্ দাদা যদি মুসলিম হয় তাহলে তো তাদের মান্য করতে কোনো দোষ আছে ?

যেমন নবী ইয়াকুব (আঃ) মৃত্যুর সময় তার পুত্রদের জিজ্ঞাসা করেছিলেন তারা তার পরে কার ইবাদত করবে । তার ছেলেরা উত্তর দিয়েছিলেন তাদের বাপ্ দাদাদের উপাস্যের। বাপ্ দাদা সঠিক রাস্তায় থাকলে সেই রাস্তা দিয়ে হাটা যাবেনা এমন কথা কি বলা আছে ? নূহ (আঃ) এর ছেলে যদি এই যুক্তি দিত যে বাপ্ দাদা মেনে আসছে বলে আমরা মানবোনা এটা কি সঠিক হতো ?

এসব প্রশ্নের উত্তর আমাকে সালাফী হতে দিলোনা।

আমি হানাফীই থাকলাম। এবং মন ভরে দুআ করলাম সেই সব আলিমদের যারা আমাদের জন্য নিজেদের সারা জীবন বিলিয়ে দিয়ে সহজ ফিকহের কিতাব লিখে গিয়েছেন, যা মাত্র ১০০/২০০ টাকা দিয়ে কিনে কিংবা আলিমের সোহবতে শিখে আমল করে আমরা অমূল্য অফুরন্ত অনিঃশেষ জান্নাতের জন্য কাজ করতে পারি।

বিশেষ দ্রঃ ইমামে আজম আবু হানীফা রহ.একজন তাবেয়ী ছিলেন।

অনির্দিষ্ট কালের জন্য ফেসবুক  নামক গজব থেকে বিদায়: মুফতি রিজওয়ান রফিকী

প্রিয় বন্ধুগণ,

দীর্ঘদিন আপনাদের সাথে এই ফেসবুক জগতে ছিলাম। যতটুকু পেরেছি ফেরাকে বাতেলার মুখোশউম্মোচনে কাজ করেছি। ইসলামের অপব্যখ্যাকারীদের প্রত্যেকটি বিভ্রান্তির জবাব দেয়ার চেষ্টা করেছি। অহেতুক পোষ্ট খুব কমই দিয়েছি। কারণ সকলের সময়ের দাম অনেক বেশী।

কিন্তু বর্তমান সময়ে আমাদের নিজেদের কামড়াকামড়ি ও কাদা ছোড়াছুড়ি, ইসলামী রাজনীতির নামে নিজস্ব ব্যানারের চিন্তা, ভালোবাসার আড়ালে অতি বাড়াবাড়ি আর তেলের ঘষাঘষি, ভক্তির নামে অন্ধপুজারী, ইসলামী বিপ্লবের চেয়ে দলের বিপ্লবের চিন্তা অনেক বেশী। কেউ এখন আর সামষ্টিক চেতনা লালন করেন না।

উপরন্তু আমরা যারা আহলে হকের সকলকে নিয়ে সামনে এগোতে চাই, আমাদেরকেই বরং বলা হয় আমরা নাকি গোলআলু! আমরা নাকি মাহফিল পাওয়ার ধান্ধায় সকলের কাছে ঘুরি। ভিন্ন দলের কারো সাথে সাক্ষাত করলেই সে দলের ট্যাগ লাগিয়ে দেয়া হয় আমাদেরকে। যা মেনে নেয়া খুব কষ্টের।

প্রিয় বন্ধু,

এখন সবাই বাঁশ বাগানে ঘোরে, ফুল বাগানে ঘোরার মানুষ খুবই কম। এ জগতে অনেক মানুষকে দেখেছি, যারা উপরে দেখতে অনেক নুরাণী বাট ভেতরে হিংসার ডিব্বা। কে কাকে থামাবে, কে কাকে বাঁশ দেবে সে চিন্তায় তাদের মাথার চুলে পাক ধরেছে। কারো কাছে ভিড়লেই তারা আমাদেরকে তাদের নিজস্ব স্বার্থে ব্যবহার করতে চান, মানে তারা আমাদেরকে তেলের সেলসম্যান বানাতে বদ্ধপরিকর। কিন্তু আমরা তো একমাত্র রবের দালাল।

আমি সব সময় হেফাযত,খেলাফত,চরমোনাই,জমিয়ত,তবলীগ দেওবন্দী সকল ধারাকে এক নজরেই দেখেছি,আজও দেখি। যতদিন আকীদা নষ্ট না হচ্ছে ততদিন একই নজরে দেখবো। কাউকে জোর করে বাতিল বানানো আমার চেতনা নয়। আমি আহলে হকের সকল দলকে এক হাতের পাঁচটি আঙ্গুল মনে করি। যখন ইসলাম বিদ্বেষীদের ধরবো, তখন মজবুতির জন্য পাঁচটি আঙ্গুলই তো আমার লাগবে। তাই নয় কি?

