হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হকের দ্বিতীয় বিয়ে প্রসঙ্গে কথা বলেছেন তার ভাগ্নে মাওলানা এহসানুল হক। তিনি বলেছেন, আমার শ্রদ্ধেয় মামা আল্লামা মামুনুল হককে তার দ্বিতীয় স্ত্রী (আমার মামী)সহ নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী সন্ত্রাসীরা রিসোর্টে আক্রমণ করেছে।
তিনি জানান, এ বিয়ে কোনো লুকোচুরির বিষয় নয়। এটি পারিবারিকভাবে হয়েছে।
শনিবার রাতে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে মামুনুল হকের বিয়ে নিয়ে রাজধানীর জামিয়া রহমানিয়ার শিক্ষক মাওলানা এহসানুল হক বলেন, ‘শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হকের পরিবারের সদস্যরা আজ নির্বাক, স্তম্ভিত ও বাকরুদ্ধ। আমরা মজলুম ইয়া আল্লাহ। একজন আলেম তার স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে গেলেও দুশমনদের হাতে এভাবে হেনস্তা হতে হবে? ইয়া আল্লাহ, তুমি আমাদের পরিবারের ওপর রহম করো। আমার সম্মানিত মামাকে হেফাজত করো। একজন আলিমের পাঞ্জাবি ছিঁড়ে আমাদের কলিজা ছিঁড়ে দিলো ওরা। যারা এমন হয়রানি করলো তাদের বিচার চাই। তুমি সব দেখছো আল্লাহ।’
*বেশি করে শেয়ার বা কপি করুন। মানুষের ভুল ভাঙবে*
হাটহাজারী মাদরাসার শাহি মসজিদের মাইক থেকে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সরকারের উদ্দেশ্যে ৫ দফা দাবি জানানো হয়েছে। সেগুলো হলো-
নাম্বার- ১. ঢাকার বাইতুল মোকাররমসহ সারাদেশে মুসুল্লিদের উপর হামলার প্রতিবাদে হাটহাজারী মাদরাসার বিক্ষোভরত ছাত্রদের উপরে পুলিশ কর্তৃক গুলিয়ে চালিয়ে যাদেরকে হত্যা করা হয়েছে, দ্রুত তাদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
নাম্বার- ২. ছাত্রজনতার উপর গুলি ও হামলা বন্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে আইন পাশ করতে হবে।
নাম্বার- ৩. হাটহাজারীতে নিহতদের ক্ষতিপূরণ ও আহতদের চিকিৎসার খরচ হাটহাজারী থানার প্রশাসনকে বহন করতে হবে এবং সারাদেশে নিহত ও আহদের ক্ষতিপূরণ সরকারকে বহন করতে হবে।
নাম্বার- ৪. চট্টগ্রাম মেডিকেলে আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসায় অবহেলাকারী ডাক্তারদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
নাম্বার- ৫. ওসি রবি (রবিউল ইসলাম)সহ হাটহাজারীতে হামলার ইন্ধনদাতাদের হাটহাজারী থানা থেকে বরখাস্ত করতে হবে এবং ওসি রবিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে।
ভিপি নুর ভাইয়ের সাথে আন্দোলনে গেলেই নাকি মাইর খাওয়া লাগে তাই আগামীকাল ২৫ মার্চ সকাল ১১টায়
পল্টনে মাইর খাওয়ার জন্য নুরু ভাইয়ের ডাকে মোদি বিরুধী আন্দোলনে শরীক হব আমাদের মাইরের বিনিময়েও যদি কসাই মোদি এদেশে না আসে তবে আমরা সফল!
আরেকটা বিষয় ব্যানারটা কে ধরে আছে..? নেতৃত্ব কে দিচ্ছে..? সেটা না দেখে ব্যানারে কি লিখা আছে সেটা ভেবে মুসলিমদের রক্তে রঞ্জিত মোদি বিরুধী এই ঈমানী আন্দোলনে সকলেই শরীক থাকবেন ইনশাআল্লাহ!
ময়দানে হুংকার দিলাম মোদিকে আসতে দেওয়া হবে না জুতা আর ঝাড়ু প্রস্তুত অথচ এখন বলব আমরা কি সরকারের সাথে যুদ্ধ করব..?