কখনও উস্তাযে মুহতারাম মামুনুল হক সাহেবের দোষচর্চা, কখনও মুফতী ফয়জুল করীম সাহেবকে অশ্রাব্য ভাষায় কটুক্তি, কখনও সমালোচনার তীর মুহতারাম আইয়ুবী সাহেবের দিকে, আবার কখনও মুহতারাম হাফিজ ভাই সমালোচকদের টার্গেটে পরিনত হচ্ছেন। অথচ তথাকথিত এ বিপ্লবী প্রতিবাদীরা এক কলম পন্নীকে নিয়ে লেখেনি, লেখেনি কাদিয়ানীকে নিয়েও। ওদের টার্গেটের স্বীকার কখনও হয়নি সাহাবাবিদ্বেষী মওদুদী।

এ দেশে খ্রীষ্টান মিশনারীর কাজ ধুমছে চলছে উত্তরবঙ্গে। এরা কখনও ওদেরকে নিয়ে ভাবতেও শেখেনি, কারণ সব মুসলিম বেঈমান হয়ে যাক এতে ওদের কি? এগুলো কোনো সমস্যাই না। সমস্যা শুধু নিজ দলের আলাদা শক্তি। এমন হাজারে ব্যাথা এ বুকে চেপে রাখি, স্বপ্ন দেখি একদিন সবাই এক হয়ে সকল বাতিলের জন্য মহাহুমকি হয়ে দাঁড়াবে। অবশ্য আমার এ চেতনা নিয়ে সারা দেশে আমার কার্যক্রম চলছে, একদিন একটা শক্তিশালী রেঁনেসা তৈরি করবো। ইনশাআল্লাহ। সেদিন আমরা সম্মিলিতভাবে সকল বাতিলের বিরুদ্ধে এক সাথে কথা বলবো। ইসলামী আকীদা সংরক্ষণ পরিষদ সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। আলহামদুলিল্লাহ।

প্রিয় ভাই,

আজ থেকে আপনাদের এ জগত থেকে বিদায় নিচ্ছি। অবশ্য আমার কার্যক্রম থেমে যাবে না। আমার নিয়মত লেখাগুলো পড়তে চাইলে আমার ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট rijwanrafiqi এ নজর রাখবেন। অবশ্য যদি কোনোদিন মন চায়, পরিবেশ ভালো হয় সেদিন আবার ফিরে আসবো। ইনশাআল্লাহ। সকলে আমার সব ভুল, অপরাধ মাফ করে দেবেন। জাযাকুমুল্লাহ।

শহীদ মিনারে ফুল নয়: ভাষা শহীদদের জন্য যা করণীয়

মুসলমানরা মৃত্যু পরবর্তী জীবন এবং সেখানের সুখ শাস্তিকে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। পবিত্র হাদিসের ভাষ্যমতে, মানুষ যখন মারা যায় তখন তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়। সে পানিতে হাবুডুবু খেতে থাকা ব্যক্তির মতো বিপদসঙ্কুল অবস্থায় জীবিতদের থেকে সওয়াব প্রাপ্তির অপেক্ষায় থাকে। জীবিতরা যদি তার জন্য দোয়া, ক্ষমা প্রার্থনা ও দান-সদকা করে- তবে তাঁর বিদেহী আত্মার উপকার হয়।

ইসলামী বিধান অনুসারে শহীদদের জন্য আমরা নিম্নোক্ত কাজগুলো করতে পারি—

১) তাঁদের জন্য দু’আ করা।

২) তাঁদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা।

৩) তাঁদের নামে দান-সদকা করা।

৪) তাঁদের আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ খবর নেওয়া।

৫) তাদের স্মরণে মসজিদ, মাদরাসা, হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, বৃহৎ সেতু ও ওভার ব্রিজসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী স্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা।

ইসলামের দৃষ্টিতে এগুলো ছাড়া অন্য কিছু দ্বারা মৃত ব্যক্তির আত্মার উপকার হয় না। তাই এমন কোনো কাজ না করা, যা দ্বারা তাদের পরকালীন জীবনের জন্য কোনো উপকার হবে না এবং উল্টো গোনাহের কারণ হবে।

লিখনে,তরুণ লেখক: আবু জোবায়ের (দারুল উলুম হাটহাজারী )

নোয়াখালী জেলা হেফাজতের নেতৃবৃন্দের প্রচেষ্টায় জামিনে মুক্তি পেলেন মুফতী ইউনুস আহমদ আনছারী

মাহফিলের মঞ্চ থেকে তুলে নিয়ে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করার পর থেকেই নোয়াখালী জেলা হেফাজতর নেতৃবৃন্দ এক মিনিটের জন্য ও মজলুম এই হেফাজত নেতাকে একা ছেড়ে দেয়নি।
হেফাজত নেতৃবৃন্দ আজ বিকেল তিনটায় বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েও প্রশাসনের অনুরোধে আজকের কর্মসূচি স্থগিত করে ওদের ২৪ ঘন্টা আল্টিমেট দেয়, তার মধ্যে মুক্তি না দিলে আগামীকাল শুক্রবার বিক্ষোভ সমাবেশের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
অতপর হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা ও জেলা হেফাজতের আমীর আল্লামা শিব্বির আহমদ দাঃবাঃ নিঃশর্ত মুক্তি চেয়ে বিবৃতি দেন।
এদিকে হাটহাজারী উপজেলা ও পৌর হেফাজতের আজকের কর্মসূচি ও ঢাকা মহানগর লালবাগ জোন হেফাজতের পূর্ব ঘোষিত আজকের বিক্ষোভ সমাবেশে এবং পর্যায়ক্রমে কেন্দ্রীয় কমিটির কর্মসূচির কথা ছিলো।
তবে আল্লাহ তায়া’লার অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি যে তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকতেই মুক্তির ব্যাবস্থা করে দিয়েছেন।
দূর থেকে যতটুকু চেষ্টা করার তাওফিক আল্লাহ তায়ালা দিয়েছেন করেছি।
আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসুলুল্লাহ সাঃ এর শানে বিরুদ্বাচারীদের যেভাবে আমরা ছাড় দেইনা
এভাবে ইনশাআল্লাহ আমরা আমাদের কোন নেতা কর্মীদের মাঠে একা রেখে পিছপা হবোনা।
কপি: ইনআমুল হাসান ফারুকী