তবে কি সরকার অনুমতি দিলে আমরা বাঘ না দিলে……..
অনেকে যুক্তি দিচ্ছে ছাত্রদের পরীক্ষা এই সেই আরে ভাই কি বলতেছেন বুঝে বলতেছেন নাকি কাউকে খুশি করার জন্য অন্ধভক্তের মত হয়ে গেছেন..?
শুনেন আপনাদের কথায় ত বুঝা যায় আমরা যারা ময়দানে হুংকার দিয়েছিলাম মোদি আসলে জুতা ঝাড়ু
রেডি আছে এয়ারপোর্ট ঘেরাও করা হবে কেয়ামত হবে তার মানে আপনাদের কথা অনুযায়ী বলতে হয় আমরা মনে হয় জানতামই না ছাত্রদের পরীক্ষা আছে জানলে হয়তো বলতাম না,নাকি এটা শুধুই খালি মাঠে গোল দেওয়া..?জানি সরকার এই ইস্যুতে হার্ড লাইনে যাবে তবুও মোদিকে আনবেই!
সরকার হার্ডলাইনে যাবে প্রশাসন এয়ারপোর্ট অভিমুখে যেতে দিবে না,যেতে বাঁধা দিত!জাতি দেখত আমরা আমাদের কথা রেখেছি আমরাও ঘরে চলে আসতাম নিজেকে সান্ত্বনা দিতে পারতাম!
আচ্ছা সব বাদ দিলাম সংবাদ সম্মেলন করে মোদির বিরুদ্ধে কর্মসূচি নেই এই কথা বলে কি করে আমরা অগ্রিম ক্লিয়ারেন্স দিয়ে দিলাম.?এখন ত সরকার নিশ্চিন্ত মোদিও নিরাপদ,তাহলে এই কথিত সংবাদ সম্মেলন গুলোর কি খুব প্রয়োজন ছিল.?
আসলে আমরা কাকে খুশি করছি..?যাদের বিরুদ্ধে এতদিন হুংকার দিলাম তাদেরকেই নয়তো..?
এ জন্যই আল্লাহর উপর ভরসা করে নুরু ভাইয়ের ব্যানারে হলেও এই আন্দোলনে আমি শরীক থাকব
আমি এটাও জানি ভিপি নুরের সাথে আন্দোলনে শরীক হয়ে মাইর খেয়ে জেলে গেলে হয়তোবা কেউ আমাদের ব্যাপারে কথা বলবে না,কেউ কথা না বললেও আমাদের কোন কিছু যায় আসে না!
কে আমার পক্ষ নিবে এগুলো চিন্তা করে কথা বলিনা আমি আমার আল্লাহকে রাজি খুশি করার জন্যই কথা বলতে চাই!
মুক্ত থেকে কসাই মোদিকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেখার চেয়ে জেলে চলে যাওয়া অনেক ভাল।
শব-ই বারাআত কি?
পবিত্র আল-কুরআনে শব-ই বারাআতঃ
ক. লাইলাতুম মুবারাকা।
খ. লাইলাতুল বারাআত।
গ. লাইলাতুছ্ ছাক এবং
ঘ. লাইলাতুন নিসফি মিন শা’বানউল্লেখযোগ্য কিতাবসমূহের নামঃ
হাদীসের আলোকে লাইলাতুল বারাআতের দলীলঃ
এই রাতের আমলঃ
হযরত আলা ইবনুল হারিস (রহঃ) থেকে বর্ণিত, হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে নামাযে দাঁড়ান এবং এত দীর্ঘ সেজদা করেন যে, আমার ধারণা হল তিনি হয়ত মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি তখন উঠে তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম। তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নড়ল। যখন তিনি সেজদা থেকে উঠলেন এবং নামায শেষ করলেন তখন আমাকে লক্ষ্য করে বললেনঃ ওহে আয়শা অথবা বলেছেন, ওও হুমাইরা! তোমার কি এই আশংকা হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার হক নষ্ট করবেন?” আমি উত্তরে বললাম, জ্বি না! ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম। আপনার দীর্ঘ সেজদা থেকে আমার এই আশংকা হয়েছিল, আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন কিনা। নবীজী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম জিঞ্চেস করলেনঃ “তুমি কি জান এটা কোন রাত?” আমি বললাম, আল্লাহ ও তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লামই ভাল জানেন! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম তখন ইরশাদ করলেনঃ
এই হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয়, এ রাতে দীর্ঘ নফল পড়া, যাতে সেজদাও দীর্ঘ হবে, শরীয়তের দৃষ্টিতে কাম্য। তবে মনে রাখতে হবে যে, অনেক অনির্ভরযোগ্য ওয়ীফার বই-পুস্তকে নামাযের যে নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন লেখা আছে অর্থাৎ এত রাকাআত হতে হবে, প্রতি রাকাআতে এই সূরা এতবার পড়তে হবে – এগুলো ঠিক নয়।
হাদীস শরীফে এসব নেই। এগুলো মানুষের মনগড়া পন্থা। সঠিক পদ্ধতি হল, নফল নামাযের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী দুই রাকআত করে যত রাকআত সম্ভব হয় পড়তে থাকা। কুরআন কারীম তেলওয়াত করা। দরূদ শরীফ পড়া। ইস্তেগফার করা। দুআ করা এবং কিছুটা ঘুমের প্রয়োজন হলে ঘুমানো। এমন যেন না হয় যে, সারা রাতের দীর্ঘ ইবাদতের ক্লান্তিতে ফজরের নামায জামাআতের সাথে পড়া সম্ভব হল না।পরদিন রোযা রাখাঃ
এ রাতের নফল আমলসমূহ সম্মিলিত নয়! বরং ব্যক্তিগতঃ
শব-ই বারাআতের হালুয়া-রুটিঃ
এ রাতে আমাদের করণীয়ঃ
বঙ্গবন্ধুর বাবা ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম ৷ মসজিদে আযান দিতেন ৷ মানুষকে নামাযের জন্য ডাকতেন ৷
কত বছর আগের কথা এটা?
বড় জোর সত্তুর বছর!
আর সত্তুর বছর পর তার পরবর্তি প্রজন্মের কী অবস্থা?
বঙ্গবন্ধুর চতুর্থ প্রজন্ম হচ্ছে খ্রীষ্টান ৷
জয়ের সন্তান হলে পিতৃপরিচয় সূত্রে মুসলিম বলে হয়ত গণ্য করা যাবে ৷
কিন্তু টিউলিপের পেটে জন্ম নেয়া খ্রীষ্টান পিতার সন্তানকে খ্রীষ্টান না বলে কী বলবেন?
মুসলিম বাংলাদেশ খ্রীষ্টরাজ্যে পরিণত হতে কত বছর লাগছে?
উপরোক্ত তথ্য আপনাকে সহজেই সে প্রশ্নের জবাব বলে দিবে ৷
এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ! জয় বাংলা!
গতকাল রুপগঞ্জে শায়খ আবদুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ সাহেবের মাদরাসার কয়েকশো গজ দূরে যুবকদের উদ্যোগে মাহফিল ছিল৷ শায়খ লুৎফুর রহমান ফারায়েজি এবং আমি আলোচক হিসেবে সে মাহফিলে অংশগ্রহণ করি৷
এশার পর মাহফিলস্থলে উপস্থিত হয়ে পুরো থমথমে পরিবেশ দেখতে পাই৷ আহলে হাদিস ভাইরা কোনভাবে মাহফিল করতে দিবেন না৷ ফারায়েজি এবং আবরারকে তারা দেখে ছাড়বেন৷
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি প্রথমে আমার সাথে দেখা করে স্বাভাবিক কথা বলার অনুরোধ করেন৷ আমি বলেছি, যেহেতু আপনাদের এলাকায় কয়েকদিন পর পর কনফারেন্স করে আমাদের নামে অপপ্রচার ছড়ানো হয়৷ সেহেতু আমাদের জবাব দেওয়ার প্রয়োজন৷ অন্তত আমাদের আমলের দলিল মানুষের জানার প্রয়োজন আছে৷
ফারায়েজি সাহেব এবং আমি উভয়ে গাড়িভরে কিতাব নিয়ে গিয়েছিলাম৷ কিন্তু জনপ্রতিনিধির অনুরোধে কেউই কিতাব স্টেজে নিই নি৷
আমি রাত নয়টায় বয়ানে বসি৷ প্রথমে হায়াতুন নবি, তারপর শবে বরাত এবং শেষে মাজহাবের বাস্তবতা নিয়ে কিছু কথা বলি৷ শেষে একথাও বলে এসেছি যে, এ বিষয়গুলো নিয়ে যদি কেউ বিতর্ক করতে চান, তাহলে আমরা তাকে স্বাগত জানাব৷ নিরপেক্ষ যে কোন জায়গায় বসে আমরা সমাধান করে নিব৷ আপনারা এগুলো নিয়ে বাড়াবাড়ি করবেন না৷
ফারায়েজি সাহেব দশটার দিকে স্টেজে যান৷ আয়োজকরা আমাকে প্রশ্নোত্তর পর্ব করার অনুরোধ করেছিলেন৷ কিন্তু শায়খ চলে যাওয়ায় আমি বয়ান সংক্ষিপ্ত করে নেমে পড়ি৷
ফারায়েজি সাহেব স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা শুরু করেন৷ আমি দেরি না করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে পড়ি৷ স্থানীয় যুবকদের কাফেলা মটর সাইকেলে করে আমাকে এশিয়ান হাইওয়ে পর্যন্ত এগিয়ে দেয়৷
ঢাকার কাছাকাছি এসে খবর পাই মাহফিলে আহলে হাদিস ভাইরা তুমুল মারামারি করেছেন৷ ফারায়েজি সাহেবকে মারতে চেয়েছেন৷ স্থানীয় মসজিদের ইমাম আমিনুল ইসলাম সাহেবকে পিটিয়েছেন!
প্রিয় উগ্র সালাফি ভাইয়েরা! আপনাদের শক্তি ছিল৷ এজন্য ইমাম সাহেবকে পিটিয়েছেন এবং মাহফিল বন্ধ করে দিয়েছেন! আপনাদের মিথ্যাচার এবং জালিয়াতির মুখোশ তো ইতিমধ্যে খসে পড়েছে৷ অপেক্ষা করুন৷ সময় কথা বলবে৷
ফেসবুক টাইমলাইন: রেজাউল করিম আবরার
নাঈমা জাহান (ছদ্মনাম) একজন কিশোরী। বাবা চাকুরিজীবি এবং মা গৃহিনী। বাপ-দাদা পূর্ব পুরুষের নিয়ম চলে আসছে পীরকে সম্মান করা। পীরের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়। মাঝে-মধ্যে পীর সাহেব তাদের বাড়িতে আসে। বাড়িতে আসলে মা ও সে ভক্তের কদর না করেই পারে না। রান্না-বান্না সেরে পীর বাবার সেবা শ্রশুষা করতে ব্যস্ত থাকে। পীরের হাত-পা টিপে দেওয়া, বাতাস করা ও মজাদার খাবার প্রদান করা যেন পূর্ণের কাজ। বাবা চাকুরি করে সংসারের তেমন খবর নিতে পারে না। তাছাড়া অন্ধবিশ্বাস অন্তরে ঢুকে পড়েছে। পীর বাবার কদর করলে বহুত ফায়দা হবে। পীর বাবাও মাঝে মধ্যে নাঈমার শরীরে হাত বুলায়। নাঈমা লোক লজ্জার ভয় ও মা কর্তৃক পাওয়া পীরকে কিভাবে অসম্মান করবে ভেবে কূল পাচ্ছিল না। তবুও মাঝে মধ্যে বিরক্ত প্রকাশ করতো। একদিন তার মাকে বলে যে, আমি তোমার পীর বাবার সেবা করতে পারবো না। মা বলল, এ কথা মুখ দিয়ে আর কোন দিন বের করো না। পীরকে সম্মান করলে এ জীবনে উপকৃত হতে পারবে অন্যদিকে আখিরাতেও নাজাত পাবে। একদিন সে তার বাবার সামনে ঘটনাটি খুলে বলে।
বাবা পীরকে বাড়ি থেকে স্ব-সম্মানে বের করে দেয়। এরপর থেকে কোন দিন সে পরিবারে কোন পীর আসতে পারে নি। কিন্তু কোন শাস্তি দেওয়া হয় নি পীরকে লোক লজ্জার ভয়ে। গত ২৬ জুলাই শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতীতে থানা পুলিশ ময়মনসিংহ জেলার কোতোয়ালি থানার গোপদিয়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম (৩৫) নামের এক ভন্ডপীরকে গ্রেফতার করে। এ সংবাদ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়। ভন্ডপীর সংশি¬ষ্ট এলাকায় রাকিবুল হাসান ওরয়ে রোকনের বাসায় আত্মীয়তার সুবাদে বেশ কিছু দিন যাবত অবস্থান করছিলো। সেখানে এক মহিলা দালালের মাধ্যমে বাসার পার্শ্ববর্তী গোল্ডেন হাইস্কুলের মেসের ছাত্রীদের পীরের তরিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করে। ওই ভন্ডপীর ছাত্রীদের বাইয়াত গ্রহণ করে কারো কাছে না বলার জন্য সতর্ক করে দেয়। পীরের কোন কথা বললে ক্ষতি হবে। এসব কথা বলার পর ভন্ড পীর তার হাত পা টিপে দেওয়ার জন্য ছাত্রীদের বলে। এমনকি অসামাজিক কর্মকান্ডের প্রস্তাব দেয়। ছাত্রীরা এ প্রস্তাব প্রত্যাখান করে স্কুল শিক্ষকদের জানায়। পরে শিক্ষকরা বিষয়টি সংশি¬ষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ ভন্ড পীরকে গ্রেফতার করে কোর্টে পাঠায়। এ ধরনের ঘটনা দেশে ঘটেই চলেছে। যা মিডিয়ায় প্রকাশিত হয় না। অন্য দিকে গ্রামের মানুষ নিজেদের মান ইজ্জতের ভয়ে ঘটনাটি প্রকাশ করে না। আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানের যুগেও গ্রাম গঞ্জের মানুষ কুসংস্কার থেকে বের হতে পারে নি। পীরের নাম শুনলে দল বেঁধে যায় পীরের নিকট চিকিৎসা ও আগাম ভবিষৎবাণীর জন্য। এতে ভন্ডপীর বাবা সুন্দরী নারী দেখলে নানা ভাবে যৌন হয়রানি করে থাকে। অনেক নারী ভয়ে তা বলতে পারে না।
অথচ ওই ভন্ডপীরদের অধিকাংশ ধর্মীয় জ্ঞান সম্বন্ধে অজ্ঞ। নামায পড়ে না। রোজা রাখে না। শুধু গাঁজা খায়। গাণ গায়। তাবিজ কবজ বিক্রি করে অনেক টাকা হাতিয়ে নেই। ওরস শরীফ ও দরবার তৈরীর নামে অনেক টাকা কথিত ভক্তদের নিকট থেকে বিভিন্ন কায়দায় নিয়ে থাকে। বেশির ভাগই ঠকে নারীরা। তৃণমূল পর্যায়ের কতই না নারী কথিত পীরদের হাতে প্রতিদিন বিভিন্ন কায়দায় নির্যাতিত হচ্ছে। আমরা কাজী ইমদাদুল হক রচিত ‘আবদুল¬াহ’ উপন্যাসে সে যুগের ভন্ডপীরদের বাস্তব চিত্র দেখতে পায়। এ যুগেও সে সময়ের চিত্র ফুটওঠছে। ভন্ডপীরেরা অনেক সময় বিভিন্ন নামে সমিতি ও সংস্থা গঠন করে ভক্তদের নিকট থেকে অনেক টাকা হাতিয়ে নেয়। ২৪ মার্চ ২০০৮ ইং তারিখে ঢাকা রিপোটার্স এসোশিয়সনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ৩০ জন প্রতারণার শিকার নারী লালবাগের তথাকথিত পীর রেশমা ও তার সহযোগীদের গ্রেফতারের দাবি জানান এনজিওর নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে। (দৈনিক ইত্তেফাক, ২৫ মার্চ ২০০৮ ইং)।
সাধারণ মানুষকে এ ভন্ডপীরের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। প্রয়োজনে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা গণ নাটক ও ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে ভন্ডপীরের কুফল সম্বন্ধে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে পারে। মসজিদের ইমামগণও জুমআর নামাযের খুতবার সময় এ বিষয়ে বক্তব্য রাখতে পারে ন। আসুন আমরা সবাই এ বিষয়ে এক যোগে কাজ করি।
